The Web This Blog
Showing posts with label Job. Show all posts
Showing posts with label Job. Show all posts

Friday, July 30, 2021

আমার জীবনে Mentor এর ভুমিকা (শেষ অংশ)

{ প্রথম অংশ }

২০০৪ সাল থেকে আমার কর্মজীবন শুরু। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কেটেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। যখন যেই প্রতিষ্ঠানে ছিলাম সেখান থেকে চেষ্টা করেছি নতুন নতুন কিছু শিখতে ও নিজের মেধা ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে।

১। মাহে আলম খানঃ- MAK ভাই এর সাথে আমার পরিচয় ২০০৪ সাল থেকে। তিনি ছিলেন আমার Computer Hardware শিক্ষক। আমার কাছে অন্য সকল শিক্ষক ও Boss রা হলো জীবন গ্রন্থের একেকটি অধ্যায়। আর মাহে ভাই আমার জীবনের একটি অসমাপ্ত কাব্য। ২০০৪ থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ছিলেন শিক্ষক, গুরু, Boss, বড় ভাই, কর্মজীবনের অভিভাবক ........... ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত আমার জীবনের যত সাফল্য তার সাথে কোন না কোন ভাবে মাহে ভাইয়ের অবদান রয়েছে। আমার bLog এ তাকে নিয়ে অনেক লেখা আছে।

২। এ এইচ রবিন ও সামিম স্যারঃ- আমার কর্মজীবন শুরু করি ২০০৪ সালে INFOBASE থেকে। যার কর্নধার ছিলেন এই দুই বন্ধু। আমার সৌভাগ্য এমন দুইজন মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। এই মূহর্তে রবিন স্যারের একটি কথা মনে পরছে, “কর্মজীবনে মনে রাখবে তোমার Senior রা কেও তোমাকে নিজ থেকে কিছু শিখাবে না, তোমাকেই তাদের কাছ থেকে তোমার বুদ্ধি দিয়ে শিখে নিতে হবে।”

সামিম স্যার একদিন তার গাড়িতে করে আমাকে বাসায় নিয়ে যায় তার কম্পিউটার ঠিক করতে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “অফিস চলাকালিন তুমি মনে রাখবে কাজ শেষ বলে কোন কথা নাই, তোমার কাজ না থাকলে অন্যেরা কি কাজ কিভাবে করছে শিখার চেষ্টা করবা। জীবনের কোন সময় কোন শিক্ষাটা কাজে আসবে তুমি জাননা। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করবা।”

৩। তপন সাহাঃ- সাল ২০০৬, P.N. COMPOSITE এর শুরুর দিকে চাকরি তে যোগদান করি। তপন স্যার ছিলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। একদিন রাত্রে আমার শিফট চলছিল। তেমন কোন কাজ ছিলনা স্যার এসে আমাদের Color Lab এ বসলেন ও অন্য সবার খোজ খবর নিচ্ছিলেন। আমার পরিচয়, লেখা-পড়া ইত্যাদি জানার পর তিনি কিছুটা অবাক হন আমার ছোট মামার নাম শুনে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস ও টেস্টটাইল সেক্টরে তার ব্যপক পরিচিতি। তিনি বলেছিলেন তুমিতো তাহলে বেশিদিন এখানে চাকরি করবে না। আমাকে জিজ্ঞাসা করলো আগামী দশ বছর পর তুমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাও। আমি অনেকটা সাহস নিয়েই বলেছিলাম স্যার নিজেকে একজন ব্যবসায়ি হিসেবে দেখতে চাই। আমার প্রতিষ্ঠানে তারাই কাজ করবে যাদের আমার মত মেধা আছে কিন্তু লেখা পড়ার সুযোগ বেশি পায়নি। স্যার শুনে কিছুটা হাসলেন।

তখন আমি পুরান ঢাকা থেকে প্রতিদিন বাসে কোনাবাড়ী, গাজিপুর অফিস করতাম। তিনিই আমাকে প্রথম বুদ্ধি ও সুযোগ করে দিয়েছিলেন চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতে। তখন আমি ঢাকা থেকে কিছু কিছু Garments Accessories নিয়ে ফ্যাক্টরিতে Supply দেওয়া শুরু করি। ব্যবসার হাতেখড়ি সেই থেকে শুরু .......।

৪। জামিল আহমেদঃ- ২০০৪ বা ২০০৫ সালের দিকে জামিল ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় একটি কম্পিউটার মেলাতে। তখন আমি ও ম্যাক ভাইয়ের কয়েকজন ছাত্র OpenSource নিয়ে কাজ করছিলাম।

কর্মক্ষেত্রে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ দেয়ার অবদান জামিল ভাইয়ের। TigerIT তে আমি ২০০৭ সালে যোগদান করি। তখন অফিস ছিল মগবাজারে। কাজ যে বিনোদনের মাধ্যমেও করা যায় TigerIT তে যোগদান না করলে জানাও হতো না আমার। যখন কাজ তখন দিন রাত শুধুই কাজ, আবার যখন বিনোদন তখন শুধুই বিনোদন। অফিসের যেকোন কঠিন কাজ কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে করা যায় জামিল ভাইয়ের সাথে পরিচয় না হলে হয়তো শেখাই হতো না। ব্লগটি লিখতে বসে TigerIT এর সবারই মুখটি খুব মনে পরছে। আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর ও সর্নালী সময়টুকু পার করেছি এখানেই।  

ম্যাক ভাই ও জামিল ভাইয়ের হাত ধরেই Ankur ICT Development Foundation এ যোগদান করি। কাজের কারনেই তখন দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে যাওয়ার একটি সুযোগ হয় আমার। তখন আমার মাথায় দেশ ও দেশের সুবিধাবন্চিত মানুষের জন্য কিছু একটি করার চিন্তা মাথায় ঠোকে। সেই চিন্তাটি এখনো আছে শুধু সুযোগের অপেক্ষা। জামিল ভাইয়ের হাসিটি খুবই সুন্দর মাঝে মাঝে খুব মনে পরে তার সেই হাসির কথা।

৫। হরিপদ ব্যানার্জীঃ- ২০১৩ সালে Purchase Officer হিসাবে য‌োগদান করি Metro Knitting & Dyeing Mils এ। হরিপদ স্যার কে দেখে অবাক হতাম প্রায় ৬০ উর্ধ বয়স সেই বয়সেই তার যে কর্মদক্ষতা তা আমাদের অনেকেরই হার মানায়। তিনি মনে করতেন যে কাজে যে দক্ষ তাকে দিয়েই সেই কাজটি করানো উচিৎ, তাতে কাজটি সুন্দর হয়। তিনি সকলকে তার পুত্রসম ভালবাসতেন।  

৬। বলরাম সরকারঃ- জীবনের দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর যখন ভাবলাম এখন স্থায়ী ব্যবসায় করা দরকার, কিন্তু অভিজ্ঞতা থাকলেও টাকা নেই। কারন চাকরির পাশা পাশি কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মক্ষিন হই অনেক। ২০১৬ সালে আমার কাকাত ছোট ভাই আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে BS Trading নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। যার কাছে আমি কৃতজ্ঞ কারন এখানে না আসলে হয়তো ব্যবসার মূল জিনিসগুলো জানাই হতো না। বলরাম এর ধর্মীয় অনুভুতি, মানুষকে ভালবাসার ক্ষমতা, নতুন নতুন ব্যবসার উদ্ভাবনী শক্তি অসাধরন। এখনও অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করছি তার কাছ থেকে।     

প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর আরেকটি বানী দিয়ে লেখা শেষ করবো,

 

শিখলি যে তুই কত-শত

বোধ তো কিছুই ফুটল না!

স্মৃতির বলদ্ হ’লি শুধু

একমুঠো ভাত জুটল না?

আমার জীবনে Mentor এর ভুমিকা (প্রথম অংশ)

করার পথে চলতে গেলে

এতই ঠকা শেখাই দায়,

অতো ঠকে শিখতে গেলে

জীবনে কি পাড়ি পায়?

শিখেছে যে তার কাছে তাই

শেখায় শরণ নেওয়াই ভাল,

নইলে যে ত‌োর ব‌োকা সাহস

ভরজীবনই ঠকিয়ে গেল।

উপরের কথা বা বানীটি যিনি দিয়েছেন আমার জীবনের একমাত্র উপাস্য, আরধ্য দেবতা প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। আজকের লেখার সাথে বানীটির বেশ মিল আছে বলেই এই বানীটি দিয়ে আমার লেখা শুরু করলাম।

জ্ঞান অর্জনের কোন শেষ নেই। জন্ম থেকে আ-মৃত্যু মানুষ কোন না কোন ভাবে শিক্ষা গ্রহন করেই। নবি কারীম (সঃ) বলেছেন, "দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর।"

সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনে প্রতিনিয়ত কোন না কোন প্রশ্নের সৃষ্টি হতেই থাকে। শিক্ষা গ্রহন করার বিষয়টি সম্পূর্ন ব্যক্তির নিজস্ব অভিরুচির উপর নির্ভর করে। সবাই একরকম ভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ নাও করতে পারে। কেউ শিখে Practically, কেউবা চোখে দেখে, কেউ বই পড়ে, কেউবা অভিজ্ঞতা অনুসারে, কেউ চিন্তার মাধ্যমে, কেউবা আবার বিশ্বাসে আরো অনেক পদ্ধতি থাকতে পারে। তবে আমার মতে শিক্ষা গ্রহনের সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পন্থা হচ্ছে শিক্ষক গুরুর মাধ্যমে। একজন শিক্ষক বা গুরুই ছাত্রের ধরন বুঝে তাকে শিক্ষা দিতে পারেন।

অপরদিকে, শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে স্বশিক্ষা। নিজে নিজে যা শিখে সেই শিক্ষা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা মানুষের খুব কমই থাকে। যে শিক্ষা আমরা সাধারনত নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বা জীবনে ঘটে যাওয়া বড় কোন ঘটনার মাধ্যমে শিখে থাকি। প্রচলিত একটি কথা আছে, "তুমি শিখছিলা কোথায়? আমি ঠেকছিলাম যেথায়।" এই ঠেকে শেখাকেই এক কথায় স্বশিক্ষা বলা যেতে পারে।

প্রতিটি মানুষের কাছে নিজ পরিবার হচ্ছে প্রধান শিক্ষাক্ষেত্র। পিতা-মাতাই তার প্রথম শিক্ষক। আমার জীবনে মা জীবনের তেমনই শিক্ষক। আমার জীবনের এমন কোন ঘটনা নেই যা আমার মা-এর সাথে আলোচনা করিনি। আমার মাকে কতটুকু ভালবাসি তা জানিনা কিন্তু তার খুসির জন্য যেকোন কিছু ত্যাগ করতি রাজি আছি। 

স্বর্গীয় কালি পদ সরকার আমার ঠাকুর দাদা (Grandfather) ১৯৯৯ সালের ১৭ ই জানুয়ারী তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন আমার প্রথম পারিবারিক আদর্শ। তিনিই আমার জীবনের বেশীর ভাগ গুনের বীজ রোপন করে দিয়েছিলেন। আমার দুঃখ কিশোর বয়সেই আমি তাকে হারিয়েছি, বেশি কিছু শিখতে পারিনি আর। ধর্ম, বিজ্ঞান, মানবিকতা সহ অনেক কিছুরই ভিত্তি তার হাত ধরেই। তিনিই আমাকে শিখেয়েছিলেন কিভাবে মটর ও ককসিট দিয়ে খেলনা লঞ্চ বানিয়ে নদিতে চালানো যায়। কিভাবে নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। তিনি বলতেন যতক্ষন নিজের সামর্থ থাকে ততক্ষন অন্যের কাছ থেকে কোন প্রকার সাহায্য নেয়া নিজের যোগ্যতাকেই অপমান করা। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন এই প্রার্থনা। 

রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২), নাটকে শহীদ মুনীর চৌধুরী বলেছেন, “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়।”

জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর আজ আমার সৃতির ভান্ডার থেকে যতটুকু মনে আছে তা থেকে ছাত্র জীবনের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মজীবনের কয়েকজন Boss সম্পর্কে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আজ আমি যেখানে অবস্থান করছি সেখানে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার স্বশ্রধ্য প্রনাম ও ভালোবাসা।

১। মোঃ খালেক স্যারঃ- আমাদের পারিবারিক শিক্ষক ছিলেন খালেক স্যার। তিনি গেন্ডারিয়ার উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি করতেন পাশাপাশি আমাদের ছোট কাকা এবং আমাদের সকল ভাই-বোনদের পড়াতেন। আমার জীবনের প্রথম হাতেখড়ি থেকে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত তিনি পড়িয়েছিলেন। এই মূহর্তে স্যারের যে বিষয়টি আমার খুব মনে পরছে, তিনি যেদিন বিদ্যালয় থেকে নতুন বই দিতো সেই দিন পড়াতেন না। সেই দিন থাকতো শুধু বই পরিচিতি। প্রতিটি নতুন বই এর গন্ধ শুকতে ও বইয়ের ছবি গুলো দেখতে দিতেন আর বলতেন আগে বইকে ভালবাসতে শিখো তারপর কাল থেকে পড়ালেখা।

২। অসিম কুমার ভৌমিকঃ- অসিম স্যার মূলত ইংরেজীর শিক্ষক ছিলেন। আমি তার কাছে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম (এস এস সি) শ্রেনী পর্যন্ত সকল বিষয় পড়েছিলাম। তার একাদশ শ্রেনীর ইংরেজী পড়ানোর পদ্ধতি ছিল অসাধরন। কিভাবে ইংরেজীর কোন শব্দ ডিকশেনারী থেকে বের করতে হয় তার কাছ থেকেই শেখা।

৩। বিধান বিশ্বাসঃ- বিধান স্যার এর কাছে আমি নবম ও দশম শ্রেনীর অংক করতাম। তখন কেন যেন মনে হতো তিনি একবার যে অংক শিখাতেন তা আর ভুলার কোন উপায় নেই। যে কোন অংক কি ভাবে সহজে মনে রাখা যায় তিনিই জানতেন। আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে অংকের জাহাজ বলতাম।

৪। রুহুল আমিন হাওলাদারঃ- হাওলাদার স্যার ছিলেন আমাদের গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক। তার কাছে কয়েক মাস ব্যাচে বিজ্ঞান ও অংক পড়েছিলাম। তার পড়ানোর পদ্ধতির কারনেই আমার জীববিজ্ঞানের প্রতি একপ্রকার ভালোবাসা জন্মায়। ভেবেছিলাম বড় হয়ে শুধু জীববিজ্ঞান নিয়ে লেখা পড়া করবো। যে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে আছে। 

৫। বিবেকানন্দ বিশ্বাসঃ- বিবেক স্যার আমাদের পারিবারিক আত্মীয় (দাদা) হয়। ছোট বেলা থেকেই তার সাথে আমার সম্পর্ক। তার কাছে একাদশ থেকে এম,কম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ি। তার হিসাব বিজ্ঞান পড়ানো ছিল এতাটাই সাবলীন ও অপ্রতিদন্ধী যে তখন আশে পাশের এলাকা থেকেও প্রচুর ছাত্র-ছাত্র আসতো। তিনি আমাকে ফ্রী পড়াতেন। তখনই আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমিও যদি শিক্ষকতা করি তখন আমিও কিছু ছাত্র ফ্রী পরাবো এবং সেই কারনে আমাদের কচিং সেন্টারে কিছু গরিব ছাত্রদের সবসময় ফ্রী পড়তাম।

৬। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদঃ- BUET পরিচালিত IAC থেকে আমি ২০১১ সালে Web Design and Application Development কোর্সটি করি। ড. কায়কোবাদ স্যারকে আমার টেলিভিশন ও বিভিন্ন কম্পিউটার মেলায় অনেকবার দেখার সুযোগ হয়েছিল। যখন কোর্সটি ভর্তি হই তখন মনে করেছিলাম স্যার বোধহয় আমাদের ক্লাস করাবেন। সেই সুযোগ আর হয়নি। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমাদের Certificate প্রদানের দিন স্যার এসেছিলেন। স্যারের একটি কথা আমার খুব মনে পরে। তখন তিনি তার বক্তিতায় বলেছিলেন, “এই অল্প সময়ে তোমরা এখান থেকে যা শিখলে তা যদি তোমরা কাজে লাগাতে পারো সেটাই তোমাদের পরিশ্রমের সার্থকতা। সব সময় মনে রেখো তোমরা আজ পৃথিবী থেকে যা গ্রহন করলে বা শিখলে তা যেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজের মাধ্যমে কয়েকগুন ফেরত দিতে পার। ”

 

{শেষ অংশ}

Sunday, May 30, 2021

রামাচরন বাগচি ও তার প্রিয় বাছুর (শেষ অংশ)

২০১৬ সালের দিকে মামার কথার অবাধ্য হয়ে রামাচরন চাকরি ছেড়ে দেয়। এতে মামা এতাটাই দুঃখ পায় যে এখন তার সাথে ঠিক ভাবে কথাও বলে না যোগাযোগও করে না। ২০১৬ সালে রামাচরনের সাথে এক রাজহাসের খামার মালিকের সাথে পরিচয় হয়। খামার মালিক তাকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তাকে কয়কটি রাজহাসের ডিম দেওয়া হবে এবং সেটা লালন পালন করে ডিম ফুটে বাচ্চা হলে সেটা বিক্রি করে যা লাভ হবে তার তিন ভাগের এক ভাগ রামাচরন পাবে। রামাচরন রাজি হয় কারন তার কোন অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে না। এবং উল্লেখ থাকে যে খামারে যদি আর্থিক ক্ষতিও হয় তার কোন প্রভাব রামাচরনের উপর পরবে না। কারন খামারের মালিকানা ছিল সেই মালিকের একক নামে।

ছেলেটি দীর্ঘ বছর চাকরি করলেও রাজহাস লালন পালন সম্পর্কে কোন ধারনা বা অভিজ্ঞতা ছিল না। চাকরি ছেড়ে যখন পুরোপুরি খামারের দায়িত্ব রামাচরন পায় তখন দেখে ডিমগুলো রাজহাসের নয় পাতি হাসের। ছেলেটি হতাস হয়। কিন্তু কিছু করার নেই রামাচরন পূজনীয় একজনকে কথা দেয় তার চাকরি করার আর ইচ্ছা নেই। কারন তার গুরুদেব চাকরি করাকে কিছুটা অপছন্দ করতেন। রামাচরন দোটানায় পরে এখন হাবুডুবু খায় হায় হতাশ হয়। চাকরি করবেনা যেমন ঠিক আবার যদি রাজহাসের খামার থেকে চলে যায় তাহলে কর্মচারীদের কি হবে এই ভেবে থেকে যায় রামাচরন।


বাকি অংশ …......

 

রামাচরন বাগচি ও তার প্রিয় বাছুর (প্রথম অংশ)

 

Friday, May 14, 2021

রামাচরন বাগচি ও তার প্রিয় বাছুর (প্রথম অংশ)

ঈদের বন্ধ, ভাবলাম ঘরে বসে বসে কি করা যায়? তাই একটি রুপক গল্প লিখতে বসলাম। আমার কাছে রুপক গল্প লিখতেই বেশি ভাল লাগে কারন এই গল্পগুলো পাঠক নিজের মত পড়ে ও ভাবতে পারেন। অনেক বছর যাবত ব্লোগে লিখে আসছি এমন কিছু রুপক গল্প। দেশ, সমাজ, সমসাময়িক ঘটনা ইত্যাদি বিষয় থাকে আমার সেই গল্পগুলোতে। Indian Daily Soap Opera  গুলো দেখলে বুঝা যায় যার সাথে বাস্তবের মিল আছে ২০% বাকী পুরটাই রুপক বা কল্পনানির্ভর। কিন্তু সাধারন মানুষ এই নাটকগুলোকে এতটাই জীবনের সাথে আপন করে নেয় যে, সবাই সেই নাটকের কোন না কোন চরিত্রের সাথে নিজেকে খুজে পায়।

বাংলাদেশে রুপক গল্পকার হিসেবে আমার একজন ভালোলাগার লেখক হানিফ সংকেত, তিনি সমাজের অনেক ঘটনাকে তার মত করে রুপক আকারে উপস্থাপন করেন। তাই আজকের লেখাটি তাকে উৎসর্গ করলাম।

আজকের গল্পের নায়ক বা প্রধান চরিত্রটি পুরান ঢাকায় জন্ম ও বড় হয়ে উঠা এক কিশোরকে নিয়ে। রামারচরন বাগচি তার নাম, ছেলেটি স্বপ্ন দেখতে ও নতুন নতুন কিছূ আবিস্কার করতে ভালোবাসে। নব্বই দশকে কৈশোর বয়সে যখন টিভিতে সাঁওতালি সুন্দরী কোন মেয়ের নাচ দেখত তখন ভাবতো কোন সাঁওতালি মেয়ে বিয়ে করে পাহাড়ে গিয়ে বসবাস করবে। সুন্দর প্রকতি খাবে-দাবে পাহাড়ে পাহাড়ে বেড়ানো যাবে আর কাজ করবে। জীবনের বেশি কিছু চাওয়ার নাই। কিছুটা বড় হবার পর সেই স্বপ্নটা বাদ পরে গেল।

ঠাকুরমা-র আদরে বেড়ে উঠা ছেলেটি খেলাধুলায় খুব ভাল করতে থাকে, প্রিয় খেলা ফুটবল। প্রিয় খেলয়ার সেই সময়কার ইতালীর Roberto Baggio. স্বপ্ন দেখতে যে ছেলেটি ভালবাসে সময়ের সাথে সাথে এবং সংসারের আর্থিক অনটনের কারনে একে একে স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকে, কারন স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক তফাত।

বিটিভি তে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান দেখে তার সখ হলো লেখা পড়া শেষ করে একটি আধুনিক কৃষি খামার দেবার। এস এস সি পরিক্ষা শেষ, ঠাকুরমা বললো কি করা যায়। বসে থেকে তো লাভ নাই রে ভাই। ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে একটি মাত্র গাধা দিয়ে শুরু হলো তার গাধাকে মানুষে পরিনিত করার প্রকল্প। অল্পদিনের মধ্যে তার খামারে বেশ কিছু গাধা-গাধি আসতে থাকে। কয়েক বন্ধু মিলে ভাবতে থাকে একটি বড় গাধাদের খামার দিলে কেমন হয়। কিন্তু আর হয়ে উঠেনি। বেশ কয়কটি গাধা এখন মানুষে পরিনিত হয়েছে এবং দেশের জন্য কাজ করছে।

এইচ এস সি পরিক্ষার পর ভাবতে থাকে কি করা যায়, লেখা-পড়ার পাশাপাশি স্থায়ি কিছু আয় করা যায় কিনা। চাকরি খুজতে খাকে কিন্তু পায় না। ২০০৪ সালের দিকে এক বান্ধবী বললো তোমাকে একটি মুরগীর খামারে নিয়ে যাই। আমি সেখানে মুরগী লালল পালন শিখছি। কারন এখন সারা পৃথিবীতে মুরগীর ব্যপক চাহিদা। ছেলেটি গিয়ে ভর্তি হলো মুরগীর চিকৎসা কিভাবে করা যায় তার প্রশিক্ষন নিতে।

প্রশিক্ষন চলাকালীন তার সাথে অল্প সময়ের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষক সবার সাথে সক্ষতা বারতে থাকে। কোর্স শেষ হলে কিছুদিন ইন্টার্নী করে ছেলেটি। তখনই সৌভাগ্যক্রমে সেই প্রতিষ্ঠানের মুরগীর ডাক্তারটি চাকরি ছেড়ে দেয়। কোর্স ফলাফল ভাল থাকায় এবং প্রশিক্ষকের সুদৃষ্টি থাকার ফলে চাকরি পেয়ে যায় ছেলেটি। তখনই প্রশিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে খুবই গভির ভাতৃতের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়।

সময়ের ব্যবধানে আর বেশকিছু খামারে চাকরি করে ছেলেটি। ছেলেটির জীবনে বড় হয়ে উঠার ক্ষেত্রে সেই মুরগীর খামারের প্রশিক্ষক এর ভূমিকা অপরিহার্য। ২০০৭ সালে সেই প্রশিক্ষকের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক মানের একটি বাঘের খামারে ছেলেটির চাকরি হয়। বাঘের খামারটি ছেলেটির জীবনকে ব্যপক পরিবর্তন করে দেয়। জীবনকে সে নতুন ভাবে চিনতে শুরু করে। চার বছর সেই খামারে সুনামারে সাথে চাকরি করে ছেলেটি। সেখানে প্রিয় এক বড় ভাইয়ের সাথে তার পরিচয় ও সক্ষতা হয়। জীবন ও তার উদ্দেশ্য ঠিক করতে থাকে ছেলেটি, আর চাকরি নয়, এখন ব্যবসা করতে হবে। হাতে প্রচুর টাকা। সেই প্রিয় ভাইটি বলেছিল চাকরি ছেড়না তুমি, চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতে থাকো ও শিখতে থাকো। চাকরি নিজের জন্য আর ব্যবসা করবে অপরকে ভাল রাখার জন্য।

শ্রধেয় মুরগীর খামারের সেই প্রশিক্ষকের সাথে কিছুটা অভিমান করে চাকরি ছেড়ে শুরু করলো ব্যবসা, কিন্তু কোনটাই আর লাভের মুখ দেখলো না। একে একে সব ব্যবসা ও জামানো টাকা যখন শেষ। সংসারের কারনে আবার সে একটি কুমিরের চামড়া রপ্তানীর খামারে চাকরি করে। অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে সুনাম অর্জন করে। তার মামা বলেছিল আমি কিছুদিন পর ছোট একটি কুমিরের চামড়া রপ্তানীর খামার দিবো। ভালভাবে কাজ করতে খাকো। কিন্তু সেখানে কিছুতেই ছেলেটির মন বসে না। কারন ছেলেটি একটি ধর্মীয় আদর্শে মানুষ, যেখানে শুধু নিজে ভাল থাকলে চলবে না তোমার সমাজ ও দেশের জন্য কিছু একটা করতে হবে যাতে অন্যকেও ভাল রাখা যায়।

২০১৩ সাল রামাচরন বিয়ে করে মানিকগঞ্জ জেলার কবিতা বালা নামের এক শিক্ষিত মেয়েকে। সেও কিছুদিন যাবত চাকরি করে বেশ টাকা সঞ্চয় করেছে বিয়ের পর নিজে কিছু করার জন্য। কবিতা বালা একদিন বলে, “আমি চাইনা আমার সন্তানরা বড় হয়ে চাকরি করুক।” কিন্তু কি ব্যবসা করবে তাও তারা ঠিক করতে পারছে না। রামাচরন ভাবে তারা একটি নিজের নামে কৃষি খামার দিবে। কারন এই বিষয়েই রামাচরনের বিশেষ জ্ঞান আছে। যেখানে হাস, মুরগি, গরু, হরিন, বাঘ, কুমির সবই পাওয়া যাবে একই খামারে। কবিতা বালা রামাচরনের অনুপ্রেরনায় ঘরে বসে অনলাইনে প্রশিক্ষন নিতে থাকে। কিছুতেই কিছু হয়ে উঠছিলনা কারন যতবার খামার চালু করবে ভাবে ততবারই কোন না কোন সমস্যা রামাচরনকে পিছে ফেলে দেয়।


কি করবে ভাবতে ভাবতে ই চলে যায় জীবনের আরো কয়েকটি বছর …....................


রামাচরন বাগচি ও তার প্রিয় বাছুর (শেষ অংশ)

Wednesday, April 14, 2021

ব্যয় বুঝে আয় করো

সাধারনত একটি কথা খুবই প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে “আয় বুঝে ব্যয় করো”, মানে তোমার যেমন আয় তেমনি ব্যায় করা উচিৎ। কিন্তু যুগ-পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন, “ব্যয় বুঝে আয় করো”। আজ আমি আমার কিছু অনুভুতির কথা বললো, কথাগুলো কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

শ্রীশ্রীঠাকুর ও তার পূর্ববর্তী যত যুগ-পুরুষোত্তম / অবতার পুরুষ পৃথিবীতে এসেছেন তাদের একটি প্রধান উদেস্য ছিল মানুষকে তার যোগ্যতার চেও যোগ্যতম করে তোলা। শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনেও তেমনি দেখা যায় অনেক ভক্তের জীবনে। তুমি আজ যেখানে যে অবস্থায় আছো আগামীকাল তার চেয়ে কিভাবে ভালো থাকা যায় তার চেষ্টা করতে হবে।

সত্যানুসরণ-এ শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন, 'টে যাওয়াটা বরং দুৰ্ব্বলতা নয়কো, কিন্তু চেষ্টা না করাই দুৰ্ব্বলতা। তুমি কোন-কিছু ক'রতে প্রাণপণে চেষ্টা করা সত্ত্বেও যদি বিফলমনোরথ হও, ক্ষতি নাই। তুমি ছেড়ো না, ঐ অম্লান চেষ্টাই তোমাকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে।

২০১৬ সালের দিকে যখন ভাবলাম এই বাকী জীবনটা না হয় শ্রীশ্রীঠাকুর এর কাজ করে অতিবাহিত করা যাক, তপোবিধায়না (দিত্বীয় খন্ড), বানী নং-২২৬ এই বানীটি কেমন যেন আমার জীবনে একটা পরিবর্তন এনে দেয়। ইংরেজী ২০১৭ সাল ৩ রা মার্চ আমি পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দাদার মাধ্যমে স্বস্ত্যয়নী ব্রত গ্রহন করি। আমরা যারা ধর্মকে ধারন করে বাচতে চাই তারা কেওই ধর্মের ১০০% নিয়ম পালন করি কিনা আমার প্রশ্ন। আমার নীতির সাথে ধর্মের যে অংশটুকু মিলে ততটুকুই পালন করে বাকিগুলো হয় পাশকাটিয়ে যাই না হয় বাদ দিয়ে চলি। শাস্ত্রমতে কলিযুগে মানুষ ৪ আনা (২৫%) ধর্ম পালন করবে বাকিটা অভিনয়। আমিও তাই,

শ্রীশ্রীঠাকুর অনেক বানী দিয়েছেন আমার- আমার- আমার জন্য বা আমাদের জন্য কিন্তু কে কয়টা জীবনে ধারন ও পালন করেন সেটা তার ব্যক্তিগত। কেও পালন করে শ্রীশ্রীঠাকুরের ৭ টি বানী, কেও ৩৭ টি আবার কেওবা ৯৭ টি। আমি কয়েকটি ধারন-পালন করি। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার দ্বারা কারও যেন কোন ক্ষতি না হয়, হয়তো সামর্থ থাকলে সাহায্য করি।

আলোচনা প্রসঙ্গে-৭ম খণ্ড, ২৮/১২/৪৫ শুক্রবার বিকালে আশ্রম-প্রঙ্গনে ঠাকুর কিছু ভক্তদের নিয়ে কথা বলছিলেন এমন সময় …...................

রবিদা তাঁর এক ভাগ্নের তৈরী ভাল কয়েক রকম ফাউন্টেন পেনের কালি (লাল, কালো ইত্যাদি) শ্রীশ্রীঠাকুরকে উপহার দিলেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর মহাখুশী হয়ে বললেন - খুব ভাল। দেখতে হয় যেন কোন খুঁত না থাকে। একেবারে বাজারের সেরা কালি করে তোলা লাগে। তোমরা যেটা ধ'রবে সেইটাতে efficiency (দক্ষতা)-র চুড়ান্ত দেখিয়ে দেওয়া চাই। লক্ষ্য রাখতে হবে, কত সুবিধায় কত ভাল জিনিষ দিতে পার। সেবাবুদ্ধি প্রবল হ'লে মাথাও খেলে তেমনি। আর দাঁওমারার বুদ্ধি হ'লে মাথা ভোঁতা হ'য়ে যায়। আরম্ভ করেছ তো খুব ভাল ক'রে লাগাও। এক-এক জন এক-এক ব্যাপারে successful (কৃতকার্য্য) হলে, তার দেখাদেখি আর দশজন আর দশটা ব্যপারে লেগে যায়। কেউ বড় একটা চাকরী পেয়েছে শুনলে আমার মনে হয়, সে একটা বড় গোলাম হ’ল, সে ও তার ছেলেপেলেরা পর্য্যন্ত যেন একটা যাতাকলের মধ্যে পড়ে গেল, যা' থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া ভার। তাই মনে খুব স্ফূর্তি পাই না। কিন্তু independently (স্বাধীনভাবে) কেউ কিছু করতে চেষ্টা করছে, তাতে successful (কৃতকার্য্য) হচ্ছে—এমনতর খবর পেলেই মনে হয় যেন আমি লাভবান হলাম। কারণ, তার ঐ অভিজ্ঞতার এবং যোগ্যতার একটা স্থায়ী মূল্য আছে। 

 

স্বস্ত্যয়নী ব্রত-মন্ত্র, সংস্কৃত

শ্রীবিগ্রহস্ত্বং পুরুষোত্তমো মে বন্দে ত্বাং সদনুকূলচন্দ্রম্।

ত্বং হীষ্টস্তমেব পূজ্যঃ প্রতিষ্ঠায়ৈ তে নিযুনক্তুবৃত্তিঃ।।

তবানুকূলং যদি সত্যকামং মুহুঃ কৃপয়া কুরু কৰ্ম্মনিষ্ঠম্।

সন্ধিৎসয়া, সেবয়া, যাজনেন সর্ব্বাংস্তএবানুরঞ্জয়ানি।।

রোগ-শোক-গ্রহদোষ-বুদ্ধিবিপৰ্য্যয়াচ্চ মে।

দারিদ্র্যাদি-সৰ্ব্বদৈন্যাৎ মুঞ্চ মে ত্বয়ি নিষ্ঠয়া।।

শান্তিং স্বস্তিং শুভং দেহি দেহি কর্ম্মসুকৌশলম্।

দেহি মে জীবনবৃদ্ধি নিয়তং স্মৃতিচিদ্যুতে।।


স্বস্ত্যয়নী ব্রত-মন্ত্র, বাংলা

শ্রীবিগ্রহ তুমি, পুরুষোত্তম তুমি, তোমার বন্দনা করি।

অস্তিবৃদ্ধির সদা অনুকূল তুমি, নিত্য তোমারে স্মরি।

তুমিই ইষ্ট, তুমিই পূজ্য, তুমিই সকল সার।

বৃত্তি আমার দাস তব প্রভু তোমারই প্রতিষ্ঠার।।

তব অনুকূল সত্য কামনায় এই কৃপা মোরে কর।

তোমারই কর্মে নিষ্ঠায় রাখ তোমাতেই রাখ দৃঢ়।।

সন্ধিৎসা-সেবা-যাজন-সাধনে তোমারই জীবনে প্রভু।

রঞ্জিত করি সবারে সদাই বিচ্যুতি না আসে কভু।।

রোগ-শোক আর গ্রহদোষ যত বুদ্ধিবিপর্যয়ের বাধা।

দারিদ্র-দীনতা মুক্ত কর হে নিষ্ঠা আমার তোমাতেই সাধা।

শান্তি স্বস্তি শুভ দাও মোরে দাও হে কর্মের যত কৌশল।

দাও প্রভু আরও জীবনবৃদ্ধি স্মৃতি-চেতনায় সদা প্রোজ্জ্বল।


এখানোও দেখা যায় ঠাকুর প্রতিদিন নতুন নতুন কর্ম কৌশল এর কথা বলছেন যাতে নিজের যগোত্যাকে বাড়ানো যায়। এই মন্ত্রটি যারা স্বস্ত্যয়নী ব্রত পালন করেন তাদের নিত্য পালনীয়।

যখন জানলাম শ্রীশ্রীঠাকুর চাকরি করা কে অপছন্দ করতেন তখন থেকেই নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তৈরি কারার চেষ্টা শুরু করি, কিন্তু কয়েকটি উদ্যেগ নিয়েও বেশ কয়েকবার ব্যবসায়ীক ভাবে আর্থিক ক্ষতি হবার পর এখন হতাশ। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে। কার কাছ থেকে দান বা অনুগ্রহ নিয়ে বাচতে নারাজ এতে আমার যোগ্যতাকে অপমান করা হয় বলে আমার মনে হয়। তাই অনেকদিন যাবত ভাবছিলাম কি ভাবে আয় বাড়ানো যায় কারন খরচ তো দিন দিন বাড়ছেই। চাকরি তো নির্দিষ্ট কিছু বেতন ও সুজোগ-সুবিধার মধ্যে সিমাবদ্ধ।

বেশ কিছু দিন খুজতে থাকলাম আমার কি কি যোগ্যতা আছে যা কাজে লাগিয়ে কিছু বারতি আয় করা যায়। সময়ের প্রয়োজনে আমাকে আবার চাকরির পাশাপাশি খুলতে হলো বারতি কিছু আয়ের পথ, যদি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুটা ভাল থাকা যায়। প্রায় ১৬ বছরের চাকরি জীবনে বেশ কয়েকজন ভালো ও উচ্চ মনের মানুষের সাথে পরিচয় হয় তেমনি একজন অফিস বস বলেছিলেন একটি গল্প সেটা দিয়েই লেখাটি শেষ করবো.....

তুমি যদি কর্মজীবনে ভালো থাকতে চাও কখনো কর্মজীবনের সাথে অন্য জীবনের অন্য কোন অংশের আচর যাতে না পরে। তুমি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবগুলো আলাদা আলাদা ঢাকনাযুক্ত ক্যমিকাল জারের মধ্যে রাখবে, যাতে একটির গন্ধ আরেটির মধ্যে না পরে মিক্স হলেই দেখবে কিছু না কিছু বিষক্রিয়া হবেই। বিশেষ করে কর্মজীবনের কোন অসুবিধার কথা কখনোই তোমার পরিবারের কারো সাথে আলোচনা করবেনা যদিনা তারা তোমার সহ-কর্মী হয়। আবার তোমার পরিবারের কোন সমস্যার কথা তোমার সহ-কর্মীদের সাথে আলোচনা করবে না। এতে করে তুমি দুই জায়গাতেই সম্যান নষ্ট করবে।