The Web This Blog

Sunday, January 31, 2021

B&B সৃষ্টির পিছনের কিছু কথা....

 আমার চাকরি জীবন শুরু ২০০৪ সাল থেকে তখন আমি বিবিএস এর ছাত্র। ২০০৪ সালে আমার সাথে পরিচয় আমার জীবনের একজন অন্যতম ব্যক্তির সাথে, যার কথা জীবনে নানা সময় নানা ভাবে বলেছি। তিনি আমার কম্পিউটার গুরু, অফিসের বস, চাকরি দাতা, বড় ভাই, খারপ সময়ের বন্ধু, বাস্তব জীবনের দিক নির্ধারক আর অনেক কিছু। চাকরি জীবনের প্রথম থেকেই একটি ইচ্ছা বা চেষ্টা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতো কি করলে নিজের পাশাপাশি আরো কয়েকজনকে চাকরি দেওয়া যায়। কিন্তু একটা শর্ত যাদের চাকরি দিবো তাদের রেজাল্ট ভালো হলে হবে না কারন ভালো ছাত্রদের চাকরির ওভাব হয় না কিন্তু যাদের রেজাল্ট ভালো নয় কিন্তু মনোবল ও কর্মস্পৃহা আছে একমাত্র তারাই আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুজোব পাবে। আমি নিজেকে একজন ব্যবসায়ি নয় একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি ভালবাসি।

আমার তৃতীয় চাকরি ছিল বাংলাদেশের স্বানাম ধন্য একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে। সেখানই পরিচয় হয় আরো বেশ কিছু ভালো মানুষের সাথে। তখন থেকই নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রচন্ড ইচ্ছা দেখা দেয়। কয়েকজন বন্ধু মিলে মাত্র ৪-৫ বছরেই একে একে ছয় থেকে সাতটি ব্যাবসা শুরু করি যার মধ্যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, আইটি ফার্ম, কোচিং সেন্টার, প্রি-স্কুল, প্রোগ্রাম অর্গাইনাজার অন্যতম। কিন্তু বিধি বাম হলে যা হয় সমমনা কাওকে বেশি দিন পেলাম না। কেও বিদেশ চলে গেলো, কারো বিয়ে হয়ে গেলো, কয়েক জনের সাথে অংশিদার দন্দ হয়ে সব মিলিয়ে জমানো সব টাকা ও অনেকটা সময় শেষ।

স্বপ্ন মানুষকে রাজা করে আবার ভিখারি ও করে দিতে পারে। তারপর অনেকদিন ভেবেছি কি করা যায়, আর কাওকে অংশিদার করবো না ঠিক করেছি। তখন ভাবতাম যদি শিক্ষিত কাওকে বিয়ে করতে পারি তাহলে তাকে দিয়েই আমার ব্যবসার স্বপ্ন পূরন করবো। এবং খুব ইচ্ছা আমার সন্তান ছেলে-মেয়ে যাই হোক তারা হবে দেশের একজন কমবয়সি ব্যাবসায়ি। চেষ্টা করছি আমার বড় মেয়েকে সেই ভাবেই তৈরি করতে, জানিনা পারবো কিনা কিন্তু চেষ্টা করছি।   

২০১৩ সালে আমি বিয়ে করি। তখন থেকেই শুরু করি B&B (BISNUPRIA & BAPPY)। নামতো ঠিক করলাম কিন্তু হাতে তেমন কোন টাকা নাই ব্যাংকে মাত্র ২১০০ টাকার মত ছিল। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় আইটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছিলাম। তাই এই পেশাটা আমার খুবই টানে বা দুর্বলতা আছে। ফ্রিলেন্সার হিসাবে কিছুদিন চেষ্টা করে কিছু কাজ করেছিলাম কিন্তু ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারলাম না।

...........মাঝের কিছু কথা এখন আর লিখতে পারছি না।............................

.......................

...........

আমার জীবনের সেই প্রিয় মানুষটির সাথে অনেক বছর কোন যোগাযোগ নেই একটি বিশেষ কারনে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে একদিন ফেসবুকে আমার একটি স্টাটাস দেখে তিনি আমাকে ফোন দিলেন এবং মানষিক ভাবে কিছুটা হতাশ আছি যেনে সান্তনা ও ভরশা দিলেন। তিনিই আমাকে বুদ্ধি দিলেন ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে। তিনি বললেন, তোমার মেধা ও পদ্ধতি জানা আছে এবং তোমার হাতের কাছে প্রচুর পন্যও আছে যেগুলি দিয়ে তুমি খুব সহজেই এটি শুরু করতে পারো। তার কয়েকদিনের মধ্যেই আমি B&B নাম দিয়ে শুরু করি আমার ই-কমার্স ব্যবসা।

দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর পার করলাম। ধিরে ধিরে আমাদের স্টোরের একের পর এক পন্য সংযুক্ত হচ্ছে। অর্ডারও হচ্ছে। এখন ভাবছি একটি স্থায়ি দোকান দিবো। সেখানে কয়েকজনকে চাকরি দিতে পারবো। সেইদিন যদি সেই অপ্রতাশিত ফোনটি না আসতো আমার, তাহলে হয়তো এই লেখাটি আর লেখা হতো না।

ভালো থাকুন ম্যাক ভাই। বাকি ইতিহাস না হয় পরবর্তিতে অন্য একদিন লেখা হবে আবার  ................................      

www.daraz.com.bd/bb-1573541732

Friday, January 8, 2021

স্টাইলিশ নায়ক জাফর ইকবাল


বাংলা
চলচ্চিত্রের প্রথম স্টাইলিশ নায়কদের অন্যতম জাফর ইকবাল । তিনি চিরসবুজ নায়ক হিসেবেই বেশী পরিচিত ছিলেন। আমার কাছে তার অভিনয়ের চেয়ে তার পোষাক পড়ার ধরন বা স্টাইল গুলোই বেশী ভাল লাগতো। ছোট হাতা টি-সার্ট ও জিন্স পন্টের সাথে ইন করার স্টাইল আমার এখনও মনে দাগ পড়ে আছে। আজ ৮ ই জানুয়ারী এই ক্ষণজন্মা নায়কের মৃত্যু দিবস, তাই তার সম্পর্কে কিছু লেখার চেষ্টা করছি।

২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ সোমবার সালের ঢাকার গুলশানে জাফর ইকবালের জন্ম হয়। তার পিতার নাম এম ফজলুল হক ও মাতার নাম আসিয়া হক। তার গ্রামের বাড়ি ছিল সিরাজগঞ্জ জেলায়। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ দেশের নামকরা সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এবং ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী। জাফর ইকবাল প্রথমে গায়ক হিসেবেই পরিচিতি পান, এরপর আসেন সিনেমায় নায়ক হিসেবে।

সংগীত পরিবারের ছেলে হিসাবে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে বন্ধু তোতা, মাহমুদ ও ফারুককে নিয়ে ‘রোলিং স্টোন’ ব্যান্ড গড়েছিলেন। তিনি ছিলেন মার্কিন রক সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা Elvis Presley একজন অন্ধ ভক্ত।

সংগীত পরিচালক বড় ভাই আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘বদনাম’ ছবির ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটি দিয়ে চলচ্চিত্র প্লেব্যাকে অভিষেক হয় তার। দেশের খ্যাতিমান সুরকার আলাউদ্দিন আলীর সুরে অনেক গান গেয়েছেন তিনি। তার গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরণী’, ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’, ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ আশির দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে একটি অডিও অ্যালবামও প্রকাশ হয়েছিল তার। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর উদযাপন বিশেষ অনুষ্ঠানে গেয়েছিলেন ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি।

খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ ছবিটি ছিলো জাফর ইকবালের প্রথম ছবি। ১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার নায়িকা ছিলেন কবরী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ক্ষণজন্মা এই তারকা। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। ‘সূর্যসংগ্রাম’ ও এর সিকুয়েল সিনেমা ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেন। জাফর ইকবালের সাথে অভিনেত্রী ববিতা জুটি হয়ে প্রায় ৩০টির মত ছবি করেন।

১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় তাঁকে সে প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী একজন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেন। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান ‘নয়নের আলো’ সিনেমার মাধ্যমে। সর্বমোট ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল। যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসা সফল। তিনি প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। ‘প্রেমিক’ সিনেমাটি তার প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমা।

শহুরে রোমান্টিক ও রাগী তরুণের ভূমিকায় দারুণ মানালেও সব ধরনের চরিত্রে ছিল তার স্বাচ্ছদ্য বিচরণ। অভিনয়ের পাশাপাশি চমৎকার গান গাইতে পারা এ অভিনেতা বেশকিছু ছবিতে গায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৮৪ সালে আনোয়ার পারভেজের সুরে রাজ্জাক অভিনীত বদনাম ছবিতে 'হয় যদি বদনাম হোক আরও’ তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম। মূলত তিনি ছিলেন গিটারবাদক। ভালো গিটার বাজাতেন বলে সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে দিয়ে সেই সময় অনেক ছবির আবহসংগীত তৈরি করিয়েছেন। তার সেই ছবিগুলোও বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

১৯৮৯ সালে জাফর ইকবাল অভিনীত ত্রিভূজ প্রেমের ছবি ‘অবুঝ হৃদয়’ সেই সময় দারুণ ব্যবসা সফল হয়। এ ছবিতে চম্পা ও ববিতা- দুই বোনের বিপরীতে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ববিতার সঙ্গে তার জুটি ছিল দর্শক নন্দিত। ববিতার বিপরীতে ৩০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই জুটির বাস্তব জীবনে প্রেম চলেছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল।

জাফর ইকবাল মানে কালজয়ী এক গায়ক আর অভিনেতার প্রিয় মুখ। তার গাওয়া গান ও অভিনীত চলচ্চিত্রের সুবাদে ভক্তদের হৃদয়ে এখনো ভালোবাসায় চির ভাস্বর হয়ে আছেন তিনি। চিরকাল অম্লান থাকবেন ক্ষণজন্মা এই তারকা।

তার স্ত্রীর নাম সোনিয়া। যার দুটি চোখ দেখেই প্রেমে পড়েছিলেন আমার এই প্রিয় নায়ক। সেই চোখ দুটিই যখন জাফর ইকবালকে অপছন্দ করতে শুরু করলো তখন আর বেচে থেকে কি লাভ।  তাদের দুই সন্তান ছিল। চিত্র জগতের এক জনপ্রিয় নায়িকাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তাকে জীবনে না পেয়ে মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। তার এই বিপর্যয়ের কারণে পারিবারিক জীবনেও শান্তি পাননি। অশান্তির কারণে জাফর ইকবাল মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েন। মদ পান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন শুরু করেন। পরবর্তীতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তার হার্ট এবং কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। 

১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি বুধবার মৃত্যুবরণ করেন জনপ্রিয় নায়ক জাফর ইকবাল। ঢাকার আজিমপুর গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সবাইকে কাঁদিয়ে অকালে চলে যাওয়া এই জীবন গল্পের নায়ক জাফর ইকবাল।

এক নজরে তার অভিনীত চলচিত্রের নাম ও বিস্তারিত।

 

বছর

চলচ্চিত্র

ভূমিকা

পরিচালক

টীকা

১৯৭০

আপন পর

 

বশীর হোসেন

প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র

সাধারণ মেয়ে

শাহেদ

ই আর খান

 

একই অঙ্গে এতরূপ

 

 

 

১৯৭৫

ফেরারি

 

 

 

মাস্তান

 

 

 

বাঁদী থেকে বেগম

 

মোহসীন

 

১৯৭৬

সূর্য সংগ্রাম

 

আব্দুস সামাদ

 

এক মুঠো ভাত

জুম্মন

ইবনে মিজান

 

দিনের পর দিন

 

 

 

বেদ্বীন

 

 

 

অংশীদার

 

 

 

মেঘ বিজলী বাদল

 

 

 

আশীর্বাদ

 

 

 

মর্যাদা

 

 

 

১৯৭৮

ফকির মজনু শাহ

 

দারাশিকো

 

১৯৮৪

নয়নের আলো

জীবন

বেলাল আহমেদ

 

১৯৮৫

মিস লংকা

 

 

 

প্রেমিক

 

মঈনুল হোসেন

 

১৯৮৭

সন্ধি

ইমরান চৌধুরী

 

 

অপেক্ষা

 

দিলীপ বিশ্বাস

 

 

ফুলের মালা

 

 

 

১৯৮৮

যোগাযোগ

জাফর চৌধুরী

মঈনুল হোসেন

 

১৯৮৯

অবুঝ হৃদয়

 

 

 

১৯৯০

ভাইবন্ধু

 

 

 

ছুটির ফাঁদে

বিমল

শহীদুল হক খান

 

দোষী

 

 

 

বদনাম

 

 

 

প্রতিরোধ

 

 

 

গর্জন

 

 

 

১৯৯১

সন্ত্রাস

জয়

শহীদুল ইসলাম খোকন

 

১৯৯২

 

চোরের বউ

 

জহিরুল হক

 

শঙ্খনীল কারাগার

ফরিদ

মোস্তাফিজুর রহমান

 

অবদান

রাজা




 

 

জাফর ইকবালের গাওয়া আমার প্রিয় একটি গান দিয়ে শেষ করবো তার প্রতি শ্রদ্ধা। যার গীতিকার ছিলেন মনিরুজ্জামান মনির ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী।


সুখে থাকো
ও আমার নন্দিনী
হয়ে কারো ঘরণী,
জেনে রাখো
প্রাসাদেরও বন্দিনী
প্রেম কভু মরেনি
।
 

চলে গেছ
কিছুতো বলে যাওনি

পিছুতো ফিরে চাওনি,
আমিও পিছু ডাকিনি
বাধা হয়ে বাধিনি
। ২

সুখে থাকো
ও আমার নন্দিনী
হয়ে কারো ঘরণী,
জেনে রাখো
প্রাসাদেরও বন্দিনী
প্রেম কভু মরেনি
।

 

তথ্যসূত্রঃ- জাফর ইকবাল