The Web This Blog
Showing posts with label Player. Show all posts
Showing posts with label Player. Show all posts

Saturday, March 14, 2020

আমি থেকে যাজক (শেষ)


~ শেষ পাতা ~


ইংরেজী ২০০৩ সাল ঢাকার গেন্ডারিয়াতে আসে শ্রীশ্রীঠাকুরের এক ভক্ত প্রহল্লাদ পোদ্দার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বয়সে কিছুটা ছোট হলেও গুরু ভাই হিসাবে তার কাছে অনেক কিছুই শেখার আছে। আমরা কয়জন আমি, চন্দন, প্রহল্লাদ, মিলন দেব, বলরাম ও বিধান কাকা প্রায় সময় একসাথে চলাফেরা ও শ্রীশ্রীঠাকুরের কাজ করতাম। শাখারী বাজার মন্দিরে নিয়মিত যাতায়াত, উৎসব গুলোতে অংশগ্রহন বিভিন্ন পারিবারিক অধিবেশনে যাতায়াত এভাবেই দিন কাটতে থাকে। এভাই গেন্ডারিয়ার অনেক গুরুভাইয়ের পরিবারের সাথেও পরিচয় এবং সংক্ষতা হতে থাকে। গেন্ডারিয়া ও এর আশেপাশের এলাকায় কিভাবে পারিবারিক অধিবেশন করা যায় এই চিন্তা করতে করতে প্রহল্লাদার উদ্যগেই আমারা গেন্ডারিয়াতে পারিবারিক অধিবেশন শুরু করি। তারপর ধিরে ধিরে সেটা শ্রীশ্রীযমুনা মাঈ আশ্রমে নিয়মিত শুক্রবার সন্ধায় করা হয়ে আসছে।

ইংরেজী ২০০৬ সালে আমার গাজিপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি হয়। এক বছর অনেকটাই সময় দিতে পারতাম না ঠাকুরের কাজে। তখন প্রহল্লাদার উদ্যগেই আমরা শুরু করলাম নিয়মিত প্রার্থনা করার উদ্যোগ আমরা যেখানেই থাকিনা কেন আমরা একটা প্রার্থনার সময় তালিকা করেছিলাম। ভোরে ও সন্ধায় আমরা সঠিক নিয়মে প্রার্থনা করছি কিনা এবং কত সময় ধ্যান করতাম তা লিখে রাখতাম। এবং ভোরে উঠে আমরা একে ওপরকে মিসড কল দিতাম কে কখন উঠলো তা যানানোর জন্য। 
 
শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণের বলেছেন, “একটা চাইতে গিয়ে দশটা চেয়ে ব'স না, একেরই যাতে চরম হয় তাই কর, সকলগুলিই পাবে।” আমরা তার কাছে চাইতেই যানি না, কি চাইতে হয়। তাই জীবনে বার বার ভুলপথে চলে যাই। আমি মনে মনে পরমপিতার কাছে চাইতাম ঠাকুর আমাকে ঢাকায় একটা চকরির ব্যবস্থা করে দাও, ঠাকুর আমার প্রার্থনা গ্রহন করলেন। ২০০৭ সালে আমার ঢাকার মগবাজারে বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে চাকরি হয়। আমার চাওতে হয়তো পরমদয়ালের কাজ করবো এমন প্রার্থনা ছিল না, যার কারনে সেখানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি ছিল শনিবার ও রবিবার। যার কারনে শুক্রবার গুলোতে মন্দির ও প্রার্থনা থেকে আবারও বনশ্চিত হলাম।

যুগ-পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ভক্তদের বলতেন মা-র কাছে চাইতে হয় একবারে, বলতে হয় মা আমি যেন সব সময় নাতি-পুতি নিয়ে সোনার থালায় ভাত খেতে পারি। মানে এক চাওতেই সব বলতে হবে। মগবাজার চাকরি করাকালীন সময় জীবনে অর্থ ও সম্মান এসেছিল কিন্তু ঠাকুরের কাজ করে জীবনকে ধন্য করা থেকে অনেকটাই বনশ্চিত হয়েছিলাম।

ইংরেজী ২০১১-২০১২ সাল শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ, হেমায়েতপুর, পাবনা থেকে বেরিয়ে এসে সাংগঠনিক কারনে পূজনীয় অধ্যক্ষকে নিয়ে তৈরি হল নতুন একটি সংগঠন প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশন। অনেকে বুঝে, অনেকে কিছু স্বার্থ নিয়ে, অনেকে শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবারকে ভালবেসে নতুন ভাবে চলা শুরু করলো। এই দুর্যোগকালীল সময়ে পরিচয় আমার খুব ভাললাগা একজন মানুষ সুমন বিকাশ দাস দাদার সাথে। ২০০৫ সাল থেকে ২০১২ সাল প্রর্যন্ত সৎসঙ্গ গেন্ডারিয়ার শাখার আমি দপ্তর সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। কমিটি বিলুপ্ত হবার পর ২০১২ সাল থেকে এখন প্রর্যন্ত কোষাদক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছি। 
 
ইংরেজী ২০১২ সালে প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশন, ঢাকা এর উদ্যগে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১২৪ তম শুভ আবির্ভাব-বর্ষ-স্বরণ মহোৎসব পালন করা হয় ফজলুল হক মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গেন্ডারিয়া-তে। তখন আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় গেন্ডারিয়ার গুরুভাইদের কাছ থেকে ইষ্টভৃতি সংগ্রহ করার। ঐ উৎসব থেকেই ইষ্টভৃতি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে আমার পরিবার ও অন্যান্ন কাকাদের কাছ থেকে তারপর ফরিদাবাদ, গেন্ডারিয়া ও সুত্রাপুরের কিছু গুরুভাইরা এগিয়ে এসেছিল এই মহান কাজে আমাকে সাহায্য করতে। অনেকেই স্বইচ্ছায় ইষ্টভৃতি জমা দিতে থাকে আমাদের ফাউন্ডেশেনে।

ইংরেজী ২০১৬ সালের প্রথম দিক থেকে শুরু হয় bKash ও মানি ওর্ডারের মাধ্যমে ইষ্টভৃতি জমা দেওয়ার নিয়ম। তখন bKash এর দায়িত্ত্বটি আমার উপর পরে এখন পর্যন্ত সেটা পালন করছি। ২০১৩ সালের দিকে শ্রদ্ধেয় সহ-প্রতি ঋত্বিক এক অধিবেশনে নকুল কিশোর দাস দা বলে ছিলেন, “রাম (আমি) যেহেতু স্বস্ত্যয়নী নেয়নি তাই যারা স্বস্ত্যয়নী, যাজক বা অধ্বর্য্যূ তাদের রামের কাছে ইষ্টভৃতি জমা না দেওয়াই ভাল হয়।” তখন মনে মনে কিছুটা কষ্ট লেগেছিল। bKash এর দায়িত্ত্ব পালন কালে অনেকে আমাকে প্রশ্ন করতো আমি কি স্বস্ত্যয়নী কিনা, তখন থেকেই মনে মনে ভাবতে লাগলাম জীবনতো একটাই কত বৎসর তো পার কারলাম এখন স্বস্ত্যয়নী নেয়া উচিৎ। 
 
জীবনের অনেকটা সময় চলে যাওয়ার পর যখন বুঝলাম এই জীবনটা কিভাবে ঠাকুরের কাজে লাগানো যায় তার পথ খুজতে থাকলাম। তখন শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি বানী খুব মনে ধরলো “সব সমস্যার সমাধান / জানিষ ইষ্টপ্রতিষ্ঠান।” 
 
মনে মনে ঠাকুরের কাছে আবারো প্রার্থনা যানাই ঠাকুর আমাকে এমন একটা পথ বলে দাও যেখানে আমার জীবন নির্বাহের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তেমন একটা আয়ের ব্যবস্থা হয় এবং আমি যেন তোমার কাজ সঠিক ভাবে করতে পারি। তাই আমার একটা ব্যবসা করতে হবে কিন্তু টাকা নাই। আমার স্নেহের ছোট ভাই বলরাম এগিয়ে আসলো আমার এই বিপদ থেকে পরিত্রান করতে। শুরু করলাম আমাদের ব্যবসা ও চললো আবার নতুন করে ঠাকুরের কাজ করার অপার সময় ও সুজোগ।

ইংরেজী ২০১৭ সাল ৩ রা মার্চ আমি শুধু মায়ের অনুমতি নিয়ে পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দাদার মাধ্যমে স্বস্ত্যয়নী ব্রত গ্রহন করি। স্বস্ত্যয়নী ব্রত মানে জীবনকে সুন্দর করতে পাঁচটি বিধান সঠিক ভাবে মানতে হবে। তারপর বেশ কয়টি বছর চলে গলে এভাবেই কাজ করতে করতে। একদিন সহ-প্রতি ঋত্বিক পার্থ সারথী চক্রবর্ত্তী দাদা বাসায় যাওয়ার পর তিনি তপোবিধায়ন, দ্বিতীয় খন্ড গ্রন্থের বানী নং ২২৬ টি পড়ে শুনালেন, সেই বানীর একটি জায়গায় ছিলঃ-

........ ইষ্টের স্বরণ ও প্রীত্যর্থে-
তুমি ভালবাস
এমনতর কোন জিনিষ
উৎসর্গ ক'রো-
তোমার স্বাস্থ্য যা'তে অক্ষুণ্ণ থাকে
তা'র প্রতি লক্ষ্য রেখে,
জীবনে সেটিকে
নিজের তৃপ্তির জন্য
আর ব্যবহার ক'রো না
 
সম্পূর্ন বানীটিই খুব সুন্দর, এই অংশটুকু শুনে আমিও মনে মনে সিন্ধান্ত নেই আমার প্রিয় ফল তরমুজ আমি পরমপিতে উৎসর্গ করবো। তার কিছুদিন পর আমি তরমুজ উৎসর্গ করলাম। 
 
২০২০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৫ তম ঋত্বিক সম্মেলন। সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই পূজনীয় অধ্যক্ষ শ্রীবিদ্যুৎরঞ্জন চক্রবর্ত্তী দাদা আমাকে যাজকের আশির্বাদ প্রদান করেন। তিনি কিছু নিয়ম বলে দিলেন সামনের দিনগুলোতে কিভাবে পরমপিতার কাজ করতে হবে। কারন এখন থেকে পরমদয়ালকেই আর নিখুত ভাবে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করার মহান দ্বায়িত্ব আমাকে দেওয়া হলো। 
 
১৯৯২ সালে দিক্ষা গ্রহনের সময় অনকেটা না বুঝেই সংকল্প করেছিলাম “মানুষের জীবন ও বৃদ্ধির পরম উদ্ধাতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে প্রতিষ্ঠা করাই এইক্ষণ হইতেই আমার জীবনরে যজ্ঞ হউক।” এই সংকল্পটি বাস্তবায়ন করার এইতো সুজোগ। পরমপিতার কাছে প্রার্থনা যেন আমি তার কাজ সঠিক ভাবে করতে পারি।

জয় গুরু! 

আমি থেকে যাজক



~ শুরু ~

আমি” এই কথা বা শব্দটি তে রয়েছে অনেক তেজ, গাম্ভীর্য, গর্ব, স্বার্থপরতা ও আত্নঅহংকারে ভরা। কিন্তু আমি থেকে যখনি “আমরা” বা “আমাদের” বলি তখনই সব আত্নঅহংকার কেমন যেন শূন্য হয়ে যায়। জীবনের প্রায় ৩৮ টি বসন্ত পার হয়ে গেলও এখনও আমি প্রকৃতির কাছে শিশুই রয়েই গেলাম শেখা হয়নি জীবনের অনেক কিছুই। বেশ কিছুদিন যাবত অন্য একটি লেখা মাথায় ঘুরাফেরা করছিল, কিন্তু বর্তমান লেখাটা আগে লিখতে হচ্ছে। 
 
প্রতি লেখার মত এই লেখাটি উৎসর্গ করছি আমার দীক্ষা দাতা সহ-প্রতি ঋত্বিক স্বর্গীয় শ্রীঅমর চন্দ্র শীল কে। লেখার প্রয়জনে অনেকের নামই আমাকে লিখতে হবে হয়তো অনেকের নাম বাদ পরে যেতে পারে কোন ভূল হয়ে থাকলে উভয়ের কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি বানী দিয়ে লেখার মূল অংশ শুরু করবো,
সদ দীক্ষা তুই এক্ষুনি নে
ইষ্টেতে রাখ সম্প্রীতি,
মরণ তারণ এ নাম জপে
কাটেই অকাল যমভীতি।

১৯৯২ সালের জুন মাসে আমার এক কাকার বিয়ে হয় তখন আমার বয়স প্রায় ১০ বছর। বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের অনেক আত্বীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমার ঠাকুর দাদার ছোট ভাই সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীঅমর চন্দ্র শীল, বিবাহ পর্ব শেষ হলে পরিবারের অনেক সদস্যের সেদিন দীক্ষা হয়। আমিও অনকেটা না বুঝেই জ্বিদ ধরলাম দীক্ষা নিবো, অনেক কিছুর পর আমার জ্বিদের জয় হলো আমাকেও দীক্ষা দিলেন আমি হয়ে গেলাম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের একজন না বুঝা শিষ্য।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাত-মুখ ধুয়ে কিছু সময় ইষ্টনাম জপ ও তারপর ইষ্টভৃতি করার মধ্যেই সীমিত আমার ইষ্টকাজ। এইভাবে চলতে থাকে দিন-মাস-বছর। ১৯৯৮ সাল আমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়, অনেক অবসর। হটাৎ একদিন আমার স্কুল জীবনের বন্ধু চন্দন চক্রবর্ত্তীর সাথে দেখা, তখন সে একটা ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করতো। নানান কথা বলার ফাকে সে আমাকে বলে আমি (চন্দন) যখন কারেন্টের কাজ করি তখন ঠাকুরের নাম জপ করতে থাকি তাহলে কোন বিপদ হয় না। আমি কিছুটা অবাক হই বলি ঠাকুর মানে কোন ঠাকুর? সে বলে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নাম শুনেছো তুমি? আমি বলি আমিওতো তারই দীক্ষিত। অনেকটাই মনের অজান্তে খুবই খুশী হই একেই বলে গুরু ভাই।

বন্ধুটির মাধ্যমেই জানতেপারি শাখারীবাজার একটি শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্দির আছে এবং প্রতি শুক্রবার সকালে গ্লাস ফ্যাকটরি, গেন্ডারিয়ার একটি বাসায় প্রার্থনা হয় এবং সেখানে বেশ লোক হয়। ছোটবেলা থেকেই শুক্রবার দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস, তাই আর সকালের প্রার্থনায় অংশগ্রহন করা হয় না। শুরু করলাম শাখারীবাজার মন্দিরে যাতায়াত। কেমন যেন একটা অভ্যাসে পরিনিত হয়ে গেল না গেলেই মনটা কেমন জানি করতো। তেমন কেও আমাকে চেনে না কারন আমি খুব কম কথা বলতাম। তার বেশ অনেকদিন পর একদিন শুক্রবার সকালে হাজির হই সেই গ্লাস ফ্যাকটরির বাসায় সেইখানে দেখা হয় গৃহ কর্তা শ্রীনারায়ন চন্দ্র চন্দ (বর্তমানে তিনি সহ-প্রতি ঋত্বিক), সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীক্ষিতীন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীক্ষেত্রমোহন অধিকারী, সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীহরেকৃষ্ণ বসু সহ অনেকের সাথে। প্রার্থনা শেষে ক্ষেত্রমোহন দাদু জিজ্ঞাসা করে নানান কথা কোথায় থাকি, কি করি, ঋত্বিক কে ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষে বললো তিনি যাবেন মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে। তারপর প্রসাদ ও আনন্দ বাজার শেষে চলে আসলাম বাড়ীতে।

ইষ্টকাজে আমার যতটুকু চেষ্টা তার শুরু হয়েছিল আমার বন্ধুটির কাছ থেকেই। আমি আর চন্দন শুরু করলাম একে অপরের সাথে ঠাকুর বিষয়ক নানান আলোচনা, কখনো বুড়িগঙ্গা নদীর পারে, কখনো ধুপখোলা মাঠের ছাদ, কখনোবা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকায়। এখনো মনে পরে মাঝে মাঝে ছুটি পেলেই সকালে নাস্তা খেয়ে বের হতাম হাটতে-হাটতে কথা বলতে-বলতে এমনও অচেনা জায়গায় চলে যেতাম যার নাম এখন আর মনেও নেই।

শাখারী বাজার মন্দিরে যাতায়াত করতে করতে অনেকের সাথেই পরিচয় হতে থাকে যাদের মধ্যে একজন আমার খুবই ভাললাগার একজন মানুষ সহ-প্রতি ঋত্বিক স্বর্গীয় নকুল কিশোর দাস, তার নামের আগে স্বর্গীয় লিখতে মন চাচ্ছিল না কিন্তু লিখতে হলো বাস্তবতা মেনে। তিনি এতা দ্রুত আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন ভাবা যায় না। নকুল দা তখনও বিয়ে করেননি ছাত্র মানুষ তারপর স্বস্ত্যয়নী ব্রতধারী একজন। অনকে ভাল ভাল কথা বলতেন আমাদের এবং স্নেহ করতেন। 
 
যতটুকু মনে পরে ২০০০ বা ২০০১ সালের দিকে তালনবমী তিথি, হেমায়েতপুর, পাবনায় শ্রীশ্রীঠাকুরের আবির্ভাব তিথীতে সকলেই সেখানে যাচ্ছে, শুনে মনটা আমারও যেতে চাইলো। বাসায় বলাতে বাবা-মা রাজি হয়না, যদিও আমাকে ছোটবেলা থেকেই কোথাও তেমন যেতে দিতেন না। ঘটনাক্রমে আমার স্নেহের কাকাত ভাই বলরাম সরকারও যেতে চাইলো ঠাকুরবাড়ী। পাবনার একজন স্থানীয় কেচি ব্যাবসায়ী মানিক কাকা বলে আমরা তাকে চিনি। তিনি সব শুনে আমাদের দুই ভাইকে নিয়ে যেতে রাজী হলেন। গাবতলী থেকে বাসে উঠে পাবনা যখন নামী তখন গভীর রাত। বাসে যেতে যেতে তিনি ঠাকুর বাড়ীর নানান গল্প করতে লাগলেন, বিশেষ করে আনন্দ বাজারের কথা, কারন ছোট বেলায় তিনি প্রায়ই আনন্দ বাজারের প্রসাদ খাবার জন্য আশ্রমে আসতেন। পাশেই পাগলা গারদ তার কথাও তিনি বললেন। 
 
শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণে বলেছেন, “যেখানে গমন করিলে মনের গ্রন্থির মোচন বা সমাধান হয়-তাই তীর্থ” তাই মানুষ তীর্থ ভ্রমন করে, কিছু পাওয়ার আসায়। যদি তীর্থে যেয়ে মনের গ্রন্থিগুলোর মোচন নাই হলো তাহলে কি লাভ গাটের টাকা ও সময় খরচ করে তীর্থে যাওয়ার। 
 
রাতটুকু সেই কাকার বাসাতেই থাকলাম, সকালে নাস্তা খেয়ে আমি, বলরাম, মানিক কাকা ও তার দুই ছেলে-মেয়ে সকলে ঠাকুর বাড়িতে যাই। সেখানে আগেথেকেই আমাদের দুই ভাইয়ের জন্য পরিবারের অন্যান্ন সদস্যদের (কুষ্টিয়া থেকে আগত) সাথে থাকার জায়গা ঠিক করে রেখেছিলেন আমার ঠাকুর দাদা শ্রীঅমর চন্দ্র শীল। তখন শ্রীশ্রীঠাকুর মন্দিরের পুরো কাজ শেষ হয়নি। আমরা সেখানেই থাকলাম। অনেক লোকের সমাগম। তখন আনন্দবাজারের প্রসাদ খাওয়া আর ঘুরাঘুরি ছাড়া কিছুই বুজতাম না। মাতৃমন্দিরে কিছু সময় ধ্যান করেছিলাম। মনে পরছে সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীভক্ত পদ সরকার এর সাথে নগর কীর্তনের কথা, শারীরিক আকারে আমার মত তিনিও ছোট-খাট একজন মানুষ কি করে এতো শরীরে জোর পান ভেবে অবাক হয়েছিলাম। কিভাবে তিনটি দিন কেটে গেল মনে নেই। পরম নিশ্চিন্তে খাওয়া, ঘুম, শ্রীশ্রীঠাকুরকে অনুভব করা আরো কত কি, কোন ভয় বা সংকা ছিল না মনে। সেখান থেকে কুষ্টিয়া গেলাম সেখানে কয়েকদিন থেকে আবার ঢাকায়।

সময়ের নিয়মে দিন কাটতে থাকে, তারপর থেকে প্রতি বছর উৎসবে হেমায়েতপুর না গেলেই কেমন যেন লাগতো। তাই দল বেধে যাওয়া তারপর বাস রিজার্ভ করে যাওয়া এভাবেই আমার সৎসঙ্গের সাথে চলা শুরু। ধিরে ধিরে পরিচয় ও সম্পর্কে গভিরতা হতে থাকে, পিযুষ কান্তী ঘোষ (,প্র,), সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশেন এর বর্তমান সাধারন সম্পাদক পার্থ সারথি চক্রবর্ত্তী (,প্র,), মিলন দেব রনী, প্রহল্লাদ পোদ্দার, বিমল দাস, পিযুষ কান্তি দাস সহ অনেকের সাথে। চাকরি জীবনে আমি বছরে দুইবার বাধ্যতামুলক ছুটি নিতাম এক তাল নবমী তিথি হেমায়েতপুর যাওয়ার জন্য দুই মাঘী পূর্নিমা তিথি গ্রামের বাড়ি কালী পূজার জন্য। 
 

Thursday, December 10, 2009

Vlc player install in fodora

গান শুনার জন্য Vlc একটি software যা Windows & Linux উভয় মাধ্যমে চালানো যায়।

windows এর জন্য .exe ফাইলটি ইনিস্টল করলেই হলো কিন্তু যারা fodora তে গান শুনতে চান, তাদের যা করতে হবে....

. Terminal ওপেন করতে হবে

* Applications -> System Tools -> and click on Terminal

. সাধারন ব্যবহারকারী হিসাবে ঢুকে su করে root হিসেবে ঢুকুন

* [bappy@localhost ~]$ su -

Password:

[root@localhost~]# rpm -ivh http://download1.rpmfusion.org/free/fedora/rpmfusion-free-release-stable.noarch.rpm

[root@localhost~]# yum install vlc

এইতো হয়েগেলো, এখন মনের আনন্দে গান শুনুন.......

Tuesday, May 26, 2009

How to Install Flash Player 10 on Fedora 9 & 10?

যারা Fedora 9 অথবা 10 ব্যবহার করেন তাদের Mozilla FireFox Plugins Install করতে হয়।
খুব সহজই তা করতে পারেন...........

1. [root@localhost ~]# rpm -ivh
http://linuxdownload.adobe.com/adobe-release/adobe-release-i386-1.0-1.noarch.rpm
2. [root@localhost ~]# mkdir -p /usr/lib/mozilla/plugins
3. [root@localhost ~]# yum install flash-plugin
4. [root@localhost ~]# mozilla-plugin-config -i -g -v

এখন FireFox টি পুনরায় চালু করেন