Thursday, February 20, 2014

দশ বিধ সংস্কার



ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম গ্রহন করলেই তাকে ব্রাহ্মণ বলে না বরং সংস্কার দ্বারা তার দ্বিজ পদবাচ্য হইয়া থাকে। সুতরাং সংস্কারগুলো যাতে লুপ্ত না হয় সেই বিষয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। সনাতন ধর্মে দশ বিধ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। যা বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক সমাজেও স্বীকৃত। আজ আমি সেই বিষয়ে আলোচনা করবো। সংস্কারগুলো চার শ্রেণীতে বিভক্ত, যথা-

. গর্ভ-সংস্কার
) গর্ভাধান ২) পুং-সবন ৩) সীমন্তোন্নয়ন
. শৈশব-সংস্কার
) জাতকর্ম ৫) নাম করণ ৬) অন্নপ্রাশন
. কৈশোর-সংস্কার
) চুড়া করণ ৮) উপনয়ন ৯) সমাবর্তন
. যৌবন-সংস্কার
১০) বিবাহ

০১) গর্ভাধানঃ-
গর্ভাধান দশ বিধ সংস্কারের মধ্যে প্রথম ও প্রধান। এর উদ্দেশ্য সত্ত্ব গুনের উৎকর্ষ সাধন। ঋষিগণ বেদ আলোচনা  দ্বারা স্থির করেছেন যে, পিতৃ শরীর হইতে উৎপন্ন হয় অস্থি, স্নায়ু ও মর্জ্জা এবং মাতৃ শরীর উৎপন্ন হয় ত্বক, মাংস ও রক্ত এই ষড়্‌বিধ কোষের সমন্নয়ে মানবদেহ গঠিত। তাই গর্ভাধান, গর্ভগ্রহণ যোগ্যতা তদুপযুক্ত সময় নিরুপণ করতঃ সন্তানোৎপত্তিকালে যাহাতে জনক-জননীর মন পশু-ভাবাপন্ন না হইয়া সত্ত্ব-ভাবাপন্ন তাহাই গর্ভাধানের মূল উদ্দেশ্য। 

০২) পুং-সবনঃ-
পুং-সবন শব্দের অর্থ পুত্র সন্তান উৎপত্তি। গর্ভগ্রহণের তৃতীয় মাসের দশ দিনের মধ্যে ইহা নির্বাহ করতে হয়। প্রথমে হোম করিয়া স্বামী বধূর পিছনে দাঁড়িয়ে স্ত্রী-র কাঁধ স্পর্শ করিয়া ডান হাতের কর নাভিদেশ  স্পর্শ করিয়া নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করিবে, “সূর্য, বরুণ, অশ্বিনীকূমার যুগল, অগ্নি, বায়ু যেমন পুরুষ, তোমার গর্ভেও এইরূপ পুরুষেরই আবির্ভাব হউক


০৩) সীমন্তোন্নয়নঃ-
গর্ভধারণের ষষ্ঠ বা অষ্টম মাসে সীমন্তোন্নয়ন সংস্কার করতে হয়। এর মূল কাজ হলো সীমান্ত বা সিঁথি তুলিয়া দেওয়া এর অর্থ এখন থেকে পতিগামিনী না হওয়া বা স্বামীর সাথে সহবাস না করা। শেষে পতিপুত্রবতী (যে নারীর স্বামী ও পুত্র জীবিত আছে)রমনী গন বধূকে একটি বেদীর উপরে বসাইয়া জল পূর্ণ ঘট/কলস দ্বারা মঙ্গল স্নান করাবেন এবং  বধুকে বলবেন “তুমি বীর প্রসবিনী, জীববৎসা ও জীবপতিকা হও”। 

০৪) জাতকর্মঃ-
সন্তান ভূমিষ্ট হইবার সাথে সাথে পিতা নবজাতকের মুখে যব ও ব্রীহিচূর্ন (আউশ ধান) দ্বারা পরে স্বর্ণ দ্বারা ঘৃষ্টমধু ও ঘৃত গ্রহন পূর্বক সদ্যোজাত সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করিবেন।

০৫) নামকরণঃ-
সন্তান ভূমিষ্ট হইবার দশ রাত্রির বা বর্ষ পূর্ন হইলে নামকরণ করা হয়। অনেকে ষষ্ট রাত্রিতে নামকরণ করে থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে বিধাতা এই দিয়ে নবজাতকের ভাগ্য নির্ণয় করে থাকেন। অধুনা অন্নপ্রাশনের সময়ও নামকরণ করা যায়।

০৬) অন্নপ্রাশনঃ-
পুত্র সন্তানদের ষষ্ঠ বা অষ্টম মাসে এবং কন্যা সন্তানের পঞ্চম বা সপ্তম মাসে অন্নপ্রাশন / মুখেভাত দেয়া হয়।

০৭) চুড়া করণঃ-
গর্ভাবস্থায় সন্তানের মস্তকে যে কেশ / চুল থাকে তাহা নিঃশেষে কাটিয়া উহা দ্বারা শিশুকে শিক্ষা ও সংস্কারের পাত্রী ভূত করা হয়।

০৮) উপনয়নঃ-
বর্ন ভেদে উপনয়ন সময় ও নিয়ম পরিবর্তন হয়, ব্রাহ্মণ শিশু জম্মের অষ্টম বর্ষ হতে  ষোড়শ বর্ষ বয়ঃক্রম পর্যন্ত (ষোড়শ বর্ষের পর সাবিত্রী পতিত হয়, সুতরাং উপনয়ন হয় না)। ক্ষত্রীয় একাদশ হইতে দ্বাবিংশ বর্ষ পর্যন্ত এবং বৈশ্য দ্বাদশ হইতে চতুর্বিংশ বর্ষ পর্যন্ত এই সংস্কারের অধিকারি। নির্দিষ্ট মাসের পরে যদি কেহ উপনয়ন নিতে চায় তাকে ব্রাত্যতাদোষের প্রায়শ্চিত্ত করিয়া উপনয়ন নিতে হবে।


০৯) সমাবর্তনঃ-
এই নিয়ম এখন আর দেখা যায় না। পূর্বে উপনয়ন এর পর গুরুগৃহে বাস করার রীতি ছিল এবং পাঠ সমাপ্তনান্তে গুরুর আদেশে গৃহে প্রত্যাগত হয়ে গার্হস্থ্য জীবন শুরু করত।

১০) বিবাহঃ-
যৌবনাবস্থা একমাত্র সংস্কার এটি যাতে সকল জাতিরই এতে অধিকার রয়েছে। বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রী পুরুষ এক হয়। ধর্ম মতে ব্রাহ্মণ ২৪, ক্ষত্রীয় ২৮, বৈশ্য ৩২ এবং শূদ্র ১৬ পর ৪৮ বৎসরের মধ্যে এই সংস্কারের অধিকারি। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বিবাহ বিষয়ে খুব জোর দিয়েছেন, তিনি বলেছেন “ইষ্ট-স্বার্থপ্রতিষ্ঠা যার / পরিণয়ের মূলে, তারই বিয়ে সার্থক হয় / বংশ ওঠে দুলে

আলোচনা প্রসঙ্গে এই দশ বিধ সংস্কার যাতে ঠিক ভাবে পালন করা যায়  সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে বলেছেন। 



সূত্রঃ লোকনাথ ডাইরেক্টরি পঞ্জিকা

Tuesday, June 19, 2012

The Five C’s of Cinematography (Part-02)

{Part-01}

পূর্বের লেখার ধারাবাহিকতা অনুসারে। গত পর্বে আমরা ২টি “সি” সর্ম্পকে জেনেছি। এখন আমরা বাকি ৩টি “সি” সর্ম্পকে শিখব।

* Cutting: কাট (Cut) এর আভিধানিক অর্থ কাটা বা কর্তন করা। চলচ্চিত্রে কাটিং এর গুরত্ব অনেক। আমরা ৯ রকম এর কাটিং নিয়ে আলোচনা করবো।

) Jump Cut: একটি শট থেকে পরবর্তী শটে যেতে হলে ক্যামেরা কোন ও শটের আকার পরিবর্তন করতে হবে। কমপক্ষে ৪৫ ডিগ্রি কোনে পরিবর্তন করা উচিৎ।

) Match Cut: প্রথম দৃশ্যের শেষ অংশ ও দ্বিতীয় দৃশের প্রথম অংশ এক হবে। এতে এডিটিং-এ কাজ করতে সুবিধা হবে।

) Sharp Cut: এটা Match Cut এর বিপরীত। অর্থাৎ প্রথম দৃশ্যের শেষ অ্যাকশন ও দ্বিতীয় দৃশ্যের প্রথম অ্যাকশন বাদ দিতে হবে।

) Cross Cut: যখন একই সময়ে দুটি আলাদা জায়গায় দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি পরে দ্বিতীয়টি তারপর আবার প্রথম শট এভাবে পর পর দেখান হয় তখন তাকে Cross Cut বলে।

) Parallel Action Cut: যদি একই দৃশ্যে পাশাপাশি দুটি অ্যাকশন একের পর এক চলতে থাকে, তখন তাকে Parallel Action বলে।

) Mix: প্রথম দৃশ্যটি পর্দা থেকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ন মুছে যেতে না যেতেই দ্বিতীয় দৃশ্যটি পর্দায় দেখা যাবে, এমন দৃশ্যকে Mix বলে।

) Fade In/Out: প্রথম দৃশ্যটি পর্দা থেকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ন মুছে যাবে তারপর কিছুক্ষন অন্ধকার দেখা যাবে তারপর দ্বিতীয় দৃশ্যটি পর্দায় ধীরে ধীরে দেখা যাবে, এমন দৃশ্যকে Fade In/Out বলে।

) Super Imposition: পর্দায় একই সাথে দুটি দৃশ্য দেখা যাওয়া কে Super Imposition বলে।

) Wipe: একটি দৃশ্য শেষ হওয়ার পর দেখা যাবে দৃশ্যটি রোলার-এর মত গুটিয়ে যাবে এবং এর নিচ থেকে আরেকটি দৃশ্য ভেসে উঠলো, এমন দৃশ্যকে Wipe বলে।


* Close Up: Close up shot চলচ্চিত্রে এক অসাধারন ভাব প্রকাশ করে। ১৯১১ সালে পরিচালক ডি, ডাবলু, গ্রিফিথEnoch Ardenসিনেমায় প্রথম শটের ব্যাবহার করেন। তখন এটা একটি হাসির বিষয় হয়ে দাড়িয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমান চলচ্চিত্রে Close up shot ব্যতিত কোন নাটক বা চলচ্চিত্র ভাবাই যায় না। ক্লোজ আপকে মোট মূলত পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়ছে।


) Medium Close Up: নাভির উপর থেকে মাথা পর্যন্ত শটকে Medium Close Up Shot বলে। শুধু Close Up Shot বলতেও এটাকে বুঝানো হয়।

) Head & Shoulder Close Up: যে শটে মাথা ও কাঁধের সম্পূর্ন অংশকে দেখা যায় তাকে Head & Solder Close Up বলে।

) Head Close Up: যে শটে শুধু মাথা দেখা যায় তাকে Head Close Up শট বলে। তবে কাঁধের কিছু অংশ দেখা যেতে পারে।

) Big Close Shot: ঠোঁটের নিচ থেকে চোখের ভ্রুর উপর পর্যন্ত থাকলে তাকে Big Close Shot বলে।

) Extreme Close Shot: শুধু কান, শুধু চোখ, শুধু নাক ইত্যাদি যে শটে দেখা যায় তাকে Extreme Close Shot বলে।

তাছাড়াও আরো এক রকম শট আমরা বলতে পারি।

1. Over the Shoulder Close Up: একজনের কাঁধের উপর দিয়ে অন্যজনের ক্লোজ আপ নেয়া কে Over the Shoulder Close Up বলে।


* Composition: Composition বলতে সহজে যা বুঝি তা হলো, ফ্রেমের মধ্যে যে উপাদান গুলো আছে সেগুলোকে সুসামঞ্জস্য করে সাজানো। এটার উপরই নির্ভর করবে দর্শক কি দেখবে বা কিভাবে দেখবে।

) Rule of Third: এই নিয়ম অনুসারে ফ্রেমে সমান্তরাল ও খাড়া খাড়ি কাল্পনিক রেখা টানতে হবে। যার ফলে ৪ টা বিন্দুর সংযোগ স্থলের সৃষ্টি হবে। এখন ফ্রেমের মূল উপাদান গুলো এই বিন্দুর কাছাকাছি বা বিন্দুর বরাবর থাকবে।

) Looking Room: এই নিয়ম অনুসারে চরিত্রটি যেদিকে তাকিয়ে আছে ফ্রেমের সেই দিকে সবসময় বেশি জায়গা রাখতে হবে।

) Leading Room: এই নিয়ম অনুসারে চরিত্রটি/ কোন বস্তু যেদিকে ছুটে চলছে ফ্রেমের সেই দিকে বেশি জায়গা রাখতে হবে।

) Leading Line: কম্পোজিশনের মূল উপাদানের দিকে বা মূল উপাদান থেকে কোনাকোনি একটি কাল্পনিক লাইন টানতে হবে।

) Head Room: এই নিয়ম অনুসারে মাথার উপরে সবসময় কিছু জায়গা ফাকা থাকবে।

) Balance: দুটি চরিত্র পাশাপাশি রাখলে যেন ফ্রেমে একটা ভারসাম্য থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

) Colour Balance: কাহিনির মূল উপাদানটির রং যেন সবসময় স্বাভাবিক থাকে সেইদিকে নজর রাখতে হবে।

) Frame with in Frame: কোন সাধারন দৃশ্যকে অসাধারন করে তুলতে অনেক সময় ফ্রেমের মধ্যে ফ্রেম করে দেখান যায়।

) Background: সবসময় পটভূমি বা Background এর প্রতি নজর রাখতে হবে। কোন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় (যেমন: লেখা, লোকজন, গাছ-পালা) যাতে ফ্রেমে না ধরা পরে।


এই পাঁচটি বিষয় প্রতিটি সকল চিত্রগ্রাহক ও পরিচালকে সবসময় মনে রাখতে পারে। একটির সাথে আরেকটির ধারাবাহিক সম্পর্ক আছে। একটি কাহিনি কে সুন্দর ভাবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন কারার মাধ্যমে একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহক ও পরিচালকের পরিচয় পাওয়া যায়।

Sunday, June 17, 2012

The Five C’s of Cinematography (Part-01)

চলচ্চিত্র বিশারদের কাছে চলচ্চিত্র নির্মানে পাঁচটি “সি” (C) খুবই গুরুত্বপূর্ন। একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহক বা পরিচালক হতে হলে তাকে অবশ্যই এই পাঁচটি “সি” সর্ম্পকে ভাল ভাবে জানতে হবে। আজ আমরা তাই শিখব

1. Camera Angel

2. Continuity

3. Cutting

4. Close-up Shot

5. Composition


* Camera Angle: একটি শট থেকে আরেকটি শটে যেতে শটের আকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্যামেরা কোণের ও পরিবর্তন করতে হয়। ক্যামেরা কোণকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়ছে।

) Eye Level Angle: যখন কোন দৃশ্য ধারন করতে ক্যামেরা চরিত্রের সমান উচ্চতায় রেখে শট নেয়া হয় তখন তাকে Eye Level Angle শট বলে।

) Low Angle: যখন কোন দৃশ্য ধারন করতে ক্যামেরা চরিত্রের চেয়ে নিচে রেখে শট নেয়া হয় তখন তাকে Low Angle শট বলে।

) High Angle: যখন কোন দৃশ্য ধারন করতে ক্যামেরা চরিত্রের চেয়ে উপরে বা উঁচুতে রেখে শট নেয়া হয় তখন তাকে High Angle শট বলে।


* Continuity: নির্দিষ্ট শটের সাথে পরের শটের সামঞ্জস্যতাকে Continuity বা ধারাবাহিকতা বলে। এই ধারাবাহিকতা মূলত সাতটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

) Continuity of Action: সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন প্রথম শটের শেষ অ্যাকশন ও দ্বিতীয় শটের শুরুর অ্যাকশন হুবহু একই রকম হবে। তাহলে এডিটিং-এ শট দুটিকে ম্যাচ কাট করা যাবে।

) Continuity of Frame In & Frame Out: কোন দৃশ্যে যদি দেখান হয় চরিত্রটি ফ্রেমের বাম দিক থেকে হেটে ডান দিকে Out হচ্ছে তাহলে দ্বিতীয় শটে চরিত্রটি ফ্রেমের বাম দিক থেকেই প্রবেশ বা In করাতে হবে।

) Continuity of Position: প্রথম কথা, প্রয়োজন ছাড়া ক্যামেরা মুভমেন্ট করা উচিৎ নয়। যদি কোন চরিত্রকে প্রথমে ফ্রেমের ডান দিকে দেখান হয় তবে বাকি পুরাটা শটেই তাকে ডানে রেখে ধারন করতে হবে। যদি না চরিত্রটি নিজে হেটে স্থান বা ক্যামেরা মুভমেন্ট করে স্থান পরিবর্তন করে।

) Continuity of Look: লক্ষ্য রাখতে হবে, কোন শটে যদি চরিত্রের লুক ফ্রেমের ডান দিকে থাকে তবে যৌক্তিক কারন ছাড়াই তা পরিবর্তন করা যাবে না।

) Continuity of Movement: প্রথম শটে চরিত্রটি যে গতিতে ফ্রেম থেকে বাহির হবে দ্বিতীয় শটে অবশ্যই একই গতিতে চরিত্রটিকে প্রবেশ করাতে হবে।

) Continuity of Costume & Props: চরিত্রের Costume & Props এর বিশেষ নজর রাখতে হবে।

) Continuity of Lighting: কাহিনীর সাথে যেন লাইটিং এর যেন সামঞ্জস্য থাকে। দৃশ্য ধারনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে কাহিনীর দৃশ্যপট রাত না দিন তখন সেই অনুসারে লাইটিং সেট করতে হবে।

চলবে............

Saturday, June 16, 2012

চলচ্চিত্র শট বা শট বিভাজন

আমরা যারা নাটক বা চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করি তাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় “শট বা শট বিভাজন”। সঠিক ভাবে শট বিভাজন না বুঝলে সম্পূর্ন দৃশ্যপট-ই পরিবর্তন হয়ে যায়। আজকে তেমন গুরুত্বপূর্ন কিছু শট নিয়ে আমি আলোচনা করবো।

* Big Shot: শুধু মাথা, মুখ বা চোখ এরকম শট কে Big Shot বলে।

* Mid Close Shot: নাভি থেকে মাথা পর্যন্ত শট কে Mid Close Shot বলে। একজনের স্থলে ২-৩ জনের ও Mid Close Shot হতে পারে।

* Close Up Shot: বুকের উপর থেকে মাথা পর্যন্ত যে নেয়া হয় তাকে Close Up Shot বলে। লক্ষ রাখতে হবে যেন Mid Close Shot থেকে মাথার উপর কম জায়গা থাকবে।

* Over the Solder Shot: একজনের কাঁধের ওপর দিয়ে যখন আরেক জনের শট নেয়া হয় তখন তাকে Over the Solder Shot বলে। কম্পোজিশনে ভাল ডেপথ পাওয়ার জন্য সামনের জনের ওপর কম আলো এবং পিছনের জনের উপর স্বাভাবিক আলো রাখা যেতে পারে।

* Solo Shot: একজন মানুষের পা হতে মাথা পর্যন্ত দেখা গেলে তাকে Solo Shot বলে। অনেক ক্ষেত্রে নিচের কিছু অংশ বাদ দিলেও তাকে Solo Shot বলা যায়।

* Long Shot: একজন মানুষ বেশ দূর থেকে হেটে আসছে এমন দৃশ্যকে Long Shot বলে। বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন মানুষটির হাত উপরে তুললেও যেন সম্পূর্ন ফ্রেমের মধ্য থাকে, অনুরূপ ভাবে হাঁটলেও যেন তার পা সম্পূর্ন ফ্রেমের মধ্য থাকে।

* Extreme Long Shot: Extreme Long Shot হচ্ছে এমন একটি শট যেখানে পাত্র-পাত্রী কে খুব ছোট দেখাবে, কিন্তু আশেপাশের দৃশ্যকে বড় করে দেখাবে। মূল কথা এমন দৃশ্য স্থান বা পরিবেশ কে প্রাধান্য দেয়া হয়।

* Extreme Shot: একই angle থেকে পরপর তিনবার শট নেয়া কে Extreme Shot বলে।

* Master Shot: একটু দুরে এক বা একাধিক মানুষের কার্যক্রম ধারন করাকে Master Shot বলে। তবে কোন ঘরের মধ্যে এমন দৃশ্য ধারন করাকে Master Shot বলে না।

* Composite Shot: একের অধিক মানুষ একত্রে হয়ে কোন কাজ করছে কিন্তু দূরের বা পাশের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা যায় না তাকে Composite Shot বলে।

* Compact Shot: দুই বা ততধিক মানুষে কার্যক্রম ধারন করাকে Compact Shot বলে। তবে এই ক্ষেত্রে কার্যক্রম ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।

* Tilde Down Shot: একজন মানুষের মাথা থেকে ক্যামেরা প্যান হয়ে পা পর্যন্ত দেখা যাওয়াকে Tilde Down Shot বলে।

* Tilde Up Shot: একজন মানুষের পা থেকে ক্যামেরা প্যান হয়ে মাথা পর্যন্ত দেখা যাওয়াকে Tilde Up Shot বলে।

* Back to Shot: কোন লোকের পেছন থেকে ক্যামেরা লুক থ্রো করাকে Back to Shot বলে।

* Low Angle Shot: কোন লোকের নিচ থেকে ক্যামেরা লুক থ্রো করাকে Low Angle Shot বলে।

* Top Shot: কোন লোকের মাথার উপর থেকে ক্যামেরা লুক থ্রো করাকে Top Shot বলে।

* Turn Shot: একজন লোকের ক্লোজ এ পেছন সাইট ক্যামেরা লুক করা অবস্থায় মুখটা ঘুড়িয়ে ক্যামেরা সামনে আনাকে Turn Shot বলে।

* Charge Shot: কোন ব্যক্তির একটু লং থেকে ক্যামেরা লুক থ্রো করে ক্লোজ এ আনাকে Charge Shot বলে।

* Profile Shot: এক বা দুইজন লোক মুখা-মুখি দাড়িয়ে বা বসে কথা বলার দৃশ্যকে Profile Shot বলে।

* To Shot: দুইজন লোক পাশাপাশি বসে কথা বলার দৃশ্যকে To Shot বলে।

* Montrachet Shot: বাস্তব থেকে পেছনে (কল্পনায়) চলে যাওয়ার দৃশ্যকে Montrachet Shot বলে।

* Introduction Shot: কোন ব্যক্তির কাহানি শুরুর প্রথম দৃশ্যকে Introduction Shot বলে।

* Head On Shot: যখন কোন চরিত্র সরাসরি ক্যামেরার দিকে এগিয়ে আসে তখন তাকে Head On Shot বলে।

* Trail On Shot: যখন কোন চরিত্র সরাসরি ক্যামেরার থেকে পিছনে দূরে চলে যায় তখন তাকে Trail On Shot বলে। এটা হচ্ছে Head On Shot এর সম্পূর্ন বিপরীত।

ইত্যাদি

দুঃখের সাথে বলতে বর্তমান সময়ে অনেক চিত্রগ্রাহক না জেনে বা আলস্যের কারনে শট বিভাজনের নিয়ম নীতি মানছেন না। যদিও শট বিভাজনের কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একজন চিত্রগ্রাহক দর্শকদের কি দেখাতে চায় তার উপর নির্ভর করে শট বিভাজন। তবুও কিছু কিছু নিয়ম অবশ্যই পালনীয়। তেমন কয়েকটি নিয়ম হচ্ছে …....

) বক্তব্য যদি সাদামাটা হয় তাহলে শট বিভাজনের প্রয়োজন নাই। কিন্তু বক্তব্য যদি গুরুত্বপূর্ন হয় তাহলে ক্ষুদ্র কোন দৃশ্যও শট বিভাজনের মাধ্যমে দেখাতে হবে।

) দৃশ্যের গতি বাড়ানোর জন্যও আমরা শট বিভাজন করে থাকি। এতে কাহিনির গ্রহন যোগ্যতা বাড়ে।

) শিল্পীর চরিত্র ও তার অবস্থান বুঝাতে আমরা শট বিভাজন করে থাকি।