The Web This Blog
Showing posts with label Sattanusaron. Show all posts
Showing posts with label Sattanusaron. Show all posts

Monday, May 20, 2024

কাহাকেও অন্যায়ের জন্য যদি তুমি শাস্তিবিধান কর, নিশ্চয়ই জেনো – পরমপিতা ঐ শাস্তি উভয়ের মধ্যে তারতম্যানুসারে ভাগ ক’রে দেবেন।

আজকে আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও উপলব্ধি থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্বহস্তে লিখিত সত্যানুসরণ গ্রন্থের ২৭ নং বাণীসমূহ একটি লাইন কাহাকেও অন্যায়ের জন্য যদি তুমি শাস্তিবিধান কর, নিশ্চয়ই জেনো-পরমপিতা ঐ শাস্তি উভয়ের মধ্যে তারতম্যানুসারে ভাগ করে দেবেন। নিয়ে আলোচনা করবো। লেখার উদ্দেশ্য কাউকে কষ্ট দেওয়া বা হেয় করার জন্য নয়, তবুও সম্পূর্ণ লেখা পড়ে ও বুঝে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে তা একান্তই তার ব্যক্তিগত।

মূল লেখা শুরু করার পূর্বে আমরা অমৃত-নিষ্যন্দী স্বতঃ-উৎসারী ২৭ নং বাণীসমূহ সম্পূর্ণটি পড়ে নেই একবার…….

.......

ক্ষমা কর, কিন্তু অন্তরের সহিত; ভিতর গরম রেখে অপারগতাবশতঃ ক্ষমাশীল হতে যেও না।

বিচারের ভার, শাস্তির ভার আপনহাতে নিতে যেও না; অন্তরের সহিত পরমপিতার উপর ন্যস্ত কর, ভাল হবে।
কাহাকেও অন্যায়ের জন্য যদি তুমি শাস্তিবিধান কর, নিশ্চয়ই জেনো-পরমপিতা ঐ শাস্তি উভয়ের মধ্যে তারতম্যানুসারে ভাগ করে দেবেন।
পিতার জন্য, সত্যের জন্য দুঃখ ভোগ করো, অনন্ত শান্তি পাবে।
তুমি সত্যে অবস্থান কর, অন্যায়কে সহ্য করতে চেষ্টা কর, প্রতিরোধ করো না, শীঘ্রই পরম মঙ্গলের অধিকারী হবে।
.........

অনেক কঠিন কঠিন কথা ……..

ক্ষমা কর, কিন্তু অন্তরের সহিত; ভিতর গরম রেখে অপারগতাবশতঃ ক্ষমাশীল হতে যেও না। বিচারের ভার, শাস্তির ভার আপনহাতে নিতে যেও না; অন্তরের সহিত পরমপিতার উপর ন্যস্ত কর, ভাল হবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, যার ক্ষমতা আছে সে না হয় ভেতর গরম না রেখে ক্ষমা ক'রতে পারে। কিন্তু যার ক্ষমতা নেই, তার কি হবে? সে কি ক্ষমা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে বা কাউকে ক্ষমা করবে না? সহজ কথায় তোমার যদি কোন প্রকার অপারগতা থাকে, তুমি ক্ষমা করতে পারবে না। কেউ যদি কোনো দোষ করে আর তাকে যদি ক্ষমা করতেই হয়। তবে ভেতরে রাগ রেখে ক্ষমা করলে, এ ক্ষমা করার কোন অর্থ হবে না। অনেক কঠিন একটি ব্যপার, চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

আমার তো অনেক ক্ষমতা অর্থ, প্রতিপত্তি, লোকবল ইত্যাদি এখন আমার সাথে কেউ যদি অন্যায় করে তবে কি আমি শাস্তি দিতে পারবো না? আমি কেন পরমপিতা বা সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিবো, তিনি যা করেন তাই হোক? বর্তমান সমাজ তো তাহলে আমাকে কাপুরুষ বলবে। আমরা তো সামাজিক জীব।

এখানে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের শেষ সাতটি বাণীগুলোর মধ্যে প্রথমটি খুব মনে পরছে আমার……

ভগবান যীশুর ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় এই প্রথম উক্তিটিকে প্রথাগতভাবে "ক্ষমার বাক্য" বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই বাক্যটি ছিল যে, তখনকার রোমান সৈন্যগণ যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল এবং অন্য আরও যারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধকরণের সঙ্গে জড়িত ছিল তাঁদের ক্ষমার জন্য প্রভু যীশুর পরমপিতার কাছে প্রার্থনা।

পিতা, এদের ক্ষমা করো; কারণ, এরা জানে না এরা কী করছে।

কাহাকেও অন্যায়ের জন্য যদি তুমি শাস্তিবিধান কর, নিশ্চয়ই জেনো-পরমপিতা ঐ শাস্তি উভয়ের মধ্যে তারতম্যানুসারে ভাগ করে দেবেন।

এটা কেমন কথা হলো! মনে করেন আমি এলাকার একজন ক্ষমতাধর ব্যাক্তি বা বিচারপতি, এখন আমার সাথে বা দেশে একজন মানুষ যে কোন অন্যায়-অপরাধ করলো আমি তাকে সমাজসৃষ্ট সংবিধান অনুসারে শাস্তি দিলাম, সেখানে আমাকে কেন সৃষ্টিকর্তা শাস্তি দিবেন? সাধারন দৃষ্টিতে দেখলে বা শুনলে কেমন যেন অযৌক্তিক মনে হয় কথাটি! তাহলে তো সমাজ-রাষ্ট্রে অপরাধ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে।

সনাতন ধর্ম-মতের বিশ্বাসী মানুষসহ অনেকেই মনেকরে পূর্বজন্ম কর্মফল অনুসারে মানুষ বর্তমান জীবন ভোগ করে থাকে। পৃথিবীতে যারাই মানব শরীর নিয়ে জন্মগ্রহন করেছেন সে, ভগবান-অবতার-মহাপুরুষ-যোগী-ধ্যানি-সাধরণ মানুষ সকলকেই কর্মফল ভোগ করতে হবে। শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,- কর্মন্যে বাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন। যার বাংলা অর্থ করলে হয় কর্মে তোমার অধিকার আছে, কিন্তু কর্মফল তোমার হাতে নেই। তুমি যেমন ইচ্ছা কর্ম করতে পার কিন্তু তার ফল প্রকৃতির হাতে। প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে কর্মের প্রতিফল তোমাকে ভোগ করতেই হবে

অনেকেই হয়তো জানেন না যে, মৃত্যুদণ্ড বা প্রাণদণ্ড হল আইনি পদ্ধতিতে কোনো মানুষকে শাস্তিস্বরূপ একপ্রকার হত্যা করা। যেসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে সেগুলোকে বলা হয়ে থাকে "মৃত্যুদণ্ডার্হ অপরাধ"। অতীতকালে প্রায় সকল দেশেই মৃত্যুদণ্ড প্রথা প্রচলিত ছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র ৫৮টি দেশ প্রত্যক্ষভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে। ৯৫টি দেশ এই প্রথা ইতিমধ্যেই অবলুপ্ত করে দিয়েছে। এখন অনেক দেশেই মৃত্যুদণ্ড একটি বিতর্কের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে। অনেক দেশেই মনে করে একটি অপরাধের জন্য অপরাধী ব্যাক্তিকে শাস্তি না দিয়ে সংশোধনের সুজোগ দিলে মানুষ পরবর্তীতে অপরাধ করা থেকে বিরত হয়।

একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, মনে করেন একজন চোর চুরি করলো, তাকে পুলিশ দিয়ে ধরে আনা হলো, সমাজের বিচারপতি তাকে শাস্তিস্বরুপ কিছুদিন জেল-জরিপানা দিলো, এতে কি তার চোর প্রবৃত্বি পরিবর্তন বা সমাজ থেকে চুরি বন্ধ হয়ে গেলো? দেখা যাবে কিছুদিন পর সেই চোর মুক্তি পেয়ে প্রথমে পুলিশের বাড়িতেই আবার চুরি করবে, কারন তাকে তো স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খেয়ে বাঁচতে হবে। কিন্তু সমাজ বা রাষ্ট্র যদি চোরকে বুঝাতে সক্ষম হয় চুরি করার ক্ষতিকারক দিকগুলো এবং তাকে বিকল্প একটি কর্মের ব্যবস্থা করে দিতে পারে তাহলে হয়তো এর সমাধান হতে পারে। এরকম অনেক সমাধান ও উদাহরণ আমাদের আশেপাশে দেখা যাবে।

প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। স্যার আইজ্যাক নিউটনের তৃতীয় সূত্র এর ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে এই পৃথিবী, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। শ্রীশ্রীঠাকুর এখানে বলতে চেয়েছেন, আপনি যদি কাহাকেও অন্যায়-অপরাধের জন্য যদি কোন শাস্তি নির্ধারণ করেন, তাহলে পরমপিতা বা প্রকৃতি প্রদত্ত আপনাকে সেই শাস্তির কিছু অংশ ভোগ করতে হবে। কারন যে অন্যায়ের জন্য আপনি তাকে দোষি সাব্স্ত করছেন, নিরবে ভেবে দেখবেন আপনার এমন কোন কর্ম, এমন কোন কাজ বা এমন কোন একটি পূর্ব ঘটনাই কোন না কোন ভাবে আজকের জন্য দায়ী। তাহলে কি একটি দোষের জন্য দুইপক্ষই দায়ী নয়? তাহলে শাস্তি শুধু একজন পাবে কেন?

পিতার জন্য, সত্যের জন্য দুঃখ ভোগ করো, অনন্ত শান্তি পাবে।
তুমি সত্যে অবস্থান কর, অন্যায়কে সহ্য করতে চেষ্টা কর, প্রতিরোধ করো না, শীঘ্রই পরম মঙ্গলের অধিকারী হবে।

সত্য এসেছে অস্‌ ধাতু থেকে। অস্‌ শব্দের মানে অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা। এখানে সত্যে অবস্থান করার কথা বলা হচ্ছে, মানে ইষ্টকে ধ'রে রাখার কথা বলা হচ্ছে। অস্তিত্বের মূর্ত প্রতীক মানে যাঁকে অবলম্বন ক'রে চললে নিজের অস্তিত্ব বজায় থাকে, বিদ্যমানতা বজায় থাকে, তিনি তোমার ইষ্ট। সত্যে অবস্থান করা মানে ইষ্টের সাথে লেগে থাকা।

পবিত্র বাইবেলে প্রভু যীশু বলেছেন, যে কেহ আপন প্রাণ রক্ষা করে, সে তাহা হারাইবে; এবং যে কেহ আমার নিমিত্ত আপন প্রাণ হারায়, সে তাহা রক্ষা করিবে যুগ-পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ তার প্রিয় সখা-ভক্ত অর্জুনকে গীতা জ্ঞান দান করেছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে। এতো হাজার বছর পর সাধারণ মানুষ এখন তার মর্ম পড়ে অনুধাবন করতে চেষ্টা করছে। এই আধুনিক যুগে এসে বাংলা ১৩১৬ সালে শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রদ্ধেয় ভক্ত অতুলচন্দ্র ভট্টাচার্য কে তার অমৃত-নির্দ্দেশ জ্ঞান স্বহস্তে লিখে দিলেন। এখন যা প্রতিটি সৎসঙ্গীর নিত্য পঠিত গ্রন্থ।

আজকের লেখার একবারে উপসংহারে এসে বলতে হয়, অনেকের কাছেই হয়তো বিষয়টি পরিষ্কার নাও হতে পারে, প্রশ্নও থাকতে পার অনেক। লিখতে পারেন আমাকে, যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাও জানাবেন নির্বিধায় নিজেকে আরো ধন্য,  সমৃদ্ধ এবং সংশোধিত করতে পারবো তাহলে। শ্রীশ্রীঠাকুর-এর একটি বাণী- পুরুষোত্তম এর কৃতি আচরণ, তিনি না বুঝালে বুঝে কোন জন। তাঁকে বুঝবার জ্ঞান এখনো আমার হয়নি। শুধুই আমার ক্ষুদ্র উপলব্ধি থেকে বলতে পারি, আমাদের ভালো, মন্দ, মান, জ্ঞান সকল কিছু যদি তাঁর চরনে দিয়ে নিজে শুধু তাঁরই নির্দেশিত কর্ম করে যেতে পারি তাহলে হয়তো সুখে থাকতে পারবো।

শেষে শ্রীশ্রীঠাকুর-এর একটি বাণী মনে পরছে

ভাবছো বসে, চলবে কিসে,
ভাববার তুমি কে?
ভাববার যিনি ভাবছেন তিনি
তুমি ভাবো তাকে।

~ সকলকে জয়গুরু ~

Wednesday, April 21, 2021

জীবনকে যে-ভাবে বলি দেবে, নিশ্চয় তেমনতর জীবন লাভ ক'রবে


সত্যানুসরণ যতবার পড়ি ততবারই নতুন থেকে নতুনত্বর লাগে, মনে হয় এই কথাগুলোকি আগে পরেছিলাম? কয়কদিন আগে মন্দিরে আমাকে আলোচনা করতে বলাহয়েছিল “জীবনকে যে-ভাবে বলি দেবে, নিশ্চয় তেমনতর জীবন লাভ ক'রবে”। তাই ভাবলাম কথাগুলো লিখে রাখি যদি কারো কোন কাজে লাগে।

সত্যানুসরণ-এ শ্রীশ্রীঠাকুর বলছেন, একটা চাইতে গিয়ে দশটা চেয়ে ব'স না, একরেই যাতে চরম হয় তাই কর, সকলগুলিই পাবে। জীবনকে যে-ভাবে বলি দেবে, নিশ্চয় তেমনতর জীবন লাভ ক'রবে। যে-কেহ প্রেমের জন্য জীবন দান করে, সে প্রেমের জীবন লাভ করে। উদ্দেশ্যে অনুপ্রাণিত হও, আর প্রশান্তচিত্তে সমস্ত সহ্য কর, তবেই তোমার উদ্দেশ্য সফল হবে।

কথাগুলো একেকজনের কাছে একএকরকম লাগতে পারে। মূল আলোচনার আগে অন্যান্য অবতাররা কে কি বলেছিলেন এমন কিছু কথা সংগ্রহ করলাম।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে কেবল নিজের দুঃখকে আপন করে জীবন কাটায় সে শক্তিহীন হয়ে পড়েকিন্তু যে ব্যাক্তি সমগ্র সমাজের দুঃখ আপন করে জীবন কাটায় সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে

বাইবেল এর, ইউহোন্না ৩ এর ১৫ ও ১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

. যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন পায়। কারণ ঈশ্বর জগৎকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।

মানুষের শক্তি রয়েছে নিজেকে দমন করার। তাই বুদ্ধ বলেছেন: ‘যো সহস্সং সহসসেন সঙ্গামে মানুষে জিনে/ একঞ্চ জেয়্যমত্তানং স বে সঙ্গামজুত্তমো।/’- যে ব্যক্তি যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে জয় করে, তার তুলনায় যিনি কেবল নিজেকে জয় করেন, তিনিই সর্বোত্তম সংগ্রাম জয়ী।

পৃথিবীতে মানুষ জম্মগ্রহনের পরথেকেই চাওয়ার শুরু হয়, নতুন সন্তানের বাবা চায় ছেলে-মেয়ে ডাক্তার হোক তো মা চায় সে ইঞ্জিনিয়ার হোক। বাবা চায় সরকারী বিদ্যালয় ভর্তি করি তো মা চায় ভালো বেসরকারী বিদ্যালয়। আমৃত্যু মানুষের চাওয়ার শেষ হয় না।

তুমি যদি একজন ডাক্তার হতে চাও তাহলে তোমাকে অবস্যই MBBS পাশ করতে হবে আবার যদি ইঞ্জিনিয়ার হতো চাও তোমাকে BUET এ ভর্তি হতে হবে। তুমি যদি একজন দক্ষ চোর হতে চাও তোমাকে একজন ওস্তাদের কাছের তার প্রশিক্ষন নিতে হবে। জীবন তোমার তুমি কোন দিকে নিয়ে যাবে সেটা তোমারই একন্ত ব্যাক্তিগত। তুমি ডাক্তারই হও কিংবা ইঞ্জিনিয়ার তুমি যাই হও যদি সফল হতে পারো তাহলেই তোমার যেমন ভাল দেশের ও ভাল।

শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন দশটা না চেয়ে যেকোন একটি চাইতে এবং সেটাই যেন চরম হয়। তাহলেই সব পাবে। এই সম্পর্কে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের একটি ঘটনা মনে পরছে,

পিতা গত হয়েছেন নরেনের বেশ কিছুদিন। শত করেও অভাবকে দূরে সরিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বাড়িতে মা-ভাই-বোনের কষ্ট মিটবে কীসে? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে গিয়ে পড়লে নরেন। ‘আপনার মাকে একবারটি বলুন’।

অবাক হয়ে তাকান ঠাকুর, ‘কি বলব রে?’

নরেন ক্লিষ্টকণ্ঠে বলে ওঠে, ‘মা-ভাই-বোনের কষ্ট আর দেখতে পারি না। মায়ের কাছে বলুন আপনি যদি একটা চাকরি বাকরি হয় আমার...’

রামকৃষ্ণ শান্তভাবে চান নরেনের চোখে, ‘আমার মা, তোর কে?’

কালী মানে না নরেন। তার কাছে মা প্রস্তরপুত্তলিকা! মাথা হেঁট করে থাকে নরেন, ‘আমার কে তাতে কি আসে যায়? আপনার তো সব। বলুন না যাতে একটু টাকাকড়ির মুখ দেখি।’

ওরে ও সব বিষয়ের কথা আমি কইতে পারব না। ও আমার কাছে বিষ। তুই বল। একবার মা বলে ডাক’।

নরেন বলে, ‘আমার ডাক আসে না’। ‘তাই তো তোর এত কষ্ট। ওরে একবার তাঁর কাছে গিয়ে বল। মা তো মা জগজ্জননী। তিনি মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন? আজ মঙ্গলবার। রাত্তিরে কালীঘরে গিয়ে প্রণাম করে মার কাছে যা চাইবি তিনি তাই দেবেন’।

সত্যি?’

দ্যাখ না, সত্যি কি না!’

নরেন কালীঘরে প্রবেশ করল। রাত্রি একপ্রহর কেটে গেছে। মন্দিরে কেউ নেই। শুধু নরেন আর মা ভবতারিণী। মা আনন্দময়ীর ত্রিলোকমোহিনী মূর্তি। এখানে কোথাও কোন দুঃখ নেই, শোক নেই, অভাব-অভিযোগ নেই। কেবল এক অপার শান্তি বিরাজমান। এই মায়ের সামনে কি চাইবে নরেন? সে প্রণাম করে বলে উঠল, ‘মা, জ্ঞান দাও, ভক্তি দাও, বিবেক দাও, বৈরাগ্য দাও’।

ফিরে এল নরেন ঠাকুরের কাছে। ‘কি রে কি চাইলি? টাকাকড়ি চাইলি?’

নাঃ, সব ভুল হয়ে গেল, চাইতে পারলাম না।’

ঠাকুর বললেন, ‘যা যা আবার যা। প্রার্থনা করে বল মা আমায় চাকরি দাও, টাকাকড়ি দাও...’

নরেন আবার এসে দাঁড়াল মায়ের সম্মুখে। কিন্তু আবার এ কি হল তার? কি চাইলে সে মায়ের কাছে? তুচ্ছ টাকাকড়ি? না না, তা সে কেমন করে চায়? ‘মা আমাকে জ্ঞান, ভক্তি, বিবেক, বৈরাগ্য দাও’।

ফিরে এল নরেন ঠাকুরের কাছে।

কি রে চাইলি?’

নাঃ এবারেও পারলুম না। মাকে দেখামাত্র কেমন আবেশ হয়, কিছুই মনে করতে পারি না’।

দূর বোকা, আর একবার যা। মনকে বশে রেখে মায়ের কাছে যা চাইবার চেয়ে নে’।

নরেনকে মন্দিরের ভেতরে ঠেলে পাঠালেন ঠাকুর।

নরেন দেখলে শুদ্ধা চৈতন্যময়ী মা রয়েছেন চরাচর ব্যাপ্ত করে। সেখানে নিরানন্দের কোনও স্থান নেই। সবেতেই আনন্দের প্রকাশ। হীনবুদ্ধির মতো সে চৈতন্যময়ীর কাছে টাকাপয়সা চাইব? ‘মাগো, আর কিছু চাই না, কেবল জ্ঞান, ভক্তি, বিবেক, বৈরাগ্য দাও’। বারে বারে প্রণাম করতে লাগল নরেন।

কি রে কি চাইলি’? জিজ্ঞেস করলেন ঠাকুর।

চাইতে লজ্জা করল।’

ঠাকুর হাসলেন। আনন্দে হাত বুলিয়ে দিলেন নরেনের মাথায়। ‘মা বলে দিয়েছেন মোটা ভাত কাপড়ের অভাব তোদের কোনওদিন হবে না’।

পরবর্তী জীবন কি হয়েছিলেন সেই বিষয় আমরা সবাই জানি।

জীবনকে যে-ভাবে বলি দেবে, এখানে বলি মানে কি কিছু হত্যা করে ভগবান বা ঈশ্বরকে উৎসর্গ করা কে বুছিয়েছেন ঠাকুর? বলি শব্দের অর্থ বাংলা অভিদান থেকে পাই

* যজ্ঞাদিতে নিবেদ্য বস্তু।

* যজ্ঞাদি উপলক্ষ্যে প্রাণীহত্যা বা হন্তব্য প্রাণী (বলির পাঁঠা)

* উত্সর্গ, বিসর্জন (নিজের স্বার্থ বলি দেওয়া)

* উপহার।

* জীবগণকে খাদ্যদান বা প্রদত্ত খাদ্য (গৃহবলিভুক)

* ভূতবলিরূপ যজ্ঞ।

* রাজস্ব।

* বামন অবতারে বিষ্ণুর দ্বারা পরাজিত দৈত্যরাজ। [সং. √ বল্ + ]

ইত্যাদি।

শ্রীশ্রীঠাকুর প্রভু রামচন্দ্র এর ভক্ত হনুমান কে শ্রেষ্ঠ ভক্ত বলেছেন, হনুমান প্রথমে প্রভু রামচন্দ্রের কাছে এসেছিলেন যদি মন্ত্রী হওয়া যায় সেই আশায়। কিন্তু প্রভুকে এতটাই ভালবাসলেন যে তার সব চাওয়া একতে মিলে গেল মানে প্রভুকে কিভাবে খুসি রাখা যায়।

হনুমানের লংকা যাত্রাটি যদি একটু সংক্ষেপে বর্ননা করা যায়, তাহলে দেখা যায়। তিনি প্রভুর জন্য কি না করতে পারেন। জাম্মুবান যখন হনুমানকে আদেশ করলেন তুমিই একমাত্র যেকিনা লংকা যেতে পার। হনুমান বললেন আপনারা যদি আদেশ করেন করেন আর প্রভুর ইচ্ছা যদি হয় তাহলে পারবো।

হনুমান ভারতের মহেন্দ্র নামক পর্বতের চূড়া থেকে থেকে আকাশপথে অগ্রসর হওয়ার জন্য লাফ দিলেন। কিছুদুর যাওয়ার পর তার পথ আগলে দাড়াল “মৈনাক” পর্বত। যিনি দেবী পার্বতী ও দেবী গঙ্গার ভ্রাতা এবং দেবরাজ ইদ্রের কারনে সমূদ্রে আত্মগোপন করে ছিলেন। মৈনাক পর্বত কিছুটা সময় বিশ্রাম করতে বলেন হনুমানকে। কিন্তু তিনি বিনয়ের সাথে বলে এখন সময় নেই পরে একসময় তার কথা রাখবেন। কারন প্রভুর কাজ শেষ না করা পর্যন্ত তিনি বিশ্রাম নিতে নারাজ।

সেখান থেকে বিদয় নিয়ে আবার তিনি লাফ দিলেন। স্বর্গের সমস্ত দেবতা হনুমানজীর প্রজ্ঞা, জ্ঞান এবং শক্তি পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন, কিছুদূর যাবর পর আবার বাধা হয়ে দাড়ালেন তারা সর্প মাতা সুরসা”কে প্রেরণ করেছিলেন। সুরসা দৈত্যাকার রাক্ষসীর রুপ ধারন করে হনুমানের পথ আটকে দেন এবং বলেন এই পথ দিয়ে যেতে গেলে তার মুখের ভেতর থেকে বেরিয়ে তবেই যাওয়া যাবে। এই কথা শুনে হনুমান নিজের শরীরের আকৃতি বিশালাকার করে তোলেন। হনুমানের বিশালাকৃতি দেখে সুরসাও নিজের মুখের আকৃতি বিশালাকার করে তোলে। এইবার হনুমান হঠাৎ করে নিজেকে তার ক্ষুদ্র রুপ ধারণ করেন এবং তাঁর মুখের মধ্যে প্রবেশ করেন এবং নাক থেকে বেরিয়ে আসেন।

সেখান থেকে বিদয় নিয়ে আবার তিনি লাফ দিলেন। আকাশ ও সাগরের দুটি বাধার সম্মুখীন হওয়ার পরে হনুমান তাঁর তৃতীয় বাধা দানবী “সিংহিকা” নামক এক দানবীর বাধায় পড়েছিলেন। এই সিংহিকা দানবী তার ক্ষমতা বলে হনুমানজীর ছায়া ধরে তাকে গিলে ফেলেছিল। হনুমানজী দানবীর শরীরের ভেতরে গিয়ে তার ভেতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নষ্ট করে তাকে হত্যা করে। এইভাবে হনুমানজী তার তৃতীয় বাধাও বীরত্বের সঙ্গে দূর করেন।

সেখান থেকে বিদয় নিয়ে আবার তিনি লাফ দিলেন। এরপর লঙ্কায় পৌছে দেখেন প্রবেশ দ্বারে সমুদ্র তটে হনুমানকে বাধা দেন লঙ্কার পাহারাদার “লঙ্কিনী”। হনুমানজী রাতে সবার অলক্ষে লঙ্কায় প্রবেশ করার পরিকল্পনা করলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী হনুমানজী রাতে যখন লঙ্কায় প্রবেশ করতে যাবেন তখনই তিনি লঙ্কার অতন্দ্র প্রহরী রাক্ষসী লঙ্কিনীর সম্মুখীন হন। তিনি হনুমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একজন অনুপ্রবেশকারী তখন তিনি তাকে আক্রমণ করেন এবং সেই লড়াইয়ে লঙ্কিনী পরাস্ত হন।

লঙ্কিনী ছিলেন ব্রহ্মার বাসস্থানের একজন প্রহরী। ব্রহ্মার অভিশাপে তাকে রাক্ষস কুলের বাসভবনের প্রহরী হতে হয়েছিল। ব্রহ্মা তাকে বলেছিলেন যে, সে তখনই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন যখন কোনও বানর তাকে যুদ্ধে পরাজিত করবে এবং এভাবেই তার অভিশাপের অবসান ঘটবে।কিছুক্ষণ পরে তিনি বুঝতে পারলেন যে এই বানরটি কোনও সাধারণ বানর নয়। তিনি ব্রহ্মার অনুগ্রহের কথা স্মরণ করেন। তত্ক্ষণাত লঙ্কিনী হনুমানের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন এবং তিনি বুঝতে পারেন যে ব্রহ্মার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হতে চলেছে।

প্রভুর প্রতি যদি ভালবাসা গভীর না হতো তাহলে হয়তো হনুমান কখনোই লঙ্কায় গিয়ে মাতা সীতা দেবীর খবর আনতে পারতেন না। এই হচ্ছে প্রভুর প্রতি ভালবাসা।

আজ সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্বামী বিবেকানন্দ ও ভক্ত হনুমানকে পূজার আসনে বসিয়ে পূজা দেয়। এই হচ্ছে প্রাপ্তি। তাদের উভয়ের একটাই চাওয়া ছিল কিভাবে তাদের প্রভু যুগপুরুষোত্তমকে খুশি করা যায়। এবং নিত্য নতুন ভাবে তাদের প্রচার করা।


Tuesday, March 27, 2018

সর্ব্বপ্রথম আমাদের দুর্ব্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক'রতে হবে। সাহসী হতে হবে, বীর হ'তে হবে। পাপের জ্বলন্ত প্রতিমূর্তি ঐ দুর্ব্বলতা।

সত্যনুসরণ (The Pursuit of Truth) ~~

শ্রীশ্রীঠাকুরের অন্যতম প্রিয় ভক্ত ছিলেন শ্রী অতুল চন্দ্র ভট্টাচার্য, বাংলা ১৩১৬ সালে (ইংরেজী ১৯১০ সাল) কোন এক সময়ে তার কর্ম-জীবনে তাকে পাবনা থেকে অন্যত্র যেত হয়। প্রভুর কাছ থেকে দুরে থাকতে হবে এই বিরহ-বিচ্ছেদে কাতর হয়ে তিনি পরমপিতার কাছে প্রার্থনা রাখলেন তিনি যেন তাকে তার আশিষবাণী স্বরুপ কিছু লিখে দেন। পরমপিতা তখন মাত্র দ্বাবিংশ বর্ষের (২২ বছর) একজন যুবক, তিনি ভক্তের মনোবাঞ্ছা রাখতে শ্রীহস্তেই এক রাত্রে লিখে দিলেন তাঁর অমৃত নির্দেশ। এরই মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ পেল যুগ-পুরুষোত্তম প্রদত্ত জীবন চলার সঠিক নির্দেশ। এরপর ইংরেজী ভাষায় The Pursuit of Truth নামে অনুবাদিত হয় বাংলা ১৩২৪ সালে (ইংরেজী ১৯১৮ সাল)। পৃথিবীর বুকে যেন এই মন্দাকিনীর পূন্য ধারা যুগ যুগ ধরে সঞ্জীবিত থাকে তাই বাংলা ১৩২৫ সালে (ইংরেজী ১৯১৯ সাল) তা বাংলায় বই আকার মুদ্রিত হয়। যাহা প্রতিটি সৎসঙ্গীর কাছে নিত্য পাঠ্য ও পালনীয়।

আজ আমি আলোচনা করব সত্যানুসরণের প্রথম কথা। পরমপিতা লিখেছেন “সর্ব্বপ্রথম আমাদের দুর্ব্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক'রতে হবে। সাহসী হতে হবে, বীর হ'তে হবে। পাপের জ্বলন্ত প্রতিমূর্তি ঐ দুর্ব্বলতা।”


এখন ভাববার বিষয় পরমপিতা এই কথাটাই কেন আমাদের প্রথমে বললেন। পৃথিবীতে যত অবতার পুরুষ মানব দেহ ধারন করে পৃথিবীতে এসেছেন তাদের প্রত্যেকের বলা একই, ঠাকুরের ভাষায় বর্তমান পুরুষোত্তম হল পূর্বতনের নব কলেবর। যদি আমরা দ্বাপর যুগে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের কথোপকথনের দিকে তাকাই। সেখানেও অর্জুন-বিষাদযোগে, অর্জুন যখন যুদ্ধ করবেন না বলে প্রভুকে বলছেন মানে তিনি তার দ্বায়িত্ব কাজ করতে পারবেন না তখন ভগবান তাকেও এই মানসিক দুর্বলতা ত্যাগ করে তার সঠিক দ্বায়িত্ব-কর্তব্য করতে বলেছিলেন। যার ফলে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করতে পার।


সনাতন ধর্ম মতে মানব জন্মের সার্থকতা হলো মৃতুর পর সৃষ্টিকর্তার সাথে বিলীন হয়ে যাওয়া। সৃষ্টিকর্তার সাথে বিলীন হওয়ার যে সঠিক পথ নির্দেশ তা পাই আমরা যুগ-পুরষোত্তমের কাছ থেকে। বর্তমান যুগের জন্য আমাদের কাছে যুগ-পুরষোত্তমের ভগবান হলেন প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র, তার নির্দেশ পালন করাই মানব জীবনের পরম সার্থকতা।


এখন মূল আলোচনায় আসা যাক, প্রথমে জানতে হবে দুর্বলতা কাকে বলে, কতপ্রকার ও কি কি। দুর্বলতা (Weakness) বলতে সাধারন ভাবে যেটা বুঝি সেটা হল শারিরীক দুর্বলতা। এটা মানুষের নানা রকম হতে পারে, যেমন- কারো উচ্চতা কম, কারো ওজন কম, কারো হাত-পা বিকলাঙ্গ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ধরনের সমস্যার হয়তো Horlicks, Compain, Vitamin বা নানা রকম ঔষুধ ইত্যাদি খেলে বা Exercise করলে সমাধান সম্ভব। কিন্তু আমি যদি মানসিক ভাবে দুর্বল থাকি তার কি সমাধান? আমার মতে মানুষে মানসিক দুর্বলতা শারিরীক দুর্বলতার চেয়ে অনেক বেশী কঠিন যার সমাধান কেবল মাত্র যুগ-পুরষোত্তমরাই দিতে পারেন।


পরমপিতা আমাদের সর্ব-প্রথমেই দুর্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলছেন, সেটা কি শারিরীক নাকি মানসিক দুর্বলতা? শারিরীক দুর্বলতা নানারকম সাত্ত্বিক খাবার ও কিছু সঠিক নিয়ম কানন পালন করলে তার সমাধান হবে। কিন্তু মানসিক দুর্বলতা কিভাবে সমাধান করবেন, তার জন্য চাই সৎ-গুরুর স্বরণ লওয়া বা সঠিক ধর্মনীতি পালন করা। কারন পরম পিতাই বলছেন এতটুকু দুর্বলতা থাকলেও আমরা ধর্ম রাজ্যে ঠুকতে পারবো না। 
 
পরমপিতাই এই প্রশ্নের উত্তর সুন্দর একটি উদাহরণের মাধ্যমে দিয়ে দিলেন। তিনি বলছেন “দুর্ব্বল হৃদয়ে প্রেমভক্তির স্থান নেই। পরের দুর্দ্দশা দেখে, পরের ব্যথা দেখে, পরের মৃত্যু দেখে নিজের দুর্দ্দশা, ব্যথা বা মৃত্যুর আশঙ্কা ক'রে ভেঙ্গে পড়া, এলিয়ে পড়া বা কেঁদে আকুল হওয়া--সব দুর্ব্বলতা” ভগবান বুদ্ধদেব যখন মানুষের নানান রকম দুঃখ, কষ্ট, রোগ, শোক, মৃত্যু দেখলেন তিনি তার সমাধান খুজতে থাকলেন। যখন তিনি তা জানতে পারলেন কেন এই গুলো মানুষের জীবনে আসে তখন তার সেই জ্ঞান সকলে মাঝে বিতরন করলেন। তাই প্রভু বুদ্ধদেব ত্রিশরন মন্ত্রে বলছেন “বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি - আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম। / ধম্মং শরণং গচ্ছামি - আমি ধর্মের শরণ নিলাম। / সংঘং শরণং গচ্ছামি - আমি সংঘের শরণ নিলাম।


পরমপিতা বলছেন “হ'টে যাওয়াটা বরং দুর্ব্বলতা নয়কো, কিন্তু চেষ্টা না করাই দুর্ব্বলতা।” পরম পিতার এই কথাটাই আমি সঠিক ভাবে পালন করতে পারছি না, তাহলে কি আমার ধর্ম করার অধিকার নাই? কারন আমরা অল্পতেই হতাশ হয়ে যাই, এমন অনেক কাজ আছে যা শুরু করার আগেই পারবোনা ভেবে বাদ দিয়ে দেই। এখনও নিয়মানুসারে আমি অতি প্রত্যুষে উঠে ইষ্টভৃতি, প্রার্থনা করতে পারছি না। ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা করলে বৌ বলে কি শুরু করলা, সারা দিন এত কাজ করে রাত্রে একটু শান্তিতে ঘুমাতেও পারবো না। মিনসের সাথে বিয়ে হয়ে সোনার জীবনটা আমার কয়লা হয়ে গেল। তাহলে কি করা, বনে চলে যাবো নাকি দাদা কি বলেন?? এখন পরীক্ষা দিতে হবে কাকে বেশি ভালবাসি। মানসিক ভাবে ঠাকুরকে বেশি হলেও শারীরিক ভাবে স্ত্রী কে। ঠাকুরের ভাষায় মন-মুখ এক না হলে সেখানে গলদ জমবে এবং পাপ গিয়ে তার ভিতর বাসা বাঁধে। প্রতিটি সৎসঙ্গ পরিবারই স্বর্গের সুখ বিরাজ করবে যদি আমরা শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রদত্ত নির্দেশাবলী সঠিক ভাবে পালন করতে পারি।


পরমপিতা সবসময় ভাবতে বলছেন “স্বরণ কর তুমি সাহসী, স্বরণ কর শক্তির তনয়, স্বরণ কর তুমি পরমপিতার সন্তান। আগে সাহসী হও, অকপট হও, তবে জানা যাবে তোমার ধর্ম্মরাজ্যে ঢোকবার অধিকার জন্মেছে।” বিভিন্ন মেডিটেশন প্রতিষ্ঠানে মেডিটেশন করার সময় তারাও নিজেকে একজন অনন্য মানুষ, সাহসী মানুষ ইত্যাদি বলে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে। পরিচিত এক (Psychologist) মানসিক পরামর্শকারী বলেছিলেন, আপনি যখন মানসিক ভাবে খুব খারাপ অবস্থায় থাকবেন তখন খোলা কোন জায়গায় যেয়ে জোরে জোরে বলবেন আমি গত দিনের চেয়ে আজ অনেক অনেক ভাল আছি। এতে নাকি কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি লাভ হবে।


আমি যখন মনে মনে ভাবি ঈশ্বর আমাকে আগের চেয়ে অনেক ভাল রেখেছেন, কারন তিনি আমার পিতা, তিনি অবশ্যই ভাল জানেন কিসে আমার মঙ্গল হবে, তখন এই বাণীটি মনে পরে “ভাবছ বসে চলবে কিসে / ভাববার তুমি কে? / ভাববার যিনি ভাবছেন তিনি / তুমি ভাব তাকে।” 
 
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাটি দিয়েই আমার লেখা শেষ করছি -----


বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা--
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়॥
সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন টুটে,
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা--
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
নম্রশিরে সুখের দিনে তোমারি মুখ লইব চিনে--
দুখের রাতে নিখিল ধরা যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।



পরমপিতা সবার মঙ্গল করু



জয় গুরু।