The Web This Blog
Showing posts with label Astrology. Show all posts
Showing posts with label Astrology. Show all posts

Monday, May 4, 2020

মকর রাশির (Capricon) বৈশিষ্ট্য


আমার প্রথম কন্যা আরুশী সরকার জন্ম গ্রহন করে ২৯ ডিসেম্বার ২০১৪ খৃষ্টাব্দ, জন্মগত ভাবে সে মকর রাশির জাতিকা। আমারা আজ জানবো মকর রাশির জাতক-জাতিকারা কেমন হয়।

যে সকল জাতক-জাতিকারা ইংরেজি ডিসেম্বর ২১ তারিখ থেকে জানুয়ারি ২০ তারিখ বা বাংলা সনের পৌষ ৭ থেকে মাঘ ৭ তারিখের মধ্যে জন্ম তারা মকর রাশি বা Capriconএই জাতক-জাতিকারা শনিগ্রহের প্রবাহিততারা খুব ধৈর্য, শ্রম ও কষ্ট সহিষ্ণু হয়ে থাকে। এদের অন্তর্দৃষ্টি বেশ তীক্ষ। প্রায় সর্ব ক্ষেত্রেই এরা তাদের যোগ্যতা দেখাতে পারে।

মকর রাশির শুভ সংখ্যাঃ- ১২
মকর রাশির অধিপতিগ্রহঃ- শনি (ধনাত্নক)
মকর রাশির শুভ রং- সাদা
মকর রাশির শুভ রত্ন পাথরঃ- ইন্দ্র নীলা (Blue Sapphire)

প্রানী রূপে মকর যেমন পর্বতারোহী, এই প্রানীরা বরফ আচ্ছাদিত পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারে, এই সকল জাতক-জাতিকারা সাধারনত নিঃসঙ্গ, মানুষের জীবনের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবসম্মত ও জড়বাদী এবং তাঁরা সবকিছু তাঁদের নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এরা বাস্তববাদী, অতিসতর্ক, জেদি এবং গম্ভীর হয়ে থাকে। এরা খুবই ভালোভাবে জানে কঠোর পরিশ্রম এবং প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো সাফল্যই পাওয়া যায় না। এই সকল জাতক-জাতিকারা দায়িত্ব, ইচ্ছাশক্তি এবং কাজ করার ইচ্ছা আছে, এদেরকে প্রায়ই গম্ভীর, ধ্যানমগ্ন দেখা যায়, কিন্তু পাশাপাশি তাঁরা উচ্চাভিলাষী, ধৈর্যশীল এবং সৎ হয়ে থাকে। এদের জীবন সাধারণত খুবই সহজ, শান্ত এবং উদাসী, এরা সময় নিয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ করে, কিন্তু তা নিশ্চিত হয়ে করে, তাঁরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব তথ্য গুছিয়ে তারপর সিন্ধান্ত নেয়।

এরা মনেকরে কেবল অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই কর্মজীবনের সাফল্য ও ক্ষমতা নির্ভর করে তাই তাঁদের লক্ষ্য প্রায়ই আর্থিক লাভ বা প্রতিপত্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়। এরা কিছুটা কৃপণ বা মিতব্যয়ী হয়ে থাকে। যা অনেকের জন্যই ক্ষতির কারন হয়ে থাকে। এরা আগ বাড়িয়ে নতুন কারো সঙ্গে পরিচিত হওয়া বা সবার সঙ্গে সহজে মিশতে চায় না। নিজের মধ্যে কিছুটা জড়তা কাজ করে। পুরোনো রীতিনীতি মেনে চলতে এরা কিছুটা পছন্দ করে। নিজেকে সবসময় শুদ্ধ ও নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করেএদের দায়িত্বজ্ঞান ও সচেতনতার ফলে অন্যরা সহজে এদেরকে বিশ্বাস করে। রহস্যজনক বিষয়ের প্রতি অনেকের ঝোঁক বেশী থাকে।

একজন মকর রাশির জাতক-জাতিকা জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। সাফল্য সাধারণত বেশি বয়সে আসে। এরা সদা সতর্ক ও হিসেবী হয়ে থাকেন। আরামপ্রিয় বলে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হতে যেতে পারে। এরা যথেষ্ট কর্মশক্তির অধিকারী। সহজাতভাবে এদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে। মাঝে মধ্যে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হতে পারেজ। ভাগ্যোন্নয়নে এদের কর্মের বিকল্প নেই। নানারকমের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করার মাধ্যমে এদেরকে সামনের পথে এগিয়ে চলতে হয়। এরা বাস্তব জীবন সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখেন বলে কল্পনায় ভেসে বেড়ান না।
এদের শরীরের দুর্বলতম অঙ্গ হচ্ছে হাঁটু, জয়েন্ট, কংকালতন্ত্র ও রক্তসংবহনতন্ত্র, কারো কারো ক্ষেত্রে পায়ে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন কিংবা অসুবিধা থাকতে পারে। এদের দাঁতগুলো হবে সুন্দর, সাদা এবং শক্ত নতুবা দন্তক্ষয়ের যন্ত্রণায় মুহুর্মুহু ডেন্টিস্টের কাছে ধর্ণা দিতে হতে পারে। সুস্বাস্খ্যের জন্যে এই জাতক-জাতিকাদের উচিৎ সূর্যালোকে যাওয়া এবং বৃষ্টির মধ্যেও হাঁটা। যেহেতু মকর ছাগলের প্রতীকধারী তাই এই জাতকরা খুব ভদ্রভাবে যে কোন একটা দলে নিজেদের অবস্থান করে নিতে পারে আর নিজের অজান্তেই পেছনের সারিতে নিজেকে ঢেকে ফেলেতেও পারে। সেহেতু এই রাশির জাতক-জাতিকাদের শারীরিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে চিনে ফেলাটা কিছুটা দুরূহ। মকর যেমন হতে পারে চওড়া কাঁধ বিশিষ্ট এবং পুরুষালী আবার চিকন কিন্তু শক্ত-সামর্থও হতে পারে কিংবা নাদুস-নুদুস আর নরম। কিন্তু তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য যাই হোক না কেন, সে যেখানে থাকবে সেখানে শেকড় গেড়ে থাকার মতো একটা লক্ষণ তার মধ্যে দেখতে পারা যায়
এই জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত লাজুক এবং মিষ্টি মনের মানুষ হলেও, তার মধ্যে যথেষ্ট জিদ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারেও মকররা বিনয়ী। দেখতে সে অনকেটাই অসহায় দেখায়। আস্খা রাখার জন্যে এবং নিজের গোপন কথা বলার জন্যে তার মতো নিরাপদ মানুষ খুজে পাওয়া কঠিনতারা বেশ উপকারী এবং অবশেষে যেকারও কাছে সে এতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে যে, যেকেও তার কাছে নিজের ক্ষমতা হস্তান্তর করে দিতে বাধ্য। তখন মকরা এক কোণায় বসে তাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। যে কোন উদ্যোগে তাকে ব্যান্ড বাজিয়ে অগ্রগামীর সারিতে থাকতে হবে তেমন না হলেও ,সে প্যারেডের অনুমতি দেবে এবং দৃশ্যের অলক্ষ্যে থেকে পেছন থেকে প্যারেড পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখে। যেকোন সাহসী এবং উচ্চ উদ্দেশ্যসম্পন্ন পদক্ষেপ সফল করার জন্যে মকরকে জুড়ি নেই।

কোন মানুষই সব দিক দিয়েই সম্পূর্ন ভালো হয় না, দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। তাদের যে গুনটি সবাইকে মুগ্ধ করে ঠিক তেমনি সেই গুনটি মাত্রা অতিরিক্ত হলেই কিন্তু অন্যকে বিরক্ত করে তুলতে পারে। আমাদের দোষগুলো আমরা কতটা কমিয়ে রাখতে পারলাম বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলাম তার ওপরই নির্ভর করে আমাদের জীবনের সাফল্য। জ্যোতিষশাস্ত্রো মতে বৈশিষ্ঠ গুলো যে সবার জীবনে সমান ভাবে প্রভাব বিস্তার করে তা নয়। এক এক জনের জীবনে তা এক এক রকম প্রভাব বিস্তার করে।

Tuesday, April 21, 2020

মেষ রাশির (Aries) বৈশিষ্ট


আমার ছোট মেয়ে অরুনিমা সরকার জন্ম গ্রহন করেছে ০২ এপ্রিল ২০২০ খৃষ্টাব্দ, জন্মসূত্রে সে মেষ রাশির জাতিকা। যারা ২১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল বা বাংলা চৈত্র ৮ থেকে বৈশাখ ৭ এর মধ্যে জন্ম গ্রহন করে তারাই মেষ রাশির জাতক বা জাতিকা। আজ জানবো কেমন হয় এই মেষ রাশির জাতক বা জাতিকারা।

মেষ রাশির শুভ সংখ্যাঃ- ১৯
মেষ রাশির অধিপতিগ্রহঃ- মঙ্গল (যুদ্ধবিগ্রহের দেবতা)
মেষ রাশির শুভ রং- সবুজ
মেষ রাশির শুভ রত্ন পাথরঃ- রক্তপ্রবাল (Red Coral)

মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা মঙ্গল গ্রহের দ্বারা প্রবাহিত হওয়ায় এরা খুবই প্রানবন্ত, সাহসি, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও তেজস্বী মনোভাবের হয়ে থাকে। জন্মকালে মেষ রাশির মঙ্গল, রবি, বৃহস্পতি ও বুধ গ্রহের প্রভাব থাকে যা জীবন সংগ্রামে সাফল্য আনতে বিশেষ সহায়তা করে। এই রাশির জীবনীশক্তি অত্যাধিক ও এরা সকল কাজের নেতৃত্ব দানে পটু হয়। এই জাতক-জাতিকারা সামন্য অনুপ্রেরণা পেলে যে কোনো কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন। সহজাতভাবেই এরা মহৎ, দয়ালু ও বন্ধুদের প্রতি বিশ্বস্ত হয়। যদিও কিছু মানুষ সবসময় এদের ভুল বুঝে থাকে।

মেষ রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যঃ- এ রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর মঙ্গল গ্রহের প্রভাব সবচেয়ে বেশী থাকে। মঙ্গল গ্রহয়ের ভালো প্রভাবের কারনে এর খুব সাহসী, আবেগপ্রবণ ও উচ্চাভিলাষী হয়ে থাকে। এদের প্রাণ শক্তি বেশী থাকার কারনে তাদের চরিত্রের প্রধান দিক হল কর্মতত্পরতা ও উদ্যামী মনোভাব। তারা যে কোন কাজ দ্রুত শেষ করে এবং ভাল ফলাফল তারা সবসময় কাম্য করে। এ রাশির জাতক-জাতিকাদের যেমন দ্রুত রেগে যাবার প্রবনতা আছে তেমনি দ্রুত ঠান্ডা হতেও সময় লাগে না। এরা প্রচন্ড রকম স্বাধীনচেতা হয়ে থাকে। সহজে চ্যালেঞ্জ গ্রহন করা ও অপরকে সাহায্য করতে এরা পিছপা হয় না।

মেষ রাশির কর্ম জীবনঃ- যেহেতু এই জাতক-জাতিকারা নেতৃত্বপরায়ণ, সৃজনশীল ও উদ্যমী তাই তারা দ্রুত চিন্তা ও কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা স্বভাবজাত। যেখানে প্রতিযোগিতা আছে, জনসংযোগ আছে, দৈহিক ও মানসিক শ্রমের সুযোগ আছে সেসব পেশায় এরা দ্রুত সাফল্য অর্জন করে থাকেতাদের উচ্চাভিলাষী মনভাবের কারনে এই জাতক-জাতিকাদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কদর চিরদিনই থাকবে। তবে এরা সাধারনত ইঞ্জিনিয়ার, সৈনিক, খেলোয়াড়, সুপারভাইজার, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে অধিক ভালো করবে। কারন এ পেশা গুলোতে ঝুঁকি নিয়ে কিছু ভালো এবং ব্যতিক্রম করার সুযোগ থাকে যা তাদের স্বভাবসিদ্ধ

মেষ রাশির আর্থিক জীবনঃ- অর্থ উপার্জনে এরা প্রচণ্ড রকম মনোযোগী হয়। অর্থ উপার্জন করার পাশাপাশি আবার এরা খরচের দিকেও সমান, এক হাতে যেমন উপার্জন করে অন্য হাতে তেমনি ব্যয় করতেও এরা সমান পটু। নেতৃত্ব এবং চ্যালেঞ্জ নেবার স্বভাব থেকেই এরা জীবনকে আনন্দ-ফুর্তি ও কর্তৃত্বের মধ্যে সবসময় সক্রিয় রাখতে চা, তবে এরা এও জানে যে জীবনের আনন্দ ফুর্তি অর্জনের জন্য অর্থই হচ্ছে পূর্বশর্ত। যেহেতু এই জাতক-জাতিকারা অর্থ উপার্জনে বেশ পারদর্শী তাই তারা যদি কিছুটা মিতব্যয়ী হয় তাহলে অর্থের অভাব এদের কোনো দিন হয় না। এদের অন্যতম আরেকটি দিক হচ্ছে এরা খুবই সৎ এই সততার কারনে মানুষ তাদের বিশ্বাস ও ভালবাসে

মেষ রাশির জীবনে প্রেম ও বিয়েঃ- এই জাতক-জাতিকাদের একে অপরকে আকর্ষণের জন্য রয়েছে প্রাণচঞ্চল স্বভাব। তবে বাস্তব বাদী হওয়ার কারনে তারা প্রেম ও বিয়ে নিয়ে কখনোই আকাশ-কুসুম কল্পনা করতে পছন্দ করে না। প্রেমের ব্যাপারে নানান অলি-গলি ঘুরে সময় ব্যয় করাকে অপছন্দ করা ও যথার্থ প্রেমিক-প্রেমিকা পেলে সরাসরি প্রস্তাবে এরা আগ্রহী হয় এবং তাকে নিয়েই থাকে জীবনের সব ভালবাসা। অনেকে প্রেমের ব্যাপারে স্বাধীনতা ও অ্যাডভেঞ্চারী হয়ে থাকে যার কারনে একাধিক ভালো লাগায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এই জাতক-জাতিকাদের জন্য শান্ত, উদারমনা, সাজগোজ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও যৌনসচেতন সঙ্গীর প্রয়োজন হয় যে জীবনকে ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা ও প্রশংসা দিয়ে ভরিয়ে দেবে। অন্যথায় কারও কারও জীবনে একাধিক বিয়েও হতে পারে।

মেষ রাশির ঘর-সংসারঃ- এই জাতক-জাতিকারা জীবনের অনেক কিছুর মতই তারা গৃহ-সংসারকে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
এরা সবসময় সন্তান ও প্রিয়জনদের নিয়ে একটি সুখী সংসারের চিন্তা করে থাকে এবং এক্ষেত্রে মেষ রাশির জাতিকারা আদর্শ মা ও সুগৃহিণী হিসেবে বেশী পরিচিত হয়। রুচিশীলতা তাদের একটি গুণ তাই রুচির ছাপ গৃহের সবকিছুতে দেখা যায়। এরা খুবই অতিথিপরায়ণ হয় আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের জন্য তাদের দুয়ার সব সময়ই খোলা থাকে। এরা সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পছন্দ করে এবং আসে পাশের মানুষ গুলোর মত করে সন্তানরাও তাদের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে পছন্দ করে থাকে।

মেষ রাশির স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ঠঃ- এই জাতক-জাতিকারা জন্মগতভাবে সুঠাম দেহের অধিকারী হয়। তাড়াহুড়া ও বেপরোয়া ভাব থাকার কারনে এদের মধ্যে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হবার প্রবনতা থাকে। এই জাতক-জাতিকাদের মাথা ও মুখমন্ডল কিছুটা দুর্বল অংগ যার কারনে সবসময় খেলাধুলা ও ভ্রমনের সময় কিছুটা সাবধান থাকতে হবে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা, ক্রোধ অনেকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে। বৃদ্ধ বয়সেও তাদের মধ্যে তারুণ্য ও একধরনের উজ্জ্বলতা দেখা যায়।

কোন মানুষ সব দিক দিয়েই সম্পূর্ন ভালো হয় না, দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। তাদের যে গুনটি সবাইকে মুগ্ধ করে ঠিক তেমনি সেই গুনটি মাত্রা অতিরিক্ত হলেই কিন্তু অন্যকে বিরক্ত করে তুলতে পারে। আমাদের দোষগুলো আমরা কতটা কমিয়ে রাখতে পারলাম বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলাম তার ওপরই নির্ভর করে আমাদের জীবনের সাফল্য। জ্যোতিষশাস্ত্রো মতে বৈশিষ্ঠ গুলো যে সবার জীবনে সমান ভাবে প্রভাব বিস্তার করে তা নয়। এক এক জনের জীবনে তা এক এক রকম প্রভাব বিস্তার করে।

Sunday, November 7, 2010

তুলা রাশির বৈশিষ্ট্য




১২ ই আশ্বিন (৩০ শে সেপ্টেম্বর) জন্মগ্রহণ করায় জন্মগত কারনে আমি তুলা রাশির জাতক। তাই আমার বেশির ভাগ মানবিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য জন্মগত বাকিটা আমার প্রকৃতি থেকে নেয়া বা শিখা। তেমন কিছু বৈশিষ্ট্য আমি আজ উল্লেখ করছি। আপনি ও যদি তুলা রাশির জাতক হয়ে থাকেন তাহলে দেখুন কোন বৈশিষ্ট্য গুলো আপনার সাথে মিলে।

ভালোবাসা এবং তুলা শব্দদুটো প্রায়োগিক অর্থে প্রায় সমার্থক। তুলাই ভালোবাসাকে জন্ম দিয়েছে এবং এটাকে এতোটাই পরিশুদ্ধ করেছে যে সেটা শৈল্পিক পর্যায়ে চলে গিয়েছে। প্রেমের দেবতা মদন (কিউপিড) -এর রুচিশীল কৌশলগুলো তুলাদের মধ্যে জন্মগতভাবেই বিদ্যমান। তারা খাপছাড়া ভাবে যেকোন কৌশলই এতো সহজে প্রয়োগ করবে যে মেয়েগুলো সে ফাঁদে পা দেবেই। অবশ্য একবার মেয়েটিকে অর্জনের পর সে বুঝতে পারে না মেয়েটিকে নিয়ে এখন কী করবে। নিজের যাদু দিয়ে মেয়েটিকে সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করাবার পর সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ওঠে।

তুলা অন্যের মনে কষ্ট দিতে ঘৃণা করে। কিন্তু বিতর্কের সময় নিজের অজ্ঞাতেই রূঢ় মন্তব্য করে অন্যকে কষ্ট দিয়ে বসে। সে ‘না’ বলতেও ঘৃণাবোধ করে। একবার যদি তুলাটির মনে হয় যে সে আপনার সাথে কিংবা আপনার অতীত প্রণয়ের জের বহন করছে এমন কারো সাথে সে অবিচার করছে কিংবা তার সততা পুরোপুরো খাঁটি নয়, তাহলে সে অন্তহীনভাবে তার সিদ্ধান্তহীনতার মনোকষ্টে ভুগবে। কোন ব্যাপারে অসৎ হওয়া তার কাছে মোটামুটি খুনের অপরাধ করার সমান।

এই পুরুষটির কাছ থেকে আপনি প্রচুর সংখ্যক বিনামূল্য উপদেশ পাবেন। তার কাছে আপনার যেকোন সমস্যার উপযুক্ত সমাধান রয়েছে এবং আপনার যেকোন প্রশ্নের উত্তরও তার জানা আছে। কিছু কিছু স্বপ্নকে সে বদলে দেবে, আর বাদবাকীগুলো নিয়ে আপনার সাথে তর্ক জুড়ে দেবে।

কিন্তু তারপরও সতর্ক করেই বলছি একবার তুলা জাতকের যাদুর স্পর্শ আপনার হৃদয়ে পৌঁছে গেলে তাকে ছেড়ে ফিরে আসা আপনার জন্যে খুব কঠিন হয়ে পড়বে। তুলা জাতকের কাছ থেকে নিজেকে ছুটিয়ে নিয়ে আসার চেয়ে ভালুকের ফাঁদ থেকে পালিয়ে আসা অনেক সহজ ব্যাপার। তার স্বপ্নগুলোই আপনার স্বপ্ন হয়ে উঠবে, আর তাকে সুখী করার চেয়ে আপনার আর কোনকিছুই এতো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হবে না। একজন তৃষ্ণার্ত পথিক যেমন পানি খুঁজে ফেরে, তেমনি আপনিও তার হাসিটি খুঁজে ফিরবেন। তুলা পুরুষের হাসি উপেক্ষা করতে হলে আপনাকে একজন হৃদয়হীন শুষ্ক মানুষ হতে হবে। আর তার হাসির বিশুদ্ধতার যাদু এড়িয়ে যেতে হলে আপনার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি জড়ো করতে হবে।

অন্যদিকে তার যেটা সমস্যা সেটা হলো, তুলার পাল্লাটা এদিক ওদিক উঁচু-নিচু হলেই তার মধ্যে উদ্ভট অসঙ্গতি দেখা দেয়। তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে আপনাকে চিৎকার করতে হবে, বা তাকে ধাক্কা দিয়ে লেকে ফেলে দিতে হবে, কিংবা নিজের মাথায় ভর দিয়ে পা উপরে তুলে দিয়ে তাকে কোন কিছু করতে বাধ্য করতে হবে। যদিও সে স্বয়ং শুক্র দ্বারা শাসিত কিন্তু তাই বলে ততটুকু সরল মনে প্রত্যাশা করবেন যে আপনাদের ভালোবাসা চিরসুন্দর, চিরশান্তিময় হয়ে উঠবে - সেটা ভুলই হবে।

অবশ্য তার জন্মকুষ্ঠিতে জল রাশির যোগ, বা জলে চন্দ্রের যোগ থাকলে অন্য কথা; ভালোবাসার ব্যাপারে সুচারু বলেই যে আপনার বিভিন্ন অনুভব-অনুভূতির ব্যাপারেও সে সমব্যথী হয়ে উঠবে এমন কোন কথা নেই। নিজের অনুভূতির সাথে খাপ খাইয়ে থাকাতেই সে হিমশিম খাচ্ছে। কোনকিছুই তাকে হয়তো ততটুকু বিরক্ত করবে না যতটুকু করবে কারো কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে এসে তার কাছে সেটার বিবরণ দিতে গেলে।

জন্মকুষ্ঠিতে মিতব্যয়িতার প্রভাব না থাকলে, তুলা পুরুষরা সাধারণত খরচের ব্যাপারে তেমন শক্ত হয় না। বরং টাকা থাকলে তাদের হাত চুলকোতে শুরু করে। যেসব বস্তু বা জিনিসপত্র জীবনে সৌন্দর্য এবং সুখ বয়ে আনতে সক্ষম সেগুলোর পেছনে টাকা খরচ করাই তার মতাদর্শ। পরের গোপন ব্যাপারগুলোকে সমূলে উৎপাটন করার ব্যাপারে তার তেমন আগ্রহ নেই। হয়তো তাকে এক নজর দেখে মনে হতে পারে যে সে আগ্রহী, কিন্তু আরেকবার ঠিকমতো দেখুন। তার নাকের দুই ইঞ্চি নিচে কী ঘটছে সেটাও সে প্রায়ই ধরতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত তুলা জাতক বা জাতিকার মানসিকতা হলো প্রথমে জীবন সঙ্গী এবং পরে সন্তান।

একজন তুলা জাতকের জন্যে নিজের মনকে স্থির করা, একটা বন্য মহিষকে বশ মানাবার থেকে কম কষ্টের কাজ নয়। আর মনস্থির করার পর তার যদি মনে হয় যে ভুল করা হয়েছে তাহলে কোন সতর্কতা দেয়া ব্যতিরেকেই সে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। তুলা পুরুষটি মহিলাটিকে অফিস যাবার পথে নামিয়ে দিয়ে গেলে মহিলাটি দুঃশ্চিন্তা করতে শুরু করে। তার দেয়া কথাগুলো এতই মধুর ছিলো যে সেগুলো সত্য বলে মেনে নিতে পারছিলো না বেচারি। তাই তাকে সে ফোন করে, এইটুকু প্রমাণ করতে যে সে স্বপ্ন দেখছিলো না। পুরষটি তখনও উত্তেজনায় আপ্লুত হয়ে আছে, তাই সে তার সবগুলো কথাই আবার বলে এবং তাকে নিশ্চিন্ত করে। এবং পরবর্তী সপ্তাহে আবার একসাথে বসবার একটি দিন নির্দিষ্ট করে।

তুলা পুরুষরা সন্দিগ্ধতাকে ঘৃণা করে, এবং নিজেকে স্থিরচিত্ত রাখার জন্যে তার জন্যে অপরিহার্য সামঞ্জস্য। তার বাড়িটা হওয়া চাই বাইরের কোলাহলময় বিশ্ব থেকে ভিন্ন একটা শান্ত সুন্দর আবাসস্থল। অন্যথায় তার পাল্লাটা চিরতরে নিজের সাম্য হারাবে। যেহেতু সে নিজে তেমন একটা উদ্দেশ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করে না, তাই কেন সে বাসায় ফেরে না, কিংবা যখন ফেরে তখন শুধুই ঘুমিয়ে কাটায় সেটা বুঝতে আপনাকে স্মার্ট হতে হবে। মনে রাখবেন, নিজের অনুভূতি বর্ণনার ক্ষেত্রে সে দুর্বল তাই আপনাকে অবশ্যই একজন বিশ্লেষণকারীতে পরিণত হতে হবে।


সুত্রঃ http://www.rashi12.com/