The Web This Blog
Showing posts with label Story. Show all posts
Showing posts with label Story. Show all posts

Wednesday, April 24, 2024

চতুর্থ দিন, ~ ১১-০৪-২০২৪ই, বৃহস্পতিবার

তৃতীয় দিন....

সকালে যেহেতু বাইরেই খেতে হয় তাই সবাই বাইরে চলে গেলাম কিছু খাবার গ্রহনের জন্য। সবাই যে যার পছন্দ মত চপ, সিংগারা, টক দই, ঘুমনি, ভেলপুরি খেয়ে সকালের নাস্তা শেষ করলাম। ১লা বৈশাখ নতুন জামা পরতে হয় তাই আমরা ধুতি, ফতুয়া কিনে নিলাম সবাই নিজেদের প্রয়োজন মত। সেখান থেকে আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর বাড়ী গেলাম। শ্রীশ্রীঠাকুর এই মাটিতে বসতেন, ঘুরে বেড়াতেন, ভক্তদের সাথে কথা বলতেন ভাবতে ভালো লাগছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পুরাতান অনেক স্মৃতিই এখন খুজে পাওয়া কষ্টকর। কিছু সময় সেখানে অতিবাহিত করে শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীবড় মা-র সমাধি প্রনাম করতে গেলাম আমরা। পূজনীয় কাজল দা-র বাড়ি ও উৎসব অঙ্গনে ঘুরাঘুরি করে রুমে ফিরে আসলাম সবাই। দিনের তাপমাত্র অনেকটাই অসহনীয় ছিল অনেকের জন্য়, তাই বেশিক্ষন বাইরে না ঘুরাঘুরিই ভাল।

দুপুরের আনন্দ বাজার শেষ করলাম। কিছুটা ভাত-ঘুম দিয়ে আমরা বেড়িয়ে পরলাম দ্বারকা নদ দেখতে। আমি ভেবেছিলাম বিশাল নদি, জল, ঢেউ থাকবে কিন্তু সেখানে গিয়ে আমার ভুল ভাঙ্গলো। ভাগীরথী নদীর একটি উপনদী হলো দ্বারকা নদ। অনেকে একে বাবলা নদও বলে থাকেন। যেহেতু পাহাড়ী নদ তাই এক সময় প্রচুর খরস্রোতা থাকলেও এখন শুধুই পাথর আর তার সৃতি। দ্বারবাসসিনী ও তারাপীঠ এই দুটি শক্তি মন্দির এই নদের তীরেই অবস্থিত। 

সন্ধা প্রার্থনার আগেই আমরা সেখান থেকে ফিরে আসি, যেকয়দিন আমি বিবেক-বিতান ছিলাম তার বেশির ভাগ সময়ই ধুতি ফতুয়া পরে ঘুরতাম। তখন নিজের কাছে একটি পবিত্র ভাব থাকতো। দেওঘরের আবহাওয়া ও খাবার জলের কিছু একটি বিশেষত্ব ছিল। যার কারনেও হয়তো শ্রীশ্রীঠাকুর এখানেই এসে ছিলেন তার নিলা করার জন্য। বিবেক-বিতানের দ্বিতীয় তলার মন্দিরে সমবেত প্রার্থনা করলাম। সেখানে উপস্থিৎ ছিলেন পূজনীয় শ্রীবৌধায়ন চক্রবর্ত্তী দাদা। প্রার্থনা শেষে পূজনীয় দাদা সকলের খোজ খবর নিলেন। 

লাইব্রেরী থেকে “শ্রুতিবানী” বইটি ক্রয় করলাম এবং পূজ্য়পাদ দাদাকে অনুরোধ করি প্রথম ভ্রমনের সৃতি স্বরুপ তার স্বাক্ষর করে দিতে। আমাদের মত একে একে অনেক ভক্ত আসলো পূজ্য়পাদ দাদাকে প্রনাম করতে। কথা প্রসঙ্গে কথা হলো শ্রীশ্রীঠাকুর থাকাকালীন তো অনেককেই তাঁর আশির্বাদ স্বরুপ একটি বিশেষ দন্ড দিতেন। এখন সাধারনত সহ-প্রতি ঋত্বিক দাদারা তা গ্রহন করে থাকেন ও যাজনে নিয়ে যান। বিধান কাকর আগে থেকেই এই দন্ড গ্রহন করার ইচ্ছা ছিল। যখন জানতে পারলাম এই বিশেষ দন্ডটি গ্রহন করতে হলে তাকে পূজনীয় অধ্যক্ষের কাছে আগে চাইতে হবে। তিনি তখন তার আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন। আমি অধ্বর্য্যু, যখন জানলাম আমিও চাইলে তা গ্রহন করতে পারি। তখন কিছুটা আনন্দিত হলাম ও  এই লোভটি বাস্তবে পরিনিত করলাম। 

ধারাবাহিক ভাবে কল্যাণাংশু নাহা (সহ-প্রতি ঋত্বিক), বিধান চন্দ্র শীল (সহ-প্রতি ঋত্বিক) ও প্রহলাদ পোদ্দার (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদারা একে একে তাদের আশির্বাদ দন্ডটি গ্রহন করলেন। শেষে আমি রামকৃষ্ণ সরকার (অধ্বর্য্যু) হিসবে পূজ্যপাদ দাদার কাছ থেকে আশির্বাদ দন্ডটি গ্রহন করি। আমার বিশেষ প্রাপ্তি হলো অধ্বর্য্যু হিসেবে এই দন্ডটি সাধারনত কেও নেয় না, হয়তো আমিই ব্য়তিক্রম একজন। তারপর সবাই আশির্বাদ দন্ড সহিত পূজ্যপাদ দাদা কে প্রনাম করলাম, পূজ্যপাদ দাদা আমাদের দন্ড বিষয়ক কিছু নিয়ম-কানন বলে দিলেন। অনেক ঘুরাঘরি করে বাজার থেকে দন্ডের জন্য দুইটি করে কাপড়ের কভার কিনে সবাই কক্ষে ফিরে আসলাম। বাংলাদেশের অনেকেই মনে করেছিল আমার হয়তো আশির্বাদ দন্ডের সাথে সাথে সহ-প্রতি ঋত্বিক এর পবিত্র পাঞ্জা হয়েছিল কিন্তু তা সঠিক নয়।  

রাত্রে আনন্দ বাজার শেষ করে কক্ষে এসে আগামীকালের জন্য কি করা যায় তার আলোচনা হলো। কিভাবে দন্ডটি পবিত্র রাখা যায় ও এর প্রনাম মন্ত্রটি শেখার চেষ্টা করলাম আমরা। যেহেতু মূল উৎসবের আরো একদিন বাকি আছে তাই আগামীকালই সব ঘুরাঘরি শেষ করতে হবে। সেই মোতাবেক গাড়ী ঠিক করে রাখা হলো। একবেলার আনন্দ বাজারে সবার কত টাকা দেওয়া যায় তার সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা।

পশ্চম দিন ...


   







Tuesday, April 23, 2024

তৃতীয় দিন, ~ ১০-০৪-২০২৪ই, বুধবার

দ্বিতীয় দিন...

সকালে উঠে কাঠালের ইচোর রান্না হলো। Smart Bazar থেকে পাওয়া চিনি ও ময়দা নিয়ে পূজনীয়া মা কে দিতে গেলাম তিনজন। সেখানে পূজনীয়া মা শুধু চিনি গ্রহন করলেন আর বললেন ময়দা তারা খায় না তাই ফিরত দিয়ে দিলেন। আমরা গতদিন মার্কেটে-মার্কেটে ঘুরেছি শুনে অবাক হলেন, যে এত কি কেনাকাটা করলা তোমরা। তারপর কিছু আলাপ আলোচনা করে মন্দির আশার পথে সবাই কিছু চকলেট কিনলাম। ট্রেনে ভ্রমনের সময় কিছু খেতে হবে তাই কিছু খাবারও কেনা হলো। 

সকালের খাবার খেয়ে বলরাম এর জন্য অপেক্ষা করা হলো কখন আসবে। এর মধ্যে প্রহলাদ দা সরাসরি মামার বাড়ি থেকে হাওড়া জংশন পৌছাবে। মন্দিরে এসে বলরাম ও বিক্রমজিত খাবার গ্রহন করলো, তারপর আমরা পাঁচজন একটি টেক্সি করে পৌছে গেলাম হাওড়া জংশন। প্রথম দেখা হাওড়া সেতু যা বর্তমানে রবীন্দ্র সেতু নামে পরিচিত। সেখানে প্লাটফরমে ব্যাগ-পত্র ও বলরামকে রেখে বাকি সবাই গেলাম হাওড়া জংশন ও রবীন্দ্র সেতুর কিছু ছবি তুলতে। 

যথা সময়ে ট্রেন এসে ৯ নম্বার প্লাটফর্মে থামলো। ঠিক দুপুর ২.০৫ মিনিটেই ট্রেন ছেড়ে দিল। আমি, কল্য়ান দা ও বিধান কাকা এক কামরা, বলরাম ও বিক্রমজিত এক কামরা এবং প্রহলাদ দা ভিন্ন কামরায় সিট পেয়েছিলাম। যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা আধুনিক তার অনেকটাই বুঝা যায় ভারতের দিকে তাকালে। সময়ানুবর্তিতার একটি উজ্জল উদাহরন ভারত। সেখানে রাত তিনটা বাজে দেখেছি ট্রাফিক সিগনালে লাল বাতি মানে গাড়ি থেমে থাকা, ট্রাফিক থাকুক না থাকুক। নারী-পুরুষ সমান বস্ত যে যার কাজ-কর্ম নিয়ে।   

ট্রেন ৫.৩০ মিনিটের কিছু পর থামলো জাসিডিই জংশনে। প্রতিটি জংশনেই দেখেছি মানুষের ঢল। এত বড় রেলগাড়ি আমার স্বচক্ষে দেখা প্রথম। কেউ ট্রেন থেকে নেমেছেন, কেউ পরবর্তী ট্রেন ধরবেন, কারো বা আরো দেরি আছে ট্রেন আসতে। কেউ ঘুমাচ্ছে, কেউ ঘুরছে বা কেউ সময় কাটাচ্ছে গল্প করেই। অটো চালক রাজেন্দ্র দা নামে এক গুরুভাই অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। তিনিই পৌছেদিলেন আমাদের কাংক্ষিত দেওঘরের বিবেক পথে অবস্থিত বিবেক-বিতানে। তার গাড়িতে করেই আমরা ঘুরেছিলাম ও শেষদিন জাসিডিই জংশনে ফেরত আসি।

বিবেক-বিতান যখন পৌছাই তখন সন্ধা প্রার্থনা শেষ। সেখানে আমাদের জন্য পূর্বেই একটি কক্ষ ঠিক করা ছিল, অস্তিকায়নের দ্বিতীয় তলায়। রাজু দাদার সাথে পরিচয় হলো, তিনিই আমাদের কক্ষ ও চাবি বুঝেয়ে দিলেন। রাজু দা একজন পরিশ্রমী মানুষ। খুবই ভালো মনের একজন হাসি-খুসি মানুষ। থাকার ঘরে ব্যাগ-পত্র রেখে খোজ নিয়া হলো অধ্যাক্ষ পূজ্যপাদ শ্রীবিদ্যুৎরঞ্জন চক্রবর্ত্তী দাদা অফিসে আছে কিনা। জানতে পারলাম তিনি আসতে দেরি হবে। এর কিছু সময় পর আমাদের সাথে যুক্ত হয় আমার এক কাকা উৎপল বিশ্বাস যিনি কলকাতা থেকে প্রথমবার দেওঘর আসেন। 

পূজ্যপাদ দাদার অফিস আসতে দেরি হবে শুনেই আমরা চলে গেলাম বড় বাড়িতে, শ্রীশ্রীঠাকুর মন্দির প্রনাম করতে। সেখানে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীবড় মা-কে প্রনাম করে ফিরে আসলাম বিবেক-বিতানে। যেহেতু উৎসব তখনো দুই দিন বাকি তাই উৎসব প্রস্তুতি তখনো চলছিল। পূজ্যপাদ দাদা অফিসে আসতেই আমরা তাকে প্রনাম করতে গেলাম। তিনি সবার খোজ খবর নিলেন। কিছু সময় তার সান্নিধ্য নিয়ে চলে গেলাম আনন্দ বাজার কক্ষে। সেখানে শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবারের সকলেই আনন্দ বাজরের খাবার গ্রহন করেন। আনান্দ বাজার শেষ করে, বিবেক-বিতানে কিছু সময় অতিবাহিত করে সবাই চলে গেলাম অস্তিকায়নে। তারপর ঘুম  ……………

চতুর্থ দিন .....



Monday, April 22, 2024

দেওঘর ভ্রমন, প্রথম দিন, ~ ০৮-০৪-২০২৪ই, সোমবার

যাত্রা শুরু…..

পেট্রাপোল বর্ডার পার করে আমি, কল্যান দা ও বিধান কাকা CNG যোগে বনগাঁ রেল স্টেশন তারপর ট্রেন যোগে আমরা বিধাননগর (উল্টোডাংগা) নামলাম। ট্রেনে থাকাকালীন আমরা স্থানীয় সময় অনুসারে ঘড়ির কাটা ঠিক করে নিলাম ৩০ মিনিট পিছনে দিয়ে। প্রায় দুই ঘন্টা ট্রেন ভ্রমন করলাম মাত্র জনপ্রতি ২০ রুপি মূল্য টিকিটে। সেখান থেকে আমরা CNG যোগে জোড়া মন্দির, বাগুইআটি নামলাম। কিছুটা পায়ে হেটেই আমরা পৌছে গেলাম রেলপুকুর রোডের প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঅনুকূলচন্দ্র চর্য্যাশ্রম মন্দিরে। ঘড়ির কাটা তখন প্রায় সন্ধা ৫.৩০ টার মত স্থানীয় সময়। পূর্বে থেকেই আমাদের জন্য নিচ তলার একটি রুম ঠিক করা ছিল। সেখানেই পরিচয় হলো বাবুল চক্রবর্ত্তী (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদা ও কমল দাদাদের সাথে। আমরা ব্যাগ-পত্র রেখে হাত-মুখ ধুয়ে দ্বিতীয় তলার প্রার্থনালয় সন্ধা প্রার্থনা করলাম।

বাগুইআটি মন্দিরে যারা গিয়েছেন তারা জানেন যে, সেখানে নিজে রান্না করে খেতে হয়। আমার মত একজন দক্ষ কর্মী যা যা পারিনা তার মধ্যে রান্না করা অন্যতম। শুধু মাত্র জল ফোটানোটা ভালো পারি আর কিছু না। প্রায় ১০ দিনের সফরে আমি বিশেষ ভাবে আমাদের কল্যাণাংশু নাহা (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদার‌‌‌‌ কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো, তিনি না থাকলে এত সুন্দর ভাবে আমার ভারত ভ্রমন শেষ করতে পারতাম না। কল্যান দা একজন স্বপাকি মানুষ, আমাদের কথা চিন্তা করে যতদিন কলকাতা ছিলাম তিনিই রান্না করেছেন আমরা শুধু খেয়েছি। আমি ও বিধান কাকা একটি খাটে ঘুমিয়েছি আর কল্যান দা অন্য খাটে। মন্দিরে হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন থাকলেও দাদা সেগুলো ব্যাবহার করতে নারাজ, তাই নতুন করে হাড়ি-কড়াই কিনার চিন্তা করা হলো।

পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দাদা কাছেই নিজস্ব একটি ফ্লাটে স্বপরিবার নিয়ে থাকেন। রেলপুকুর এর বিপরীত পাশেই একটি নিরামিষ খাবারের দোকান আছে, সেখানে কিছুটা হালকা নাস্তা করে  আমরা আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে পূজনীয় দাদার বাসায় যাই তাকে প্রনাম করতে। আমি পূজনীয় দাদার জন্য কিছু Olympic Pulse চকলেট ও কল্য়ান দা ঘী, মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ থেকে। তখনই জানতে পারলাম পূজনীয় দাদা কোন প্রকার মিষ্টি খান না এখন। আমাদের সেখানে ঘরোয়া পরিবেশেই কিছু সাংগঠনিক কথা-বার্তা চললো। কে কে এসেছে, অন্য সবাই কবে কি ভাবে আসবে সেই খোজ খবর নিলেন পূজনীয় দাদা। কিছুক্ষন পর পূজনীয়া মা শ্রীমতি জোৎসা রানী চক্রবর্ত্তী (পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দার সহধর্মীনি) তার ঘর থেকে আসলেন। সবার খোজ খবর নিচ্ছেন ও নানান বিষয় কথা-বার্তা চললো আরো বেশ কিছুক্ষন। 

রাত দীর্ঘ হচ্ছিল, কল্যান দা বললো আমরা এখন বাজারে যাবো সেখান থেকে বাজার করে বাগুইআটি মন্দিরে যাবো। এই কথা শুনে পূজনীয়া মা তার স্বভাব সুলভ মিষ্টি ভাষায় বললো এত রাতে তোমাদের রান্না করে খাবার দরকার নাই। আমার এখান থেকেই খেয়ে যাও। এমন আপ্যায়নের কথা আমি জগৎ জননী মাতা মনোমহিনী দেবীর জীবনিতে পড়েছিলাম। আজ অনেকটাই সেইরকম অনুভব করলাম আমি। আমি যেহেতু প্রথমবার কলকাতা আসছি, তাই হয়তো স্নেহটা বেশীই ছিল। পূজনীয় মা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভাত, পটল ভাজা, ডাল, টমেটো চাটনি তৈরি করে আমাদের ভোজন করালেন। বাগুইআটি মন্দিরে একটি কাঠাল গাছ আছে, বলে দিলো কাঠালের ইচোর খেতে একদিন। 

পূজনীয় দাদর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা বাজারে গেলাম পরেরদিনের জন্য তরিতরকারি কিনতে। আমরা যেহেতু তিনজন ছিলাম তাই সেই পরিমান মত তরকারি কেনা হলো। নতুন একটি হাড়ি, কড়াই ও আনুসাঙ্গিক জিনিষপত্র কিনে মন্দিরে ফিরে আসি। মঙ্গলবার কখন কি করবো সেই মোতাবেক চিন্তা করা হলো। সিদ্ধান্ত নেয়া হলো সকালের খাবার খেয়েই আমরা নিউ মার্কেট, বড় বাজার যাবো ব্যক্তিগত কেনা কাটা করার জন্য। সবাই যেহেতু কিছুটা ক্লান্ত তাই তারাতারি ঘুমেয়ে গেলাম।

দ্বিতীয় দিন......






আমার প্রথম দেওঘর ভ্রমন

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সবসময় একজন ভালো মানুষ তৈরি কারার জন্য কাজ করেছেন সবসময়। সকল অবতার পুরুষের মতই মানুষকে কি ভাবে ভালো রাখা যায় তার জন্যই সৎসঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি “যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী এবং সদাচার” নিয়ে কার করছে সৎসঙ্গ। 'সৎসঙ্গ' এর নীতিবাক্য হচ্ছেঃ- "দদাতু জীবনবৃদ্ধি নিরন্তরং স্মৃতি চিদযুতে"; যার বাংলা অর্থ হলোঃ "আমাকে প্রতিনিয়ত চেতনাবাহী স্মৃতিযুক্ত জীবন দান করো"। এই নীতি বাক্য ও মূলনীতি নিয়েই প্রতিটি সৎসঙ্গী চলার চেষ্টা করছে। সহ-প্রতি ঋত্বিকদের হাতে একটি দন্ড দেখতে পাবেন তাতে এই বানী টি লেখা আছে। 

মূল লেখা শুরু করার পূর্বে আসুন দেওঘর সম্পর্কে বাংলা উকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য যেনে নেয়া যাক, দেওঘর (হিন্দি: देवघर, প্রতিবর্ণীকৃত: দেৱ্‌ঘর্) ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পঞ্চম বৃহত্তম একটি শহর। এটি সাঁওতাল পরগনা বিভাগ এর দেওঘর জেলার সদর শহর। এটি হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র স্থান হিসবেই বেশি বিবেচিত। এখানে হিন্দু ধর্মের ১২ টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি (বৈদ্যনাথ মন্দির) অবস্থিত। শহরের পবিত্র মন্দিরসমূহ তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাছে শহরটিকে একটি পবিত্র গন্তব্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়াও, শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরত্বও রয়েছে। দেওঘর একটি হিন্দি শব্দ এবং “দেওঘর” এর আভিধানিক অর্থ হল দেব-দেবীদের (দেব) বাসস্থান (ঘর)। দেওঘর “বৈদ্যনাথ ধাম”, “বাবা ধাম” নামেও পরিচিত। 

দেওঘর, বৈদ্যনাথ ধামের উৎপত্তি প্রাচীনকালেই হারিয়ে গেছে। সংস্কৃত গ্রন্থে একে হরিতকিবন বা কেতকিবন নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। দেওঘর নামটি সাম্প্রতিক উৎপত্তি বলে মনে হয় এবং সম্ভবত ভগবান বৈদ্যনাথের মহান মন্দির নির্মাণের সময় থেকেই এসেছে। যদিও মন্দিরের নির্মাতার নাম খুঁজে পাওয়া যায় নি এখনো। তবে মন্দিরের সামনের অংশের কিছু অংশ ১৫৯৬ সালে গিদ্দৌরের মহারাজার পূর্বপুরুষ পুরাণ মল দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয় তবে সনাতন ধর্মের দ্বারা বিশ্বাস করা হয় যে এটি ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারা নির্মিত। দেওঘর হল ভগবান শিবের উপাসনালয়, শ্রাবণ মাসে অনেক ভক্ত পূজার জন্য সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘরে গঙ্গাজল নিয়ে যান এবং তারা তাদের জীবনের কাঙ্খিত বাসনা পাওয়ার আশায়।

ইংরেজী ১৯৪৬ সালে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ৬৭ তম জন্মজয়ন্তি উৎসব হওয়ার পরে শ্রীশ্রীঠাকুর হঠাৎ ঘোষণা দিলেন তিনি পশ্চিমে যাবেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো হিমায়েতপুর, পাবনা সৎসঙ্গ আশ্রম ছেড়ে শ্রীশ্রীঠাকুর যাত্রা করলেন দেওঘরের উদ্দেশ্যে। ৩০শে আগস্ট, ১৯৪৬ ইংরেজি সালে শ্রীশ্রীঠাকুর বৈদ্যনাথধাম পর্যন্ত রেলগাড়ির বগি রিজার্ভ করার জন্য মার্কিন ভক্ত নরম্যান ডি ফেন, ভোলানাথ সরকার ও রাজেন্দ্রনাথ মজুমদারকে ব্যবস্থা করতে বলেন। সেই সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর সুশীলচন্দ্র বসু ও বীরেন্দ্রলাল মিত্রকে দেওঘরের মধ্যে একটি খুব বড় বাড়ি ভাড়া করতে বললেন। তখন রোহিনী রোডস্থিত বড়াল-বাংলো নামে সুবৃহৎ বাড়িটি ঠিক করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট ১৯৪৬ এর ১লা সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবার ও কতিপয় ভক্তসহ রওনা হন দেওঘর অভিমুখে। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় মায়াতীতের মত নিজ জন্মভূমি ও দীর্ঘ ৫৮ বছরের লীলাভূমি পেছনে ফেলে শ্রীশ্রীঠাকুর উপনীত হলেন দেওঘরের বড়াল-বাংলোতে।

এখন ভারত ও বহির্ভারতের সৎসঙ্গ সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডের প্রধান নির্দেশনাগুলো মূলত এই আশ্রম / সংগঠনগুলো থেকেই আসে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর নরলীলার ৫৯ বছর বয়সে এখানে এসেছিলেন এবং বাকি ২৩ বৎসর এই আশ্রমেই কাটিয়েছিলেন। “দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রম” ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগণার অন্তর্গত বৈদ্যনাথ পীঠস্থানের সংলগ্ন দেওঘরে অবস্থিত। জসিডি রেলস্টেশনের পর শাখা স্টেশন বৈদ্যনাথ ধাম। সেখান থেকে মাইল কয়েক এগিয়ে গেলেই দেওঘর আর সেখানেই অবস্থিত দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রম। যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও অনুরাগীরা আসেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নিলা ভূমি দেখার জন্য়।

দেওঘর যাবার প্রস্তুতি বেশ কয়েকমাস পূর্বেই শুরু করেছিলাম আমরা, প্রহলাদ পোদ্দার (সহ-প্রতি ঋত্বিক), বিধান চন্দ্র শীল (সহ-প্রতি ঋত্বিক) ও আমি। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পন্ন করে ১ লা বৈশাখ ১৪৩১ এর ৯৮ তম সর্ব-ভারতী ঋত্বিক সম্মেলন এ যোগদানের জন্য মানসিক ও আর্থিক ভাবে আমরা প্রস্তুত। একপর্যায় জানতে কল্যাণাংশু নাহা (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদাও আমদের সাথে যাবেন, খুবই খুশি হলাম যেহেতু তিনি বেশ অনেকবার ভারত ও দেওঘর যাওয়া-আসা করেছেন তার অভিজ্ঞতা আছে। আমার এটাই প্রথম বাংলাদেশের বাইরে ভ্রমন, তাই অন্যরকম অনুভূতি, ভয়, উদ্বেগ কাজ করছিল বারবার।

২০০০ বা ২০০১ সালে আমি প্রথম প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর এর পূণ্য জন্মভূমি হেমায়েতপুর, পাবনাতে যাই। সাথে ছিল পাবানার বিখ্যাত কেচি ব্যবসায়ী মানিক কাকা, আমার স্নেহের কাকাত ভাই বলরাম সরকার ও আমি। সেটা ছিল এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি প্রথম ও নতুন তৈরি বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু দিয়ে পার হওয়া। সময়ের ব্যবধানে প্রায় ২ যুগ পর ২০২৪ আমার দেওঘর সফরে সঙ্গিও বলরাম সরকার ও তার ছেলে বিক্রমজিৎ সরকার। যেহেতু আমার বাংলাদেশের বাইরে কখনো যাবার অভিজ্ঞতা নেই তাই, অনেকের সাথেই আলোচনা করতে থাকি বেনাপোল বর্ডার, কলকাতার ট্রেন, আবহাওয়া, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে। 

কোথায় কি কি দেখতে যাবো, ডলার / টাকা কি ভাবে কত কি নিতে পারবো, পরিবারের জন্য কি কি কিনতে হবে, দেওঘর কি কি করবো, ভারতে ট্রেনের টিকিট কি ভাবে কাটবো, পরিবহন কোনটা ভাল হবে, কয়দিন থাকবো, অফিসের কাজগুলো কিভাবে গুছিয়ে যাবো, কি কি কাগজ-পত্র নিতে হবে ইত্যাদি ভাবতে ভবতেই আরো কয়েকদিন পার কারলাম। ঈদুল-ফিতর ও বাংলা নবর্ষের কারনে প্রায় ৭-৮ দিনের একটা লম্বা ছুটি পাওয়া গেল, সাথে আরো দুই দিন বারিয়ে নিয়ে আমার ভ্রমন তারিখ ঠিক করলাম ০৮ই এপ্রিল ২০২৪ সোমবার থেকে প্রায় ১৮ই এপ্রিল ২০২৪ বৃহস্পতিবার। তারপর ঠিক করা হলো কে কবে কিভাবে কলকাতা পৌছাবে, তারপর সবাই একসাথে হয়ে দেওঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু।

ঠিক হলো প্রহলাদ দা ৬ই এপ্রিল ভারতে তার মামা বাড়ি যাবে, সেখান থেকে ১০ই এপ্রিল আমরা এক সাথে হবো। ৮ই এপ্রিল কল্যান দা পাবনা থেকে ও বিধান কাকা কুষ্টিয়া থেকে বেনাপোল যাবে আর আমি ঢাকা থেকে সকালে রওনা হয়ে বেনাপোল পৌছাবো, তারপর একসাথে তিনজন বর্ডার পার করবো। বলরাম ও বিক্রমজিৎ ১০ই এপ্রিল বিমানে কলকাতা পৌছাবে। আমি সোহাগ পরিবহনের টিকিট ঢাকার সায়দাবাদ থেকে ৭.৪৫ মিনিটে ঠিক করে রাখি, কিন্তু ঈদে পরিবহন চাপের কারনে প্রায় ৩০ মিনিট লেট করে যাত্রা শুরু করি ও বেনাপোল পৌছায় প্রায় দুপুর ২ টা বাজে। 

কল্য়ান দা ও বিধান কাকা প্রায় ১২ টার দিকেই পৌছে যায় এবং জি এম পরিবহন কাউন্টারে শুধু আমার জন্য় অপেক্ষা। আমি যেহেতু প্রথম বার যাচ্ছি কোথায় কি করতে হবে তার কারনে তাদের অপেক্ষা। বিধান কাকা আমাকে সঠিক ভাবে কাউন্টারের ঠিকানা বলতে না পারায় প্রায় এক ঘন্টা আমি ভ্যানে ঘুরাঘুরি করে জি এম পরিবহন কাউন্টারে পৌছাই। সেখানে কিছু ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করে দুপুর প্রায় ৩ টার দিকে বর্ডারের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু। বর্ডারের কাজ শেষ করে সবাই একসাথপ পার হই ও পেট্রাপোল বর্ডার থেকে একটি ভারতীও মোবাইল AirTel SIM সংগ্রহ করে আমাদের ভারতের মাটিতে পদার্পন শুরু করি।

চলবে……….






Saturday, April 17, 2021

তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী

সারা বিশ্বেরমত বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ। রোজ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। আমার বেশকিছু প্রিয় মানুষ চলে গেছেন ওপারে। এই অবস্থায় আসুন আমারা যারা মৃতুবরন করি নাই এখনও ঘরে থাকি, কঠোর লকডাউন কঠোরভাবেই মানি। তাতে কোভিড রোগীর সংখ্যা কিছুটা হলেও কমবে। এখন অনেক হাসপাতালেই জায়গা নেই, এত রোগীর চাপ হাসপাতালগুলো নিতে পারছে না, কোভিড রোগীর সংখ্যা কমলে হয়ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে। আর কী করবেন? হাসতে হবে মন ভরে, পেট ভরে। হাসলে পরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি নাকি কিছুটা বাড়ে।

আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, প্যানডেমিকের সময় হাসতে হবে। অনেকদিন আগে ভেবেছিলাম এই বিদ্রুপ রচনা বা ব্যঙ্গাত্মক গল্পটি লিখবো, কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না। বর্তমানে লকডাউন এর বর্ষপূর্তি চলছে। ঘরে বসে বসে কাজ নাই। তাই লিখতে বসলাম।

প্রতিটি মানুষ জম্মগ্রহন করে কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে যা চাইলেও সহজে পরিপর্তন করতে বা বাদ দিতে পারে না। যদি বলা হয় প্রতিটি মানুষ Deoxyribonucleic Acid নিয়ে জম্মগ্রহন করেন অনেকেই অবাক হবেন এই শব্দটি শুনে এইটা আবার কি। বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলি DNA বা জম্মগত বৈশিষ্ট। ধর্ম বিশেষজ্ঞরা বলেন একজন মা সন্তান ধারন করার সময় যে মনোভাব নিয়ে স্বামীতে আনত হয় তার মনোভাব অনুসারে সন্তানের জম্ম বৈশষ্ট নির্ভর করে। আবার আমার মতো অল্প শিক্ষিত মানুষ তাকে বলে পূর্বপুরুষের রক্তের ধারা।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত কথা অনেক শুনা যায়, কয়লার ময়লা যতই পরিষ্কার করো তার কালো ময়লা সহজে যায় না। এখন আসা যাক গল্পের নামকরনের সার্থকতায়।

অনেক কাল আগে এক দেশে এক রাজা ছিল, কিছুদিন আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। তার মন ভালো নেই, রাজ সভার কাজ কর্মে মন নেই। সবাই চিন্তায় পরে গেল কি করা যায়। সবাই ঠিক করলো একজন সুন্দরী রাজকন্যা দেখে রাজার সাথে বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কোথাও তেমন রাজকন্যা পাওয়া যাচ্ছিল না। রাজ মন্ত্রী একজন ঘটক ঠিক করলো, এবং বলা হলো যদি ভালো কন্যা এনে দিতে পার তোমাকে অনেক পুরষ্কার দেয়া হবে।

ঘটক পুরস্কারের লোভে তার পরিচিত এক মেয়েকে রাজকন্যা সাজিয়ে রাজার সাথে বিয়ে দিলো। বিয়ের কিছুদিন পর দেখলো নতুন রানী ভীষন মন খারাপ করে বসে থাকে। রাজা তাকে জীজ্ঞাস করে কি কারনে মন খারপ। নতুন রানী বলে আমি ও আমার মা একদিন বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করছিলাম এমন সময় ঘটক এসে আমার মা-কে বললো তোমার মেয়েটা অনেক সুন্দর ওকে যদি রাজার সাথে বিয়ে দেও তাহলে তোমাকে আর ভিক্ষা করতে হবে না। তারপর আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়।

কিন্তু এত দাস-দাসী আমার সেবা করে কিন্তু আমার তো কিছুই ভালো লাগে না। রাজা পরলো মহা বিপদে কি করা যায়। রানী এখন ভিক্ষা করতে যাবে?? রাজা রানীকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বললো। রাজা একটি “তাক দেবী” নামক রাজপ্রাসাদ যেখানে ছোট ছোট অনেকগুলো কামড়া এবং প্রতিটি কামড়ায় রয়ছে একটি তাক (পাটাতন) ও চাল ভর্তী বড় একটি করে পাত্র। প্রতিদিন বিকালে রাজা আর রানী শুধু ওই রাজপ্রাসাদে যায় এবং সবাইকে বলে এখানে যাতে অন্য কেও প্রবেশ না করে।

রানী সেই রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে একটি করে কামরার তাকের কাছে যায় আর বলে “তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী” রাজা সেই চালের পাত্র থেকে কিছু চাল বের করে রানীর আচলে দেয়। আবার পাসের কামরায় যায় সেখানে গিয়ে রানী আবার বলে “তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী” রাজা আবার পাত্র থেকে কিছু চাল বের করে রানীর আচলে দেয়। এভাবে চলে তাদের খেলা। এতেই রানী খুশি, রানী মাহা খুশী মানে রাজাও মহা খুশী, রাজা মহা খুসি মানে রাজ্যের সবাই মহা খুসি।

সুখে খাকাটাই বড় জিনিস, যার যা আছে তা নিয়েই আমাদের সুখে থাকতে হবেরে ভাই।


 একটি কৌতুক দিয়ে লেখাটি শেষ করবো …........

গ্রামের এক চোর চুরি করা ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজ আরম্ভ করল।

গ্রামের সবাই বলল, বাহ্‌, তোমার স্বভাবের এত উন্নতি! কেমনে হলো? চোর বা নতুন চাষা বলল, শখে ছাড়ি নাই ভাই। বাধ্য হয়ে ছেড়েছি।

আগে কোন বাড়িতে যদি বিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি করতাম, গৃহস্থ থানায় গিয়ে জিডি করে বলত, আমার বিশ হাজার টাকার মাল চুরি গেছে। পুলিশ কে ঘুষ দিতাম চুরির টাকার ৫০%। বাকি ৫০% আমার লাভ থাকত।

এখন, সব গৃহস্থ বিশ হাজার টাকার জিনিস চুরি গেলে জিডিতে লেখে ১ লাখ টাকা। ঘুষ তখন দিতে হয় ৫০%। এখন বিশ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দিলে কি ব্যবসায় পোষায়, বলেন?


ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন সবাই।

Sunday, January 31, 2021

B&B সৃষ্টির পিছনের কিছু কথা....

 আমার চাকরি জীবন শুরু ২০০৪ সাল থেকে তখন আমি বিবিএস এর ছাত্র। ২০০৪ সালে আমার সাথে পরিচয় আমার জীবনের একজন অন্যতম ব্যক্তির সাথে, যার কথা জীবনে নানা সময় নানা ভাবে বলেছি। তিনি আমার কম্পিউটার গুরু, অফিসের বস, চাকরি দাতা, বড় ভাই, খারপ সময়ের বন্ধু, বাস্তব জীবনের দিক নির্ধারক আর অনেক কিছু। চাকরি জীবনের প্রথম থেকেই একটি ইচ্ছা বা চেষ্টা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতো কি করলে নিজের পাশাপাশি আরো কয়েকজনকে চাকরি দেওয়া যায়। কিন্তু একটা শর্ত যাদের চাকরি দিবো তাদের রেজাল্ট ভালো হলে হবে না কারন ভালো ছাত্রদের চাকরির ওভাব হয় না কিন্তু যাদের রেজাল্ট ভালো নয় কিন্তু মনোবল ও কর্মস্পৃহা আছে একমাত্র তারাই আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুজোব পাবে। আমি নিজেকে একজন ব্যবসায়ি নয় একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি ভালবাসি।

আমার তৃতীয় চাকরি ছিল বাংলাদেশের স্বানাম ধন্য একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে। সেখানই পরিচয় হয় আরো বেশ কিছু ভালো মানুষের সাথে। তখন থেকই নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রচন্ড ইচ্ছা দেখা দেয়। কয়েকজন বন্ধু মিলে মাত্র ৪-৫ বছরেই একে একে ছয় থেকে সাতটি ব্যাবসা শুরু করি যার মধ্যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, আইটি ফার্ম, কোচিং সেন্টার, প্রি-স্কুল, প্রোগ্রাম অর্গাইনাজার অন্যতম। কিন্তু বিধি বাম হলে যা হয় সমমনা কাওকে বেশি দিন পেলাম না। কেও বিদেশ চলে গেলো, কারো বিয়ে হয়ে গেলো, কয়েক জনের সাথে অংশিদার দন্দ হয়ে সব মিলিয়ে জমানো সব টাকা ও অনেকটা সময় শেষ।

স্বপ্ন মানুষকে রাজা করে আবার ভিখারি ও করে দিতে পারে। তারপর অনেকদিন ভেবেছি কি করা যায়, আর কাওকে অংশিদার করবো না ঠিক করেছি। তখন ভাবতাম যদি শিক্ষিত কাওকে বিয়ে করতে পারি তাহলে তাকে দিয়েই আমার ব্যবসার স্বপ্ন পূরন করবো। এবং খুব ইচ্ছা আমার সন্তান ছেলে-মেয়ে যাই হোক তারা হবে দেশের একজন কমবয়সি ব্যাবসায়ি। চেষ্টা করছি আমার বড় মেয়েকে সেই ভাবেই তৈরি করতে, জানিনা পারবো কিনা কিন্তু চেষ্টা করছি।   

২০১৩ সালে আমি বিয়ে করি। তখন থেকেই শুরু করি B&B (BISNUPRIA & BAPPY)নামতো ঠিক করলাম কিন্তু হাতে তেমন কোন টাকা নাই ব্যাংকে মাত্র ২১০০ টাকার মত ছিল। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় আইটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছিলাম। তাই এই পেশাটা আমার খুবই টানে বা দুর্বলতা আছে। ফ্রিলেন্সার হিসাবে কিছুদিন চেষ্টা করে কিছু কাজ করেছিলাম কিন্তু ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারলাম না।

...........মাঝের কিছু কথা এখন আর লিখতে পারছি না।............................

.......................

...........

আমার জীবনের সেই প্রিয় মানুষটির সাথে অনেক বছর কোন যোগাযোগ নেই একটি বিশেষ কারনে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে একদিন ফেসবুকে আমার একটি স্টাটাস দেখে তিনি আমাকে ফোন দিলেন এবং মানষিক ভাবে কিছুটা হতাশ আছি যেনে সান্তনা ও ভরশা দিলেন। তিনিই আমাকে বুদ্ধি দিলেন ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে। তিনি বললেন, তোমার মেধা ও পদ্ধতি জানা আছে এবং তোমার হাতের কাছে প্রচুর পন্যও আছে যেগুলি দিয়ে তুমি খুব সহজেই এটি শুরু করতে পারো। তার কয়েকদিনের মধ্যেই আমি B&B নাম দিয়ে শুরু করি আমার ই-কমার্স ব্যবসা।

দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর পার করলাম। ধিরে ধিরে আমাদের স্টোরের একের পর এক পন্য সংযুক্ত হচ্ছে। অর্ডারও হচ্ছে। এখন ভাবছি একটি স্থায়ি দোকান দিবো। সেখানে কয়েকজনকে চাকরি দিতে পারবো। সেইদিন যদি সেই অপ্রতাশিত ফোনটি না আসতো আমার, তাহলে হয়তো এই লেখাটি আর লেখা হতো না।

ভালো থাকুন ম্যাক ভাই। বাকি ইতিহাস না হয় পরবর্তিতে অন্য একদিন লেখা হবে আবার  ................................      

www.daraz.com.bd/bb-1573541732

Thursday, June 27, 2019

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা (শেষ দৃশ্য)


                                              ~~ শেষ দৃশ্য ~~

জীবন থেকে চলে যায় আর বেশ কয়েকটি বছর। প্রিয়ার আর লেখা পড়া হলো না। এদিকে উদয়ও পাঁচ-ছয় বছর হলো মামা বাড়ি যায় না। মাঝে দুই এক বার কিছু সময়ের জন্য গিয়েছিল, প্রিয়াকে দেখে মনে মনে কষ্ট হয়েছে বটে, তবে কেমন যেন একটা অপছন্দ জন্ম নিয়েছে তার কাছে যার জন্য প্রিয়ার সাথে কথাও বলে না উদয়। বাকি জীবনে তাদের আর তেমন কোন কথা বলতে দেখা যায়নি। প্রিয়া বেশ কয়েকবার উদয়ের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু উদয় সেই দিকে তেমন কোন ভাবেই কর্ণপাত করেনি। 
 
তার কিছুদিন পর প্রিয়ার বিয়ের জন্য তার বাবা তোর জোর শুরু করে। পরিবারের সদস্য হিসেবে উদয় বেশ কয়েক জায়গায় গিয়েছিল তার প্রিয়তমার জন্য বর খুজতে। উদয় তখন চাকরি করে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে। উদয়কে তার মামি একদিন ফোন করলো, সেই প্রথম তার মামি তাকে ফোন করেছিল বললো প্রিয়ার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তুমি ছুটি নিয়ে আইসো। উদয়ের আর যাওয়া হয় নি, কারন নতুন চাকরি তার উপরে মনের দিক দিয়েও ইচ্ছা ছিল না। কিছুটা চুপিসারে প্রিয়ার পরিবার তার বিয়ে দিল একজন ব্যবসায়ীর সাথে। প্রিয়ার ঘরে এখন এক মেয়ে ও এক ছেলে। হয়তো ভালই আছে স্বামী সংসার নিয়ে। 
 
তার কয়েক বছর পর উদয়ের সাথে প্রিয়ার দেখা হয়, কিন্তু কেমন আছ? উত্তর ভাল শুধু এতটুকুই কথা হয় তখন। বেশ কয়েক বছর পর উদয়ও বিয়ে করে। তার ঘরে একটি মেয়ে হয় সেই মেয়ের নাম রাখে প্রিয়া, কারন এখনও সে মনে প্রানে প্রিয়াকেই ভালবাসে। এভাবেই জীবন চলতে থাকে তার আপন গতিতে। বাকি জীবনে প্রিয়া আর উদয়ের দেখা হয়েছিল কিনা যানা নেই। হয়ত দুইজনই ভাল আছে, না হয় দুইজনেই ভাল নেই তাই বলে কি জীবন তো আর থেমে থাকে না।


পাঠকের কাছে লেখক হিসাবে আমি জানতে চাই, এটা কি ছিল ভালবাসা নাকি আবেগ নাকি অন্য কিছু?

~~ শেষ ~~


Wednesday, June 26, 2019

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা ( পঞ্চম দৃশ্য)


                                                         ~~ পঞ্চম দৃশ্য ~~


সময় কেমন করে যেন সব পরিবর্তন হয়ে যায়, প্রিয়া ঢাকার একটি নামী দামী কলেজে ভর্তি হয়ে থেকে যার কলেজের কাছেই একটি ছাত্রী হোস্টেলে। এদিকে নতুন চাকরি পায় উদয়, কিছুটা ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটতে থাকে তার। মাঝে মাঝে তাদের মধ্য ফোনে কথা হয়। দেখা করতে চায় উদয় কিন্তু কোন এক অজনা কারনে প্রিয়া দেখা করতে চায় না। কিছুই যেন ভাল লাগছে না উদয়ের। 
 
একদিন উদয় ঠিকানা মতো হাজির হয় প্রিয়ার কলেজের সামনে। অপেক্ষা করতে থাকে প্রিয়া কখন আসবে আর তার সেই মন ভুলান হাসি হাসবে। প্রিয়া কলেজ থেক বের হয়েই তার হোস্টেলের দিকে হাটতে থাকে, উদয় পিছন থেকে ডাক দেয় প্রিয়া বলে। প্রিয়া কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবে তাকায় উদয়ের দিকে, কিন্তু উদয় যেই হাসিটা দেখার জন্য এত কষ্ট করে অপেক্ষা করছিল সেটা আর দেখা হল না। প্রিয়া জিজ্ঞাস করলো কি ব্যাপার এখানে, কি ভাবে আসলা? উদয় তার এই প্রশ্নে কেমন যেন ভালবাসার ঘাটতি অনুভব করলো। কয়েকটি কথা বলে বিদায় নিল দুইজনেই। 
 
উদয় তার মা-কে তার খুব ভালবাসে, মা যা বলবে উদয়ের জীবনে সেটাই মানতে হবে। উদয়ের মা কিছুটা বুঝতে পারলো ছেলের জীবনে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সে বুঝায় প্রিয়া ধনী ঘরের মেয়ে, বাবা বিদেশ ফেরত, সে কখনোই এই সম্পর্ক মেনে নিবে না। তাই সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ায় মনযোগ দাও। সময় সব ঠিক করে দিবে। উদয় তার মন কে শক্ত করে প্রিয়াকে যেমন করেই হোক ভুলতে হবে। 
 
সময়ের নিয়মে উদয় চাকরি নিয়ে চলে যায় ঢাকার বাইরে। তার কিছু দিন পর খবর আসে প্রিয়া কলেজের পাশের এক ছেলের প্রেমে পরেছে। ছেলেটি ধনী, বাড়ী ও গাড়ি দুইটাই আছে তার। উদয় প্রিয়ার জন্য আশির্বাদ করে যেন সে ভাল থাকে। কিন্তু না ছেলেটি প্রিয়ার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, সিনেমার কাহিনীর মত একদিন প্রিয়াকে একটি হেটেলে নিয়ে যায় সেই ছেলেটি। তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে এবং তা ছবি তুলে রাখে। তারপর প্রিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে সেই ছেলেটি, না হলে প্রিয়ার বাবা-মার কাছে সেই ছবি তুলে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখায়। প্রিয়া কিছুদিন বিভিন্ন আত্বীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা এনে সেই ছেলেকে দিতে থাকে। যখন আর কিছুতেই পারছিল না তখন বাধ্য হয়েই প্রিয়া তার বাবা মার কাছে সব খুলে বলে। প্রিয়ার বাবা তাকে ঢাকা থেকে অনেক দুরে এক আত্বীয়র কাছে রেখে আসে।

~~ শেষ দৃশ্য ~~

Tuesday, June 25, 2019

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা ( চতুর্থ দৃশ্য)


                                                          ~~ চতুর্থ দৃশ্য ~~


সময় বইতে থাকে, উদয় এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ করেছে। এদিকে প্রিয়াও এস এস সি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকায় এসেছে কলেজে ভর্তির কোচিং করতে। উদয় লক্ষ করলো প্রিয়ার ব্যবহার কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। প্রিয়া কি সব ভুলে গেছে তাদের সেই রাতের ঘটনা। পরে বুঝল না এটা উদয়কে পরীক্ষা করার জন্য করছে। যাতে উদয়ের পরিবারের কেও কিছু বুঝতে না পারে। 
 
একদিন প্রিয়া কেচিং এ যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, এমন সময় উদয় সেই ঘরে ঢুকল। প্রিয়া তাকে জিজ্ঞাসা করলো বলতো, ছেলেরা মেয়েদের পিছন থেকে জড়িয়ে ধরতে চায় কেন? আর জরিয়ে ধরেই নাভিতে বা তল পেটে হাত দেয় কেন? উদয় যেন আকাশ থেকে পরলো। এমন প্রশ্ন কোন মেয়ে করতে পারে সে জানতো না। সে কোন উত্তর দিতে পারলো না। প্রিয়া হাসতে হাসতে চুল ঠিক করতে থাকে। 
 
তখন ছিল চিঠির যুগ, একে ওপরকে অনেক চিঠি লিখত। প্রিয়াই বেশি লিখত। উদয়ের কাছে অনেকদিন সেই চিঠিগুলো সংগ্রহ করা ছিল। একে অপরকে অনেক উপহার দিত। ঢাকায় থাকার সুবাদে এবং প্রিয়ার কোচিং আছে বলে তারা দুইজনই একসাথে অনেক জায়গার বেড়ানোর সুযোগ পেল। ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, খাওয়া দাওয়াও হয় মনের আনন্দে।

কিছুদিন পর প্রিয়া তার গ্রামের বাড়ি চলে যায়। উদয়কে বলে এবারের আমার জন্মদিনে তোমাকে আমার পাশে চাই। উদয় দিন গুনতে থাকে ২০০২ সালের ২২ শে জুন শনিবার তারিখটি কবে আসবে। সে দিনটিই ছিল প্রিয়ার জন্মদিন।

উদয় সুন্দর একটি পিরামিড মোমবাতি কিনল আড়ং থেকে জন্মদিনের উপহার হিসাবে। ২০ তারিখই চলে আসে সে তার মামা বাড়ি তার প্রিয়তমাকে দেখার জন্য। সৌভাগ্যক্রমে প্রিয়ার মা ঢাকায় আসে ২১ তারিখে ডাক্তার দেখাতে। উদয় প্রিয়াকে বলে আজকে রাত্রে তুমি একটি শাড়ী পরো, প্রিয়া রাজি হয় কিন্তু বলে তুমি যদি আমাকে মাথায় খোপা করে দিতে পার তাহলে আমি শাড়ী পরতে পারি। 
 
সন্ধার পর প্রিয়া উদয়ের পচ্ছন্দের নীল রঙ্গের একটি শাড়ী পরে। উদয় বিকালেই একটি লাল গোলাপ বাগান থেকে জোগার করে রাখে প্রিয়ার খোপায় পরাবে বলে। প্রিয়া তার মার শাড়ী টি পরে এসে উদয়কে বলে কেমন লাগছে আমাকে। উদয় খুশি হয়, বলে আস খোপা করে দেই। উদয় কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় চুলের খোপা করতে। প্রিয়া নিজেই তার চুলের খোপা করে তাতে উদয় গোলাপ ফুলটি গুজে দেয় সুন্দর করে। পিরামিড মোমবাতিটি হাতে দিয়ে বলে কখনো ব্যবহার কর না। তাহলে মোমবাতির সাথে সাথে ভালবাসাও শেষ হয়ে যাবে।

সেই রাতে তাদের এক সাথে থাকার সুযোগ হয়। উদয় সারা রাত প্রিয়ার কোলে মাথা রেখে গল্প করতে থাকে। প্রিয়া উদয়য়ের মাথায় হাত বুলাতে থাকে আর চলতে থাকে নানান রকম কথা, গল্প ও ভালবাসার আদর। যেন সারা রাতেই যেন তাদের কথা আর শেষ হয় না। কিভাবে যে রাত শেষ হয়ে গেল কেও বুঝল না।

~~ পঞ্চম দৃশ্য ~~

Monday, June 24, 2019

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা ( তৃতীয় দৃশ্য)


                                                          ~~ তৃতীয় দৃশ্য ~~


পৌছাতে পৌছাতে প্রায় সন্ধা, প্রিয়া তখন তার পড়ার ঘরে বই পরছিল। প্রিয়াকে দেখে উদয় যেন দেহে প্রান ফিরে পেল। এতক্ষণ সে ততটাই কষ্টে ছিল যতটা কষ্ট একটি জীবিত মাছের ডাঙ্গায় থাকলে হয়। প্রিয়া তার ভুবন ভোলান হাসি দিয়া জিজ্ঞাসা করলো কখন আসলা, এত তারা তারি বেড়ান শেষ? উদয় বললো তোমাকে না দেখে থাকতে পারছিলাম না। সেই দিনের কষ্ট এবং কি ভাবে একা মামা বাড়ি আসে সেটা প্রিয়াকেও কখনো বলা হয়নি উদয়ের। 
 
সেদিন উদয়ের কষ্টের ফল স্বরুপ ঈশ্বর তাকে একটি ফল দিয়েছিল। তার মামি মানে প্রিয়ার মা সেদিন ঢাকা গিয়েছিল ডাক্তার দেখাতে। বাসা ফাকা, প্রিয়ার ঠাকুর মা উদয় কে বললো তুই আর প্রিয়া এক ঘরে ঘুমা, না হলে প্রিয়া ভয় পেতে পারে রাত্রে। উদয় যেন মনে মনে এটাই চাচ্ছিল, প্রিয়া ও কিছু বলতে চায় উদয়কে এটাই তাদের উপযুক্ত রাত একে ওপরকে সব খুলে বলার। 
 
রাত্রির খাবার শেষ করে সবাই ঘুমাতে গেল। উদয় আর প্রিয়া তাদের ঘরে গেল, দিনটি ছিল পূর্ণিমার রাত। জালনা খুলে তার চাঁদ দেখছে আর দুইজন দুইজনার হাত ধরে কিছুক্ষন বসে রইল কেও কিছু বলতে পারলো না শুধু আকাশের দিকে চেয়ে রইল। প্রিয়া বলল কি ব্যপার ঘুমাবা না, কাল তো আমার স্কুল আছে। কিছু কি বলবে? উদয় বলে আমি আর কি বলবো এখন তো তোমার বলার কথা। আমি তো আমার মনের কথা বলে দিয়েছি। প্রিয়া বলে এখনই এই সব ভাববার সময় নয়। সময় হোক সবই জানতে পারবে। উদয় প্রিয়ার গালে জীবনের দ্বিতীয় চুম্বন দিল, প্রিয়া কিছু বলল না। তাদের দুইজনই তাদের শরীরে একপ্রকার কম্পন অনুভব করল। 
 
জরিয়ে ধরলো একে অপরকে। প্রিয়া বললো আমাকে আর শক্ত করে জড়িয়ে ধর, পৃথিবীর কোন শক্তিই যেন আমাদের আলাদা না করতে পারে। উদয়ও তার সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রিয়াকে তার বুকের মাঝে জরিয়ে রাখার চেষ্টা করলো। ভালবাসার প্রথম উপহার হিসেবে একে ওপরকে চুম্বন করতে থাকে, কপাল, গাল, চোখ, ঠোট, কাঁধ। এ যেন এক ভালবাসার পরীক্ষা চলছে, কে কাকে কত চুম্বন করতে পারে আর বলতে পারে আমি তোমাকে বেশি ভালবাসি। 
 
সেই রাতে একে ওপরকে জরিয়ে ধরেই ঘুমিয়ে পরলো। সেই যুগের ছেলে মেয়েদের কাছে ভালবাসার প্রতীক হিসাবে একটি চুম্বন-ই যথেষ্ঠ। তখন সবার হাতে ছিল না মোবাইল বা ইন্টারনেট তাই যৌনতা বা দৈহিক সম্পর্ক সমন্ধে কেও তেমন কিছুই জানতো না। সেই রাতটি ছিল ২২ জুলাই ২০০১ রবিবার, উদয়ের জীবনের এমনই একটি রাত সে চাইতো সে বিয়ে করলে এই তারিখেই করবে। আরো কয়েকদিন মামা বাড়ী বেড়িয়ে উদয় ঢাকা চলে আসে। 
 
কিছুতেই উদয় পড়ালেখায় মন দিতে পারছিল না। তখনো মোবাইলে কথা বলা এত সহজ ছিল না। কলরেট ছিল প্রতি মিনিট প্রায় ৬-৭ টাকা। উদয় লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি শুরু করেছে কয়েকটি। প্রিয়া কেমন আছে জানতে চায় উদয়। সৌভাগ্যক্রমে প্রিয়ার বাবা একটি মোবাইল ফোন পাঠায় বিদেশ থেকে প্রিয়ার মার সাথে কথা বলার জন্য। তার কিছু দিন পর উদয় প্রিয়ার এক আত্মীয়র কাছ থেকে মোবাইল নাম্বারটি সংগ্রহ করে। 
 
উদয়ের এক বন্ধু মোবাইলে কথা বলার দোকান ছিল। একদিন উদয় বিকালে তার বন্ধুর দোকানে যায়, ফোন করল সেই নাম্বারে ফোনটি ধরলো প্রিয়ার মা। সাথে সাথেই ফোনটি কেটে দিল উদয়, কিছুটা ভয় পেল। কিছুক্ষন পর আবার করলো, এবার প্রিয়া ফোনটি ধরলো। কথা বলতে বলতে প্রায় এক ঘন্টা কখন পার হয়ে গেল কেও বুঝতে পারলো না। তখনই তারা ঠিক করে তারা চিঠি লিখবে প্রিয়া চিঠি লিখবে উদয়ের বাসার ঠিকানায়, কিন্তু উদয় চিঠি লিখবে প্রিয়ার বান্ধবীর ঠিকানায় যেন প্রিয়ার বাসার কেও বুঝতে না পারে।