The Web This Blog
Showing posts with label Education. Show all posts
Showing posts with label Education. Show all posts

Friday, July 30, 2021

আমার জীবনে Mentor এর ভুমিকা (শেষ অংশ)

{ প্রথম অংশ }

২০০৪ সাল থেকে আমার কর্মজীবন শুরু। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কেটেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। যখন যেই প্রতিষ্ঠানে ছিলাম সেখান থেকে চেষ্টা করেছি নতুন নতুন কিছু শিখতে ও নিজের মেধা ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে।

১। মাহে আলম খানঃ- MAK ভাই এর সাথে আমার পরিচয় ২০০৪ সাল থেকে। তিনি ছিলেন আমার Computer Hardware শিক্ষক। আমার কাছে অন্য সকল শিক্ষক ও Boss রা হলো জীবন গ্রন্থের একেকটি অধ্যায়। আর মাহে ভাই আমার জীবনের একটি অসমাপ্ত কাব্য। ২০০৪ থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ছিলেন শিক্ষক, গুরু, Boss, বড় ভাই, কর্মজীবনের অভিভাবক ........... ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত আমার জীবনের যত সাফল্য তার সাথে কোন না কোন ভাবে মাহে ভাইয়ের অবদান রয়েছে। আমার bLog এ তাকে নিয়ে অনেক লেখা আছে।

২। এ এইচ রবিন ও সামিম স্যারঃ- আমার কর্মজীবন শুরু করি ২০০৪ সালে INFOBASE থেকে। যার কর্নধার ছিলেন এই দুই বন্ধু। আমার সৌভাগ্য এমন দুইজন মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। এই মূহর্তে রবিন স্যারের একটি কথা মনে পরছে, “কর্মজীবনে মনে রাখবে তোমার Senior রা কেও তোমাকে নিজ থেকে কিছু শিখাবে না, তোমাকেই তাদের কাছ থেকে তোমার বুদ্ধি দিয়ে শিখে নিতে হবে।”

সামিম স্যার একদিন তার গাড়িতে করে আমাকে বাসায় নিয়ে যায় তার কম্পিউটার ঠিক করতে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “অফিস চলাকালিন তুমি মনে রাখবে কাজ শেষ বলে কোন কথা নাই, তোমার কাজ না থাকলে অন্যেরা কি কাজ কিভাবে করছে শিখার চেষ্টা করবা। জীবনের কোন সময় কোন শিক্ষাটা কাজে আসবে তুমি জাননা। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করবা।”

৩। তপন সাহাঃ- সাল ২০০৬, P.N. COMPOSITE এর শুরুর দিকে চাকরি তে যোগদান করি। তপন স্যার ছিলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। একদিন রাত্রে আমার শিফট চলছিল। তেমন কোন কাজ ছিলনা স্যার এসে আমাদের Color Lab এ বসলেন ও অন্য সবার খোজ খবর নিচ্ছিলেন। আমার পরিচয়, লেখা-পড়া ইত্যাদি জানার পর তিনি কিছুটা অবাক হন আমার ছোট মামার নাম শুনে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস ও টেস্টটাইল সেক্টরে তার ব্যপক পরিচিতি। তিনি বলেছিলেন তুমিতো তাহলে বেশিদিন এখানে চাকরি করবে না। আমাকে জিজ্ঞাসা করলো আগামী দশ বছর পর তুমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাও। আমি অনেকটা সাহস নিয়েই বলেছিলাম স্যার নিজেকে একজন ব্যবসায়ি হিসেবে দেখতে চাই। আমার প্রতিষ্ঠানে তারাই কাজ করবে যাদের আমার মত মেধা আছে কিন্তু লেখা পড়ার সুযোগ বেশি পায়নি। স্যার শুনে কিছুটা হাসলেন।

তখন আমি পুরান ঢাকা থেকে প্রতিদিন বাসে কোনাবাড়ী, গাজিপুর অফিস করতাম। তিনিই আমাকে প্রথম বুদ্ধি ও সুযোগ করে দিয়েছিলেন চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতে। তখন আমি ঢাকা থেকে কিছু কিছু Garments Accessories নিয়ে ফ্যাক্টরিতে Supply দেওয়া শুরু করি। ব্যবসার হাতেখড়ি সেই থেকে শুরু .......।

৪। জামিল আহমেদঃ- ২০০৪ বা ২০০৫ সালের দিকে জামিল ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় একটি কম্পিউটার মেলাতে। তখন আমি ও ম্যাক ভাইয়ের কয়েকজন ছাত্র OpenSource নিয়ে কাজ করছিলাম।

কর্মক্ষেত্রে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ দেয়ার অবদান জামিল ভাইয়ের। TigerIT তে আমি ২০০৭ সালে যোগদান করি। তখন অফিস ছিল মগবাজারে। কাজ যে বিনোদনের মাধ্যমেও করা যায় TigerIT তে যোগদান না করলে জানাও হতো না আমার। যখন কাজ তখন দিন রাত শুধুই কাজ, আবার যখন বিনোদন তখন শুধুই বিনোদন। অফিসের যেকোন কঠিন কাজ কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে করা যায় জামিল ভাইয়ের সাথে পরিচয় না হলে হয়তো শেখাই হতো না। ব্লগটি লিখতে বসে TigerIT এর সবারই মুখটি খুব মনে পরছে। আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর ও সর্নালী সময়টুকু পার করেছি এখানেই।  

ম্যাক ভাই ও জামিল ভাইয়ের হাত ধরেই Ankur ICT Development Foundation এ যোগদান করি। কাজের কারনেই তখন দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে যাওয়ার একটি সুযোগ হয় আমার। তখন আমার মাথায় দেশ ও দেশের সুবিধাবন্চিত মানুষের জন্য কিছু একটি করার চিন্তা মাথায় ঠোকে। সেই চিন্তাটি এখনো আছে শুধু সুযোগের অপেক্ষা। জামিল ভাইয়ের হাসিটি খুবই সুন্দর মাঝে মাঝে খুব মনে পরে তার সেই হাসির কথা।

৫। হরিপদ ব্যানার্জীঃ- ২০১৩ সালে Purchase Officer হিসাবে য‌োগদান করি Metro Knitting & Dyeing Mils এ। হরিপদ স্যার কে দেখে অবাক হতাম প্রায় ৬০ উর্ধ বয়স সেই বয়সেই তার যে কর্মদক্ষতা তা আমাদের অনেকেরই হার মানায়। তিনি মনে করতেন যে কাজে যে দক্ষ তাকে দিয়েই সেই কাজটি করানো উচিৎ, তাতে কাজটি সুন্দর হয়। তিনি সকলকে তার পুত্রসম ভালবাসতেন।  

৬। বলরাম সরকারঃ- জীবনের দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর যখন ভাবলাম এখন স্থায়ী ব্যবসায় করা দরকার, কিন্তু অভিজ্ঞতা থাকলেও টাকা নেই। কারন চাকরির পাশা পাশি কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মক্ষিন হই অনেক। ২০১৬ সালে আমার কাকাত ছোট ভাই আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে BS Trading নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। যার কাছে আমি কৃতজ্ঞ কারন এখানে না আসলে হয়তো ব্যবসার মূল জিনিসগুলো জানাই হতো না। বলরাম এর ধর্মীয় অনুভুতি, মানুষকে ভালবাসার ক্ষমতা, নতুন নতুন ব্যবসার উদ্ভাবনী শক্তি অসাধরন। এখনও অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করছি তার কাছ থেকে।     

প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর আরেকটি বানী দিয়ে লেখা শেষ করবো,

 

শিখলি যে তুই কত-শত

বোধ তো কিছুই ফুটল না!

স্মৃতির বলদ্ হ’লি শুধু

একমুঠো ভাত জুটল না?

আমার জীবনে Mentor এর ভুমিকা (প্রথম অংশ)

করার পথে চলতে গেলে

এতই ঠকা শেখাই দায়,

অতো ঠকে শিখতে গেলে

জীবনে কি পাড়ি পায়?

শিখেছে যে তার কাছে তাই

শেখায় শরণ নেওয়াই ভাল,

নইলে যে ত‌োর ব‌োকা সাহস

ভরজীবনই ঠকিয়ে গেল।

উপরের কথা বা বানীটি যিনি দিয়েছেন আমার জীবনের একমাত্র উপাস্য, আরধ্য দেবতা প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। আজকের লেখার সাথে বানীটির বেশ মিল আছে বলেই এই বানীটি দিয়ে আমার লেখা শুরু করলাম।

জ্ঞান অর্জনের কোন শেষ নেই। জন্ম থেকে আ-মৃত্যু মানুষ কোন না কোন ভাবে শিক্ষা গ্রহন করেই। নবি কারীম (সঃ) বলেছেন, "দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর।"

সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনে প্রতিনিয়ত কোন না কোন প্রশ্নের সৃষ্টি হতেই থাকে। শিক্ষা গ্রহন করার বিষয়টি সম্পূর্ন ব্যক্তির নিজস্ব অভিরুচির উপর নির্ভর করে। সবাই একরকম ভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ নাও করতে পারে। কেউ শিখে Practically, কেউবা চোখে দেখে, কেউ বই পড়ে, কেউবা অভিজ্ঞতা অনুসারে, কেউ চিন্তার মাধ্যমে, কেউবা আবার বিশ্বাসে আরো অনেক পদ্ধতি থাকতে পারে। তবে আমার মতে শিক্ষা গ্রহনের সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পন্থা হচ্ছে শিক্ষক গুরুর মাধ্যমে। একজন শিক্ষক বা গুরুই ছাত্রের ধরন বুঝে তাকে শিক্ষা দিতে পারেন।

অপরদিকে, শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে স্বশিক্ষা। নিজে নিজে যা শিখে সেই শিক্ষা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা মানুষের খুব কমই থাকে। যে শিক্ষা আমরা সাধারনত নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বা জীবনে ঘটে যাওয়া বড় কোন ঘটনার মাধ্যমে শিখে থাকি। প্রচলিত একটি কথা আছে, "তুমি শিখছিলা কোথায়? আমি ঠেকছিলাম যেথায়।" এই ঠেকে শেখাকেই এক কথায় স্বশিক্ষা বলা যেতে পারে।

প্রতিটি মানুষের কাছে নিজ পরিবার হচ্ছে প্রধান শিক্ষাক্ষেত্র। পিতা-মাতাই তার প্রথম শিক্ষক। আমার জীবনে মা জীবনের তেমনই শিক্ষক। আমার জীবনের এমন কোন ঘটনা নেই যা আমার মা-এর সাথে আলোচনা করিনি। আমার মাকে কতটুকু ভালবাসি তা জানিনা কিন্তু তার খুসির জন্য যেকোন কিছু ত্যাগ করতি রাজি আছি। 

স্বর্গীয় কালি পদ সরকার আমার ঠাকুর দাদা (Grandfather) ১৯৯৯ সালের ১৭ ই জানুয়ারী তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন আমার প্রথম পারিবারিক আদর্শ। তিনিই আমার জীবনের বেশীর ভাগ গুনের বীজ রোপন করে দিয়েছিলেন। আমার দুঃখ কিশোর বয়সেই আমি তাকে হারিয়েছি, বেশি কিছু শিখতে পারিনি আর। ধর্ম, বিজ্ঞান, মানবিকতা সহ অনেক কিছুরই ভিত্তি তার হাত ধরেই। তিনিই আমাকে শিখেয়েছিলেন কিভাবে মটর ও ককসিট দিয়ে খেলনা লঞ্চ বানিয়ে নদিতে চালানো যায়। কিভাবে নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। তিনি বলতেন যতক্ষন নিজের সামর্থ থাকে ততক্ষন অন্যের কাছ থেকে কোন প্রকার সাহায্য নেয়া নিজের যোগ্যতাকেই অপমান করা। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন এই প্রার্থনা। 

রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২), নাটকে শহীদ মুনীর চৌধুরী বলেছেন, “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়।”

জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর আজ আমার সৃতির ভান্ডার থেকে যতটুকু মনে আছে তা থেকে ছাত্র জীবনের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মজীবনের কয়েকজন Boss সম্পর্কে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আজ আমি যেখানে অবস্থান করছি সেখানে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার স্বশ্রধ্য প্রনাম ও ভালোবাসা।

১। মোঃ খালেক স্যারঃ- আমাদের পারিবারিক শিক্ষক ছিলেন খালেক স্যার। তিনি গেন্ডারিয়ার উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি করতেন পাশাপাশি আমাদের ছোট কাকা এবং আমাদের সকল ভাই-বোনদের পড়াতেন। আমার জীবনের প্রথম হাতেখড়ি থেকে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত তিনি পড়িয়েছিলেন। এই মূহর্তে স্যারের যে বিষয়টি আমার খুব মনে পরছে, তিনি যেদিন বিদ্যালয় থেকে নতুন বই দিতো সেই দিন পড়াতেন না। সেই দিন থাকতো শুধু বই পরিচিতি। প্রতিটি নতুন বই এর গন্ধ শুকতে ও বইয়ের ছবি গুলো দেখতে দিতেন আর বলতেন আগে বইকে ভালবাসতে শিখো তারপর কাল থেকে পড়ালেখা।

২। অসিম কুমার ভৌমিকঃ- অসিম স্যার মূলত ইংরেজীর শিক্ষক ছিলেন। আমি তার কাছে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম (এস এস সি) শ্রেনী পর্যন্ত সকল বিষয় পড়েছিলাম। তার একাদশ শ্রেনীর ইংরেজী পড়ানোর পদ্ধতি ছিল অসাধরন। কিভাবে ইংরেজীর কোন শব্দ ডিকশেনারী থেকে বের করতে হয় তার কাছ থেকেই শেখা।

৩। বিধান বিশ্বাসঃ- বিধান স্যার এর কাছে আমি নবম ও দশম শ্রেনীর অংক করতাম। তখন কেন যেন মনে হতো তিনি একবার যে অংক শিখাতেন তা আর ভুলার কোন উপায় নেই। যে কোন অংক কি ভাবে সহজে মনে রাখা যায় তিনিই জানতেন। আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে অংকের জাহাজ বলতাম।

৪। রুহুল আমিন হাওলাদারঃ- হাওলাদার স্যার ছিলেন আমাদের গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক। তার কাছে কয়েক মাস ব্যাচে বিজ্ঞান ও অংক পড়েছিলাম। তার পড়ানোর পদ্ধতির কারনেই আমার জীববিজ্ঞানের প্রতি একপ্রকার ভালোবাসা জন্মায়। ভেবেছিলাম বড় হয়ে শুধু জীববিজ্ঞান নিয়ে লেখা পড়া করবো। যে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে আছে। 

৫। বিবেকানন্দ বিশ্বাসঃ- বিবেক স্যার আমাদের পারিবারিক আত্মীয় (দাদা) হয়। ছোট বেলা থেকেই তার সাথে আমার সম্পর্ক। তার কাছে একাদশ থেকে এম,কম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ি। তার হিসাব বিজ্ঞান পড়ানো ছিল এতাটাই সাবলীন ও অপ্রতিদন্ধী যে তখন আশে পাশের এলাকা থেকেও প্রচুর ছাত্র-ছাত্র আসতো। তিনি আমাকে ফ্রী পড়াতেন। তখনই আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমিও যদি শিক্ষকতা করি তখন আমিও কিছু ছাত্র ফ্রী পরাবো এবং সেই কারনে আমাদের কচিং সেন্টারে কিছু গরিব ছাত্রদের সবসময় ফ্রী পড়তাম।

৬। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদঃ- BUET পরিচালিত IAC থেকে আমি ২০১১ সালে Web Design and Application Development কোর্সটি করি। ড. কায়কোবাদ স্যারকে আমার টেলিভিশন ও বিভিন্ন কম্পিউটার মেলায় অনেকবার দেখার সুযোগ হয়েছিল। যখন কোর্সটি ভর্তি হই তখন মনে করেছিলাম স্যার বোধহয় আমাদের ক্লাস করাবেন। সেই সুযোগ আর হয়নি। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমাদের Certificate প্রদানের দিন স্যার এসেছিলেন। স্যারের একটি কথা আমার খুব মনে পরে। তখন তিনি তার বক্তিতায় বলেছিলেন, “এই অল্প সময়ে তোমরা এখান থেকে যা শিখলে তা যদি তোমরা কাজে লাগাতে পারো সেটাই তোমাদের পরিশ্রমের সার্থকতা। সব সময় মনে রেখো তোমরা আজ পৃথিবী থেকে যা গ্রহন করলে বা শিখলে তা যেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজের মাধ্যমে কয়েকগুন ফেরত দিতে পার। ”

 

{শেষ অংশ}

Thursday, August 4, 2011

আধুনিক আদর্শ লিপি ও সরল বর্ণপরিচয়

আমার এখনও মনে আছে, আমরা ছোটবেলায় পড়তাম সতীনাথ বসাক এর “আদর্শ লিপি” বই। এখন খুব একটা দেখা যায় না এই বই গুলা। সেদিন বাংলাবাজার হাটতে হাটতে সামনে পরলো সেই বইটি। না কিনে পারলাম না। চট জলদি ২টি বই কিনে নিলাম। ১টা আমার সংগ্রহের ও ১টা আমার ছোট কাকাতো বোনের জন্য।


নতুন বেশ কিছু সংযোজিত হয়েছে, তারপরও অনেক মিল আছে। যেটা আমাদের সোনা-মনিদের খুব জানা দরকার তেমন কিছু কথা আছে।


= অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করো।
= আলস্য দোষের আকর।
= ইন্টারনেট বিজ্ঞানের চমক।
= ঈশ্বরকে বন্দনা করো।
= উগ্রভাব ভালো নয়।
= ঊর্ধ্বমুখে পথ চলো না।
= ঋষিবাক্য শিরোধার্য।
= একতা সুখের মূল।
= ঐশ্বর্য রক্ষা করা কঠিন।
= ওষধি ফল পাকলে মরে।
= ঔদার্য অতি মহৎ গুন।
= কটুবাক্য বলা অনুচিত।
= খলকে বিশ্বাস করো না।
= গর্ব করা ভালো নয়।
= ঘন মেঘে বৃষ্টি হয়।
= চন্দ্রকিরণ অতি স্নিগ্ধ।
= ছলনা করা বড় দোষ।
= জনক-জননী অতি পূজ্য।
= ঝগড়া করলে বিপদ ঘটে।
= টাকার অহংকার ভালো নয়।
= ঠকের বাক্য অবিশ্বাস্য।
= ডুমুর ফুল দেখা যায় না।
= ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।
= তপস্বীরা বনে থাকেন।
= থপ থপ করে ব্যাঙ চলে।
= দরিদ্রকে অন্ন দান করো।
= ধর্মপথ অবলম্বন করো।
= নম্র হতে চেষ্টা করো।
= পন্ডিত লোক সভার প্রিয়।
= ফল দ্বারা বৃক্ষের পরিচয় হয়।
= বন্ধুর হিত করা কর্তব্য।
= ভগ্নোৎসাহ হইও না।
= মন দিয়ে বিদ্যাভ্যাস করো।
= যত্ন করলে রত্ন মিলে।
= রবির কিরণ অতি প্রখর।
= লম্ফ দিয়ে পথ চলিও না।
= শঠকে বিশ্বাস করো না।
= ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।
= সৎ পুত্র কুলের ভুষণ।
= হঠকারিতা বড় দোষ।
ক্ষ = ক্ষমা প্রদর্শন দেব ধর্ম।

Tuesday, September 30, 2008

নিজের ঢোল নিজে বাজাই

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, আমার ২৬ বছর পূর্ন হলো। কাগজ কলমে যদিও ২৫।


জম্ন কথাঃ


আমার জম্ন মামা বাড়িতে ছোট্ট একটি ঘরে। যেই ঘরে আমার মায়ের ও জম্ন হয়েছিল। জম্ন গত ভাগে আমি তুলা রাশির জাতক ও দেবগন। আমার জম্নের সময় গ্রহ গত কারনে বাম পার পাতা বাকা ছিল (এখন সম্র্পূন ভাল)। আমি ছিলাম আমার বংশের প্রথম পুত্র সন্তান।


বংশ পরিচয়ঃ


বংশ গত দিক দিয়ে আমি আলিমন গোত্রের কায়স্ত শীল। ঠাকুর দাদা ছিলেন কবি গানের সরদার। যাত্রা, কবি গান, পালা গান ইত্যাদি আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে। ঠাকুর দাদার সময় থেকে নামের উপাধি শীল এর পরিবর্তে সরকার ব্যবহার করে আসছি। পারিবারিক ভাবে আমরা মা কালী -এর উপাসক। প্রতি বছর মাঘী পূর্নিমার আগের রাতে গ্রামের বাড়িতে মার পূজা হয়।


আমরা ৩ ভাই-বোন। দিদি-আমি-বোন। আমাদের সবার নামের অক্ষর থাকতে হবে।

বাবা: রবীন্দ্রনাথ সরকার, মা: রিতা রানী সরকার, দিদি: মাধবী রানী সরকার (রেখা), আমি: রাম কৃষ্ণ সরকার, বোন: শিখা রানী সরকার (রাধা)।


লেখা পড়াঃ

লেখা পড়ায় কখোনই ভাল ছিলাম না। পরীক্ষায় পাশ করার জন্য যতটুকু দরকার ততোটুকু হলেই খুশি। সিরাজুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পাশ করে ভর্তি হই গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৯ সালে মাধ্যমিক শেষ করলাম। এইচএসসি সলিমূল্লা ডিগ্রী কলেজ এবং বিবিএস সরকারি শহিদ সোহরাওর্দী কলেজ থেকে পাশ করলাম সেটা ২০০৪ সালের এর কথা।


চাকরি জীবনঃ


এসএসসি পাশ করে প্রথম শিক্ষক হিসাবে চাকরি জীবন শুরু করলাম। তখন একটি মাত্র ছাত্র পড়াতাম। বেতন শুরু হলো ৩০০ টাকা থেকে। প্রথম আয় ভাবতে ভালই আগতো। বিবিএস পড়ার সময় ২য় চাকরি এটা সর্ম্পকে আগেই বলেছে। এটা ছিল আমার কাছ একটা সপ্নের মত। তারপর যোগ দিলাম গাজীপুরের একটি টেক্সটাইল মিল এ। তারপর ২০০৭ এ বর্তমান টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিঃ-এ।


শখঃ


সময়ের সাথে সাথে শখ গুলো কেমন যেন বদলে গেছে। একসময় ডাকটিকিট, মূদ্রা সংগ্রহ করা ছিল আমার প্রীয় একটি বিষয়। তারপর শুরু হলো গান সংগ্রহ করা। প্রচুর অডিও কেছেট কিনেছিলাম যা এখন বস্তা বন্ধি অবস্থায় আছে। তারপর শুরু হলো জাদু শিখা। একসময় দেখলাম অনেক জাদু শিখে গেছি। এখন ভাল লাগে ঘুরতে, গান শুনতে, বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে।


ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ


এখন যে সপ্ন টা মনের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে, আমাদের গ্রামের বাড়িতে বড় ধরনের একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা যেখানে কাজ করবে শত শত অসহায় ছাত্র-ছাত্রী। কারন আমি মনে করি বাংলাদেশের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়ার পাশা পাশি হাতে কলমে কিছু শিখা। যা পরবর্তী জীবনে কাজে লাগবে।


বেশ কয়েক দিন যাবত ভাবতেছি লেখার জন্য। তারপর ও অনেক কথা বলতে গিয়েও কেন যেন আটগে গেল। পরে এক সময় লিখতে হবে।






------------------

রাম কৃষ্ণ সরকার (বাপ্পী)

মোবইলঃ- +৮৮০-১৭১৫৭৯৫৫৬৩

Email:- shbappy |at| gmail |dot| com

Tuesday, August 5, 2008

আমাকে খোঁজা

ছোটবেলা থেকে আমার প্রকৌশলী বিদ্যা ভাল লাগে। নতুন কিছু দেখলে তার মত একই রকম আরেকটা আমাকে বানাতেই হবে এই ছিল আমার কাজ। এইকাজে আমার মা-র সমর্থন ছিল সবচেয়ে বেশী। আর এতে আমাকে সহায়তা করতেন আমার ঠাকুর দাদা (Grandfather)। তিনি আজ আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে।

ছোটবেলার সেই ইচ্ছা টাকে সফল করার জন্য এস,এস,সি-তে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ালেখা শুরু করলাম। প্রথম বিভাগে পাশ করার পর ভর্তি হতে গেলাম “Dhaka Polytechnic Institute - Dhaka, Tejgaon” দূরভাগ্য অথবা সৌভাগ্য যাই বলা হোক ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ২ নাম্বার কম পাওয়াতে ভর্তি হতে পারলাম না।

এরপর কেটে গেল অনেক বছর। আমি য়খন বি,বি,এস ফাইনাল বর্ষ তখন আমার এক সহপাঠির সাথে ভর্তি হই infobase Ltd
নামক এক প্রতিষ্ঠানে। এইখানে এসে পরিচয় হয় আমার কম্গিউটার গুরু জনাব মাহে আলম খান এর সাথে। তার কল্যানেই আজ আমার এতদূর আসা। তাকে অনেকে MAK নামে চিনে থাকবেন।

Google Search
নিয়ে অনেকের অনেক অভিগ্যতা আছে। আমার ও তেমন দু-চার টা আছে। অনেক আগে বিটিভি তে একটা ইংরেজী ধারাবাহিক হতো The x-files এখানে একবার দেখলাম তারা বিভিন্ন মানুষের সম্র্পকে তথ্য সংগ্রহ করে। যদিও তখন বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতাম না।

যাইহোক, একদিন মাহে ভাই আমাদের দেখালো কিভাবে Google এ Search
করতে হয়। তখন তিনি মজা কারার জন্য নিজের নাম লিখে Search করলো এবং প্রখম প্রখম অবাক হতাম তার সম্র্পকে বিভিন্ন তথ্য দেখতে পেয়ে। আমাদের নাম দিয়ে Search করলে আসে অন্যকিছূ। তখন তিনি আমাদের বললেন না রহস্যটা কি।

তার মাধ্যমেই একদিন Blog সর্ম্পকে জানলাম এবং লেখা শুরু করলাম। এভাবে আমার Blog এর সৃষ্টি। এটা আমার ৮১ তম লেখা। এখন আমার নাম লিখে Google Search দিলে প্রথমেই আমার Blog থেকে কিছু লেখা দেখায়। এখন বিষয়টা মাঝে মাঝে উপভোগ কিরি, ভাবতে ভালই লাগে।