The Web This Blog
Showing posts with label Drama. Show all posts
Showing posts with label Drama. Show all posts

Saturday, April 17, 2021

তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী

সারা বিশ্বেরমত বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ। রোজ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। আমার বেশকিছু প্রিয় মানুষ চলে গেছেন ওপারে। এই অবস্থায় আসুন আমারা যারা মৃতুবরন করি নাই এখনও ঘরে থাকি, কঠোর লকডাউন কঠোরভাবেই মানি। তাতে কোভিড রোগীর সংখ্যা কিছুটা হলেও কমবে। এখন অনেক হাসপাতালেই জায়গা নেই, এত রোগীর চাপ হাসপাতালগুলো নিতে পারছে না, কোভিড রোগীর সংখ্যা কমলে হয়ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে। আর কী করবেন? হাসতে হবে মন ভরে, পেট ভরে। হাসলে পরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি নাকি কিছুটা বাড়ে।

আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, প্যানডেমিকের সময় হাসতে হবে। অনেকদিন আগে ভেবেছিলাম এই বিদ্রুপ রচনা বা ব্যঙ্গাত্মক গল্পটি লিখবো, কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না। বর্তমানে লকডাউন এর বর্ষপূর্তি চলছে। ঘরে বসে বসে কাজ নাই। তাই লিখতে বসলাম।

প্রতিটি মানুষ জম্মগ্রহন করে কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে যা চাইলেও সহজে পরিপর্তন করতে বা বাদ দিতে পারে না। যদি বলা হয় প্রতিটি মানুষ Deoxyribonucleic Acid নিয়ে জম্মগ্রহন করেন অনেকেই অবাক হবেন এই শব্দটি শুনে এইটা আবার কি। বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলি DNA বা জম্মগত বৈশিষ্ট। ধর্ম বিশেষজ্ঞরা বলেন একজন মা সন্তান ধারন করার সময় যে মনোভাব নিয়ে স্বামীতে আনত হয় তার মনোভাব অনুসারে সন্তানের জম্ম বৈশষ্ট নির্ভর করে। আবার আমার মতো অল্প শিক্ষিত মানুষ তাকে বলে পূর্বপুরুষের রক্তের ধারা।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত কথা অনেক শুনা যায়, কয়লার ময়লা যতই পরিষ্কার করো তার কালো ময়লা সহজে যায় না। এখন আসা যাক গল্পের নামকরনের সার্থকতায়।

অনেক কাল আগে এক দেশে এক রাজা ছিল, কিছুদিন আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। তার মন ভালো নেই, রাজ সভার কাজ কর্মে মন নেই। সবাই চিন্তায় পরে গেল কি করা যায়। সবাই ঠিক করলো একজন সুন্দরী রাজকন্যা দেখে রাজার সাথে বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কোথাও তেমন রাজকন্যা পাওয়া যাচ্ছিল না। রাজ মন্ত্রী একজন ঘটক ঠিক করলো, এবং বলা হলো যদি ভালো কন্যা এনে দিতে পার তোমাকে অনেক পুরষ্কার দেয়া হবে।

ঘটক পুরস্কারের লোভে তার পরিচিত এক মেয়েকে রাজকন্যা সাজিয়ে রাজার সাথে বিয়ে দিলো। বিয়ের কিছুদিন পর দেখলো নতুন রানী ভীষন মন খারাপ করে বসে থাকে। রাজা তাকে জীজ্ঞাস করে কি কারনে মন খারপ। নতুন রানী বলে আমি ও আমার মা একদিন বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করছিলাম এমন সময় ঘটক এসে আমার মা-কে বললো তোমার মেয়েটা অনেক সুন্দর ওকে যদি রাজার সাথে বিয়ে দেও তাহলে তোমাকে আর ভিক্ষা করতে হবে না। তারপর আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়।

কিন্তু এত দাস-দাসী আমার সেবা করে কিন্তু আমার তো কিছুই ভালো লাগে না। রাজা পরলো মহা বিপদে কি করা যায়। রানী এখন ভিক্ষা করতে যাবে?? রাজা রানীকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বললো। রাজা একটি “তাক দেবী” নামক রাজপ্রাসাদ যেখানে ছোট ছোট অনেকগুলো কামড়া এবং প্রতিটি কামড়ায় রয়ছে একটি তাক (পাটাতন) ও চাল ভর্তী বড় একটি করে পাত্র। প্রতিদিন বিকালে রাজা আর রানী শুধু ওই রাজপ্রাসাদে যায় এবং সবাইকে বলে এখানে যাতে অন্য কেও প্রবেশ না করে।

রানী সেই রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে একটি করে কামরার তাকের কাছে যায় আর বলে “তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী” রাজা সেই চালের পাত্র থেকে কিছু চাল বের করে রানীর আচলে দেয়। আবার পাসের কামরায় যায় সেখানে গিয়ে রানী আবার বলে “তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী” রাজা আবার পাত্র থেকে কিছু চাল বের করে রানীর আচলে দেয়। এভাবে চলে তাদের খেলা। এতেই রানী খুশি, রানী মাহা খুশী মানে রাজাও মহা খুশী, রাজা মহা খুসি মানে রাজ্যের সবাই মহা খুসি।

সুখে খাকাটাই বড় জিনিস, যার যা আছে তা নিয়েই আমাদের সুখে থাকতে হবেরে ভাই।


 একটি কৌতুক দিয়ে লেখাটি শেষ করবো …........

গ্রামের এক চোর চুরি করা ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজ আরম্ভ করল।

গ্রামের সবাই বলল, বাহ্‌, তোমার স্বভাবের এত উন্নতি! কেমনে হলো? চোর বা নতুন চাষা বলল, শখে ছাড়ি নাই ভাই। বাধ্য হয়ে ছেড়েছি।

আগে কোন বাড়িতে যদি বিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি করতাম, গৃহস্থ থানায় গিয়ে জিডি করে বলত, আমার বিশ হাজার টাকার মাল চুরি গেছে। পুলিশ কে ঘুষ দিতাম চুরির টাকার ৫০%। বাকি ৫০% আমার লাভ থাকত।

এখন, সব গৃহস্থ বিশ হাজার টাকার জিনিস চুরি গেলে জিডিতে লেখে ১ লাখ টাকা। ঘুষ তখন দিতে হয় ৫০%। এখন বিশ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দিলে কি ব্যবসায় পোষায়, বলেন?


ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন সবাই।

Sunday, September 6, 2020

শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন


শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন নামটি খুব একটা পরিচিত নয় মানুষের কাছে, কিন্তু আজ তার প্রয়াণ দিবসে লেখাটি শুরু করলাম। এই ছেলেটির জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ শে সেপ্টেম্বর রবিবার, সিলেট শহরের দাড়িয়া পাড়াস্থ তার নানা বাড়ি আব এ হায়াত ভবনে, যা বর্তমানে সালমান শাহ্‌ ভবন নামে পরিচিত। তার পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তিনি ছিলেন পিতামাতার বড় ছেলে।

এতক্ষনে আপনারা অবশ্যই বুঝে গেছেন আমি কার কথা লিখতে চাচ্ছি। আজ তাকে নিয়ে আমার জীবনের কিছু ঘটনা ও অনুভুতির কথা বলবো।

সালমান পড়াশুনা করেছিলেন খুলনা জেলার বয়রা মডেল হাই স্কুলে। সৌভাগ্যক্রমে একই স্কুলে চিত্রনায়িকা মৌসুমী তার সহপাঠী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি আরব মিশন স্কুল থেকে এস,এস,সি পাস করেন। পরে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচ, এস, সি ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ (বর্তমান ডক্টর মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ) থেকে বি,কম, পাস করেন।

সালমান প্রথমে মডেলিং দিয়ে তার মিডিয়া জগৎ শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে বিটিভির “আকাশ ছোঁয়া” নামক নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফিরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে অভিনয় করেন। নয়ন নাটকটি সে বছর শ্রেষ্ঠ একক নাটক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার লাভ করেছিল। এছাড়াও তিনি ১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত পাথর সময় ও ১৯৯৪ সালে ইতিকথা ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করেছিলো।

সালমান ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট তার খালার বান্ধবীর মেয়ে সামিরা হককে বিয়ে করেন। যিনি ছিলেন একজন বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী। তিনি সালমানের ২টি চলচ্চিত্রে তার পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন।

১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হচ্ছে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” একই ছবিতে নায়িকা মৌসুমী ও গায়ক আগুনের অভিষেক হয়। প্রত্যেকেই পরবর্তী জীবনে যার যার কর্মক্ষেত্রে হয়ে উঠে সফল।

পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরেই সালমান শাহ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দ মেলা সেই সময় তিনটি হিন্দি ছবি “সনম বেওয়াফা” “দিল” ও “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” এর কপিরাইট নিয়ে সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে এর যে কোন একটির বাংলা পুনঃনির্মাণ করার জন্য কিন্তু তিনি উক্ত ছবিগুলোর জন্য উপযুক্ত নায়ক-নায়িকা খুঁজে না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ দিয়ে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রথমে নায়িকা হিসেবে মৌসুমীকে নির্বাচিত করলেও নায়ক খুঁজে পাচ্ছিলেন না সোহানুর রহমান সোহান।

একদিন নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর আলমগীর “ইমন” নামের একটি ছেলের সন্ধান দেন। প্রথম দেখাতেই তাকে পছন্দ করে ফেলেন পরিচালক এবং সনম বেওয়াফা ছবির জন্য প্রস্তাব দেন, কিন্তু যখন ইমন “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” ছবির কথা জানতে পারেন তখন তিনি উক্ত ছবিতে অভিনেয়র জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন। সালমানের কাছে কেয়ামত সে কেয়ামত তক ছবি এতই প্রিয় ছিলো যে তিনি মোট ২৬ বার ছবিটি দেখেছেন বলে পরিচালক কে জানান। শেষ পর্যন্ত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান তাকে নিয়ে কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইমন নাম পরিবর্তন করে সালমান শাহ রাখা হয়।

নায়ক হিসেবে সালমান নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশে সাড়া জাগানো বেশিরভাগ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সবকয়টিই ছিল সেই সময়ের ব্যবসাসফল সিনেমা।

পরবর্তীতে নায়িকা মৌসুমীর বিপরীতে সালমান আরও তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলো। “অন্তরে অন্তরে” (১৯৯৪), “স্নেহ” (১৯৯৪) ও “দেনমোহর” (১৯৯৫)। “স্নেহ” পরিচালনা করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, পরিচালক শিবলী সাদিক পরিচালিত অন্তরে অন্তরে হিন্দি চলচ্চিত্র আও পেয়ার করের ও শফি বিক্রমপুরী পরিচালিত দেনমোহর হিন্দি চলচ্চিত্র সনম বেওয়াফার সিনেমা দুইটি ছিল আনুষ্ঠানিক পুনঃনির্মাণ।

তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র জহিরুল হক ও তমিজউদ্দিন রিজভী পরিচালিত "তুমি আমার" চলচ্চিত্রটি ব্যবসাসফল হয়। পরিচালক জহিরুল হক চলচ্চিত্রটির কিছু অংশ নির্মাণ করার পর মারা যান। পরে তমিজউদ্দিন রিজভী বাকি কাজ শেষ করেন। এই চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মত তার বিপরীতে অভিনয় করেন নায়িকা শাবনূর। পরে শাবনূরের সাথে জুটি বেধে একে একে ১৯৯৪ সালে সুজন সখি, বিক্ষোভ, স্বপ্নের ঠিকানা। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় মহামিলন, ১৯৯৬ সালে বিচার হবে, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, জীবন সংসার, চাওয়া থেকে পাওয়া। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিলো প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভিতর আগুন সহ মোট ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

সালমান শাহ মৃত্যুর আগে মন মানে না ছবির ৫০% কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন, তার মৃত্যুর পর চিত্রনায়ক রিয়াজ কে দিয়ে ছবিটি করানো হয়। এছাড়াও কে অপরাধী, তুমি শুধু তুমি, প্রেমের বাজি সহ একাধিক মুভি সালমান শাহ অর্ধেক শুটিং করে মারা যান। পরবর্তীতে প্রেমের বাজি ব্যতীত বাকি সিনেমাগুলি অন্য নায়কদের দিয়ে নতুন করে শুটিং করা হয়। সালমানের অসমাপ্ত সিনেমার মধ্যে একমাত্র প্রেমের বাজি সিনেমার কাজ পরে আর শেষ হয়নি।


বছর

নাটক

চরিত্র

১৯৮৫

আকাশ ছোঁয়া


১৯৮৮

সৈকতে সারস

রাব্বি

১৯৯০

পাথর সময়


১৯৯৪

ইতিকথা

ইউসুফ

১৯৯৪

দোয়েল


১৯৯৫

সব পাখি ঘরে ফেরে


১৯৯৫

নয়ন

সুলতান

১৯৯৬

স্বপ্নের পৃথিবী

শুভ


বছর

চলচ্চিত্র

চরিত্র

পরিচালক

টীকা

১৯৯৩

কেয়ামত থেকে কেয়ামত

রাজ

সোহানুর রহমান সোহান

চলচ্চিত্রে অভিষেক

১৯৯৪

তুমি আমার

আকাশ

জহিরুল হক ও তমিজ উদ্দিন রিজভী


অন্তরে অন্তরে

শান

শিবলী সাদিক


সুজন সখি

সুজন

শাহ আলম কিরণ


বিক্ষোভ

অনিক

মহম্মদ হান্‌নান


স্নেহ

ইমন

গাজী মাজহারুল আনোয়ার


প্রেমযুদ্ধ

রাজা

জীবন রহমান


১৯৯৫

দেনমোহর

সরোয়ার

শফি বিক্রমপুরী


কন্যাদান

শ্রাবন

দেলোয়ার জাহান ঝন্টু


স্বপ্নের ঠিকানা

সুমন

এম. . খালেক


আঞ্জুমান

সালমান

হাফিজউদ্দিন


মহামিলন

শান্ত

দিলীপ সোম


আশা ভালবাসা

আকাশ

তমিজ উদ্দিন রিজভী


১৯৯৬

বিচার হবে

সুজন

শাহ আলম কিরণ


এই ঘর এই সংসার

মিন্টু

মালেক আফসারী


প্রিয়জন

নয়ন / জীবন

রানা নাসের


তোমাকে চাই

সাগর

মতিন রহমান


স্বপ্নের পৃথিবী

মাসুম

বাদল খন্দকার


সত্যের মৃত্যু নাই

জয়

ছটকু আহমেদ

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত /১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬

জীবন সংসার

সবুজ

জাকির হোসেন রাজু

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ১৮ অক্টোবর, ১৯৯৬

মায়ের অধিকার

রবিন

শিবলী সাদিক

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬

চাওয়া থেকে পাওয়া

সাগর

এম এম সরকার

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ২০ ডিসেম্বর, ১৯৯৬

১৯৯৭

প্রেম পিয়াসী

হৃদয় / জীবন চৌধুরী

রেজা হাসমত

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ১৮ এপ্রিল, ১৯৯৭

স্বপ্নের নায়ক

রাজু / রাসেল

নাসির খান

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ৪ জুলাই, ১৯৯৭

শুধু তুমি

আকাশ

কাজী মোরশেদ

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ১৮ জুলাই, ১৯৯৭

আনন্দ অশ্রু

খসরু

শিবলী সাদিক

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত / ১ আগস্ট, ১৯৯৭

বুকের ভিতর আগুন

আগুন

ছটকু আহমেদ

মৃত্যুর পর মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি / ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। ঢাকার ইস্কাটনে তার নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃত্ দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য এখনও অমীমাংসিত । অনেকেই সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রী সামিরার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন, এমনকি পরবর্তীকালে সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রী সামিরা ও আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় কিন্তু পরে এই মামলার আর কোন অগ্রগতি হয়নি ফলে সালমানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য আর উদঘাটিত হয়নি। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তদন্ত বিভাগ জানায় যে সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিলেন।


পরের পাতাঃ- ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর



তথ্যসূত্রঃ- সালমান_শাহ



Sunday, February 2, 2020

নারী থেকে মা (ষষ্ঠ পাতা)


~~ পঞ্চম পাতা ~~
~~ ষষ্ঠ পাতা ~~

সময় আর জীবন তার গতিতে চলতে থাকে। রীতা রানীর সন্তানরাও ধিরে ধিরে বড় হতে থাকে। একে একে অন্যান্ন দেবরদেরও বিয়ে হয়ে যায়। সংসার যত বড় হয় ততই ঝগড়া ঝাটি, পারিবারিক কলহ বারতে থাকে আর একে একে সবাই তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা সংসার শুরু করে। থেকে যায় শুধু বিজয় কুমার নামে সবার ছোট দেবর ও তার বৌ। দুইটি কলস যেমন এক সাথে থাকলে ঠুকা ঠুকি লাগে, তেমনি পাঁচ ছেলের বৌ এক সাথে থাকলে তাদের মধ্যেও হয়। 
 
দোষ গুন নিয়েই তো জীবন কে ভাল কে মন্দ সেটা ঈশ্বরই যানেন। কিন্তু মানুষ যা দেখে তার উপর দেখেই সব বিচার করতে চায়। কিন্তু কখনো কালী পদ ও মিনতী রানীর ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া করতে কেও দেখেনি। মিনতী রানী অনেক সংগ্রাম করে তার ছেলেদের মানুষ করেছেন। আজ সবাই যার যার মত ভাল আছেন তাদরে সংসার নিয়ে।

ইংরেজী ১৯৯৭ সাল রীতা রানীর বড় মেয়ে মাধবী এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করলো তাই সবার মন খারাপ। রবী বাবু সবসময় অতিরিক্ত আশাবাদি একজন লোক তাই হয়তো ঈশ্বর তার সকল আশাই এইভাবে নষ্ট করে দেয়। এরপর ছেলের পালা ১৯৯৮ সালে সে এসএসসি পরিক্ষা দিবে ছেলে যদি পাশ করে তাহলে রবী বাবুর কষ্ট কিছুটা কমবে। তিনি গর্ব করতে থাকে ছেলেকে, ছেলে তার বিজ্ঞান বিভাব নিয়ে পড়ে সে পাশ করবেই।

পাশ করলে সকলকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাবে এবং মা কালীর পুজা দিবে এমন একটি মনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন রবী বাবু। কিন্তু ভাগ্য বলে কথা, ছেলে খুব ভাল ভাবে পরীক্ষা শেষ করলো, শিক্ষকরাও আশাবাদী রাম কৃষ্ণ প্রথম বিভাগে পাশ করবে। সেখানোও বিধি বাম, মাত্র সাত নম্বরের জন্য সে জীববিজ্ঞানে ফেলকরে। সকলকে নিয়ে রবীবাবুর আর গ্রামে যাওয়া হলো না।

এদিকে কালী পদ বাবু ১৭ই জানুয়ারি ১৯৯৯ রবিবার দুপুর ২টা অনেকদিন শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেলেন। হাসপাতাল আর বাড়ী রীতা রানী ও অন্যান্ন ছেলের বৌরা, নাতি-নাতনীরা তাকে সেবা যত্ন করেছেন অনেক। কালীপদ বাবুর অনেক ইচ্ছা ছিল তিনি মারা গেলে যেন গ্রামের বাড়িতে দাহ করা হয়। সেই মোতাবেক তার চতুর্থ ছেলে কার্তিক চন্দ্রের চেষ্টায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের গ্রামের বাড়ী ও সেইখানেই তাকে ধর্মীয় আচার মেনে তাকে দাহ করা ও পরবর্তীতে শ্রাদ্ধের কাজ শেষ করা হয়। 
 
এইদিকে ১৯৯৯ সালে সরকার নিয়ম করে যারা এক বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ করেছে তারা সেই বিষয়েই পরীক্ষা দিতে পারবে। রাম কৃষ্ণ এই সুজোগটাই মনে মনে চাচ্ছিল। জীববিজ্ঞানে পরীক্ষা দিয়ে ১৯৯৯ সালে সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে। 
 
সংসারের খরচ দিন দিন বাড়তেই থাকে তাই রাম কৃষ্ণ পরীক্ষা শেষ করেই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকতা শুরু করে, এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার ঠাকুরমা মিনতী রানীর। তারই পরিচিত একজনের মেয়েকে পড়ানোর মাধ্যমে শুরু হয় রাম কৃষ্ণের নতুন কর্ম জীবন। 
 
দিন যেতে থাকে ছোট মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা দেবার পালা। বড় মেয়ে কলেজে ভর্তী হয়েছে আর রাম কৃষ্ণ কোন কলেজে ভর্তী হবে তা খুজছে। রীতা রানীর ছোট দেবর বিজয় কুমার তার ভাতিজা ও ভাতিজীদের অনেক আদর করতেন। সকলের লেখা পড়া করার পিছনে তার সবচেয়ে বেশী ভূমিকা ছিলো। 
 
বড় মেয়ে মাধবী রানী বিয়ে ঠিক তাদের পরিচিত পাশের গ্রামে ১৩ আগষ্ট ২০০২ মঙ্গলবার, বিয়ে হয়ে গেল মাধবী রানীর। কষ্ট যেন কমেই না তাদের জীবনে। সেই ঘরে এখন দুই ছেলে।

শিখা রানী আদরের ছোট মেয়ে বিয়ে হলো ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১ বুধবার। এখন তাদের ঘরে দুই মেয়ে।
একমাত্র ছেলে রাম কৃষ্ণ বিয়ে হয় ১১ আগস্ট ২০১৩ রবিবার, সেখানে এক মেয়ে। এদিকে মিনতী রানী ০৮ জানুয়ারী ২০১৫ বৃহস্পতিবার মারা গেলেন। চলে গেলো এই পরিবারের সকল অভিবাবক।

আর কত কষ্ট বা সংগ্রাম করলে একজন নারী মা হতে পারেন? পারিবারিক কারনেই আমাকে দ্রুত লেখাটা শেষ করতে হলো। অনেক না বলা কথাই রয়ে গেল মনের গভীরে। মাকে নিয়ে তার জীবনের অনেক কথাই অসমাপ্ত রয়ে গেল হয়তো অন্যকোন দিন অন্যকোন ভাবে আমাকে লেখাটা শেষ করতে হবে।



শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি বানী দিয়ে লেখাটা শেষ করতে ইচ্ছা করছে,
কাউকে আপন করতে হ'লেই
আপন আপন ভাববি তায়
সপক্ষে তার করবি কইবি
দেখবি দোষ তার উপেক্ষায়।



~~ সূচনা ~~
~~ প্রথম পাতা ~~
~~ দ্বিতীয় পাতা ~~
~~ তৃতীয় পাতা ~~
~~ চতুর্থ পাতা ~~
~~ পঞ্চম পাতা ~~
~~ ষষ্ঠ পাতা ~~

চলবে ….....................

Saturday, February 1, 2020

নারী থেকে মা (পঞ্চম পাতা)


~~ চতুর্থ পাতা ~~
~~ পঞ্চম পাতা ~~

এবার রবী বাবুর সংসারে পাঁচ জন সদস্য-সদস্যা, সাথে বাবা মা ও অন্যান্ন ভাই বোন। কি করে সংসার পরিচালনা করবেন এই চিন্তাতে সে কুষ্টিয়া চলে যায় কেচি সানের কাজ শিখার জন্য। কুষ্টিয়াতে রবী বাবুর কাকা অমর চন্দ্র শীল থাকেন এবং সানের কাজ করে খুব ভাল আছেন। তার কাছেই জীবনের মধ্যে বয়সে এসে দুই-তিন বছর থেকে কাজ শিখে ঢাকায় চলে আসে রবী বাবু। 
 
তার ছোট ভাই বীরেন্দ্র নাথের সাথে ঢাকার নয়াবাজারে একটি সান দোকান শুরু করেন রবী বাবু। এদিকে রিতা রানীর জীবনে যের আর কষ্ট শুরু হয়ে গেল। এদিকে বীরেন বাবু ভাল টাকা আয় করে নতুন বিয়ে করেছে তার জন্য একটি থাকার রুমতো দরকার। তাই রিতা রানী ও রবী বাবুর রাতে থাকার জায়গা হয় রান্না ঘরে। প্রতিদিন ভোর চারটা-পাঁচটা উঠে প্রায় বার থেকে পনের জনের রান্না করতে হয়। রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে একটা বাজে রিতা রানীর। 
 
সকল কষ্ট মুখ বুজে শিকার করে নেয় রিতা রানী ভাবে ছেলে একদিন বড় হবে তখন তার সকল কষ্ট দুর হবে। কিন্তু দুঃখ-কষ্ট যেন তার নিত্য সঙ্গী। বাবার বাড়ী থাকা কালীন বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সকলের ছোট, বড় দিদিদের বিয়ের পর মায়ের সাথে সংসারের সকল কাজ করতে হয় তাকে। আর বিয়ের পর রান্না ঘর আর সংসার যেন এক সাথে মিলে মিশে একাকার। এই রান্না করতে করতে সন্তানদের ভাল ভাবে কখনো যত্নও করতে পারেননি রিতা রানী।

এদিকে ছেলে মেয়ে বড় হতে থাকে সাথে অন্যান্ন দেয়রের সন্তানদের সাথে। লেখা-পড়া ও খেলাধুলায় রিতা রানীর ছেলে মেয়েরা অন্য ভাই-বোনদের চেয়ে সব সময় এগিয়ে থাকতো তাতেও রিতার রানী কথা শুনতে হয় দেবরের বৌদের কাছ থেকে।

কালী পদ বাবু সংসারের খরচ দুই ভাগ কেরে দিলেন খাবার খরচ চালাবে রবী বাবু আর ঘর ভাড়া দিবে বীরেন বাবু। রান্না তিন দিন করবে রীতা রানী বাকি তিন দিন করবে বীরেন বাবুর স্ত্রী। শুক্রবারের টা করবে দুই জনে ভাগ করে। এই মোতাবেক চলতে থাকে কিছুদিন। কিন্তু মাসখানেক পর থেকে শুরু হয় চালাকি। বীরেন বাবুর স্ত্রীর যখন রান্নার দিন থাকতো তখন সে অসুস্থ না হয় বাবার বাড়ী ইত্যাদি করে কাজ করতে চাইতো না। 
 
এমনি করে চলতে চলতে একদিন দুই বৌর মধ্যে বিশাল ঝগড়ার সৃ্ষ্টি হয়, যার ফলাফল দড়ায় সংসার ভিন্ন করা। এখনো মনেপড়ে যেদিন বীরেন বাবু তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্য বাসায় চলে যায় সেদিন কালী পদ বাবু ও মনতী রানী অনেক কান্না কাটি করেছিল এমকনি মনতী রানী কয়েকদিন ভাত না খেয়ে দিন কাটায়। সময়ের সাথে সবাই সবকিছু ভুলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। একে একে পরবর্তিতে তিন ছেলেই বৌ নিয়ে আালাদা হয়ে যায় কিন্তু কালী পদ বাবু আমৃত্যু অন্য কোন ছেলে ও বৌর বাসায় জাননি। 

 
~~ ষষ্ঠ পাতা ~~

Wednesday, September 18, 2019

নারী থেকে মা (চতুর্থ পাতা)


~~ তৃতীয় পাতা ~~
~~ চতুর্থ পাতা ~~
সময় চলতে থাকে আপন গতিতে। দিন-মাস থেকে বছর চলে যায় কিন্তু রবী বাবুর ভাগ্যের আর পরিবর্তন হয় না। এমনি করে সবাই রিতা রানী কে পরবর্তী সন্তান নেয়ার জন্য মানসিক ভাবে চাপ দিতে থাকে এবং সন্তান যেন অবস্যই পুত্র হয়। কিন্তু কেহই রবী বাবুর আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি নয়। 
 
যাই হোক রিতা রানী গর্ভবতী হলেন, দেখতে দেখতে প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। মতি লাল বাবু আসলেন মেয়েকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে এবং সন্তান যেন সেই বাড়িতেই হয় এমন ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। 
 
মামা বাড়ীতেই বাংলা ১৩৮৯ সনের ১২ আশ্বিন বুধবার রাত ১২.৩০ মিনিটে জন্ম নিলো রাম কৃষ্ণ নামের রিতা রানীর পুত্র সন্তান, সরকার বংশের প্রথম পুত্র সন্তান তাই সবাই ভীষন খুশী। জন্মের কয়েক মাস পরে বুঝা গেল ছেলের ডান পায়ের পাতা সম্পূর্ন বাকা। চন্দ্র বা সূর্য গ্রহনের ফলে এমন হয়েছিল। কালী পদ বাবু খুবই চিন্তায় পরে গেলেন প্রথম নাতি তাও আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী। কালী পদ বাবু সমাধান খুজতে থাকলেন। পংগু হাসপাতালে দেখানো হলো ডাক্তার বললো পায়ের পাতা কেটে আবার জোরা দিতে হবে, মিনতি রানীর মনটা সায় দিল না, নাতীর পায়ের পাতা কাটলে তো পরবর্তী জীবনে পায়ে তেমন জোড় পাবে না। 
 
তখন থেকেই কবিরাজী চিকিৎসা শুরু করলো তারা, যেকরেই হোক পা তো ঠিক করতেই হবে। একদিন কালী পদ বাবু অলৌকিক ভাবে এর সমাধান পেয়ে যান। কিছুটা মন খারপ অবস্থায় বসে ছিলেন তার দোকানে, এমন সময় এক লোক এসে তাকে মন খারাপ থাকার কারন যানতে চান। তিনি সব খুলে বলে আগন্তুকের কাছে সব কথা শুনো সেই আগন্তুক একটি গাছের শিকর দিলেন এবং কিছু নিয়ম কানুন বলে দিলেন কি ভাবে কি করতে হবে। কালী পদ বাবু শিকর টি দোকানের ভিতরে রাখতে যায় এসে আর ঐ লোকটি আর দোকানে ও এর আশেপাসে খুজে পাওয়া গেল না। 
 
সেই নিয়ম মাফিক চিকিৎসা চলতে থাকে পাঁচ-ছয় বছর, এখন রাম কৃষ্ণ স্বাভাবিক ভাবে হাটতে পারে। অভাব যেন রবী বাবুর জীবনে বন্ধুত্ত করে নিয়েছে, তাই কিছুতেই তা আর যাইতে যায় না। বছর দুই পর আরো একটি কন্যা সন্তানের মা হোন রিতা রানী বাংলা ১৩৯১ সালের ১৫ ভাদ্র শনিবার বিকাল ৫ টা য়। এটিও মতি লাল বাবুর বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করে। 
 
~~ পঞ্চম পাতা ~~

Tuesday, September 17, 2019

নারী থেকে মা (তৃতীয় পাতা)


~~ দ্বিতীয় পাতা ~~
~~ তৃতীয় পাতা~~


রবীন্দ্রনাথ বাবু কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক নিজের ভাল ছাড়া আর কারও দিকে তাকানোরও সময় নাই তার, তিনি যা বুঝবেন তাই করবেন কারও সাথে কিছু বুঝতে চানও না এমনকি বুঝেও না। রবীন্দ্রনাথ তার বাবা মাকে বলে রিতা রানী যেহতু গর্ভবতী তাই তাকে তার বাবার বাড়ীতে রেখে আসা দরকার, কিন্তু কেও রাজী হয় না কারন এত তারাতারি কি দরকার। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মনে মনে অন্য ফন্দি একেছেন, এমনকি রিতা রানী কেও তিনি কিছু জানায়নি। 
 
রবী বাবু ও রিতা রানী চলে আসে তার শ্বশুর বাড়ী ইছাপুরাতে। শ্বশুরকে জানায় তারা ভারতে চলে যাবে। শ্বশুর মহাশয় কিছুতেই রাজি হয় না, কারন তার মেয়ে গর্ভবতী তার উপরে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে সবাই কি বলবে। 
 
রবীন্দ্রনাথ এক রুখা মানুষ তিনি যা ভাববেন তাই করবেন, তাতে অন্যের কি ক্ষতি হলো দেখার দরকার নাই। তিনি স্ত্রী কে নিয়ে রওনা হলেন ভারতের উদ্দেশে, বলা বাহুল্য তারা কেহই এর পূর্বে ভারতে যাননি। রিতা রানী অনেক কান্না কাটি করছেন না যাওয়ার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা। তারা পৌছায় মাগুরা জেলার কাজলী নামক গ্রামে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ বাবুর মামার বাড়ী। তারা সব খুলে বলে ভারত যাবার কথা। তখন পাসপোর্ট না থাকলেও অবধ্য ভাবে ভারত যাওয়া যেত সহজে। 
 
পরের দিন সকালে তার দিদিমা (মা এর মা) কে নিয়ে রওনা হলেন জীবননগর এর উদ্দেশে সেখান থেকে দালাল এর মাধ্যমে ভারত যাওয়া যায়। জীবননগর যেয়ে আত্নীয়ের মাধ্যমে এক দালাল ঠিক করা হয়, যিনি ভারত যাবার ব্যবস্থা করে দিবেন। গ্রামের মেঠ পথ, ডোবা নালা, ক্ষেতের আইল ধরে তার পৌছায় বর্ডারের কাছে। এখানে এসে তারা একটি ঘরে কিছুটা বিশ্রাম নেয়, দালাল বলে এর পরের জায়গাটা তাদের একাই যেতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় বর্ডার কিছুটা ফাকা থাকে। তখন তাদের পার হতে হবে নিজ দায়িত্বে।

এতটা পথ তারা চলে এসেছে এখন আর পিছনে ফিরে যাওয়া যাবে না। তারা কিছুটা ঝুকি নিয়েই পার হলেন ভারতের বর্ডার। ভারতে পৌঁছানোর পর তারা তার এক মামা বাড়ীতে কলকতার রানাঘাট নামক স্থানে। তিন জনকে দেখে মামি কিছুটা বিরক্ত হলেও মামা তেমন কিছু বলে না। সব কিছু শুনে মামা তার সেলুন দোকানে ভাগিনার জন্য একটি কাজ করার ব্যবস্থা করেন। একটি মাত্র রুম যেখানে কষ্ট করেই চার জনকে থাকতে হয়।

কিছু দিন যাবার পর মামি কিছুটা রাগ করেই মামাকে বলতে থাকে তোমার ভাগিনা-ভাগিনা বৌ যায় না কেন। এই কথা রবী বাবু শুনতে পায়। তারপর তারা দুই জনে ঠিক করে রিতা রানীর এক মাসি বাড়ী আছে কাছেই। তারা সেখানেই থাকবে। সেখানে যাবার পর রিতা রানীর মাসি দেখেতো খুবই খুশি। তাদের একটি ঘর ছেরে দেয়া হলো থাকার জন্য এবং রবি বাবুকে এক দোকানে কাজ ঠিক করে দেয়া হলো। 
 
কিছুদিন পর বাংলা ১৩৮৭ সালের ৩ রা পৌষ, বৃহস্পতিবার রাত ১২ ঘটিকায় জন্ম নেয় তাদের প্রথম কন্যা সন্তান। বাবা আদর করে নাম রাখে মাধবী রানী।
 
এদিকে মিনতি রানী ও কালী পদ বাবু কবিরাজি বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তারা নানা ভাবে চেষ্টা চালাতে থাকে তাদের ছেলে, ছেলে বৌ ও প্রথম নাতনী দের কি ভাবে বাংলাদেশে আনা যায়। রবি বাবুর কাজ কর্ম ভালই হতে থাকা। তারা মনে মনে ঠিক করে ভারতেই স্থায়ী ভাবে থাকার। সেই মোতাবেক একটি জায়গা কেনার বিষয় চেষ্টা করতে থাকে। 
 
কিন্তু একদিন হটাৎ করেই মিনতী রানী হাজির হয়ে যান ভারতে যেখানে রবি বাবু ও রিতা রানী থাকতেন। মা কে দেখে কেমন যেন মানসিক পরির্বতন আসে রবি বাবুর। কিছুতেই আর ভাল লাগছেনা এখন ভারতে থাকতে। রিতা রানীর আপত্তি থাকা সত্তেও বাংলাদেশে চলে আসবে রবী বাবু। তখন মাধবী এর বয়স তিন-চার মাস হবে। আবার সবকিছু গুছিয়ে তারা চলে আসে বহু কষ্ট করে বাংলাদেশে। 
 
দেশে আসার পর আবার সংগ্রামের জীবন শুরু হয় তাদের। সেলুন করে খুব একটা সংসার চালানো যাচ্ছে না। এমনও দিন গেছে মেয়ের জন্য দুধ ও কিনে দিতে পারে না রবী বাবু। দুই রুমের একটি ফ্লাটে ১৩-১৪ জন সদস্যের বসবাস। 
 


~~ চতুর্থ পাতা ~~