The Web This Blog

Sunday, June 23, 2019

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা ( দ্বিতীয় দৃশ্য)


                                                         ~~ দ্বিতীয় দৃশ্য ~~


সকালে কিছুটা দেরিতে ঘুম ভাঙ্গে উদয়ের, এই ফাকে প্রিয়া স্কুলে চলে গেছে। উদয় বুঝতে পারে কিছু একটা পরিবর্তন হয়ে গেছে সকালের মধ্যেই। মামির ব্যবহারে রাতের ঘটনা মামি কিছুটা বুঝতে পেরেছে বলে উদয়ের মনে হলো। সে কিছুটা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো।

উদয়ের মাসি বাড়ি ছিল পাসের গ্রামেই, উদয় সেদিন তার মাসিকে নিয়ে তার মাসি বাড়ি গেল কয়েকদিন থাকবে বলে। একদিন যেতেই তার মনে হলে সে বোধ হয় কোন জেলখানায় আছে। কোন কিছুই যেন তার আর ভাল লাগছে না। কি যেন একটা পরিবর্তন মনে হচ্ছে তার কাছে, সবকিছু বিরক্তিকর। প্রথম প্রেমে পরলে যা হয় আর কি। প্রেম রোগ বলে কথা, যার একটাই ঔষধ মনের মানুষের সাথে সময় কাটানো। 
 
এখানে বসেই সে একটি গান শুনতে পেল ব্যান্ড মাইলস এর জনপ্রিয় একটি গান, যেটা তার জীবনের সেরা দশটি গানের মধ্যে একটি। সেই গানটিকে উদয়ের মত করে লিখে প্রিয়াকে উপহার দিল, যেহেতু প্রেমে পরলে মিথ্যা বলতে হয়। উদয়ও মিথ্যার আশ্রয় নিল। এই গানটিকে কবিতার আকারে লিখে প্রিয়াকে বললো তোমার জন্য একটি কবিতা লিখেছি। জীবনের প্রথম কবিতা।


প্রথম প্রেমের মত, প্রথম কবিতা এসে বলে
আমাকে হাত ধরে নিয়ে চলো, অনেক দূরের দেশে

কত পথ প্রান্তর ঘুরে ফিরেছি
পাইনিতো আজো তোমায় গো, 
সেই পথ চলা শেষ হলে
কাছে এসে যেও বলে
এই তো আমি, এই তো আমি

প্রথম প্রেমের মত, প্রথম কবিতা এসে বলে
আমাকে হাত ধরে নিয়ে চলো, অনেক দূরের দেশে।
 
তোমারই আশায় বসে থেকেছিনাম ধরে ডাক দিলে কে গো তুমি,
ফিরে এলে আজ কাছে
ভালোবাসা যত আছে
দিলাম তুলে, দিলাম তুলে
 
প্রথম প্রেমের মত, প্রথম কবিতা এসে বলে
আমাকে হাত ধরে নিয়ে চলো, অনেক দূরের দেশে


উদয় সারাদিন ভাবতে থাকে কি ভাবে মামা বাড়ি যাওয়া যায় কারন সমস্যা হলো সে কি ভাবে যেতে হবে তা জানে না। এটাই ছিল তার প্রথম মাসি বাড়ি আসা। রাস্তা ঘাট সবই তার অচেনা। যত কষ্টই হোক যেতে হবে তাকে তার প্রিয়ার কাছে। সে কাউকে কিছু না বলেই রওনা হলো তার প্রিয়ার সাথে দেখা করতে। নদী পথ লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে নৌকা, পায়ে হেটে ঠিকই পৌছে যায় তার গন্তব্যে।

Saturday, June 22, 2019

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা ( প্রথম দৃশ্য)


                                                        ~~ প্রথম দৃশ্য ~~


একদিন দুপুরে উদয় প্রিয়ার পড়ার ঘরে বসে ছিল, প্রিয়া স্নান শেষ করে আসলেই তাকে বলতে হবে। প্রিয়ার মা রান্না ঘরে ব্যাস্ত রান্নার কাজে। এটাই সঠিক সময় প্রিয়াকে মনের সকল কথা বলার জন্য। উদয় অপেক্ষা করতে থাকে কিভাবে ভালবাসার কথাটি প্রিয়াকে বলা যায়, মনে একটা ভয়ও কাজ করতে থাকে প্রিয়া তা সঠিক ভাবে গ্রহন করবে নাকি মামি কে বলে দেবে। 
 
এমন সময়ই প্রিয়া এসে হাজির হলো ঘরে, ভেজা চুল ও ভেজা শরীরে জলের দাগ দেখা যাচ্ছে। শরীরে কোন ওড়না না থাকায় প্রিয়াকে শিশির ভেজা লাল গোলাপ ফুল মনে হচ্ছে উদয়ের কাছে। উদয় প্রিয়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং কানে কানে বলে তার জীবনে সব থেকে কঠিন কথাটি “আমি তোমাকে ভালবাসি”। বলার সাথে সাথেই মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজটি আজ উদয় করে ফেলেছে।
 
প্রিয়া কিছুক্ষন চুপ থেকে, তারপর তার সেই পাগল করা হাসি, যে হাসি দিয়েই সে পৃথিবী জয় করতে পারে। সত্যিই কি আমাকে ভালবাস, নাকি আবেগে বলছো? উদয় কিছুই বলতে পারে না, আমি কিছু জানি না, শুধু জানি আমি তোমাকে ভালবাসি। বেশি পাগলামি করোনা তাহলে আমার মা কে বলে দিবো। উদয় বলে যদি আমাকে ভাল না বাস তাহলে তুমি বলে দিয়। প্রিয়া বলে এখন যাও আমি জামা পরিবর্তন করবো, মা চলে আসতে পারে, তোমার সাথে পরে কথা বলবো। 
 
সেদিন সারাদিন প্রিয়া ও উদয় একে ওপরের সাথে আর কথা বলে না। উদয় মনে মনে তার পজেটিভ উত্তর আসার অপেক্ষায় থাকে। রাতে খাবার সময় সবাই এক সাথে বসে খাবার খেতে। উদয়, প্রিয়া, প্রিয়ার মা, ঠাকুর দাদা ও ঠাকুর মা। উদয় কোন কথা বলছে না দেখে মামী জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে তোর। প্রিয়ার সাথে ঝগরা করেছি কিনা। প্রিয়া সাথে সাথে বলে না না আমি ঝগরা করি নাই, তোমার ভাগিনা বড় হয়ে গেছে, এখন বিয়া দিয়া দেও। প্রিয়ার ঠাকুর মা বলে সময় হলে ঠিকই করাবো। কেন তুই বিয়া বসবি নাকি আমার নাতির সাথে। বলতো দিয়া দিই। উদয় ভয় পায় তাহলে কি প্রিয়া সবাইকে বলে দিয়েছে দুপুরের কথা। 
 
খাওয়া শেষে সবাই ঘুমাতে যায়। প্রিয়া ও তার মা এক রুমে। উদয় তার দাদু-দিদিমার সাথে ঘুমায় পাসের ঘরে। কিছুতেই যেন উদয়ের ঘুম আসে না। শুধু লক্ষ করছে কখন পাসের ঘরে মামি কখন ঘুমায় তাহলে প্রিয়াকে কিছু বলতে পারবে। মাঝ রাতে প্রিয়ার ঘুম কিছুটা ভেঙ্গে যায়, উদয় বুঝতে পেরে আস্তে আস্তে প্রিয়ার কাছে যেতে চায়। মনে ভয় ও সংকজ কাজ করছে যদি কেও দেখে ফেলে তাহলে দুই জনেরই বদনাম হবে। অনেক চিন্তা ভাবনা করে বুকে সাহস নিয়ে প্রিয়ার কাছে যায়, প্রিয়ার মাথার কাছে চুপ করে বসে থাকে কিছুক্ষন। উদয় বুঝতে পারল প্রিয়াও চায় কিছু বলতে সেও ও ঘুমায়নি। উদয় প্রিয়ার কানের কাছে তার মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে বলল I LOVE U । প্রিয়া কিছুটা মুচকি হাসল। উদয় প্রিয়ার গালে আলতো করে একটা চুমু দিল এবং আবার আস্তে আস্তে বলল I LOVE U । তারপর চলে গেল ঘুমাতে।

প্রথম প্রেম ও প্রথম কবিতা

আমার এই লেখাটি প্রয়াত জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্যার কে উৎসর্গ করলাম। কারন তার লেখা পড়েই আমার লেখার অনুপ্রেরণা। গল্পের চরিত্রগুলো কাল্পনিক তাই কারও জীবনের সাথে মিলে গেলে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত ও কাকতালীয়।

                                                    ~~ সূচনা ~~

গল্পের পটভূমি বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের কোন এক বিকাল থেকে শুরু। গল্পের দুই প্রধান চরিত্র নায়ক উদয় আর নায়িকা প্রিয়া, তাদের দুইজনকে ঘিরেই গল্পের সকল কিছু। 
 
পরিচিতি:- নায়ক উদয় একজন নরম মনের সহজ সরল ছেলে। শহরের সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে বড় হয়ে উঠা। কোন মেয়ে কিছুটা হাসি মুখে কথা বললেই মনে হয় কিছু কি একটা হয়ে গেল নাকি!! সবেমাত্র এস এস সি পরীক্ষা শেষ করেছে তাই ভবিষ্যত জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার মনে। জীবনে অনেক মেয়েকে ভাল লেগেছে কিন্তু ভালবেসেছে একজনকেই। বসবাস ঢাকার এর লালবাগ এলাকায়।

অপরদিকে, নায়িকা প্রিয়া একজন চঞ্চলা, ধনী কিন্তু ভাল মনের মেয়ে। সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ও মানুষ ও তাকে খুব ভালবাসে। মফস্বল শহরে বড় হয়ে উঠা, বাবা সিঙ্গাপুর থাকে। এক বাপের এক মেয়ে বিধায় খুবই আদরের। বসবাস নারায়নগঞ্জ এর সোনারগাঁও গ্রামে। 
 
দুই জন সম্পর্কে পিসতুতো-মামাতো ভাই বোন। উদয় ও প্রিয়ার বয়সের পার্থক্য প্রায় দুই বছরের মত।ছেলেটি প্রতি বছরই বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করে তার মামা বাড়ীতে বেড়াতে যেত। যেহেতু অনেক দিন পর পর যায় তাই মামা-মামি, দাদু-দিদিমা ও অন্যরা খুবই আদর করে। ভাই-বোন হিসাবে এক সাথে খেলাধুলা দুষ্টামি সবকিছু হয় তবে কেও তেমন কোন বাধা দেয় না ছোট মানুষ মনে করে। 
 
গত দুই-তিন বছর মামা বাড়িতে যেতে পারেনি উদয় এস এস সি পরিক্ষার কারনে। সে সময় এস এস সি পরীক্ষাকে বেশ কঠিন ভাবেই দেখা হতো তার উপরে উদয় ছিল আবার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। এস এস সি পরীক্ষা শেষ করেই উদয়ের হাতে এখন অনেক সময় তাই মামা বাড়ি, মাসি বাড়ি বেড়াতে যাওয়া যেতেই পারে। যেমন ভাবা তেমন কাজ, সে একদিন চলে গেল মামার বাড়ি। সবাই তখন ভিশন খুশি, সবাই খোজ খবর নিতে থাকে বাসার সবাই কেমন আছে, পরীক্ষা কেমন হলো ইত্যাদি ইত্যাদি। তখনও প্রিয়া দিবা নিদ্রায় ছিল। মামি তাকে ডেকে তুলে বলে দেখ কে এসেছে, প্রিয়া চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসে উদয়কে দেখে একটি মিষ্টি হাসি দিয়ে জিজ্ঞাস করলো কেমন আছো তুমি? কখন আসলে
 
প্রিয়া সবে মাত্র নবম শ্রেনীতে, বেশ কয়েক বছর পর প্রিয়াকে দেখা, শরীরে ও মনের দিক দিয়ে প্রিয়া এখন বেশ বড়। সেই হাসি ও সেই জিজ্ঞাসা উদয় বাকি জীবনেও ভুলতে পারেনি। সেদিন প্রিয়ার গায়ে পরা ছিল হালকা গোলাপি রংগের সুতি কামিজ ও হাফ প্যান্ট, গায়ে কোন ওড়না না থাকায় শুধু কামিজে প্রিয়া কে আরো অনেক বেশি আকর্ষনীয় মনে হয়ে ছিল। প্রথম দর্শনে ভালো লাগা বা প্রেমে পরা যাকে বলে। প্রিয়া তাকে ভালবাসে কিনা বুঝে উঠার আগেই উদয় তাকে ভালবাসার কথাটি বলতে চায় এবং সুযোগ খুজতে থাকে। 
 

Wednesday, May 15, 2019

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমার লেখা পড়া

আমি বাংলাদেশের একজন অতি সাধারন ছাত্র। এখন একজন ছাত্রীর বাবা। শিক্ষা জীবন শুরু করি সিরাজুল ইসলাম একাডেমী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে। ১৯৮৮ ইং সনের ১লা জানুয়ারি (সম্ভাব্য) ভর্তি হই প্রথম শ্রেনী তে রোল নং ৪১, শাখা ক-তে। শ্রেনী শিক্ষিকা ছিলেন ছাবিহা খাতুন ম্যাডাম। যতটুকু প্রথম দিনের ঘটনা মনে পরে আমার ছোট কাকা বিজয় কুমার সরকার আমাকে নিয়ে যায় বিদ্যালয়ে, একটি বা দুইটি ক্লাস করার পর কান্না কাটি শুরু করি তারপর বাড়ি চলে আসা। আমাদের দ্বিতীয় শ্রেনী পর্যন্ত পাঠ্য বিষয় ছিল চারটি বাংলা, গণিত, পরিবেশ পরিচিতি সমাজ, ধর্ম। আমাদের সময় বিদ্যালয়টি ছিল L সেপ এক তলা, এখন তিন তলা বিশিষ্ট বিশাল ভবন। 
 
কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল বিল্লাল, আনিস, ইকবাল উল্লেখযোগ্য যারা সমসময় এক সাথে চলা ফেরা শুরু করি। খুব মজার একটি ঘটনা মাঝে মাঝে মনে পরে এখনও। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনীতে পড়া কালীন আমরা ছিলাম বিদ্যালয়য়ের সবচেয়ে দুষ্ট কিন্তু মেধাবী ছাত্রের দল। আনিস ছাড়া আর কেও আমাদের ছবি আঁকতে পারতো না। তাই চারু কলা পরিক্ষার খাতায় আমাদের সকল ছবি আনিস ই আঁকত আর আমরা চুপ চুপ বসে থাকতাম। তখন আমরা আরেকটি কাজ করতাম এই তিন চার জন মিলে নাস্তা কিনে আনতাম ড্যানিস, বন রুটু, বাটার বান ইত্যাদি যা পরীক্ষা শেষ হলে খাওয়া দাওয়া করে পরীক্ষা হল থেকে বেরা হতাম। 
 
১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হই, পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টি ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই বিদ্যালয় থেকেই ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞান শাখা থেকে এস এস সি পরিক্ষায় অংশগ্রহন করি এবং ১৯৯৯ সালে ৬১২ নাম্বার নিয়ে ১ম বিভাগে উর্ত্তীণ হই। অনেক আশা ছিল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবো যদিও যোগ্যতা ও সামর্থ কোনটাই ছিল না।

এস এস সি পরিক্ষার পর থেকেই শুরু করি শিক্ষকতা পেশা, ভালই নাম ডাক হচ্ছিল আমার রাম স্যার হিসাবে। তারপর সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হই একাদশ শ্রেনীতে এবং ২০০১ সালে পাস করি এইচ এস সি বানিজ্য বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে। ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিনে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বি বি এস পাস করি। তারপর যদিও কবি নজরুল সরকারি কলেজে ভর্তি হই সেখান থেকে আর্থিক অনটনের কারনে আর মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়া হলো না। 
 
এই হচ্ছে আমার জীবনের লেখা পড়ার ইতিহাস। আজকে এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের এই ছোট দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে যেমন নিয়ম নীতি পরিবর্তন হয় তেমন শিক্ষা ব্যবস্থারও ব্যপক পরিবর্তন হয়। 
 
একটি দেশের শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড এটা নানা ভাবে আমরা জেনেছি, তাহলে কেন বার বার বাংলাদেশের এই মেরুদন্ড ভাংগা হচ্ছে, কি তার সার্থ, কার ই বা লাভ। ছোট বেলায় আমার ঠাকুর দাদা বা নানা রা বলতেন আমদের সময় এমন লেখা পড়া ছিল তোরা তো কিছুই দেখস নাই পারস ও না। আমরা যারা ২০ বছর আগে এস এস সি পরিক্ষায় পাশ করেছি এখনকার ছেলে মেয়ে দের বলতে ইচ্ছা করে তোমরা তো কিছুই পার না। আমাদের সময় যেই কঠিন পরীক্ষা হত। ১৯৯৮ সালে এস এস সি পরীক্ষায় পাস করেছিল ৪৭.৯৬% এখন ২০১৮ সালে পাশ করে প্রায় ৯০% এর মত। তাহলে শিক্ষার মান তো ভাল হয়েছে বলা যায় না কি
 
সবচেয়ে দূঃখ লাগে যখন দেখি প্রাইমারী পাস করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক তারপর বিশ্ববিদ্যায় তারপর কর্ম জীবন লেখা পড়ার কোন স্তরের সাথে উপরের কোন স্তরে নাই কোন মিল তাই কর্মজীবনে আমারা পরি নানান সমস্যায়। এখন দেখা যায় প্রতিটি বাচ্চাদের বিদ্যালয়ের সামনে অভিবাবক মায়েদের বিশাল লাইন দেখে মনে হতে পারে তারও সন্তানরে সাথে পড়া লেখা করতে এসেছে। যেই ক্লাস শেষ সন্তান নিয়ে মা টি ছুটলেন নাচ, গান অথবা চিত্রাংকন শিখতে। সেইটা শেষ করে বাসায় যেতে যেতে রাত ৭-৮ টা বাজে তারপর পরবর্তী দিনের ক্লাসের জন্য তৈরি হওয়া। এভাবেই চলছে আমাদের ছোট সোনামণিদের জীবন। পরিক্ষায় হয়তো ফলাফল ভাল হচ্ছে কিন্তু মানষিকতার বিকাশ কি হচ্ছে তাদের?

আমাদের অভিবাবকরা তার সন্তানকে একটি নামী দামী বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারলে যে কি খুশি হয় তার ইতিহাস আমরা দেখেছি। এত এত টাকা খরচ করে আমাদের সন্তানরা কি শিখছে তার দিকে কি আমরা লক্ষ করছি? সেদিন একটি খবর শুনে খুবই খারাপ লাগলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ক্ষ্যত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর বিশ্বের একশত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাই। তাহলে আমাদের জাতীর কি হবে? তাহলে কি আমরা আর ভাল মানের সঠিক শিক্ষা আমাদের সন্তানদের দিতে পারবো না। ভাববার সময় এসেছে যারা এই বিষয়ে কাজ করছেন।

Tuesday, May 14, 2019

সড়ক দূর্ঘটনা


পুরাতন একটি গল্প দিয়েই যাত্রা শুরু করি, একটি বাস দূর্ঘটনা ঘটার পর, ড্রাইভারকে হাসপাতালে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ:- 
 
পুলিশ:- কি ভাবে দূর্ঘটনা ঘটলো?
ড্রাইভার:- স্যার আমার কোন দোষ নাই। আমি নতুন গাড়ি চালাই, আমার ওস্তাদ কইছে রাস্তায় কোন কিছু দেখলে তাকে সাইড দিয়ে গাড়ি চালাবি।
পুলিশ:- ভাল তো, তাহলে খালে পরলি কি ভাবে?
ড্রাইভার:- গাড়ি চালু করার পর কিছুদূর যাবার পর দেখি একটি মুরগি, হর্ন দিলাম সরে না, মুরগি কে সাইড দিলাম। তার কিছুদূর পর দেখি একটি গরু মাজা দুলিয়ে দুলিয়ে যাচ্ছে, তাকে হর্ন দিলাম গরু আমাকে সাইড দিল। আমি চলতে থাকি। তারপর দেখি একটি বুড়া লোক লাঠি ভর দিয়ে যাচ্ছে আমি আস্তে হর্ন দিলাম, লোকটি সরে গেল আমি তাকে সাইড কেটে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে গেলাম।
পুলিশ:- ভাল তো চালাচ্ছিলি, তাহলে খালে পরলি কি ভাবে?
ড্রাইভার:- স্যার আমার কোন দোষ নাই। আবার গাড়ি চালানো শুরু করলাম, কিছুদূর যেতে না যেতেই দেখি একটি বট গাছ ও একটি ব্রিজ পাশাপাশি এখন কাকে সাইড দিবো বুঝতে না বুঝতে আমি দুইটাকেই সাইড দিতে গিয়ে খালে গিয়ে পরলাম, তারপর আমার কিছু মনে নাই স্যার।
দুঃখের মাঝে হাসি পায় এই হচ্ছে আমাদের দেশের ড্রাইভার কাকে সাইড দিবে আর কাকে দিবে না তা বুঝতে বুঝতেই দূর্ঘটনায় জীবন চলে যায়। 
 
নিটোল টাটা কম্পানির স্লোগান, “একটি দূর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না”। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেবের প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর রোজ শুক্রবার ইলিয়াস ভাইয়ের শুটিং দেখতে যাবার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। সেই বছরেই ১ লা ডিসেম্বর তিনি নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন শ্লোগানে নিরাপদ সড়ক চান আন্দোলনে নামেন। 
 
এমনও হয়ে থাকে একজন ব্যাক্তির মৃত্যুতে পুরো পরিবারটাই নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। একটি সড়ক দূর্ঘটনা কি শুধু একজন চালকের কারনেই হয় নাকি পথচারির ও দোষ আছে। গত তিন বছর যাবত নিয়মিত ভাবে অফিসে সাইকেল চালিয়ে আসা যাওয়া করিছি। আমি খুবই শান্ত ভাবেই সাইকেল চালাই, মাঝে মাঝে এতটাই বিরক্ত হই যে ঘন্টা বাজাই তারপরও লোকজন সাইড দিতে চায় না। 
 
বাংলাদেশে যেন এখন একটা নিয়ম হয়ে গেছে একটি দূর্ঘটনা ঘটবে তা নিয়ে কিছুদিন টকশো, পত্রিকায় বিশাল লেখা লেখি তারপর কিছুদিন গেলে সব শেষ। যদি টিভি বা পত্রিকায় দুর্ঘটনার ছবি ছাপা হয় তাহলে হয়তো কিছু টাকা পয়সা পাওয়া যেতে পারে তা না হলে সবটাই বাদ। 
 
কারন যাই থাকুক, দেশের নিয়ম বা যাই থাকুক না কেন। যতদিন চালক ও জনগন সচেতন না হচ্ছে ততদিন দূর্ঘটনা কমার কোন সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না।

Sunday, April 28, 2019

ধর্ষন ! RAPE ! ধর্ষন ! (সমাধান পর্ব)



গত পর্বের লেখার সূত্র ধরেই বলছি, সমাধান গুলো একান্তই আমার মত করে ভাবা তাই এর দ্বারা সমাজের যদি কিছুটা উপকার হয় তাহলেই আমার লেখার সার্থকতা।

নিয়ম রক্ষার্থে একটি গল্প দিয়েই শুরু করছি। আমার ঠাকুর দাদা (বাবার বাবা) স্বর্গীয় কালি পদ সরকার ছিলেন একজন লোক কবি, সাধক, যাত্রা শিল্পী ইত্যাদি। তিনি মৃত্যু বরন করেন ১৯৯৮ সালে। তিনি এই গল্পটা করেছিল। সত্য যুগে এক রাজা ছিলেন তার ছিল এক সুন্দরী স্ত্রী। তার স্ত্রীকে তিনি খুব ভালবাসতেন। সেই সুন্দরী স্ত্রী একদিন আবদার করল তাকে এমন একটি শাড়ী উপহার দিতে যা দেখে রাজ্যের সকল পুরুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকে। রাজা স্ত্রীর মন রক্ষার্থে রাজ্যের সকল তাঁতীদের ডাকলেন এবং বললেন যে আমার স্ত্রীর মনের মত একটি শাড়ী বানাতে পারবে তাকে উপযুক্ত পুরষ্কার দেয়া হবে।

সকল তাতী তাদের সাধ্যমত শাড়ী বানিয়ে নির্দিষ্ট দিনে রাজ দরবারে হাজির হলো। রানীকে ডাকা হলো এবং তার পছন্দ মত শাড়ী বেছে নিয়ে তার কক্ষে যেতে বললেন রাজা। রানী একটি একটি করে শাড়ী পরলেন এবং রাজদরবারে এসে রাজাকে দেখালেন। রাজ দরবারের সকলে শাড়ী দেখে প্রসংশা করতে লাগলেন। সর্বশেষ শাড়ীটি পরে রানী রাজ দরবারে আসতে দেরি করছে দেখে রাজা লোক পাঠালেন দ্রুত আসতে। রানী দারোয়ানকে বললেন এই শাড়ী পরে আমি রাজদরবারে যাতে পারবো না। রাজা এই কথায় ভীষন রাগ করলেন এবং যে কোন ভাবেই হোক রানীকে আসার আদেশ করলেন। রানী খুবই লজ্জিত অবস্থায় সেই শাড়ী পরে রাজ দরবারে আসলেন। রানীকে দেখে সকল সভাসদ লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখলেন, কারন সেই শাড়ী ছিল এতটাই পাতলা ও মসৃন যে রানীর সম্পূর্ণ শরীরের অঙ্গগুলো দেখা যাচ্ছে।

এই অবস্থা দেখে এই শাড়ির কারিগর তাঁতীকে রাজা হত্যার হুকুম দিলেন এবং শাড়িটি আগুনে পুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তাতী করজোড়ে তার অপরাধ জানতে চাইলেন এবং তার পরিশ্রমের শাড়িকে নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ করলেন। তাতী বললেন আপনি আমাকে হত্যা করতে পারেন কিন্তু আমার পরিশ্রমের মূল্য আমাকে দিতেই হবে। রাজা তখন তাঁতীকে বললেন, ঠিক আছে তোমার এই পরিশ্রম বৃথা যাবেনা, পৃথিবী ধংসের শেষ জামানায় ঘোর কলি যুগে তুমি তোমার পরিশ্রমের মূল্য পাবে। শেষ জামানার সময় মেয়েরা পুরুষদের সামনে তাদের শরীর দেখাতে পারাকে প্রশংসার ও গৌরবের মনে করবে এবং তারা এই ধরনের পোশাকই পরিধান করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে। তাদেরকে দেখে সভ্য সমাজের পুরুষরা লজ্জায় মুখ লুকিয়ে থাকবে। এই বলে সেই শাড়িটি আগুনে পুরিয়ে ফেলা হলো এবং তাঁতীকে মুক্ত করে দেয়া হলো।

পাঠক এবার মিলিয়ে দেখেন তো আপনার চারপাশেই এমন পুরুষ তাঁতীরা এমনই পোশাক বানাচ্ছে এবং সেই পোশাক পরেই মেয়েরা লজ্জাহীন ভাবে এই সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিনা?
একটি মেয়েই মা হোন, সে আবার বোন, কখনো বা স্ত্রী রূপে পুরুষের জীবনে আসে। যারা একটি মেয়েকে ধর্ষন করে তাদের কাছে প্রশ্ন তুমি কি তোমারই মা, বোন বা স্ত্রী কে ধর্ষন করছো????

নারী নির্যাতন সম্বন্ধে কথা উঠলে, তার সমাধান সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র একদিন যা বলেছিলেন তার ভাবার্থ এমন যে, নারী যতই দুর্বল হোক না কেন সৃষ্টিকর্তা তাদের হাতে এমন এক রক্ষাকবচ দিয়ে দিয়েছেন যে পুরুষ যতই কামোন্মত্ত হয়ে তার সর্বনাশ সাধনে অগ্রসর হোক না কেন, সে (নারী) যদি তার সতীত্বের তেজ নিয়ে জোরে তাড়া দিয়ে কোনভাবে তাকে একটা মানসিক আঘাত (Mental shock) দিতে পারে, তখনই সে নিরস্ত হতে বাধ্য-আর এগুতে সাহস পায় না।

যখনই দেখিবে
         পুরুষ-সংস্রব
তোমার
        ভাল লাগিতেছে-
অজ্ঞাতসারে, কেমন করিয়া,
পুরুষের ভিতর যাইয়া
আলাপ আলোচনায় প্রবৃত্ত হইতেছ-
বুঝিও-
       পুরুষাকাঙ্ক্ষা
জ্ঞাতসারেই হোক আর অজ্ঞাতসারেই হোক
তোমার ভিতর মাথা তোলা দিতেছে;-
         যদিও
স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই প্রকৃতিগত একটা ঝোঁক
উভয়ের সংস্রবে আসা-
তথাপি দূরে থাকিও,
নিজেকে সামলাইও-
          নতুবা
        অমর্যাদার
তোমাকে কলঙ্কিত করিতে
কিছুই লাগিবে না।

যতটুকু আমার জানা আছে সকল প্রধান ধর্মেই মেয়েদের যেমন সম্মান দেয়া হয়েছে, তেমনি তাদের শালীনতার মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে।
রামায়ন-এ আমরা দেখতে পাই দেবী সীতা যখন বনবাসে ছিলেন, তখন একদিন লক্ষন তাকে একটি রেখা বা সীমানা দিয়ে যান এবং বলে যান যেন কোন অবস্থাতেই তিনি যেন এই রেখা পার না হন। ঘটনাক্রমে রাবনের চক্রান্তে দেবী সীতা সেই লক্ষন রেখা পার হন এবং বাকি ইতিহাস সকলেই জানেন।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হুজুরের কাছ থেকে ওয়াজে শুনেছি, ইসলাম ধর্মে মেয়েদের সকল সময় পর্দার মধ্যে থাকতে বলা হচ্ছে, বিবাহিত নারীর একটি চুল যেন স্বামী ব্যতিত অন্য কেও দেখতে না পারে এমন পোশাক পরিধান করার কথা বলা হচ্ছে। এটা একটি সমাধানের পথ হতে পারে।

হিন্দু ধর্মে বিবাহিত নারীরা শাখা, সিঁদুর পরে যেটা তার স্বামী জীবিত আছে সেটা বুঝায়। এখনকার নারীরা এই নিয়মকে কুসংস্কার মনে করছে। যার কারনে কে বিবাহিত আর কে অবিবাহিত তা বুঝা যায় না। এটাও একটি সমাধানের পথ হতে পারে।

তোমার চাউনি, চলা, হাসি, কথা,
আচার, ব্যবহারকে
এমনতর ভাবে চরিত্রগত করিতে চেষ্টা করিবে-
যাহাতে সাধারণতঃ
পুরষ-মাত্রেরই
ভক্তি, সম্ভ্রম, শ্রদ্ধা আকর্ষণ করে;-
তাই,
যখনই দেখিবে
কোন পুরুষ
তোমার প্রতি
কামলোলুপ ইঙ্গিত করিতেছে,
তখনই, তোমার চরিত্রকে
তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিয়া দেখিও
গলদ কোথায়-
আর, কেন এমন হইতেছে
যদিও দুর্বলচিত্ত পুরুষ এমনই করিয়া থাকে,
কিন্তু
তোমার প্রতি ভয় ও সম্ভ্রমই
ইহার উত্তম প্রতিষেধক।

কিছুদিন আগে দেখলাম মেয়েদের জন্য একটি টিশার্ট বের হয়েছে তাতে লেখা “গা ঘেষে দাড়াবেন না” তার কিছু দিন পরে আবার ছেলেদের জন্য আরেকটি টিশার্ট বের হয়েছে তাতে লেখা “গা ঘেষে দাড়াবেন না, বড় চুল দেখলে স্ত্রী সন্দেহ করে”। এভাবে হয়ত প্রতিবাদ করা যেতে পারে কিন্তু সমাধান হবে কি? যতদিন পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে নারী পুরুষ উভয়কেই একে ওপরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা, মূল্যবোধ না শিখানো ততদিন হয়ত এর থেকে আমরা মুক্ত হব না।

সর্বশেষে বলতে চাই একমাত্র মানুষ (নারী ও পুরুষ) যখন তার নিজ নিজ ধর্মের নির্দেশগুলো সঠিক ও যুগোপযোগিতার সাথে পালন করবে তখনি কেবল এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে সমাজ রক্ষা পাবে।