The Web This Blog

Monday, April 22, 2024

আমার প্রথম দেওঘর ভ্রমন

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সবসময় একজন ভালো মানুষ তৈরি কারার জন্য কাজ করেছেন সবসময়। সকল অবতার পুরুষের মতই মানুষকে কি ভাবে ভালো রাখা যায় তার জন্যই সৎসঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি “যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী এবং সদাচার” নিয়ে কার করছে সৎসঙ্গ। 'সৎসঙ্গ' এর নীতিবাক্য হচ্ছেঃ- "দদাতু জীবনবৃদ্ধি নিরন্তরং স্মৃতি চিদযুতে"; যার বাংলা অর্থ হলোঃ "আমাকে প্রতিনিয়ত চেতনাবাহী স্মৃতিযুক্ত জীবন দান করো"। এই নীতি বাক্য ও মূলনীতি নিয়েই প্রতিটি সৎসঙ্গী চলার চেষ্টা করছে। সহ-প্রতি ঋত্বিকদের হাতে একটি দন্ড দেখতে পাবেন তাতে এই বানী টি লেখা আছে। 

মূল লেখা শুরু করার পূর্বে আসুন দেওঘর সম্পর্কে বাংলা উকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য যেনে নেয়া যাক, দেওঘর (হিন্দি: देवघर, প্রতিবর্ণীকৃত: দেৱ্‌ঘর্) ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পঞ্চম বৃহত্তম একটি শহর। এটি সাঁওতাল পরগনা বিভাগ এর দেওঘর জেলার সদর শহর। এটি হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র স্থান হিসবেই বেশি বিবেচিত। এখানে হিন্দু ধর্মের ১২ টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি (বৈদ্যনাথ মন্দির) অবস্থিত। শহরের পবিত্র মন্দিরসমূহ তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাছে শহরটিকে একটি পবিত্র গন্তব্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়াও, শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরত্বও রয়েছে। দেওঘর একটি হিন্দি শব্দ এবং “দেওঘর” এর আভিধানিক অর্থ হল দেব-দেবীদের (দেব) বাসস্থান (ঘর)। দেওঘর “বৈদ্যনাথ ধাম”, “বাবা ধাম” নামেও পরিচিত। 

দেওঘর, বৈদ্যনাথ ধামের উৎপত্তি প্রাচীনকালেই হারিয়ে গেছে। সংস্কৃত গ্রন্থে একে হরিতকিবন বা কেতকিবন নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। দেওঘর নামটি সাম্প্রতিক উৎপত্তি বলে মনে হয় এবং সম্ভবত ভগবান বৈদ্যনাথের মহান মন্দির নির্মাণের সময় থেকেই এসেছে। যদিও মন্দিরের নির্মাতার নাম খুঁজে পাওয়া যায় নি এখনো। তবে মন্দিরের সামনের অংশের কিছু অংশ ১৫৯৬ সালে গিদ্দৌরের মহারাজার পূর্বপুরুষ পুরাণ মল দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয় তবে সনাতন ধর্মের দ্বারা বিশ্বাস করা হয় যে এটি ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারা নির্মিত। দেওঘর হল ভগবান শিবের উপাসনালয়, শ্রাবণ মাসে অনেক ভক্ত পূজার জন্য সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘরে গঙ্গাজল নিয়ে যান এবং তারা তাদের জীবনের কাঙ্খিত বাসনা পাওয়ার আশায়।

ইংরেজী ১৯৪৬ সালে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ৬৭ তম জন্মজয়ন্তি উৎসব হওয়ার পরে শ্রীশ্রীঠাকুর হঠাৎ ঘোষণা দিলেন তিনি পশ্চিমে যাবেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো হিমায়েতপুর, পাবনা সৎসঙ্গ আশ্রম ছেড়ে শ্রীশ্রীঠাকুর যাত্রা করলেন দেওঘরের উদ্দেশ্যে। ৩০শে আগস্ট, ১৯৪৬ ইংরেজি সালে শ্রীশ্রীঠাকুর বৈদ্যনাথধাম পর্যন্ত রেলগাড়ির বগি রিজার্ভ করার জন্য মার্কিন ভক্ত নরম্যান ডি ফেন, ভোলানাথ সরকার ও রাজেন্দ্রনাথ মজুমদারকে ব্যবস্থা করতে বলেন। সেই সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর সুশীলচন্দ্র বসু ও বীরেন্দ্রলাল মিত্রকে দেওঘরের মধ্যে একটি খুব বড় বাড়ি ভাড়া করতে বললেন। তখন রোহিনী রোডস্থিত বড়াল-বাংলো নামে সুবৃহৎ বাড়িটি ঠিক করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট ১৯৪৬ এর ১লা সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবার ও কতিপয় ভক্তসহ রওনা হন দেওঘর অভিমুখে। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় মায়াতীতের মত নিজ জন্মভূমি ও দীর্ঘ ৫৮ বছরের লীলাভূমি পেছনে ফেলে শ্রীশ্রীঠাকুর উপনীত হলেন দেওঘরের বড়াল-বাংলোতে।

এখন ভারত ও বহির্ভারতের সৎসঙ্গ সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডের প্রধান নির্দেশনাগুলো মূলত এই আশ্রম / সংগঠনগুলো থেকেই আসে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর নরলীলার ৫৯ বছর বয়সে এখানে এসেছিলেন এবং বাকি ২৩ বৎসর এই আশ্রমেই কাটিয়েছিলেন। “দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রম” ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগণার অন্তর্গত বৈদ্যনাথ পীঠস্থানের সংলগ্ন দেওঘরে অবস্থিত। জসিডি রেলস্টেশনের পর শাখা স্টেশন বৈদ্যনাথ ধাম। সেখান থেকে মাইল কয়েক এগিয়ে গেলেই দেওঘর আর সেখানেই অবস্থিত দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রম। যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও অনুরাগীরা আসেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নিলা ভূমি দেখার জন্য়।

দেওঘর যাবার প্রস্তুতি বেশ কয়েকমাস পূর্বেই শুরু করেছিলাম আমরা, প্রহলাদ পোদ্দার (সহ-প্রতি ঋত্বিক), বিধান চন্দ্র শীল (সহ-প্রতি ঋত্বিক) ও আমি। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পন্ন করে ১ লা বৈশাখ ১৪৩১ এর ৯৮ তম সর্ব-ভারতী ঋত্বিক সম্মেলন এ যোগদানের জন্য মানসিক ও আর্থিক ভাবে আমরা প্রস্তুত। একপর্যায় জানতে কল্যাণাংশু নাহা (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদাও আমদের সাথে যাবেন, খুবই খুশি হলাম যেহেতু তিনি বেশ অনেকবার ভারত ও দেওঘর যাওয়া-আসা করেছেন তার অভিজ্ঞতা আছে। আমার এটাই প্রথম বাংলাদেশের বাইরে ভ্রমন, তাই অন্যরকম অনুভূতি, ভয়, উদ্বেগ কাজ করছিল বারবার।

২০০০ বা ২০০১ সালে আমি প্রথম প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর এর পূণ্য জন্মভূমি হেমায়েতপুর, পাবনাতে যাই। সাথে ছিল পাবানার বিখ্যাত কেচি ব্যবসায়ী মানিক কাকা, আমার স্নেহের কাকাত ভাই বলরাম সরকার ও আমি। সেটা ছিল এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি প্রথম ও নতুন তৈরি বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু দিয়ে পার হওয়া। সময়ের ব্যবধানে প্রায় ২ যুগ পর ২০২৪ আমার দেওঘর সফরে সঙ্গিও বলরাম সরকার ও তার ছেলে বিক্রমজিৎ সরকার। যেহেতু আমার বাংলাদেশের বাইরে কখনো যাবার অভিজ্ঞতা নেই তাই, অনেকের সাথেই আলোচনা করতে থাকি বেনাপোল বর্ডার, কলকাতার ট্রেন, আবহাওয়া, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে। 

কোথায় কি কি দেখতে যাবো, ডলার / টাকা কি ভাবে কত কি নিতে পারবো, পরিবারের জন্য কি কি কিনতে হবে, দেওঘর কি কি করবো, ভারতে ট্রেনের টিকিট কি ভাবে কাটবো, পরিবহন কোনটা ভাল হবে, কয়দিন থাকবো, অফিসের কাজগুলো কিভাবে গুছিয়ে যাবো, কি কি কাগজ-পত্র নিতে হবে ইত্যাদি ভাবতে ভবতেই আরো কয়েকদিন পার কারলাম। ঈদুল-ফিতর ও বাংলা নবর্ষের কারনে প্রায় ৭-৮ দিনের একটা লম্বা ছুটি পাওয়া গেল, সাথে আরো দুই দিন বারিয়ে নিয়ে আমার ভ্রমন তারিখ ঠিক করলাম ০৮ই এপ্রিল ২০২৪ সোমবার থেকে প্রায় ১৮ই এপ্রিল ২০২৪ বৃহস্পতিবার। তারপর ঠিক করা হলো কে কবে কিভাবে কলকাতা পৌছাবে, তারপর সবাই একসাথে হয়ে দেওঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু।

ঠিক হলো প্রহলাদ দা ৬ই এপ্রিল ভারতে তার মামা বাড়ি যাবে, সেখান থেকে ১০ই এপ্রিল আমরা এক সাথে হবো। ৮ই এপ্রিল কল্যান দা পাবনা থেকে ও বিধান কাকা কুষ্টিয়া থেকে বেনাপোল যাবে আর আমি ঢাকা থেকে সকালে রওনা হয়ে বেনাপোল পৌছাবো, তারপর একসাথে তিনজন বর্ডার পার করবো। বলরাম ও বিক্রমজিৎ ১০ই এপ্রিল বিমানে কলকাতা পৌছাবে। আমি সোহাগ পরিবহনের টিকিট ঢাকার সায়দাবাদ থেকে ৭.৪৫ মিনিটে ঠিক করে রাখি, কিন্তু ঈদে পরিবহন চাপের কারনে প্রায় ৩০ মিনিট লেট করে যাত্রা শুরু করি ও বেনাপোল পৌছায় প্রায় দুপুর ২ টা বাজে। 

কল্য়ান দা ও বিধান কাকা প্রায় ১২ টার দিকেই পৌছে যায় এবং জি এম পরিবহন কাউন্টারে শুধু আমার জন্য় অপেক্ষা। আমি যেহেতু প্রথম বার যাচ্ছি কোথায় কি করতে হবে তার কারনে তাদের অপেক্ষা। বিধান কাকা আমাকে সঠিক ভাবে কাউন্টারের ঠিকানা বলতে না পারায় প্রায় এক ঘন্টা আমি ভ্যানে ঘুরাঘুরি করে জি এম পরিবহন কাউন্টারে পৌছাই। সেখানে কিছু ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করে দুপুর প্রায় ৩ টার দিকে বর্ডারের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু। বর্ডারের কাজ শেষ করে সবাই একসাথপ পার হই ও পেট্রাপোল বর্ডার থেকে একটি ভারতীও মোবাইল AirTel SIM সংগ্রহ করে আমাদের ভারতের মাটিতে পদার্পন শুরু করি।

চলবে……….






Friday, December 29, 2023

আমার প্রথমা কন্যা আরুশী সরকার

আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, শুক্রবার, ১২ পৌষ ১৪৩০ বাংলা। আমাদের প্রথমা কন্যার ১০ম জন্মদিন। আমি 'বড়' মেয়ে বলার চেয়ে 'প্রথমা' বলেই সম্মোধন করলাম। কারন আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনের দুপুর ১.১০ মিনিটে সে জন্মগ্রহন করেছিল। তার কারনেই আমি ও আমার স্ত্রী প্রথম বাব-মা হতে পরেছিলাম। এই ২৯ ডিসেম্বর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৩৬৩তম (অধিবর্ষে ৩৬৪তম) দিন হিসেবে বিবেচিত।

আমাদের বিবাহ হয়েছিল ২০১৩ সালের ১১ আগষ্ট, রবিবার। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলেছেন ..


উন্নয়ন আর সুপ্রজনন
এই তো বিয়ের মূল,
যেমনি তেমনি ক'রে বিয়ে
করিস্ না কো ভুল |

প্রতিটি মানুষ যুবক/যুবতী হবার পরথেকেই অনেক স্বপ্নের মধ্যে চাকরি-ব্যবসায়, প্রেম, বিবাহ, সন্তান, সংসার, টাকা-পয়সা নিয়ে বড় হতে থাকে। প্রচলিত প্রবাদ আছে 'সন্তান কখনো পিতা-মাতার ঋন পরিশোধ করতে পারে না'। কথা সত্য, কিন্তু যদি আপনার একজন সন্তান না থাকে কে আপনাকে বাবা-মা বলবে? বাবা-মা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে গেলেও একজন সন্তান প্রয়োজন। তাই আমার মতে আমার সন্তান আমার জীবনে একটি ঈশ্বর প্রদত্ত বড় উপহার। শাস্ত্রীয় দিনক্ষন দেখে আমরা গর্ভাদানের সময় ও দিন ঠিক করলাম।

প্রথমা কন্যা জন্মগ্রহনের পর আসে নামকরন করার দিনক্ষন। পরিবারের অনেকেই অনেক নামে তাকে ডাকতে থাকে। আমি একজন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভক্ত / শিষ্য, চেষ্টা করি তাঁর নীতি-আদর্শ জীবনে প্রতি পালন করতে। আমার ইচ্ছা হলো শ্রীশ্রীঠাকুরের নামের সাথে মিল করে নাম রাখা যায় কিনা। মানে প্রথম অক্ষর "অ" হবে এবং একটি সুন্দর নামের অর্থও থাকবে। সেই মোতাবেক বেশ কিছুদিন খুজতে থাকি।

আমার স্ত্রীর নাম 'সবিতা সরকার' যার আবিধানিক অর্থ 'সূর্য'। কন্যার নামকরণ করলাম "আরুশী সরকার"। আরুশি নামের আক্ষরিক অর্থ হলো 'প্রভাত'। এছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে আমি পেলাম আরুশি নামের অন্যতম আরো একটি অর্থ হলো "সূর্যের প্রথম রশ্মি"। নাম ও নামের অর্থটি খুব পছন্দ হলো আমার।


শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র থেকে 'আ'
বাবা রাম কৃষ্ণ থেকে 'রু'
মা সবিতা খেকে 'শী' সব মিলিয়ে "আরুশী"।

পরমপিতার কাছে প্রার্থনা, আরুশী যেন শ্রীশ্রীঠাকুরের একজন ভালো মানুষ হিসেবে বড় হতে পারে।


 




Sunday, April 2, 2023

আমার ছোট কন্যা অরুনিমা সরকার

আজ ০২রা এপ্রিল ২০২৩, রবিবার, ১৯ শে চৈত্র ১৪৩০ বাংলা। আমাদের দ্বিতীয় কন্যার ০৩ম জন্মদিন। ০২রা এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১৯ শে চৈত্র ১৪২৬ বাংলা। সকাল ১১.১২ মিনিট দিনটি ছিল ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের পুণ্য আবির্ভাব তিথি রাম নবমী। এই পবিত্র দিনে জন্মগ্রহন করেছিল আমার ছোট মেয়ে। বড় বা প্রথম কন্যা হবার অনেক বছর পর, পারিবারিক ভাবে পুত্র সন্তানের জন্য চাপ দিতে থাকে। দেখতে দেখতে 'আরুশীর' প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল। তাই আমি ও আমার স্ত্রী শারিরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে থাকি। শাস্ত্রীয় দিনক্ষন দেখে আমরা দ্বিতীয় গর্ভাদানের জন্য সময় ও দিন ঠিক করলাম।

সৌভাগ্যক্রমে এবারও মেয়ে সন্তান হলো। পারিবারিক ও আত্মীয়-স্বজন নানান কথা বলা বলি শুরু করে দিল কি হবে?, দুই মেয়ে!, আমার ছেলের ভবিষ্যত কি হবে?! নানান কথা যা প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারেই হয়ে থাকে। তখন কিছুটা মন আমারও খারাপ লাগতো। কিন্তু বাস্তবে আমি সব সময় চাইতাম শ্রীশ্রীঠাকুর-ই ভালো জানেন কি প্রয়োজন তাই তিনি যা দেবেন তাই আমার ভাগ্য। এতে আমার কোন দুঃখ নাই।

এখন আসলো নাম করনের ব্যপার। এবারও আমার পছন্দ মেয়ের নামের প্রথম অক্ষর 'অ' হবে এবং দিদি 'আরুশী' র নামের অর্থের সাথে মিল থাকে। অনেক খোজা খুজি করে ঠিক করা হলো "অরুনিমা সরকার"।

'অরুনিমা' নামের আক্ষরিক অর্থ হলো 'লালচে আভা, রক্তিমা' ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে আমি পেলাম অরুনিমা নামের অন্যতম আরো একটি অর্থ হলো "ভোরের আভা"। নাম ও নামের অর্থটি খুব পছন্দ হলো আমার।

খুবই চঞ্চল, প্রানবন্ত এই মেয়েটি আমার জীবনে আসার পর আমার জীবনটাই কেমন যেন পরিবর্তন হতে থাকে।

পরমপিতার কাছে প্রার্থনা আমাদের দুই মেয়েই যেন একজন ভাল মানুষ হতে পারে।

 








Friday, July 30, 2021

আমার জীবনে Mentor এর ভুমিকা (শেষ অংশ)

{ প্রথম অংশ }

২০০৪ সাল থেকে আমার কর্মজীবন শুরু। জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কেটেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। যখন যেই প্রতিষ্ঠানে ছিলাম সেখান থেকে চেষ্টা করেছি নতুন নতুন কিছু শিখতে ও নিজের মেধা ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে।

১। মাহে আলম খানঃ- MAK ভাই এর সাথে আমার পরিচয় ২০০৪ সাল থেকে। তিনি ছিলেন আমার Computer Hardware শিক্ষক। আমার কাছে অন্য সকল শিক্ষক ও Boss রা হলো জীবন গ্রন্থের একেকটি অধ্যায়। আর মাহে ভাই আমার জীবনের একটি অসমাপ্ত কাব্য। ২০০৪ থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ছিলেন শিক্ষক, গুরু, Boss, বড় ভাই, কর্মজীবনের অভিভাবক ........... ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত আমার জীবনের যত সাফল্য তার সাথে কোন না কোন ভাবে মাহে ভাইয়ের অবদান রয়েছে। আমার bLog এ তাকে নিয়ে অনেক লেখা আছে।

২। এ এইচ রবিন ও সামিম স্যারঃ- আমার কর্মজীবন শুরু করি ২০০৪ সালে INFOBASE থেকে। যার কর্নধার ছিলেন এই দুই বন্ধু। আমার সৌভাগ্য এমন দুইজন মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। এই মূহর্তে রবিন স্যারের একটি কথা মনে পরছে, “কর্মজীবনে মনে রাখবে তোমার Senior রা কেও তোমাকে নিজ থেকে কিছু শিখাবে না, তোমাকেই তাদের কাছ থেকে তোমার বুদ্ধি দিয়ে শিখে নিতে হবে।”

সামিম স্যার একদিন তার গাড়িতে করে আমাকে বাসায় নিয়ে যায় তার কম্পিউটার ঠিক করতে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “অফিস চলাকালিন তুমি মনে রাখবে কাজ শেষ বলে কোন কথা নাই, তোমার কাজ না থাকলে অন্যেরা কি কাজ কিভাবে করছে শিখার চেষ্টা করবা। জীবনের কোন সময় কোন শিক্ষাটা কাজে আসবে তুমি জাননা। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করবা।”

৩। তপন সাহাঃ- সাল ২০০৬, P.N. COMPOSITE এর শুরুর দিকে চাকরি তে যোগদান করি। তপন স্যার ছিলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। একদিন রাত্রে আমার শিফট চলছিল। তেমন কোন কাজ ছিলনা স্যার এসে আমাদের Color Lab এ বসলেন ও অন্য সবার খোজ খবর নিচ্ছিলেন। আমার পরিচয়, লেখা-পড়া ইত্যাদি জানার পর তিনি কিছুটা অবাক হন আমার ছোট মামার নাম শুনে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস ও টেস্টটাইল সেক্টরে তার ব্যপক পরিচিতি। তিনি বলেছিলেন তুমিতো তাহলে বেশিদিন এখানে চাকরি করবে না। আমাকে জিজ্ঞাসা করলো আগামী দশ বছর পর তুমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাও। আমি অনেকটা সাহস নিয়েই বলেছিলাম স্যার নিজেকে একজন ব্যবসায়ি হিসেবে দেখতে চাই। আমার প্রতিষ্ঠানে তারাই কাজ করবে যাদের আমার মত মেধা আছে কিন্তু লেখা পড়ার সুযোগ বেশি পায়নি। স্যার শুনে কিছুটা হাসলেন।

তখন আমি পুরান ঢাকা থেকে প্রতিদিন বাসে কোনাবাড়ী, গাজিপুর অফিস করতাম। তিনিই আমাকে প্রথম বুদ্ধি ও সুযোগ করে দিয়েছিলেন চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতে। তখন আমি ঢাকা থেকে কিছু কিছু Garments Accessories নিয়ে ফ্যাক্টরিতে Supply দেওয়া শুরু করি। ব্যবসার হাতেখড়ি সেই থেকে শুরু .......।

৪। জামিল আহমেদঃ- ২০০৪ বা ২০০৫ সালের দিকে জামিল ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় একটি কম্পিউটার মেলাতে। তখন আমি ও ম্যাক ভাইয়ের কয়েকজন ছাত্র OpenSource নিয়ে কাজ করছিলাম।

কর্মক্ষেত্রে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ দেয়ার অবদান জামিল ভাইয়ের। TigerIT তে আমি ২০০৭ সালে যোগদান করি। তখন অফিস ছিল মগবাজারে। কাজ যে বিনোদনের মাধ্যমেও করা যায় TigerIT তে যোগদান না করলে জানাও হতো না আমার। যখন কাজ তখন দিন রাত শুধুই কাজ, আবার যখন বিনোদন তখন শুধুই বিনোদন। অফিসের যেকোন কঠিন কাজ কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে করা যায় জামিল ভাইয়ের সাথে পরিচয় না হলে হয়তো শেখাই হতো না। ব্লগটি লিখতে বসে TigerIT এর সবারই মুখটি খুব মনে পরছে। আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর ও সর্নালী সময়টুকু পার করেছি এখানেই।  

ম্যাক ভাই ও জামিল ভাইয়ের হাত ধরেই Ankur ICT Development Foundation এ যোগদান করি। কাজের কারনেই তখন দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে যাওয়ার একটি সুযোগ হয় আমার। তখন আমার মাথায় দেশ ও দেশের সুবিধাবন্চিত মানুষের জন্য কিছু একটি করার চিন্তা মাথায় ঠোকে। সেই চিন্তাটি এখনো আছে শুধু সুযোগের অপেক্ষা। জামিল ভাইয়ের হাসিটি খুবই সুন্দর মাঝে মাঝে খুব মনে পরে তার সেই হাসির কথা।

৫। হরিপদ ব্যানার্জীঃ- ২০১৩ সালে Purchase Officer হিসাবে য‌োগদান করি Metro Knitting & Dyeing Mils এ। হরিপদ স্যার কে দেখে অবাক হতাম প্রায় ৬০ উর্ধ বয়স সেই বয়সেই তার যে কর্মদক্ষতা তা আমাদের অনেকেরই হার মানায়। তিনি মনে করতেন যে কাজে যে দক্ষ তাকে দিয়েই সেই কাজটি করানো উচিৎ, তাতে কাজটি সুন্দর হয়। তিনি সকলকে তার পুত্রসম ভালবাসতেন।  

৬। বলরাম সরকারঃ- জীবনের দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর যখন ভাবলাম এখন স্থায়ী ব্যবসায় করা দরকার, কিন্তু অভিজ্ঞতা থাকলেও টাকা নেই। কারন চাকরির পাশা পাশি কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মক্ষিন হই অনেক। ২০১৬ সালে আমার কাকাত ছোট ভাই আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে BS Trading নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। যার কাছে আমি কৃতজ্ঞ কারন এখানে না আসলে হয়তো ব্যবসার মূল জিনিসগুলো জানাই হতো না। বলরাম এর ধর্মীয় অনুভুতি, মানুষকে ভালবাসার ক্ষমতা, নতুন নতুন ব্যবসার উদ্ভাবনী শক্তি অসাধরন। এখনও অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করছি তার কাছ থেকে।     

প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর আরেকটি বানী দিয়ে লেখা শেষ করবো,

 

শিখলি যে তুই কত-শত

বোধ তো কিছুই ফুটল না!

স্মৃতির বলদ্ হ’লি শুধু

একমুঠো ভাত জুটল না?

আমার জীবনে Mentor এর ভুমিকা (প্রথম অংশ)

করার পথে চলতে গেলে

এতই ঠকা শেখাই দায়,

অতো ঠকে শিখতে গেলে

জীবনে কি পাড়ি পায়?

শিখেছে যে তা’র কাছে তাই

শেখায় শরণ নেওয়াই ভাল,

নইলে যে ত‌োর ব‌োকা সাহস

ভরজীবনই ঠকিয়ে গেল।

উপরের কথা বা বানীটি যিনি দিয়েছেন আমার জীবনের একমাত্র উপাস্য, আরধ্য দেবতা প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। আজকের লেখার সাথে বানীটির বেশ মিল আছে বলেই এই বানীটি দিয়ে আমার লেখা শুরু করলাম।

জ্ঞান অর্জনের কোন শেষ নেই। জন্ম থেকে আ-মৃত্যু মানুষ কোন না কোন ভাবে শিক্ষা গ্রহন করেই। নবি কারীম (সঃ) বলেছেন, "দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর।"

সময়ের সাথে সাথে মানুষের মনে প্রতিনিয়ত কোন না কোন প্রশ্নের সৃষ্টি হতেই থাকে। শিক্ষা গ্রহন করার বিষয়টি সম্পূর্ন ব্যক্তির নিজস্ব অভিরুচির উপর নির্ভর করে। সবাই একরকম ভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ নাও করতে পারে। কেউ শিখে Practically, কেউবা চোখে দেখে, কেউ বই পড়ে, কেউবা অভিজ্ঞতা অনুসারে, কেউ চিন্তার মাধ্যমে, কেউবা আবার বিশ্বাসে আরো অনেক পদ্ধতি থাকতে পারে। তবে আমার মতে শিক্ষা গ্রহনের সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় পন্থা হচ্ছে শিক্ষক ও গুরুর মাধ্যমে। একজন শিক্ষক বা গুরুই ছাত্রের ধরন বুঝে তাকে শিক্ষা দিতে পারেন।

অপরদিকে, শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে স্বশিক্ষা। নিজে নিজে যা শিখে সেই শিক্ষা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা মানুষের খুব কমই থাকে। যে শিক্ষা আমরা সাধারনত নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বা জীবনে ঘটে যাওয়া বড় কোন ঘটনার মাধ্যমে শিখে থাকি। প্রচলিত একটি কথা আছে, "তুমি শিখছিলা কোথায়? আমি ঠেকছিলাম যেথায়।" এই ঠেকে শেখাকেই এক কথায় স্বশিক্ষা বলা যেতে পারে।

প্রতিটি মানুষের কাছে নিজ পরিবার হচ্ছে প্রধান শিক্ষাক্ষেত্র। পিতা-মাতাই তার প্রথম শিক্ষক। আমার জীবনে মা জীবনের তেমনই শিক্ষক। আমার জীবনের এমন কোন ঘটনা নেই যা আমার মা-এর সাথে আলোচনা করিনি। আমার মাকে কতটুকু ভালবাসি তা জানিনা কিন্তু তার খুসির জন্য যেকোন কিছু ত্যাগ করতি রাজি আছি। 

স্বর্গীয় কালি পদ সরকার আমার ঠাকুর দাদা (Grandfather) ১৯৯৯ সালের ১৭ ই জানুয়ারী তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন আমার প্রথম পারিবারিক আদর্শ। তিনিই আমার জীবনের বেশীর ভাগ গুনের বীজ রোপন করে দিয়েছিলেন। আমার দুঃখ কিশোর বয়সেই আমি তাকে হারিয়েছি, বেশি কিছু শিখতে পারিনি আর। ধর্ম, বিজ্ঞান, মানবিকতা সহ অনেক কিছুরই ভিত্তি তার হাত ধরেই। তিনিই আমাকে শিখেয়েছিলেন কিভাবে মটর ও ককসিট দিয়ে খেলনা লঞ্চ বানিয়ে নদিতে চালানো যায়। কিভাবে নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। তিনি বলতেন যতক্ষন নিজের সামর্থ থাকে ততক্ষন অন্যের কাছ থেকে কোন প্রকার সাহায্য নেয়া নিজের যোগ্যতাকেই অপমান করা। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন এই প্রার্থনা। 

রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২), নাটকে শহীদ মুনীর চৌধুরী বলেছেন, “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে অকারণে বদলায়।”

জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পর আজ আমার সৃতির ভান্ডার থেকে যতটুকু মনে আছে তা থেকে ছাত্র জীবনের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মজীবনের কয়েকজন Boss সম্পর্কে কিছু লেখার চেষ্টা করছি। আজ আমি যেখানে অবস্থান করছি সেখানে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল আমার স্বশ্রধ্য প্রনাম ও ভালোবাসা।

১। মোঃ খালেক স্যারঃ- আমাদের পারিবারিক শিক্ষক ছিলেন খালেক স্যার। তিনি গেন্ডারিয়ার উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি করতেন পাশাপাশি আমাদের ছোট কাকা এবং আমাদের সকল ভাই-বোনদের পড়াতেন। আমার জীবনের প্রথম হাতেখড়ি থেকে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত তিনি পড়িয়েছিলেন। এই মূহর্তে স্যারের যে বিষয়টি আমার খুব মনে পরছে, তিনি যেদিন বিদ্যালয় থেকে নতুন বই দিতো সেই দিন পড়াতেন না। সেই দিন থাকতো শুধু বই পরিচিতি। প্রতিটি নতুন বই এর গন্ধ শুকতে ও বইয়ের ছবি গুলো দেখতে দিতেন আর বলতেন আগে বইকে ভালবাসতে শিখো তারপর কাল থেকে পড়ালেখা।

২। অসিম কুমার ভৌমিকঃ- অসিম স্যার মূলত ইংরেজীর শিক্ষক ছিলেন। আমি তার কাছে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম (এস এস সি) শ্রেনী পর্যন্ত সকল বিষয় পড়েছিলাম। তার একাদশ শ্রেনীর ইংরেজী পড়ানোর পদ্ধতি ছিল অসাধরন। কিভাবে ইংরেজীর কোন শব্দ ডিকশেনারী থেকে বের করতে হয় তার কাছ থেকেই শেখা।

৩। বিধান বিশ্বাসঃ- বিধান স্যার এর কাছে আমি নবম ও দশম শ্রেনীর অংক করতাম। তখন কেন যেন মনে হতো তিনি একবার যে অংক শিখাতেন তা আর ভুলার কোন উপায় নেই। যে কোন অংক কি ভাবে সহজে মনে রাখা যায় তিনিই জানতেন। আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে অংকের জাহাজ বলতাম।

৪। রুহুল আমিন হাওলাদারঃ- হাওলাদার স্যার ছিলেন আমাদের গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক। তার কাছে কয়েক মাস ব্যাচে বিজ্ঞান ও অংক পড়েছিলাম। তার পড়ানোর পদ্ধতির কারনেই আমার জীববিজ্ঞানের প্রতি একপ্রকার ভালোবাসা জন্মায়। ভেবেছিলাম বড় হয়ে শুধু জীববিজ্ঞান নিয়ে লেখা পড়া করবো। যে স্বপ্ন এখনো স্বপ্নই রয়ে আছে। 

৫। বিবেকানন্দ বিশ্বাসঃ- বিবেক স্যার আমাদের পারিবারিক আত্মীয় (দাদা) হয়। ছোট বেলা থেকেই তার সাথে আমার সম্পর্ক। তার কাছে একাদশ থেকে এম,কম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ি। তার হিসাব বিজ্ঞান পড়ানো ছিল এতাটাই সাবলীন ও অপ্রতিদন্ধী যে তখন আশে পাশের এলাকা থেকেও প্রচুর ছাত্র-ছাত্র আসতো। তিনি আমাকে ফ্রী পড়াতেন। তখনই আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমিও যদি শিক্ষকতা করি তখন আমিও কিছু ছাত্র ফ্রী পরাবো এবং সেই কারনে আমাদের কচিং সেন্টারে কিছু গরিব ছাত্রদের সবসময় ফ্রী পড়তাম।

৬। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদঃ- BUET পরিচালিত IAC থেকে আমি ২০১১ সালে Web Design and Application Development কোর্সটি করি। ড. কায়কোবাদ স্যারকে আমার টেলিভিশন ও বিভিন্ন কম্পিউটার মেলায় অনেকবার দেখার সুযোগ হয়েছিল। যখন কোর্সটি ভর্তি হই তখন মনে করেছিলাম স্যার বোধহয় আমাদের ক্লাস করাবেন। সেই সুযোগ আর হয়নি। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমাদের Certificate প্রদানের দিন স্যার এসেছিলেন। স্যারের একটি কথা আমার খুব মনে পরে। তখন তিনি তার বক্তিতায় বলেছিলেন, “এই অল্প সময়ে তোমরা এখান থেকে যা শিখলে তা যদি তোমরা কাজে লাগাতে পারো সেটাই তোমাদের পরিশ্রমের সার্থকতা। সব সময় মনে রেখো তোমরা আজ পৃথিবী থেকে যা গ্রহন করলে বা শিখলে তা যেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজের মাধ্যমে কয়েকগুন ফেরত দিতে পার। ”

 

{শেষ অংশ}