The Web This Blog

Thursday, April 16, 2020

বাঙ্গালী হিন্দুদের জাতিভেদ ও পদবী সমূহ

~~ প্রথম অংশ ~~

আমাদের হিন্দু সমাজে প্রধান চারটি বর্ণ প্রচলিত আছে। () ব্রাহ্মণ () ক্ষত্রিয় () বৈশ্য ও () শূদ্র। সাধারনত ধরে নেয়া হয় বা বর্তমানে প্রচলিত হয়ে গেছে যে একজন ব্রাহ্মণের সন্তানই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়ের সন্তানই ক্ষত্রিয়, বৈশ্যের সন্তানই বৈশ্য, শূদ্রের সন্তানই শূদ্র হবে। আসলে ঘটনাটি কি তাই? এটাই আজকে জানার চেষ্টা করবোকোন বর্ণ বা প্রথাকে আঘাত করার জন্য নয়। নিজের জানার চেষ্টা থেকেই লেখার উৎসাহ।

শুরুতেই যুগোপুরুষোত্তম পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের একটি বাণী দিয়ে শুরু করছি-
শূদ্রই তো জাতির চাকা,
বৈশ্য জোগায় দেশের টাকা
ক্ষত্রিয়েরা রাজার জাত,
সবার পুরণ বিপ্র ধাত।

বর্ণপ্রথা সম্পর্কে যুগোপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞানযোগ অধ্যায়ে ত্রয়োদশ শ্লোকে বলেছেন :-
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ ।
তস্য কর্তারমপিমাং বিদ্ব্যকর্তারসব্যয়ম।
অর্থাৎ, প্রকৃতির তিনটি গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি মানব-সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এর স্রষ্টা হলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে। 
এই সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই আমাদের সহজ ভাষায় জানা উচিৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য বা শূদ্র কারা~
) ব্রাহ্মণঃ- যিনি বা যারা ব্রহ্মজ্ঞানে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এবং যিনি সত্ত্বঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
মনুসংহিতার বর্ণনা মতে ব্রাহ্মণ ‘ব্রহ্মা’-এর মুখ থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। তাই তারা ঈশ্বরের বা ব্রহ্মার পক্ষ থেকে কথা বলতে পারেন। ‘ব্রহ্মা’ ব্রাহ্মণদের জন্য ছয়টি কাজ বা দায়িত্ব দিয়েছেন। ‘‘অধ্যাপন মধ্যয়নং সজমং জাজসং তথা দানং প্রতিগ্রহেবওব ব্রাহ্মণা নাম কলপয়ৎ।’’ যার অর্থ সৃষ্টিকর্তা বলছেন ব্রাহ্মণরা অধ্যায়ন, অধ্যাপনা, যজন, যাজন, দান এবং প্রতিগ্রহ এই ছয়টি কর্তব্য পালন বা ধারন করবেন

) ক্ষত্রিয়ঃ- যিনি বা যারা শাসক বা যোদ্ধা সম্প্রদায়ভুক্ত এবং যিনি রজঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত।
মনুসংহিতার বর্ণনা মতে ক্ষত্রিয়রা যেহেতু ঈশ্বরের বা ব্রহ্মার বাহু থেকে সৃষ্টি হয়েছে, তাই তাদের কাজ হল প্রজা প্রতিপালন, দান, অধ্যয়ন ও কর্তব্য পালন করা। ‘‘প্রজানং রক্ষণং দান মজ্যিধ্যিয়ন সেবচ, বিষয়ে প্রশক্তির ক্ষত্রিয়ানাদ সমাগত।’’ যার অর্থ সৃষ্টিকর্তা ক্ষত্রিয়দের জন্য প্রজা প্রতিপালন, দান, অধ্যায়ন, যজ্ঞ ইত্যাদি কর্তব্য নির্ধারন করছেন

) বৈশ্যঃ- যিনি বা যারা ব্যবসায় সম্প্রদায়ভুক্ত এবং যিনি রজঃ ও তমঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত
মনুসংহিতা বর্ণনা মতে, ‘‘পশু নাং রক্ষণং দান মজ্যিধ্যয়ন সেবচ, বণিক পথং কুসীদঞ্চ বৈশ্যম্য কৃষি সেবচ।’’
যার অর্থ সৃষ্টিকর্তা বৈশ্যের জন্য পশু পালন আর রক্ষা, দান, যজ্ঞ, অধ্যায়ন, বাণিজ্য, কৃষিকর্ম এ সব কর্তব্যের পকিল্পনা করছেন

) শূদ্রঃ- যিনি বা যারা শ্রমজীবী সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি এবং যিনি তমঃ গুণ দ্বারা প্রভাবিত
মনুসংহিতায় বর্ণনা মতে শূদ্ররা ঈশ্বরের বা ব্রহ্মার পা থেকে সৃষ্টি হয়েছে, তাই এ বর্ণের লোকদের একমাত্র কাজ হল ব্রাহ্ম, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের সেবা করা। ‘‘একসেব তুশুদ্রস্য প্রভু কর্ম সমদিশৎ এতষসেব বর্ণনাং শুশ্রুষামন সুয়ায়া।’’ যার অর্থ সৃষ্টিকর্তা শূদ্রের জন্য একটি মাত্র কর্তব্য পরিকল্পনা করলেন, আর তাহলো ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন বর্ণের লোকদের সেবা করা এবং তাদের আদেশ পালন করা।
দ্বাপার যুগে দেখা যায় জাতিভেদ প্রথা ছিল শুধু গুণ ও কর্মগত, তখনও জন্ম গত ভাবে এই জাতিভেদ প্রথা সম্পূর্ন গড়ে ওঠেনি। উদাহরন হিসবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লৌকিক পিতা বসুদেব ছিলেন একজন ক্ষত্রিয় রাজা, তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা গর্গমুনি ছিলেন বিপ্র তথা ব্রাহ্মণ, আবার তাঁর অন্য জ্ঞাতি কাকা নন্দ, উপনন্দ ছিলেন দুই জনেই কর্ম সূত্রে গোয়ালা অর্থাৎ বৈশ্য।
ঋগবেদের ১.১১৩.(মন্ডল-সূক্ত-শ্লোক) শ্লোকের ভাবার্থ অনুসারে, “একজন জ্ঞানের উচ্চ পথে ব্রাহ্মণ, অপরজন বীরত্বের গৌরবে ক্ষত্রিয়, একজন তার নির্দিষ্ট পেশাভিত্তিক বৈশ্য, আরেকজন সেবার পরিশ্রমে শূদ্র। সকলেই তার ইচ্ছামাফিক পেশায়, সকলের জন্যই ঈশ্বর জাগ্রত।”

ঋগবেদের ৯.১১২.১ শ্লোকের ভাবার্থ অনুসারে, “একেকজনের কর্মক্ষমতা ও আধ্যাত্মিকতা একেক রকম আর সে অনুসারে কেউ ব্রাহ্মণ কেউ ক্ষত্রিয় কেউ বৈশ্য কেউ শূদ্র।”

একজন শূদ্রের পূত্র যেমন ব্রহ্মজ্ঞানে দীক্ষিত হয়ে ব্রহ্ম জ্ঞান লাভ করে তাহলে সে ব্রাহ্মণ হবে এবং ঠিক সেভাবেই সেই ব্রাহ্মণের পুত্র যদি শ্রমবিক্রি করে জীবনযাপন করে তাহলে সে শূদ্র হবে। কারন এই যে বর্ণ বিভাজন এটা কিন্তু জন্মভেদে নয় কর্মভেদে। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে বর্ণ বিভাগের কথা বলেছিলেন সেই বর্ণ বিভাগ ও পৌরাণিক হিন্দু ধর্মের জাতিভেদ প্রথা কিন্তু এক নয়। মানসিকতার বিচারে দেখলে বর্ণভেদ সংস্কারগত কর্মের দ্বারা গুণ অর্জনের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল। অপরদিকে জাতিভেদ প্রথা হচ্ছে সুবিধাবাদী, কিছু স্বার্থপর মানুষের সৃষ্টি জন্মগত ও অপরিবর্তনীয়। জাতিভেদ প্রথার নিয়ম অনুসারে দেখা যাচ্ছে শূদ্রের ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই তিনি শূদ্র, আর ব্রাহ্মণের ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই তিনি ব্রাহ্মণ বলে গণ্য হচ্ছে।
ব্রাহ্মণ সম্পর্কে, ঋগবেদের ৭.১০৩.৮ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, “যে ঈশ্বরের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত, অহিংস, সত্য, নিষ্ঠাবান, সুশৃঙ্খল, বেদ প্রচারকারী, বেদ জ্ঞানী সেই ব্রাহ্মন।”
ক্ষত্রিয় সম্পর্কে, ঋগবেদের ১০.৬৬.৮ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, “দৃঢ়ভাবে আচার পালনকারী, সত্‍কর্মের দ্বারা শুদ্ধ, রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন, অহিংস, ঈশ্বর সাধক, সত্যের ধারক ন্যায়পরায়ন, বিদ্বেষমুক্ত ধর্মযোদ্ধা, অসত্‍ এর বিনাশকারী সেই ক্ষত্রিয়।”

বৈশ্য সম্পর্কে, অথর্ববেদের ৩.১৫.১ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, “দক্ষ ব্যবসায়ী দানশীল চাকুরীরত এবং চাকুরী প্রদানকারী সেই বৈশ্য।”

শূদ্র সম্পর্কে, ঋগবেদের ১০.৯৪.১১ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, “যে অদম্য, পরিশ্রমী, অক্লান্ত জরা যাকে সহজে গ্রাস করতে পারেনা, লোভমুক্ত কষ্টসহিষ্ণু সেই শূদ্র।”

এজন্যেই পবিত্র ঋগবেদের ৫.৬০.৫ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাসো এতে সংভ্রাতরো বাবৃধূঃ সৌভগায়। যুবা পিতা স্বপা রুদ্র এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভ্যঃ।”
ভাবার্থ, কর্ম ও গুনভেদে কেউ ব্রাহ্মণ, কেউ ক্ষত্রিয়, কেউ বৈশ্য, কেউ শূদ্র। তাদের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোটও নয়।ইহারা ভাই ভাই। সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে। ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্ম ঈশ্বর এবং জননীরুপা প্রকৃতি।পুরুষার্থী সন্তানই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।

কলিযুগের প্রথম থেকে ভারতীয় হিন্দু সমাজে ধীরে ধীরে ক্ষত্রিয় প্রাধান্য শেষ হয়ে বিপ্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। সেই সময় কিছু সুবিধাবাদী স্বার্থপর রাজা এবং ধর্মগুরুরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে এবং অজ্ঞ সাধারণ ধর্মভীরু মানুষদের যুগ যুগ ধরে বংশপরাম্পরায় মানস অর্থনৈতিক শোষণ করার জন্যে এই জাতিভেদ প্রথাকে জন্মগত বলে ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠা করেতখন থেকেই তারা মূলত শূদ্র ও নারীদের বিভিন্ন প্রকার ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক এমনকি মানবিক অধিকার পর্যন্ত হরণ করে বিভিন্ন ধরণের বিধি-নিষেধ আরোপ করতে থাকেন। তারাই আইন কর ঘোষণা করে বেদ, ব্রহ্ম ও ব্রাহ্মণের শ্রেষ্ঠত্ব সকল মনুষকে মানতে হবে। যারা এই নিয়ম মানবে তারা আস্তিক আর যারা মানবে না তারা নাস্তিক। ইতিহাস থেকে পাওয়া যায় সেই সময়ে তারা বেদ লিপিবদ্ধ করে ও তাদের এই সব বিধি-নিষেধ স্বয়ম্ভূব মনু রচিত বলে মনুসংহিতার নামে সংকলিত করে।


Monday, March 30, 2020

ভগবান কে, ঈশ্বর কে?


যদি ১০ জন হিন্দু ধর্মের মানুষকে প্রশ্ন করা হয় তোমার ভগবান কে..? তাদের থেকে নানান রকম উত্তর পাওয়া যাবে। কেউ বলবে শিব ভগবান, কেউ বলবে ব্রহ্মাই একমাত্র ভগবান, কেউ বলবে ভগবান শুধু রাম চন্দ্র, কেউবা বলবে কৃষ্ণই পরমপশ্বর ভগবান, কেউ বলবে কালি-দূর্গা ভগবান, আর কেউ বলবে গৌরঙ্গ মহাপ্রভূ ভগবান ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে কি সনাতন ধর্ম বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী..? নাকি সনাতন ধর্ম এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী? এর উ্ত্তর খুজে পাচ্ছি না, আপনি কি জানেন?

যতটুকু জানি অন্যান্ন ধর্ম মতের মতই সনাতন ধর্মে বহু ঈশ্বরের কোন স্থান নেই। আজকের প্রশ্ন দুটির উত্তর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের এই সম্পর্কিত দুইটি বাণী দিয়ে শুরু করলাম।

ভগবান তবে কে?
ভজন-দীপন জীবন-স্রোতা
কল্যান-কল যে।

ঈশ্বর তবে কে?
ধারন-পালন-সম্বেগ-সিদ্ধ
উৎস-স্রোত যে।

সনাতন ধর্ম মানব কে দুই ভাবে উপাসনা করার পথ দেখিয়েছে, এক সাকার উপাসনা এবং দুই নিরাকার
উপাসনা, যারা ভগবানে সিমাবদ্ধ তারা রুপের উপাসনা করে আর যারা ঈশ্বরের মাহাত্ত জানতে চায়
তারা ঈশ্বরের সাকার আর নিরাকারের পার্থক্য বুঝতে পারে এবং ওই ভাবেই উপাসনার চেষ্টা করে।

পরাশর মুনি “ভগবান” বলতে বলেছেন-
ঐশ্বর্য্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রিয়ঃ ।
জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষন্নত্ ভগ ইতিঙ্গনা ॥

অর্থাৎ, যার মধ্যে ঐশ্বর্য্য, বীর্য্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান এবং বৈরাগ্য এই ছয়টি গুন পূর্ণমাত্রায় বর্তমান, তিনি হচ্ছেন ভগবান সমস্ত ঐশ্বর্য্য, সমস্ত বীর্য্য, সমস্ত যশ, সমস্ত শ্রী, সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত বৈরাগ্য। এই জগতে কেউ বড় ধনী হতে পারে, কিন্তু কেউ দাবী করতে পারেনা আমি সমস্ত ধনের মালিক। এই জগতে কেউ জ্ঞানী হতে পারে, কিন্তু সে দাবী করতে পারে না সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী। কিন্তু ভগবান সমস্ত ধন, সমস্ত জ্ঞান, সমস্ত সৌন্দর্য্য, সমস্ত যশ, সমস্ত শক্তির অধিকারী, তাই তাকে বলা হয় ভগবান।

পরাশর মুনি “ভগবান” শব্দটি দুটি ভাগে ভাগ করেছেন । “ভগ” অর্থ ঐশ্বর্য্য ও “বান” অর্থ অধিকারী, যার আছে তিনিই মানুষের কাছে ভগবান। ঠিক যেভাবে যার সুন্দর রূপ আছে - আমরা তাকে বলি রূপবান, যার ধন আছে ধনবান, ঠিক তদ্রুপ যিনি ভগ অর্থাৎ সমস্ত ঐশ্বর্যের অধিকারী তাকে বলা যেতে পারে ভগবান।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভাববাণীর একপ্ততিতম (৭২) দিবস, ২৪ জৈষ্ঠ, ১৩২৬ সনের প্রথম দুইটি বাণী,
না, তখন আলোর সৃষ্টি হয় নাই, অন্ধকার ছিল না, সৌরজগতের উদ্ভব হয় নাই। তিনি একা ছিলেন, ইচ্ছা হ'লো সৃষ্টি করতে-আর সব সৃষ্টি হ'লো। তিনি ছিলেন আর আমি ছিলাম।
আমিই তিনি, আমাই তিনি, আমিই তিনি।

সনাতন ধর্মের প্রধান গ্রন্থ বেদ, সেখানে বলা হচ্ছে, যাহা প্রতিটি হিন্দুদের তেমনি অনুসরণীয় ও পালনীয়।

নোপাস্যমন্যদ্ ব্রহ্মণো ব্রহ্মৈকমেবাদ্বিতীয়ম্।
তথাগতাস্তদ্বার্ত্তিকা অভেদাঃ।
তথাগতাগ্রোহি বর্ত্তমানঃ পুরুষোত্তমঃ পূর্ব্বেযামাপূরয়িতা বিশিষ্ট-বিশেষবিগ্রহঃ।

অর্থাৎ, ব্রহ্ম ভিন্ন আর কেহ উপাস্য নহে- ব্রহ্ম এক অদ্বিতীয়।
তাঁহার বার্ত্তাবহনকারী তথাগতগণ অভিন্ন।
বর্ত্তমান পুরুষোত্তম তথাগতগণের অগ্রণী এবং তিনি পূর্ব্ব-পূর্ব্ব তথাগতগণের আপূরণকারী বিশেষ বিশিষ্ট নরবিগ্রহ। 
 
শ্রীভগবদগীতা দশম অধ্যায়ের অষ্টমতম শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই ধোঁয়াশাটা অনেকটাই পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
অহং সর্বস্য প্রভবঃ মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে
ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধাঃ ভাবসমম্বিতাঃ ॥

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্ননা করেছেন, আমি জড় ও চেতন সমস্ত কিছুর উৎস ও সবকিছু আমার কাছ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। সেই তত্ত্ব অবগত হয়ে যারা শুদ্ধ ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন তারাই যথার্থ তত্ত জ্ঞানী। অর্থাভগবান হচ্ছেন সবকিছুর স্রষ্টা, সবকিছুর পালন করেন এবং তিনি সবকিছু সংহার করতে পারেন। এভাবে ভগবানের সর্বশক্তিমত্ত্বা সর্ম্পকে শাস্ত্রে বর্ননা করা হয়েছে। ভগবানকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে সম্বোধন করে থাকেন। তাই ঈশ্বর শব্দটির অর্থ আমাদের জেনে রাখা দরকার

বিভিন্ন শাস্ত্র শব্দ কোষ অনুসারে ঈশ্বর শব্দের অর্থ হচ্ছে - নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ন্ত্রণ কর্তা অর্থা যিনি সকলকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। এই জগতের প্রতিটি জীবের সীমিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে, তাই তারা নিজেকে ঈশ্বর বলে মনে করতে পারে বা দেবতাদেরকে ঈশ্বর বলে গ্রহন করা যেতে পারে। যেহেতু তারা এই ব্রহ্মান্ডের কোনও না কোন কার্যের নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। কিন্তু ঈশ্বরকে যিনি নিয়ন্ত্রন করেন সেই পরমেশ্বরকে জানাই হচ্ছে জীবনের লক্ষ্য। পরমব্রহ্ম বা পরম ঈশ্বরকে নিয়ন্ত্রন করে থাকেন, তিনিই ভগবান।
শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণ গ্রন্থে বলেছেন, ভগবানকে জানা মানেই সমস্তটাকে বুঝা বা জানা। যাঁর কোন মূর্ত্ত আদর্শে কর্মময় অটুট আসক্তি-সময় বা সীমাকে ছাপিয়ে তাঁকে সহজভাবে ভগবান করে তুলছে- যার কাব্য, দর্শন ও বিজ্ঞান মনের ভাল-মন্দ বিছিন্ন সংস্কারগুলিকে ভেদ ক'রে ঐ আদর্শেই সার্থক হ'য়ে উঠেছে-তিনিই সদগুরু।


লেখাটি সম্পূর্ন আমার নিজির মত ভাবা ও লেখা, কারও ধর্মীয় বিশ্বাস বা ভক্তিতে আঘাত করার জন্য নয়। তাই কেও এই লেখাটি পড়ে ভুল বুঝে থাকেন তাহলে সেটা আকান্ত তার ব্যক্তিগত।