The Web This Blog

Sunday, April 18, 2021

সারাহ বেগম কবরী


 

কবরী, কবরী সারোয়ার, সারাহ বেগম কবরী, আমারা তাকে যে নামেই অভিভুত করিনা কেন বা ডাকিনা কেন তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একজন নায়িকা যাকে বলা হতো ড্রিম গ্রাল, মিষ্টি মেয়ে, মিষ্টি হাসির নায়িকা। মৃত্যু সবারই হবে তিনিও চলে গেলেন। তারই স্বরনে আজকের এই লেখা।

পিতা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল এবং মা শ্রীমতি লাবণ্য প্রভা পাল এর মেয়ে হিসাবে তিন জম্ম গ্রহন করেন ১৯ জুলাই ১৯৫০ বুধবার, বাবা আদর করে নাম রাখলেন “মিনা” মিনা পাল। পৈতিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলায়। জম্ম গ্রামের বাড়িতে হলেও তার শৈশব ও কৈশর কেটেছিল চট্টগ্রাম মহানগরীতে।

তিনি নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে কাজ শুরু করেন ১৯৬৩ সালে তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। ১৯৬৪ সালের দিকে পরিচালক সুভাষ দত্ত তার নতুন চলচ্চিত্রের জন্য একজন নতুন নায়িকা খুজছিলেন এমন সময় সুরকার সত্য সাহা সুভাষ দত্তকে মিনার খোঁজ দেন। মিনার ছবি দেখে সুভাষ দত্ত তাকে পছন্দ করেন এবং তাকে অডিশনের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে বলেন। কণ্ঠ ও সংলাপ পরীক্ষার পর সুভাষ দত্ত তাকে তার পরিচালিত ও অভিনিত সুতরাং চলচ্চিত্রের “জরিনা” চরিত্রের জন্য নির্বাচন করেন। সুতরাং সিনেমার লেখক সৈয়দ শামসুল হক মিনা নাম পরিবর্তন করে চলচ্চিত্রের জন্য তার নাম রাখেন “কবরী” যার অর্থ খোঁপা, চলচ্চিত্রের ভক্তরা পেল এক নতুন নায়িকা।

১৯৬৫ সাল পরিচালক জহির রায়হান তৈরি করলেন তার উর্দু ভাষার সিনেমা “বাহানা”।

১৯৬৮ সাল পরিচালক খান আতাউর রহমানের “সোয়ে নদীয়া জাগে পানি” ঐ বছরই পরিচালক দীলিপ সোম তৈরি করলেন “সাত ভাই চম্পা”, পরিচালক সুভাষ দত্ত একই বছর তৈরি করলেন “আবির্ভাব” চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই রাজ্জাক-কবরী জুটি শুরু হয়। এই বছর তার অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্র হল “বাঁশরী, “অরুণ বরুণ কিরণমালা”, “শীত বসন্ত” ও “চোরাবলী”।

১৯৬৯ সাল “পারুলের সংসার” পরিচালক কাজী জহির পরিচালিত “ময়না মতি”, পরিচালক নারায়ন ঘোষ মিতা পরিচালিত “নীল আকাশের নীচে” ব্যপক জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায় সফল হয়।

জনপ্রিয়তার এই ধারাবাহিকতা অনুসারেই ১৯৭০ সালে রাজ্জাক-কবরী জুটি “যে আগুনে পুড়ি”, “ক খ গ ঘ ঙ”, “দর্প চূর্ণ”, “কাঁচ কাটা হীরে” ও “দীপ নেভে নাইচলচ্চিত্রে একসাথে কাজ করেছিলেন। সে বছরই তিনি সুভাষ দত্তের “বিনিময়” চলচ্চিত্রে বাকপ্রতিবন্ধী এক তরুণী চরিত্রে অভিনয় করে প্রচুর প্রসংশা পান। একই বছর কাজী জহিরের পরিচালনায় “মীনা” নামের একটি উর্দু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তি পায় চলচ্চিত্র “স্মৃতিটুকু থাক”।

১৯৭২ সালে তার মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র “জয় বাংলা” ও “লালন ফকির” লালন ফকির চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৭৩ সালে তার মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র “রংবাজ”। এই চলচ্চিত্রে তিনি পর্দায় লাস্যময়ী নায়িকা রূপে আবির্ভূত হন এবং তার চটুল অভিব্যক্তি দর্শকের নজর কাড়ে। চলচ্চিত্রটি তখন ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়। একই বছর তিনি পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত “তিতাস একটি নদীর নাম” -এর রাজার ঝি চরিত্রটি তার অন্যতম সমাদৃত কাজের একটি। তখন এটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট-এর সেরা দশ বাংলাদেশী চলচ্চিত্র তালিকায় শীর্ষ স্থান লাভ করে।

১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় পরিচালক প্রমোদ করের চলচ্চিত্র “সুজন সখী। নায়ক ফারুকের সাথে জুটি করে এটি সেই বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে দ্বিতীয় বার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৭৮ সালে তিনি কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সারের “সারেং বউ” উপন্যাস অবলম্বনে ও পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্মিত “সারেং বউ” চলচ্চিত্রে নবিতুন চরিত্রে অভিনয় করে সমাদৃত হন এবং এই কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। এবং একই সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের “দুই জীবন” চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য আরেকটি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।

কবরী প্রথমে চিত্ত চৌধুরীকে এক ব্যবসায়িকে বিয়ে করেন। সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি সফিউদ্দীন সরোয়ারকে বিয়ে করেন। তখন তার নাম হয় কবরী সারোয়ার। ২০০৮ সালে তাঁদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী বিবাহিত জীবনে পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন।

২০০৬ সালে তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘আয়না’ মুক্তি পায়।

তিনি ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার আত্মজীবনীমূলক একটি গ্রন্থ ‘স্মৃতিটুকু থাক’ প্রকাশিত হয়। যেখানে তার না জানা অনেক কথা তিনি লিখে গেছেন।

গত ৫ এপ্রিল ২০২১ সালে পরীক্ষায় কবরীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ১৬ই এপ্রিল শুক্রবার রাত ১২ টা ২০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত কবরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৭ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে বাসায় নেওয়া হয় সারাহ বেগম কবরীকে। সেখানে কিছুক্ষণ রাখা হয় এবং পরে বাদ জোহর তার মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। সেখানেই গার্ড অব অনার প্রদানের পর তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা। এরপর সমাহিত করা হয় দেশের চলচ্চিত্রের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।

এক নজরে তার অর্জিত কিছু পুরস্কার এর তালিকাঃ-

বছর

পুরস্কার

বিভাগ

চলচ্চিত্রের নাম

১৯৭৩

বাচসাস পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী

লালন ফকির

১৯৭৫

বাচসাস পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী

সুজন সখী

১৯৭৮

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী

সারেং বৌ

বাচসাস পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী

১৯৮৮

বাচসাস পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী

দুই জীবন

২০০৮

বাচসাস পুরস্কার

সম্মাননা পুরস্কার


২০০৯

বাচসাস পুরস্কার

আজীবন সম্মাননা


২০১৩

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

আজীবন সম্মাননা


 

যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন হে প্রিয় নায়িকা …..........

তথ্যসূত্রঃ- কবরী 

Saturday, April 17, 2021

তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী

সারা বিশ্বেরমত বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ। রোজ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। আমার বেশকিছু প্রিয় মানুষ চলে গেছেন ওপারে। এই অবস্থায় আসুন আমারা যারা মৃতুবরন করি নাই এখনও ঘরে থাকি, কঠোর লকডাউন কঠোরভাবেই মানি। তাতে কোভিড রোগীর সংখ্যা কিছুটা হলেও কমবে। এখন অনেক হাসপাতালেই জায়গা নেই, এত রোগীর চাপ হাসপাতালগুলো নিতে পারছে না, কোভিড রোগীর সংখ্যা কমলে হয়ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে। আর কী করবেন? হাসতে হবে মন ভরে, পেট ভরে। হাসলে পরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি নাকি কিছুটা বাড়ে।

আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, প্যানডেমিকের সময় হাসতে হবে। অনেকদিন আগে ভেবেছিলাম এই বিদ্রুপ রচনা বা ব্যঙ্গাত্মক গল্পটি লিখবো, কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না। বর্তমানে লকডাউন এর বর্ষপূর্তি চলছে। ঘরে বসে বসে কাজ নাই। তাই লিখতে বসলাম।

প্রতিটি মানুষ জম্মগ্রহন করে কিছু বৈশিষ্ট নিয়ে যা চাইলেও সহজে পরিপর্তন করতে বা বাদ দিতে পারে না। যদি বলা হয় প্রতিটি মানুষ Deoxyribonucleic Acid নিয়ে জম্মগ্রহন করেন অনেকেই অবাক হবেন এই শব্দটি শুনে এইটা আবার কি। বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলি DNA বা জম্মগত বৈশিষ্ট। ধর্ম বিশেষজ্ঞরা বলেন একজন মা সন্তান ধারন করার সময় যে মনোভাব নিয়ে স্বামীতে আনত হয় তার মনোভাব অনুসারে সন্তানের জম্ম বৈশষ্ট নির্ভর করে। আবার আমার মতো অল্প শিক্ষিত মানুষ তাকে বলে পূর্বপুরুষের রক্তের ধারা।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত কথা অনেক শুনা যায়, কয়লার ময়লা যতই পরিষ্কার করো তার কালো ময়লা সহজে যায় না। এখন আসা যাক গল্পের নামকরনের সার্থকতায়।

অনেক কাল আগে এক দেশে এক রাজা ছিল, কিছুদিন আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। তার মন ভালো নেই, রাজ সভার কাজ কর্মে মন নেই। সবাই চিন্তায় পরে গেল কি করা যায়। সবাই ঠিক করলো একজন সুন্দরী রাজকন্যা দেখে রাজার সাথে বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কোথাও তেমন রাজকন্যা পাওয়া যাচ্ছিল না। রাজ মন্ত্রী একজন ঘটক ঠিক করলো, এবং বলা হলো যদি ভালো কন্যা এনে দিতে পার তোমাকে অনেক পুরষ্কার দেয়া হবে।

ঘটক পুরস্কারের লোভে তার পরিচিত এক মেয়েকে রাজকন্যা সাজিয়ে রাজার সাথে বিয়ে দিলো। বিয়ের কিছুদিন পর দেখলো নতুন রানী ভীষন মন খারাপ করে বসে থাকে। রাজা তাকে জীজ্ঞাস করে কি কারনে মন খারপ। নতুন রানী বলে আমি ও আমার মা একদিন বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করছিলাম এমন সময় ঘটক এসে আমার মা-কে বললো তোমার মেয়েটা অনেক সুন্দর ওকে যদি রাজার সাথে বিয়ে দেও তাহলে তোমাকে আর ভিক্ষা করতে হবে না। তারপর আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়।

কিন্তু এত দাস-দাসী আমার সেবা করে কিন্তু আমার তো কিছুই ভালো লাগে না। রাজা পরলো মহা বিপদে কি করা যায়। রানী এখন ভিক্ষা করতে যাবে?? রাজা রানীকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বললো। রাজা একটি “তাক দেবী” নামক রাজপ্রাসাদ যেখানে ছোট ছোট অনেকগুলো কামড়া এবং প্রতিটি কামড়ায় রয়ছে একটি তাক (পাটাতন) ও চাল ভর্তী বড় একটি করে পাত্র। প্রতিদিন বিকালে রাজা আর রানী শুধু ওই রাজপ্রাসাদে যায় এবং সবাইকে বলে এখানে যাতে অন্য কেও প্রবেশ না করে।

রানী সেই রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে একটি করে কামরার তাকের কাছে যায় আর বলে “তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী” রাজা সেই চালের পাত্র থেকে কিছু চাল বের করে রানীর আচলে দেয়। আবার পাসের কামরায় যায় সেখানে গিয়ে রানী আবার বলে “তাক দেবী ভিক্ষাং দেহী” রাজা আবার পাত্র থেকে কিছু চাল বের করে রানীর আচলে দেয়। এভাবে চলে তাদের খেলা। এতেই রানী খুশি, রানী মাহা খুশী মানে রাজাও মহা খুশী, রাজা মহা খুসি মানে রাজ্যের সবাই মহা খুসি।

সুখে খাকাটাই বড় জিনিস, যার যা আছে তা নিয়েই আমাদের সুখে থাকতে হবেরে ভাই।


 একটি কৌতুক দিয়ে লেখাটি শেষ করবো …........

গ্রামের এক চোর চুরি করা ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজ আরম্ভ করল।

গ্রামের সবাই বলল, বাহ্‌, তোমার স্বভাবের এত উন্নতি! কেমনে হলো? চোর বা নতুন চাষা বলল, শখে ছাড়ি নাই ভাই। বাধ্য হয়ে ছেড়েছি।

আগে কোন বাড়িতে যদি বিশ হাজার টাকার মালামাল চুরি করতাম, গৃহস্থ থানায় গিয়ে জিডি করে বলত, আমার বিশ হাজার টাকার মাল চুরি গেছে। পুলিশ কে ঘুষ দিতাম চুরির টাকার ৫০%। বাকি ৫০% আমার লাভ থাকত।

এখন, সব গৃহস্থ বিশ হাজার টাকার জিনিস চুরি গেলে জিডিতে লেখে ১ লাখ টাকা। ঘুষ তখন দিতে হয় ৫০%। এখন বিশ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ দিলে কি ব্যবসায় পোষায়, বলেন?


ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন সবাই।

Wednesday, April 14, 2021

ব্যয় বুঝে আয় করো

সাধারনত একটি কথা খুবই প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে “আয় বুঝে ব্যয় করো”, মানে তোমার যেমন আয় তেমনি ব্যায় করা উচিৎ। কিন্তু যুগ-পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন, “ব্যয় বুঝে আয় করো”। আজ আমি আমার কিছু অনুভুতির কথা বললো, কথাগুলো কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

শ্রীশ্রীঠাকুর ও তার পূর্ববর্তী যত যুগ-পুরুষোত্তম / অবতার পুরুষ পৃথিবীতে এসেছেন তাদের একটি প্রধান উদেস্য ছিল মানুষকে তার যোগ্যতার চেও যোগ্যতম করে তোলা। শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনেও তেমনি দেখা যায় অনেক ভক্তের জীবনে। তুমি আজ যেখানে যে অবস্থায় আছো আগামীকাল তার চেয়ে কিভাবে ভালো থাকা যায় তার চেষ্টা করতে হবে।

সত্যানুসরণ-এ শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন, 'টে যাওয়াটা বরং দুৰ্ব্বলতা নয়কো, কিন্তু চেষ্টা না করাই দুৰ্ব্বলতা। তুমি কোন-কিছু ক'রতে প্রাণপণে চেষ্টা করা সত্ত্বেও যদি বিফলমনোরথ হও, ক্ষতি নাই। তুমি ছেড়ো না, ঐ অম্লান চেষ্টাই তোমাকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে।

২০১৬ সালের দিকে যখন ভাবলাম এই বাকী জীবনটা না হয় শ্রীশ্রীঠাকুর এর কাজ করে অতিবাহিত করা যাক, তপোবিধায়না (দিত্বীয় খন্ড), বানী নং-২২৬ এই বানীটি কেমন যেন আমার জীবনে একটা পরিবর্তন এনে দেয়। ইংরেজী ২০১৭ সাল ৩ রা মার্চ আমি পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দাদার মাধ্যমে স্বস্ত্যয়নী ব্রত গ্রহন করি। আমরা যারা ধর্মকে ধারন করে বাচতে চাই তারা কেওই ধর্মের ১০০% নিয়ম পালন করি কিনা আমার প্রশ্ন। আমার নীতির সাথে ধর্মের যে অংশটুকু মিলে ততটুকুই পালন করে বাকিগুলো হয় পাশকাটিয়ে যাই না হয় বাদ দিয়ে চলি। শাস্ত্রমতে কলিযুগে মানুষ ৪ আনা (২৫%) ধর্ম পালন করবে বাকিটা অভিনয়। আমিও তাই,

শ্রীশ্রীঠাকুর অনেক বানী দিয়েছেন আমার- আমার- আমার জন্য বা আমাদের জন্য কিন্তু কে কয়টা জীবনে ধারন ও পালন করেন সেটা তার ব্যক্তিগত। কেও পালন করে শ্রীশ্রীঠাকুরের ৭ টি বানী, কেও ৩৭ টি আবার কেওবা ৯৭ টি। আমি কয়েকটি ধারন-পালন করি। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার দ্বারা কারও যেন কোন ক্ষতি না হয়, হয়তো সামর্থ থাকলে সাহায্য করি।

আলোচনা প্রসঙ্গে-৭ম খণ্ড, ২৮/১২/৪৫ শুক্রবার বিকালে আশ্রম-প্রঙ্গনে ঠাকুর কিছু ভক্তদের নিয়ে কথা বলছিলেন এমন সময় …...................

রবিদা তাঁর এক ভাগ্নের তৈরী ভাল কয়েক রকম ফাউন্টেন পেনের কালি (লাল, কালো ইত্যাদি) শ্রীশ্রীঠাকুরকে উপহার দিলেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর মহাখুশী হয়ে বললেন - খুব ভাল। দেখতে হয় যেন কোন খুঁত না থাকে। একেবারে বাজারের সেরা কালি করে তোলা লাগে। তোমরা যেটা ধ'রবে সেইটাতে efficiency (দক্ষতা)-র চুড়ান্ত দেখিয়ে দেওয়া চাই। লক্ষ্য রাখতে হবে, কত সুবিধায় কত ভাল জিনিষ দিতে পার। সেবাবুদ্ধি প্রবল হ'লে মাথাও খেলে তেমনি। আর দাঁওমারার বুদ্ধি হ'লে মাথা ভোঁতা হ'য়ে যায়। আরম্ভ করেছ তো খুব ভাল ক'রে লাগাও। এক-এক জন এক-এক ব্যাপারে successful (কৃতকার্য্য) হলে, তার দেখাদেখি আর দশজন আর দশটা ব্যপারে লেগে যায়। কেউ বড় একটা চাকরী পেয়েছে শুনলে আমার মনে হয়, সে একটা বড় গোলাম হ’ল, সে ও তার ছেলেপেলেরা পর্য্যন্ত যেন একটা যাতাকলের মধ্যে পড়ে গেল, যা' থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া ভার। তাই মনে খুব স্ফূর্তি পাই না। কিন্তু independently (স্বাধীনভাবে) কেউ কিছু করতে চেষ্টা করছে, তাতে successful (কৃতকার্য্য) হচ্ছে—এমনতর খবর পেলেই মনে হয় যেন আমি লাভবান হলাম। কারণ, তার ঐ অভিজ্ঞতার এবং যোগ্যতার একটা স্থায়ী মূল্য আছে। 

 

স্বস্ত্যয়নী ব্রত-মন্ত্র, সংস্কৃত

শ্রীবিগ্রহস্ত্বং পুরুষোত্তমো মে বন্দে ত্বাং সদনুকূলচন্দ্রম্।

ত্বং হীষ্টস্তমেব পূজ্যঃ প্রতিষ্ঠায়ৈ তে নিযুনক্তুবৃত্তিঃ।।

তবানুকূলং যদি সত্যকামং মুহুঃ কৃপয়া কুরু কৰ্ম্মনিষ্ঠম্।

সন্ধিৎসয়া, সেবয়া, যাজনেন সর্ব্বাংস্তএবানুরঞ্জয়ানি।।

রোগ-শোক-গ্রহদোষ-বুদ্ধিবিপৰ্য্যয়াচ্চ মে।

দারিদ্র্যাদি-সৰ্ব্বদৈন্যাৎ মুঞ্চ মে ত্বয়ি নিষ্ঠয়া।।

শান্তিং স্বস্তিং শুভং দেহি দেহি কর্ম্মসুকৌশলম্।

দেহি মে জীবনবৃদ্ধি নিয়তং স্মৃতিচিদ্যুতে।।


স্বস্ত্যয়নী ব্রত-মন্ত্র, বাংলা

শ্রীবিগ্রহ তুমি, পুরুষোত্তম তুমি, তোমার বন্দনা করি।

অস্তিবৃদ্ধির সদা অনুকূল তুমি, নিত্য তোমারে স্মরি।

তুমিই ইষ্ট, তুমিই পূজ্য, তুমিই সকল সার।

বৃত্তি আমার দাস তব প্রভু তোমারই প্রতিষ্ঠার।।

তব অনুকূল সত্য কামনায় এই কৃপা মোরে কর।

তোমারই কর্মে নিষ্ঠায় রাখ তোমাতেই রাখ দৃঢ়।।

সন্ধিৎসা-সেবা-যাজন-সাধনে তোমারই জীবনে প্রভু।

রঞ্জিত করি সবারে সদাই বিচ্যুতি না আসে কভু।।

রোগ-শোক আর গ্রহদোষ যত বুদ্ধিবিপর্যয়ের বাধা।

দারিদ্র-দীনতা মুক্ত কর হে নিষ্ঠা আমার তোমাতেই সাধা।

শান্তি স্বস্তি শুভ দাও মোরে দাও হে কর্মের যত কৌশল।

দাও প্রভু আরও জীবনবৃদ্ধি স্মৃতি-চেতনায় সদা প্রোজ্জ্বল।


এখানোও দেখা যায় ঠাকুর প্রতিদিন নতুন নতুন কর্ম কৌশল এর কথা বলছেন যাতে নিজের যগোত্যাকে বাড়ানো যায়। এই মন্ত্রটি যারা স্বস্ত্যয়নী ব্রত পালন করেন তাদের নিত্য পালনীয়।

যখন জানলাম শ্রীশ্রীঠাকুর চাকরি করা কে অপছন্দ করতেন তখন থেকেই নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তৈরি কারার চেষ্টা শুরু করি, কিন্তু কয়েকটি উদ্যেগ নিয়েও বেশ কয়েকবার ব্যবসায়ীক ভাবে আর্থিক ক্ষতি হবার পর এখন হতাশ। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে। কার কাছ থেকে দান বা অনুগ্রহ নিয়ে বাচতে নারাজ এতে আমার যোগ্যতাকে অপমান করা হয় বলে আমার মনে হয়। তাই অনেকদিন যাবত ভাবছিলাম কি ভাবে আয় বাড়ানো যায় কারন খরচ তো দিন দিন বাড়ছেই। চাকরি তো নির্দিষ্ট কিছু বেতন ও সুজোগ-সুবিধার মধ্যে সিমাবদ্ধ।

বেশ কিছু দিন খুজতে থাকলাম আমার কি কি যোগ্যতা আছে যা কাজে লাগিয়ে কিছু বারতি আয় করা যায়। সময়ের প্রয়োজনে আমাকে আবার চাকরির পাশাপাশি খুলতে হলো বারতি কিছু আয়ের পথ, যদি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুটা ভাল থাকা যায়। প্রায় ১৬ বছরের চাকরি জীবনে বেশ কয়েকজন ভালো ও উচ্চ মনের মানুষের সাথে পরিচয় হয় তেমনি একজন অফিস বস বলেছিলেন একটি গল্প সেটা দিয়েই লেখাটি শেষ করবো.....

তুমি যদি কর্মজীবনে ভালো থাকতে চাও কখনো কর্মজীবনের সাথে অন্য জীবনের অন্য কোন অংশের আচর যাতে না পরে। তুমি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবগুলো আলাদা আলাদা ঢাকনাযুক্ত ক্যমিকাল জারের মধ্যে রাখবে, যাতে একটির গন্ধ আরেটির মধ্যে না পরে মিক্স হলেই দেখবে কিছু না কিছু বিষক্রিয়া হবেই। বিশেষ করে কর্মজীবনের কোন অসুবিধার কথা কখনোই তোমার পরিবারের কারো সাথে আলোচনা করবেনা যদিনা তারা তোমার সহ-কর্মী হয়। আবার তোমার পরিবারের কোন সমস্যার কথা তোমার সহ-কর্মীদের সাথে আলোচনা করবে না। এতে করে তুমি দুই জায়গাতেই সম্যান নষ্ট করবে।



Thursday, March 25, 2021

কর্ম ও তার কর্মফল ভোগ

সনাতন ধর্ম মতে সকলকেই তার কর্মফল ভোগ করতে হবে। পূর্ব জন্ম যেমন কর্ম করেছিলাম তখন যে কর্মফল ভোগ করা হয়নি সেই মোতাবেক আবার এই জন্মে সেইখান থেকে শুরু করতে হয়েছে।

মানুষ যে কর্ম করে তার ফল ভোগ তাকেই করতে হয়। প্রতিটি কর্মেরই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে যদি স্থান-কাল-পাত্র অপরিবর্তিত থাকে। স্থান-কাল-পাত্রের পরিবর্তনের ফলে প্রতিক্রিয়ার ধরণ ও মাত্রায় পরিবর্তন এসে থাকে। মানুষ ভাল বা মন্দ যে ধরণের কর্মই করুক না কেন -- তার ফলে তার মনের মধ্যে এক ধরণের বিকৃতি বা প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়। মন সব সময় এই বিকৃতি সরিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে চায়। যে বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মন তার পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে তাকে বলে কর্মফল ভোগ। এই কর্মফল ভোগ সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে আবার নাও হতে পারে। যে ক্ষেত্রে কর্ম করা হয়েছে কিন্তু ফল ভোগ করা হয়নি সেই অভুক্ত কর্মফলকে বলে সংস্কার। প্রতি মুহুর্তে কর্মের মাধ্যমে আমাদের মনে নতুন নতুন সংস্কার তৈরী হয়।


এই সংস্কার ভোগ ২ , ৪ দিনে হতে পারে ৫ , ১০ বা ২০ বৎসরে হতে পারে। আবার এ জন্মে না হয়ে পরবর্তী জন্মেও হতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের মনে জন্ম-জন্মান্তরের সংস্কার পুঞ্জীভুত হয়ে রয়েছে। এই সংস্কার ভোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ মুক্তি বা মোক্ষ পেতে পারে না। কর্মে আপনার অধিকার আছে , কিন্তু কর্মফল আপনার হাতে নেই। আপনি যেমন ইচ্ছা কর্ম করতে পারেন কিন্তু তার ফল প্রকৃতির হাতে। প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে কর্মের প্রতিফল আপনাকে ভোগ করতেই হবে। আমরা যে কর্ম করি তা দুই ধরণের- প্রত্যয়মূলক কর্ম ও সংস্কারমূলক কর্ম। কেউ যখন স্বাধীন ভাবে স্ব-ইচ্ছায় কোন কর্ম করে তাকে বলে প্রত্যয়মূলক কর্ম। কিন্তু যেখানে তার কোন স্বাধীনতা নেই , অবস্থার চাপে পড়ে তাকে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হয় তাকে বলে সংস্কারমূলক কর্ম।


যেমন ধরা যাক, কোন একজন চুরি করলো। চুরি করার সময় ওই লোকটির স্বাধীন ইচ্ছা কাজ করেছিল, তাই এটা তার প্রত্যয়মূলক কর্ম। এই কর্মের ফল ভোগ তাকে ভোগ করতেই হবে। যতক্ষণ না সেই কর্মফল ভোগ শেষ হচ্ছে ততক্ষণ সেই অভুক্ত কর্মফল তার মনের সংস্কাররূপে থেকে যাবে। এখন এই সংস্কার কাল পরিপক্ক হয়ে অনুকূল পরিবেশ পাওয়া মাত্রই সে হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়বে অথবা অন্য কোন প্রকারে শাস্তি পাবে। এই ভাবে সে অবস্থার চাপে পড়ে তার পূর্বকৃত কর্মের ফল ভোগ করবে। এখানে তার স্বাধীন ইচ্ছা কাজ করে না। তাই এটা তার সংস্কারমূলক কর্ম।


মানুষের ক্ষেত্রে এই সংস্কার তিন ধরণের হয়ে থাকে :--

) জন্মগত সংস্কার :- এক বা একাধিক পূর্বজন্মের অর্জিত বা সৃষ্ট সংস্কারকে এই জন্মের জন্মগত সংস্কার বলে।

) অর্জিত সংস্কার :- এই জন্মের প্রত্যয়মূলক কর্মের দ্বারা সৃষ্ট সংস্কারকে অর্জিত সংস্কার বলে।

) আরোপিত সংস্কার :- যে দেশ, জাতি , সমাজ বা পরিবেশে মানুষ জন্ম নেয়, লালিত-পালিত হয় বা যে পরিবেশে মানুষ থাকে সেই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত বা সৃষ্ট সংস্কারকে বলে আরোপিত সংস্কার।


যেমন :- কোন ছেলে বস্তিতে জন্ম নিয়েছে আর তার বাবা মা খুব ঝগড়াটে। তাহলে ওই ছেলেও একটু বড় হয়ে ঝগড়া বা গালাগালি করতে শিখবে। এটা তার বাবা-মায়ের পরিবেশ দ্বারা আরোপিত সংস্কার।


ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, শ্রেষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে উত্তম হইতে পারবে না, কিন্তু যে উত্তম হয়, সে সবসময় শ্রেষ্ঠ; তাকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না। সেই জন্য তুমি শ্রেষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা না করে উত্তম হও অর্জুন