The Web This Blog

Monday, July 5, 2021

সনাতন ধর্মের গোত্র


যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল,  গোত্র মানতে হয় কেন?

তার উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, “প্রতিটি গোত্রই স্ব-স্ব বৈশিষ্ট্যে বিশেষ। এক-একটি গোত্র তার Culture, Creed, Character, Conduct (সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, চরিত্র, আচরণ) বহুযুগ ধ’রে নানাভাবে Achieve (অধিগত) করেছে। এই গোত্রধারা কখনও নষ্ট করতে নেই। গোত্র ভাঙ্গলে সৰ্ব্বনাশ। সেইজন্য ভিন্ন গোত্র দেখে বিয়ে দিতে হয়। বিভিন্ন গোত্রের Male and Female-এর (স্ত্রী ও পুরুষের) যখন Proper Combination (উপযুক্ত মিলন) হয় তখন গোত্র ও বংশের গুণগত বৈশিষ্ট্যগুলি সন্তান-সন্ততির মধ্যে Dominant (প্রধান) হয়ে ওঠে। আর, Combination (মিলন) ঠিকমত না’ হলেই ওগুলি Recessive (হ্রাসমুখী) হয়ে ওঠে। সেইজন্য সদৃশ বংশে বিয়ে হওয়া ভাল। সেটা হ’ল First Class Marriage (প্রথম শ্রেণীর বিবাহ)। আর, অনুলোম হ’ল Second Class Marriage (দ্বিতীয় শ্রেণীর বিবাহ)। অনুলোম বিবাহের ক্ষেত্রেও ঐ ভিন্ন গোত্র-প্রবর এসব ঠিক রেখে করবে। কিন্তু প্রতিলোম যেন কখনও না হয়। তোমার একটা মেয়েকে যদি কায়স্থ বা বৈশ্যের সাথে বিয়ে দাও তাহ’লে কিন্তু একেবারে সব Murder (নিকেশ)। কারণ, ওর ফলে সব গুণগুলি Recessive (হ্রাসমুখী) হ’য়ে যায়।

দীপ রক্ষী, ৫ তাং - ১৪.৮.১৯৫৯ ইং

গত ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে লিখেছিলাম “বাঙ্গালী হিন্দুদের জাতিভেদ ও পদবী সমূহ” তারই ধারাবাহিক হিসাবে আজ “গোত্র” বিষয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। শ্রীশ্রীঠাকুরের কথা মত আমাদের নিজ গোত্র জানা ও তা মানা কতটা জরুরী ও প্রয়জনীয়।

সাধারন ভাষায় বলতে গেলো গোত্র শব্দের অর্থ বংশ বা গোষ্ঠীকে বোঝায়। সনাতন ধর্মে গোত্র মানে একই পিতার ঔরসজাত সন্তান-সন্ততিদের দ্বারা সৃষ্ট বংশ পরম্পরা। কিন্তু গোত্র দ্বারা কখনো কখনো অঞ্চল এবং বিশেষ চিহ্নও নির্দেশ করতে দেখা যায়। বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে, একটি বংশের রক্ত প্রবাহিত হয় তাদের পুরুষ পরম্পরায়। সূতরাং, বংশের রক্তের ধারক ও বাহক হলো পুরুষ। সনাতন ধর্মের বংশ রক্ষার ধারায় ছিলেন প্রথম সত্য যুগের শুরুতে ব্রহ্মার মানস সন্তানদের মধ্যে অন্যতম ঋষিগণ। পরবর্তীতে অন্যান্য ঋষির বংশ পরম্পরাও পরিলক্ষত হয়।

এই একেকজন ঋষির বংশ পরম্পরা তাদের নামে এক একটি গোত্র হিসেবে পরিচিত লাভ করে। সে হিসেবে একই গোত্রের বংশীয়গণ পরস্পর ভাইবোন। এমনকি একই বংশের স্বজনেরা পরবর্তীতে জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে, সাধন-ভজন, পরমেশ্বর ভগবানের বাণী প্রচারের প্রয়োজনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লে পিতার নামের সাথে গোত্র নামের গুরুত্ব প্রকাশ পায়। যেমন- কাশ্যপ মুনির বংশধরেরা নিজেদের “কাশ্যপ গোত্রস্য” বা কাশ্যপ মুনির বংশ পরিচয় দিয়ে থাকেন।

এভাবে পর্যায়ক্রমে আরো অনেক গোত্রের নাম পাওয়া যায়। সনাতন ধর্মে প্রকট আছে বা অহরহ যেসব গোত্র দেখা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো। একই গোত্রের লোকজনকে সমগোত্রীয় বলা হয়। সোজা কথা এরা পরস্পর নিকট-আত্মীয়। আর অন্যান্য গোত্রের লোকজনের সাথে তারা পরস্পর আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ এই কারণে যে, আমরা সবাই প্রপিতামহ ব্রহ্মা থেকে এসেছি যদিও আমাদের আদি পিতা-মাতা যথাক্রমে মনু ও শতরূপা।

সমগোত্র মানে একই পিতৃবংশ। যেমন কাশ্যপ গোত্র। মুনি কশ্যপ ঋষির বংশধর। ব্রহ্মার মানস পুত্রগণের থেকে আগত প্রতিটি বংশ এক একটি গোত্র বা রক্তের ধারায় প্রবাহিত। একই গোত্র চারটি বর্ণে থাকতেও দেখা যায়। কারণ, একই ঋষির সন্তানরা একেক সময়ে একেক কাজে মনোযোগী হয়ে থাকে। যে শাস্ত্র অধ্যয়ণ বা বুদ্ধিভিত্তিক (আধুনিক সমাজে যাকে বুদ্ধিজীবী বলা হয়) জীবিকা অবলম্বন করে সে ব্রাহ্মণ হিসেবে, রাজধর্ম পালনকারী ক্ষত্রিয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হলে সে বৈশ্য আর এসব পেশাগত লোকদের সেবা করেই সন্তুষ্ট অর্জনে আগ্রহীরা শূদ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে থাকে। এ গুণাবলীসমূহ কেউ জন্মে প্রাপ্ত হয় না, অর্জন করতে হয়। তাই বর্নাশ্রম সঠিক কিন্তু বর্ণপ্রথা ভুল ও মিথ্যা যা ক্ষত্রিয় ধর্ম পালনে পুরোপুরি অপারগ রাজা বল্লাল সেন তার রাজ-অপকর্ম ঢাকতে শুরু করেছেন। ধার্মিক ও পন্ডিতদের অত্যাচার করে রাজ্য থেকে বিতারিত করে। আর এটা পুরোপুরি কার্যকর করেছেন তারই পুত্র রাজা লক্ষ্মণ সেন।

সনাতন ধর্মে নিকটাত্মীয় বা সমগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ। কারণ হিসেবে বৈদিক শাস্ত্রসমূহ বিশেষ করে মনুসংহিতায় বলা হচ্ছে, একই রক্তের সম্পর্কের কারো সাথে বিবাহ হলে সন্তান বিকলাঙ্গ, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী, মেধা ও বুদ্ধিহীন হয়। শিশু নানা রোগে জরাজীর্ণ হয়ে থাকে। তবে একান্তই প্রয়োজন হলে/ পাত্র-পাত্রী না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ১৪ পুরুষ পেরিয়ে গেলে তখন বিবাহ করা যেতে পারে। তবে তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চললেই ভালো।

বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানও এটি স্বীকার করেছে। তারা বলছেন, নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের পরিণামে যে সন্তান হয়, তার মধ্যে জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। ‍ “The Lancet” (দ্য ল্যানসেট) সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। “First cousin marriage doubles risk of birth defects in children”।  বিস্তারিত

 

সনাতন ধর্মের প্রচলিত কিছু গোত্র ও বিস্তারিত। যারা যেই ঋষির বংশধর তারাই সেই গোত্র।

·       অগস্ত্যঃ- দেবতা মিত্রবরুণ ঔরসে ও উর্বশীর গর্ভে অগ্যস্ত ঋষির জন্ম। পুরানমতে অগ্যস্ত ঋষি একবার সমুদ্রপান করেছিলেন। ভগবান শ্রীরামচন্দ্র বনবাস কালে অগ্যস্ত ঋষির আশ্রমে থেকে অক্ষয়তূণীরদ্বয়, বৈষ্ণবধনু ও মহাস্ত্র প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- জৈমিনী ও দধিচী।  

 

·        অত্রিঃ- অত্রি ঋষি ছিলেন ব্রহ্মার মানস পুত্র ও সপ্তঋষির অন্যতম। ঋষি অত্রি ও মাতা অনুসূয়ার পুত্রদয় হলেন, মহর্ষি দুর্বাসা, সোম ও ভগবান দত্তাত্রেয় ত্রিনাথ। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- আত্রেয় ও শাতাতপ।

 

·        আত্রঃ- আত্র ঋষির বংশধরা ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদের বহু ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- শাতাতপ ও শাঙখ্য।

 

·       আলিমান /  আলম্ব্যায়নঃ- আলম্যান ঋষি ছিলেন একজন বৈদিক ঋষি। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- শাঙ্কায়ন ও শাক্টায়ণ।

 

·       আঙ্গিরসঃ- ঋষি আঙ্গিরস ছিলেন সপ্তঋষির একজন ঋষি অঙ্গিরার পুত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- বশিষ্ঠ ও বার্হস্পত্য।  

 

·       কাণ্বঃ- কাণ্ব ঋষি ছিলেন পুরুবংশীয় প্রতিরথের পুত্র। তারই পুত্র মেধাতিথি ঋগবেদ গ্রন্থ প্রণয়ন করে ব্রাহ্মনত্ব লাভ করেছিলেন। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- অশ্বথ ও দেবল।

 

·       কাত্যায়নী / কাত্যায়ণঃ- ঋষি কাত্যায়ণের বংশধরদের বলা হয় কাত্যায়ণ গোত্র। রামায়নে কাত্যায়ণ ঋষির বর্ননা পাওয়া যায়। তিনি বেদের অনুক্রমকার রচয়িতা ছিলেন। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- অত্রি, ভৃগু ও বশিষ্ঠ।

 

·       কাশ্যপঃ- ব্রহ্মা পুত্র মরিচী ঔরসে ও মাতা কলার গর্ভে জন্মগ্রহন করেন ঋষি কাশ্যপ। কাশ্যপ ঋষি দক্ষ প্রজাপতির ১৩ কন্যা বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন দেবদৈবত্যাদির জন্মদাতা। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- অপ্সার ও নৈধ্রুব।

 

·       কুশিকঃ- কুশিক ঋষি ছিলেন সোমবংশীয় নরপতি কুশের অন্যতম পুত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- কৌশিক ও বিশ্বামিত্র। 

 

·       কৌন্তল্যঃ- স্কন্দপুরানে কৌন্তল্য ঋষির বর্ণনা পাওয়া যায়। ঋষি কৌন্তল্য বংশধরদের কৌন্ডল্য   গোত্র বলা হয়। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- স্তিমিক ও কৌৎস্য।

 

·       কৌশিকঃ- রামায়নে এই ঋষির উল্লেখ পাওয়া যায়। কৌশিক ঋষির বংশধররাই এই গোত্র বলা হয়। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- অত্রি ও জামদগ্ন্য।

 

·       কৃষ্ণাত্রেয়ঃ- হরিবংশ পুরানে এই মহর্ষির উল্লেখ পাওয়া যায়। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- আত্রেয় ও আবাস।

 

·       গর্গঃ- গর্গ ঋষি ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ ও যাদববংশের কুলগুরু। তার পুত্রী ছিলেন গার্গীসংহিতার রচয়িতা। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- গার্গ্য, মান্ডব্য ও কৌস্তভ।

 

·       গৌতমঃ- গোতম ঋষির পুত্র ছিলেন ঋষি গৌতম। তিনি গৌতমসংহিতা রচনা করেছিলেন। রামায়নে আমরা গৌতম ঋষি ও অহল্যার কাহিনী পড়েছি। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- আঙ্গিরস, বার্হস্পত্য, অপ্সার ও নৈধ্রুব।

 

·       ঘৃতকৌশিকঃ- ঋষি ঘৃতকৌশিক ছিলেন কৌশিক ঋষির পুত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- কুশিক ও কৌশিক। 

 

·       চান্দ্রায়ণঃ-

 

·       জাতুকর্ণঃ- জাতুকর্ণ ঋষি ছিলেন ঋষি আত্রেয় এর প্রধান শিষ্য। তিনি একটি দুস্প্রাপ্য আয়ুর্বেদ শাস্ত্র রচনা করেছিলেন। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- বশিষ্ঠ ও অত্রি।

 

·       জামদগ্ন্যঃ- ঋষি জামদগ্ন্য ছিলেন ভগবান পরশুরামের ভ্রাতা। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- জমদগ্ন্যি, বশিষ্ঠ ও ঔর্ব্ব।

 

·       ধনন্বন্তরি / ধন্বন্তরীঃ- সমুদ্র মন্থনের সময় এই ঋষির উৎপত্তি হয়। ঋষি ধন্বন্তরী ছিলেন একজন সুচিকিৎসক। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- গৌতম, অপসার, আঙ্গিরস, বার্হস্পত্য ও নৈধ্রুব।  

 

·       নাগঋষিঃ-

 

·       পরাশরঃ- ঋষি পরাশর ছিলেন বশিষ্ঠ মুনির পৌত্র। তিনি ঋষি পুল্যস্তের কাছে বিষুপুরান শ্রবন করে ও মুনি মৈত্রেয় কাছে তা বর্ণনা করতেন। ঋষি পরাশর পুত্র ছিলেন মহাভারত রচয়িতা বেদব্যাস। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- বশিষ্ঠ ও শান্ত্রি।

 

·       বশিষ্টঃ-

 

·       বাঘ্র ঋষিঃ-

 

·       বাৎস্যঃ- বাৎস্য ঋষি ছিলেন ভৃগুবংশীয় হরির পুত্র ও সাবর্নী মুনির ভ্রাতা। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- ঔর্ব্ব, চ্যবন, ভার্গব, জামদগ্ন্য ও আপ্লুবৎ।

 

·       বিষ্ণুঃ- বিষ্ণু ঋষির বংশধররাই এই গোত্রের অধিকারি। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- বুদ্ধি ও কৌরব।

 

·       বিশ্বামিত্রঃ-

 

·       বৃদ্ধিঃ- ঋষি বৃদ্ধির পরবর্তী বংশধরদের বলা হয় বৃদ্ধি গোত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- কুরু, আঙ্গিরস ও বার্হস্পত্য।

 

·       বৃহস্পতিঃ- দেবগুরু বৃহস্পতির বংশধরদের বলা হয় বৃহস্পতি গোত্র। ঋষি বৃহস্পতি ছিলেন ব্রহ্মা ও অঙ্গিরা পুত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- কপিল ও পর্ব্বন।

 

·       ভরদ্বাজঃ- দেবগুরু বৃহস্পতির পুত্র ঋষি ভরদ্বাজ। কথিত আছে হিমালয় দর্শনে গিয়ে অপ্সরা ঘৃতাচীর প্রেমে পরেন। তার পুত্র ছিলেন রথী আচার্য্য দ্রোণ।এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- আঙ্গিরস ও বার্হ্যস্পত্য।

 

·       ভার্গবঃ-

 

·       মৌদগল্যঃ- চন্দ্রবংশীয় হর্য্যাশ্বের পুত্র মুদগল থেকে তার উৎপত্তি। গুরু কৃপাচার্য ছিলেন এই গোত্রের। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- ঔর্ব্ব, চ্যবন, ভার্গব, জামদগ্ন্য ও আপ্লুবৎ।

 

·       শক্তিঃ- ঋষি ছিলেন অঙ্গীরা বংশীয় একজন মহান ঋষি। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- বশিষ্ঠ ও পরাশর।

 

·       শিবঃ- ভগবান শিবের কন্ঠ হতে সৃষ্ট শিব ঋষি। নাথ ও দেবনাথ যোগিদের বলা হয় শিব গ‌োত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- শম্ভু, সরোজ, ভূধর ও আপ্লবৎ।

 

·       শান্ডিল্যঃ- ঋষি শান্ডিল্য ছিলেন ব্রহ্মাপুত্র প্রচেতার পৌত্র। শান্ডিল্য ঋষিই ভক্তি সূত্রের প্রনেতা তাই তাকে ভক্তিমার্গের পথ প্রদর্শক বলা হয়। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- আসিত ও দেবল।

 

·       শুনকঃ- শুনক ঋষি ছিলেন মুনি ঔর্ব্বের পৌত্র। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- শৌনক ও গৃৎসমদ।

 

·       সাবর্ণঃ- সাবর্ণ ঋষি ছিলেন ভৃগুবংশীয় হরির পুত্র, নৈমিষ্যারণ্য নিবাসী এক মহাতপস্বী। তারই পর্থনায় বায়ুদেব পুরানকথা কীর্তন করতেন। এই গোত্রের অন্যান্ন প্রবর ঋষিরা হলো- ঔর্ব্ব, চ্যবন, ভার্গব, জামদগ্ন্য ও আপ্লুবৎ।

 

·       হোবি ঋষিঃ-

 

বিঃদ্রঃ তথ্যগুলো সংগ্রহীত তাই কোন ভুল থাকলে আমাকে জানাবেন সংশোধন করে দিবো।

 

তথ্যসূত্রঃ গোত্র

Thursday, July 1, 2021

১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর

প্রতিদিনের মত সেইদিনও সকালে সূর্য্য উঠেছিল, কিন্তু সেইদিন চলচিত্রের একটি নক্ষত্র। দিনটি ছিল শুক্রবার বিবিসি বাংলা এর তথ্য অনুসারে যা যানা যায় তার কিছুটা বর্ননা দেয়া যাক। তখন আমি ৯ম শ্রেনীর ছাত্র। ছোট বেলা থেকেই সিনেমা দেখা আমার একটা নেশার মত ছিল। তখন বেশ কয়েকটি সিনেমা দেখা হয়েছিল সালমান শাহ এর। সৃতি হাতরিয়ে যতটুকু মনে আছে এখন, ফুটবল খেলে মাঠ থেকে বিকালে বাসায় আসি। তখন খবরের শিরনামে একটিই খবর প্রিয়নায়ক সালমান শাহ আর নেই। অনেকের মত আমারও কিছুটা কষ্ট হয়েছিল খবরটি মেনে নিতে।

বিয়ের পর সালমান শাহ ইস্কাটনে থাকতেন তার স্ত্রী সামিয়াকে নিয়ে। সেদিন আনুমানিক সকাল সাতটার দিকে বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী সালমানের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন। বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহ'র বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিল না ।

নীলা চৌধুরীর (সালমানের মা) বর্ণনা ছিল এ রকম, "বলেছে স্যার এখনতো উপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহ'র স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। এক পর্যায়ে উনি (সালমান শাহ'র বাবা) জোর করে উপরে গেছেন। কলিং বেল দেবার পর দরজা খুললো সামিরা (সালমান শাহ'র স্ত্রী)।"

সালমান শাহ'র বাবা সামিরাকে বললেন ইমনের সাথে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের ফাইল সই করাতে হবে। ওকে ডাকো। তখন সামিরা বললো, আব্বা ওতো ঘুমে। তখন উনি বললেন, ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি। কিন্তু যেতে দেয় নাই। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী (সালমানের বাবা) প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।

বেলা এগারোটার দিকে একটি ফোন আসে সালমান শাহ'র মা নীলা চৌধুরীর বাসায়। ঐ টেলিফোনে বলা হলো, সালমান শাহকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে। টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহ'র বাসায় যান। তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলে সালমান শাহকে বিছানার ওপর দেখতে পান নীলা চৌধুরী। খাটের মধ্যে যেইদিকে মাথা দেবার কথা সেইদিকে পা। আর যেইদিকে পা দেবার কথা সেদিকে মাথা। পাশেই সামিরার এক আত্মীয়ের একটি পার্লার ছিল। সে পার্লারের কিছু মেয়ে ইমনের হাতে-পায়ে সর্ষের তেল দিচ্ছিল।

"আমি দেখলাম আমার ছেলের হাতে পায়ের নখগুলো নীল। তখন আমি আমার হাজব্যান্ডকে বলেছি, আমার ছেলে তো মরে যাচ্ছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নীলা চৌধুরী।

কিছুক্ষন পর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে।

সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।যদিও সালমানের বাবা-মার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

পুলিশ বলেছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বেরিয়ে আসে যে এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় মোড় নেবে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশ। সে সময় সারা দেশজুড়ে সালমানের অসংখ্য ভক্ত তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে না পারায় বেশ কয়েকজন তরুণী আত্মহত্যা করেন বলেও খবর আসে পত্রিকায়। সালমানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে না পারায় তাঁর ভক্তদের মাঝে তৈরি হয় নানা প্রশ্নের।

সালমান শাহের মৃত্যুকে ঘিরে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠতে থাকে, তখন পরিবারের দাবির মুখে দ্বিতীয়বারের মতো ময়না তদন্ত করা হয়। মৃত্যুর আটদিন পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সে বোর্ডের প্রধান ছিলেন ডা. নার্গিস বাহার চৌধুরী।

ডা. নার্গিস বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "লাশটা আমি দেখেছি মরচুয়েরিতে। আমার কাছে মনে হয়েছে যেন সদ্য সে মারা গেছে। এ রকম থাকলে তাঁর মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে নির্ণয় করা যায়। আত্মহত্যার প্রত্যেকটা সাইন (চিহ্ন) সেখানে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ছিল। তাঁর শরীরে আঘাতের কোন নিশানা ছিল না।"

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে মামলার কাজ সেখানেই থেমে যায়। সালমান শাহ'র পারিবারিক বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলছিলেন, শেষের দিকে অনেক মানসিক চাপে ছিলেন সালমান শাহ। পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রযোজকদের সাথে বোঝাপড়ার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

সালমান শাহ'র মৃত্যুর পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভাবনীয় ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রযোজকরা লোকসান কমিয়ে আনতে সালমান শাহ'র মতো দেখতে কয়েকজন তরুণকে নিয়ে অসমাপ্ত সিনেমার কাজ সম্পন্ন করার জন্য উঠে-পড়ে লাগেন।

"পুরনো ঢাকার একটি ছেলেকে পেছন থেকে দেখতে সালমানের মতো মনে হয়। তার চুলের স্টাইল দেখতে পেছন দিকে থেকে সালমানের মতো। তখন তার ওপর পুরো ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ব পড়ে গেল। সালমানের অসমাপ্ত ছবিগুলোতে লং শট, ব্যাক টু ক্যামেরা, ওভার-দ্যা-শোল্ডার শটের মাধ্যমে সে ছেলেটাকে ব্যবহার করা শুরু হলো," বিবিসি বাংলাকে বলেন শাহ আলম কিরণ।

সালমান শাহ'র মৃত্যুর সংবাদ দর্শকদের মনে এতটাই দাগ কেটেছিল যে এত বছর পরেও অনেকে তার প্রিয় নায়ককে ভুলতে পারেননি। সালমানের মৃত্যুর দুই দশকের বেশী পরেও তাকে নিয়ে দর্শকদের মাঝে আলোচনা থামেনি।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, সালমান শাহ'র বিশেষত্ব কী ছিল? কেনই বা তিনি এতটা অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন?

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক এবং বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাকির হোসেন রাজু মনে করেন, সালমান শাহ যে সময়টিতে অভিনয়ে এসেছিলেন, তখন ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ছিল পালাবদলের সময়। ১৯৯২ সালে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ। জনপ্রিয় একটি হিন্দি সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক ছিল 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত'। এ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন সালমান। পর্দায় তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ, সংলাপ বলার ধরন, অভিনয়-দক্ষতা - সবকিছু মিলিয়ে দর্শকের মনে স্থান করে নিতে সময় লাগেনি এ নায়কের। বাংলাদেশের সিনেমায় তিনি 'রোমান্টিক হিরো' হিসেবে পরিচিত পান।

পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলেন, "ও যাই করতো, সেটাই ভালো লেগে যেত। অল্প সময়ের মধ্যে এ ছেলেটা চলচ্চিত্রমোদীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।"

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জাকির হোসেন রাজু বলছিলেন, ১৯৭০-৮০'র দশকের নায়কদের পরে চলচ্চিত্রে সালমানের আবির্ভাব এক ধরণের তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল। তিনি ছিলেন একজন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা। নায়ক রাজ্জাক, আলমগীর এবং ফারুকের পর সে সময় নতুন একদল তরুণ অভিনেতার আবির্ভাব হয়েছিল ঢাকার সিনেমা জগতে।

নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যত নায়কের আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের মধ্যে সালমান শাহ সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ছিলেন বলে উল্লেখ করেন জাকির হোসেন রাজু।

তাঁর বর্ণনায়, সালমান শাহ'র অভিনয়ের মধ্যে দর্শক একটা ভিন্নধারা খুঁজে পেয়েছিল। অনেকে আবার সালমান শাহ'র মধ্যে বলিউড নায়কদের ছায়াও খুঁজে পেয়েছিলেন।

সালমান শাহকে নিয়ে আলোচনা কখনোই থামেনি। মাত্র চার বছরের সিনেমা ক্যারিয়ারে সালমান শাহ বাংলা সিনেমার অভিনয় জগতে নিজের এমন একটি স্থানটি করে নিয়েছিলেন যে তাঁর অভাব এখনো অনুভব করেন দর্শক, পরিচালক, প্রযোজক - সবাই।

এখনো প্রতি বছর সালমান শাহ'র মৃত্যু দিবসে তাঁর অনেক ভক্ত তাঁকে স্মরণ করেন ভালোবাসার সঙ্গে।

আর সালমানের অনেক ভক্তের কাছে তাঁর মৃত্যু এখনো একটি বড় রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, সালমান শাহের আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ হলো-

১. চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা।

২. স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ।

৩. বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা।

৪. মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, যা জটিল সম্পর্কের বেড়াজাল তৈরি করে অভিমানে রূপ নেয় এবং

৫. সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ইং সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরে পিবিআই।


প্রথম পাতা


তথ্যসূত্রঃ- বিবিসি বাংলা

Tuesday, June 1, 2021

কালীপদের পাঁচটি ছেলে

হারাধনের দশটি ছেলে

কবিঃ- যোগীন্দ্রনাথ সরকার

কালীপদের পাঁচটি ছেলে

~ রাম কৃষ্ণ সরকার

হারাধনের দশটি ছেলে

          ঘোরে পাড়াময়,

একটি কোথা হারিয়ে গেল

          রইল বাকি নয়।

 

হারাধনের নয়টি ছেলে

          কাটতে গেল কাঠ,

একটি কেটে দু’খান হল

          রইল বাকি আট।

 

হারাধনের আটটি ছেলে

          বসলো খেতে ভাত,

একটির পেট ফেটে গেল

          রইল বাকি সাত।

 

হারাধনের সাতটি ছেলে

          গেল জলাশয়,

একটি সেথা ডুবে ম’ল

          রইল বাকি ছয়।

 

হারাধনের ছয়টি ছেলে

          চ’ড়তে গেল গাছ,

একটি ম’ল পিছলে পড়ে

          রইল বাকি পাঁচ।

 

হারাধনের পাঁচটি ছেলে

          গেল বনের ধার,

একটি গেল বাঘের পেটে

          রইল বাকি চার।

 

হারাধনের চারটি ছেলে

          নাচে ধিন ধিন,

একটি ম’ল আছাড় খেয়ে

          রইল বাকি তিন।

 

হারাধনের তিনটি ছেলে

          ধরতে গেল রুই,

একটি খেলো বোয়াল মাছে

          রইল বাকি দুই।

 

হারাধনের দুইটি ছেলে

          মারতে গেল ভেক,

একটি ম’ল সাপের বিষে

          রইল বাকি এক।

 

হারাধনের একটি ছেলে

          কাঁদে ভেউ ভেউ,

মনের দুঃখে বনে গেল

          রইল না আর কেউ।

কালীপদের পাঁচটি ছেলে

       একটি কোথায় চলে গেল,

জানে নাতো কেও

       বাকি রইল চার।

 

কালীপদের চারটি ছেলে

      একটি মরলো বৌয়ের জ্বালায়,

বাকি রইল তিন।

 

কালীপদের তিনটি ছেলে

      একটি মরলো ছেলেকে নিয়ে

রইল বাকি দুই।

 

কালীপদের দুইটি ছেলে

     একটি পাগল মেয়েকে নিয়ে

রইল বাকি এক।

 

কালীপদের একটি ছেলে

     পাঁচটির একটি কেবল পরেই রইলো ,

হারিয়ে গেল চার।