The Web This Blog

Tuesday, April 23, 2024

তৃতীয় দিন, ~ ১০-০৪-২০২৪ই, বুধবার

দ্বিতীয় দিন...

সকালে উঠে কাঠালের ইচোর রান্না হলো। Smart Bazar থেকে পাওয়া চিনি ও ময়দা নিয়ে পূজনীয়া মা কে দিতে গেলাম তিনজন। সেখানে পূজনীয়া মা শুধু চিনি গ্রহন করলেন আর বললেন ময়দা তারা খায় না তাই ফিরত দিয়ে দিলেন। আমরা গতদিন মার্কেটে-মার্কেটে ঘুরেছি শুনে অবাক হলেন, যে এত কি কেনাকাটা করলা তোমরা। তারপর কিছু আলাপ আলোচনা করে মন্দির আশার পথে সবাই কিছু চকলেট কিনলাম। ট্রেনে ভ্রমনের সময় কিছু খেতে হবে তাই কিছু খাবারও কেনা হলো। 

সকালের খাবার খেয়ে বলরাম এর জন্য অপেক্ষা করা হলো কখন আসবে। এর মধ্যে প্রহলাদ দা সরাসরি মামার বাড়ি থেকে হাওড়া জংশন পৌছাবে। মন্দিরে এসে বলরাম ও বিক্রমজিত খাবার গ্রহন করলো, তারপর আমরা পাঁচজন একটি টেক্সি করে পৌছে গেলাম হাওড়া জংশন। প্রথম দেখা হাওড়া সেতু যা বর্তমানে রবীন্দ্র সেতু নামে পরিচিত। সেখানে প্লাটফরমে ব্যাগ-পত্র ও বলরামকে রেখে বাকি সবাই গেলাম হাওড়া জংশন ও রবীন্দ্র সেতুর কিছু ছবি তুলতে। 

যথা সময়ে ট্রেন এসে ৯ নম্বার প্লাটফর্মে থামলো। ঠিক দুপুর ২.০৫ মিনিটেই ট্রেন ছেড়ে দিল। আমি, কল্য়ান দা ও বিধান কাকা এক কামরা, বলরাম ও বিক্রমজিত এক কামরা এবং প্রহলাদ দা ভিন্ন কামরায় সিট পেয়েছিলাম। যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা আধুনিক তার অনেকটাই বুঝা যায় ভারতের দিকে তাকালে। সময়ানুবর্তিতার একটি উজ্জল উদাহরন ভারত। সেখানে রাত তিনটা বাজে দেখেছি ট্রাফিক সিগনালে লাল বাতি মানে গাড়ি থেমে থাকা, ট্রাফিক থাকুক না থাকুক। নারী-পুরুষ সমান বস্ত যে যার কাজ-কর্ম নিয়ে।   

ট্রেন ৫.৩০ মিনিটের কিছু পর থামলো জাসিডিই জংশনে। প্রতিটি জংশনেই দেখেছি মানুষের ঢল। এত বড় রেলগাড়ি আমার স্বচক্ষে দেখা প্রথম। কেউ ট্রেন থেকে নেমেছেন, কেউ পরবর্তী ট্রেন ধরবেন, কারো বা আরো দেরি আছে ট্রেন আসতে। কেউ ঘুমাচ্ছে, কেউ ঘুরছে বা কেউ সময় কাটাচ্ছে গল্প করেই। অটো চালক রাজেন্দ্র দা নামে এক গুরুভাই অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। তিনিই পৌছেদিলেন আমাদের কাংক্ষিত দেওঘরের বিবেক পথে অবস্থিত বিবেক-বিতানে। তার গাড়িতে করেই আমরা ঘুরেছিলাম ও শেষদিন জাসিডিই জংশনে ফেরত আসি।

বিবেক-বিতান যখন পৌছাই তখন সন্ধা প্রার্থনা শেষ। সেখানে আমাদের জন্য পূর্বেই একটি কক্ষ ঠিক করা ছিল, অস্তিকায়নের দ্বিতীয় তলায়। রাজু দাদার সাথে পরিচয় হলো, তিনিই আমাদের কক্ষ ও চাবি বুঝেয়ে দিলেন। রাজু দা একজন পরিশ্রমী মানুষ। খুবই ভালো মনের একজন হাসি-খুসি মানুষ। থাকার ঘরে ব্যাগ-পত্র রেখে খোজ নিয়া হলো অধ্যাক্ষ পূজ্যপাদ শ্রীবিদ্যুৎরঞ্জন চক্রবর্ত্তী দাদা অফিসে আছে কিনা। জানতে পারলাম তিনি আসতে দেরি হবে। এর কিছু সময় পর আমাদের সাথে যুক্ত হয় আমার এক কাকা উৎপল বিশ্বাস যিনি কলকাতা থেকে প্রথমবার দেওঘর আসেন। 

পূজ্যপাদ দাদার অফিস আসতে দেরি হবে শুনেই আমরা চলে গেলাম বড় বাড়িতে, শ্রীশ্রীঠাকুর মন্দির প্রনাম করতে। সেখানে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীবড় মা-কে প্রনাম করে ফিরে আসলাম বিবেক-বিতানে। যেহেতু উৎসব তখনো দুই দিন বাকি তাই উৎসব প্রস্তুতি তখনো চলছিল। পূজ্যপাদ দাদা অফিসে আসতেই আমরা তাকে প্রনাম করতে গেলাম। তিনি সবার খোজ খবর নিলেন। কিছু সময় তার সান্নিধ্য নিয়ে চলে গেলাম আনন্দ বাজার কক্ষে। সেখানে শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবারের সকলেই আনন্দ বাজরের খাবার গ্রহন করেন। আনান্দ বাজার শেষ করে, বিবেক-বিতানে কিছু সময় অতিবাহিত করে সবাই চলে গেলাম অস্তিকায়নে। তারপর ঘুম  ……………

চতুর্থ দিন .....



দ্বিতীয় দিন, ~ ০৯-০৪-২০২৪ই, মঙ্গলবার

প্রথম দিন ........

ভোরে উঠে ইষ্টভৃতি, প্রার্থনা করে আবার কিছু সময় ঘুমালাম সবাই। সকালে উঠে আমি আর বিধান কাকা রান্নার জন্য় তরিতরকারি কাটতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। কল্য়ান দা একটি ছোট কাচাঁ কাঠাল পারলেন পরে সুবিধামত সময়ে রন্না হবে। তিনি রান্না চাপায়ে দিলেন। সকালের খাবার সেরেই আমরা তিন জন বেরিয়ে গেলাম বড় বাজারের উদ্দেশ্যে। সেখানে কেনা কাটা করলাম আমি ধুতি, শাড়ি, শাল। অন্যরাও তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কাটা করে নিলো। 

আমার একটি বিশেষ দায়িত্ব ছিল কে কত খাবার, বাস ভাড়া ও অন্যান্ন খরচ করছি তার হিসাব রাখা ও দিন শেষে তা ভাগ করে একে অপরকে পরিষোধ করা। সেখান থেকে আমরা গেলাম নিউ মার্কেট। সেখানেও কেনা কাটা। আমার আগের থেকেই একটি ট্রলি ব্যাগের প্রয়োজন ছিল, তাই শ্রীলেদার কলকাতা থেকে কিনে নিলাম, সাথে দুই মেয়ের জন্য দুইটি একই রকম জুতা, আমার জন্য প্রিয় মডলের একটি কেস। সকলেই তাদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুসারে কেনা কাটা করে বের হলাম। সবাই কেনা কাটা করছে মন খুলে আমি শুধু হিসাব করছি এই পন্যটি বাংলাদেশের টাকার হিসেবে কত পরছে। কারন প্রথম বার তাই কিছুটা টাকা / রুপির হিসাবটা কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল আমার।  

এতটাই কেনা কাটা হয়ে গেল যে বাসে ফিরে আসা অনেকটাই কষ্টকর। তাই একটি টেক্সি করে আমরা মন্দিরে ফিরে আসলাম। পরের দিন দেওঘর যাবো তাই কিছুটা ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম সবাই। মন্দিরে কিছুটা বিরতি নিয়ে আবার চলে গেলাম হালকা কিছু নাস্তা করতে তারপর Smart Bazar (Big Bazar) বাগুইআটি শাখায়। সেখানে ১লা বৈশাখ উপলক্ষে চলছিল মূল্য ছাড়। সেখানেও কেনা কাটা আর কেনা কাটা। ফ্রী হিসাবে পেলাম ২ কেজি ময়দা ও ১ কেজি চিনি। মন্দিরে ফিরে আসার পথে দেখা হয়ে গেল শ্রদ্ধেয় গোপাল তেয়ারী (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদা সাথে। তাকে সাথে নিয়ে মন্দিরে ফিরে আসলাম।

আমার দেওঘর যাবার কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল, সর্ব প্রথম প্রিয়পরমের নিলা ভূমি দর্শন, শ্রীশ্রীঠাকুর এর বিশেষ একটি বিগ্রহ সংগ্রহ, কলকাতা থেকে কিছু কেনাকাটা ও নতুন কিছু ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা। যার প্রতিটিই পূর্ন হয়েছে। বেশি হিসেবে আরো কিছু বেশি পেয়েছি। কলকাতার মানুষের জীবনযাত্রাও আমাকে অনেক আকর্ষিত করেছে।

আমাদের কলকাতা থেকে দেওঘর যাবার দিন ঠিক করা ছিল ১০ই এপ্রিল এবং ১৫ই এপ্রিল দেওঘর থেকে কলকাতা। সেই মোতাবেক আগে থেকেই যথাক্রমে রাজধানী ইক্সপ্রেস ও কুম্ভূ ইক্সপ্রেস-এর হাওড়া জংশন থেকে জাসিডিহ এবং জাসিডিহ থেকে হাওড়া জংশনের টিকিট কাটা হয়। এই উপকারটি করে দেন আমাদের প্রিয় গোপাল তেয়ারী (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদা। তিনি বলে দিলেন কখন কি ভাবে গেলে ভালো হবে। তাকে সবার ট্রেনের টিকিটের মূল্য পরিশোধ করলাম আমরা। তারপর রাতের খাবার শেষ করে কমল দাদার সাথে কিছু গল্প করে ঘুমিয়ে পরলাম।

তৃতীয় দিন ....




Monday, April 22, 2024

দেওঘর ভ্রমন, প্রথম দিন, ~ ০৮-০৪-২০২৪ই, সোমবার

যাত্রা শুরু…..

পেট্রাপোল বর্ডার পার করে আমি, কল্যান দা ও বিধান কাকা CNG যোগে বনগাঁ রেল স্টেশন তারপর ট্রেন যোগে আমরা বিধাননগর (উল্টোডাংগা) নামলাম। ট্রেনে থাকাকালীন আমরা স্থানীয় সময় অনুসারে ঘড়ির কাটা ঠিক করে নিলাম ৩০ মিনিট পিছনে দিয়ে। প্রায় দুই ঘন্টা ট্রেন ভ্রমন করলাম মাত্র জনপ্রতি ২০ রুপি মূল্য টিকিটে। সেখান থেকে আমরা CNG যোগে জোড়া মন্দির, বাগুইআটি নামলাম। কিছুটা পায়ে হেটেই আমরা পৌছে গেলাম রেলপুকুর রোডের প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঅনুকূলচন্দ্র চর্য্যাশ্রম মন্দিরে। ঘড়ির কাটা তখন প্রায় সন্ধা ৫.৩০ টার মত স্থানীয় সময়। পূর্বে থেকেই আমাদের জন্য নিচ তলার একটি রুম ঠিক করা ছিল। সেখানেই পরিচয় হলো বাবুল চক্রবর্ত্তী (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদা ও কমল দাদাদের সাথে। আমরা ব্যাগ-পত্র রেখে হাত-মুখ ধুয়ে দ্বিতীয় তলার প্রার্থনালয় সন্ধা প্রার্থনা করলাম।

বাগুইআটি মন্দিরে যারা গিয়েছেন তারা জানেন যে, সেখানে নিজে রান্না করে খেতে হয়। আমার মত একজন দক্ষ কর্মী যা যা পারিনা তার মধ্যে রান্না করা অন্যতম। শুধু মাত্র জল ফোটানোটা ভালো পারি আর কিছু না। প্রায় ১০ দিনের সফরে আমি বিশেষ ভাবে আমাদের কল্যাণাংশু নাহা (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদার‌‌‌‌ কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো, তিনি না থাকলে এত সুন্দর ভাবে আমার ভারত ভ্রমন শেষ করতে পারতাম না। কল্যান দা একজন স্বপাকি মানুষ, আমাদের কথা চিন্তা করে যতদিন কলকাতা ছিলাম তিনিই রান্না করেছেন আমরা শুধু খেয়েছি। আমি ও বিধান কাকা একটি খাটে ঘুমিয়েছি আর কল্যান দা অন্য খাটে। মন্দিরে হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন থাকলেও দাদা সেগুলো ব্যাবহার করতে নারাজ, তাই নতুন করে হাড়ি-কড়াই কিনার চিন্তা করা হলো।

পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দাদা কাছেই নিজস্ব একটি ফ্লাটে স্বপরিবার নিয়ে থাকেন। রেলপুকুর এর বিপরীত পাশেই একটি নিরামিষ খাবারের দোকান আছে, সেখানে কিছুটা হালকা নাস্তা করে  আমরা আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে পূজনীয় দাদার বাসায় যাই তাকে প্রনাম করতে। আমি পূজনীয় দাদার জন্য কিছু Olympic Pulse চকলেট ও কল্য়ান দা ঘী, মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ থেকে। তখনই জানতে পারলাম পূজনীয় দাদা কোন প্রকার মিষ্টি খান না এখন। আমাদের সেখানে ঘরোয়া পরিবেশেই কিছু সাংগঠনিক কথা-বার্তা চললো। কে কে এসেছে, অন্য সবাই কবে কি ভাবে আসবে সেই খোজ খবর নিলেন পূজনীয় দাদা। কিছুক্ষন পর পূজনীয়া মা শ্রীমতি জোৎসা রানী চক্রবর্ত্তী (পূজনীয় শ্রীবিনায়ক চক্রবর্ত্তী দার সহধর্মীনি) তার ঘর থেকে আসলেন। সবার খোজ খবর নিচ্ছেন ও নানান বিষয় কথা-বার্তা চললো আরো বেশ কিছুক্ষন। 

রাত দীর্ঘ হচ্ছিল, কল্যান দা বললো আমরা এখন বাজারে যাবো সেখান থেকে বাজার করে বাগুইআটি মন্দিরে যাবো। এই কথা শুনে পূজনীয়া মা তার স্বভাব সুলভ মিষ্টি ভাষায় বললো এত রাতে তোমাদের রান্না করে খাবার দরকার নাই। আমার এখান থেকেই খেয়ে যাও। এমন আপ্যায়নের কথা আমি জগৎ জননী মাতা মনোমহিনী দেবীর জীবনিতে পড়েছিলাম। আজ অনেকটাই সেইরকম অনুভব করলাম আমি। আমি যেহেতু প্রথমবার কলকাতা আসছি, তাই হয়তো স্নেহটা বেশীই ছিল। পূজনীয় মা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভাত, পটল ভাজা, ডাল, টমেটো চাটনি তৈরি করে আমাদের ভোজন করালেন। বাগুইআটি মন্দিরে একটি কাঠাল গাছ আছে, বলে দিলো কাঠালের ইচোর খেতে একদিন। 

পূজনীয় দাদর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা বাজারে গেলাম পরেরদিনের জন্য তরিতরকারি কিনতে। আমরা যেহেতু তিনজন ছিলাম তাই সেই পরিমান মত তরকারি কেনা হলো। নতুন একটি হাড়ি, কড়াই ও আনুসাঙ্গিক জিনিষপত্র কিনে মন্দিরে ফিরে আসি। মঙ্গলবার কখন কি করবো সেই মোতাবেক চিন্তা করা হলো। সিদ্ধান্ত নেয়া হলো সকালের খাবার খেয়েই আমরা নিউ মার্কেট, বড় বাজার যাবো ব্যক্তিগত কেনা কাটা করার জন্য। সবাই যেহেতু কিছুটা ক্লান্ত তাই তারাতারি ঘুমেয়ে গেলাম।

দ্বিতীয় দিন......






আমার প্রথম দেওঘর ভ্রমন

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সবসময় একজন ভালো মানুষ তৈরি কারার জন্য কাজ করেছেন সবসময়। সকল অবতার পুরুষের মতই মানুষকে কি ভাবে ভালো রাখা যায় তার জন্যই সৎসঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি “যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী এবং সদাচার” নিয়ে কার করছে সৎসঙ্গ। 'সৎসঙ্গ' এর নীতিবাক্য হচ্ছেঃ- "দদাতু জীবনবৃদ্ধি নিরন্তরং স্মৃতি চিদযুতে"; যার বাংলা অর্থ হলোঃ "আমাকে প্রতিনিয়ত চেতনাবাহী স্মৃতিযুক্ত জীবন দান করো"। এই নীতি বাক্য ও মূলনীতি নিয়েই প্রতিটি সৎসঙ্গী চলার চেষ্টা করছে। সহ-প্রতি ঋত্বিকদের হাতে একটি দন্ড দেখতে পাবেন তাতে এই বানী টি লেখা আছে। 

মূল লেখা শুরু করার পূর্বে আসুন দেওঘর সম্পর্কে বাংলা উকিপিডিয়া থেকে কিছু তথ্য যেনে নেয়া যাক, দেওঘর (হিন্দি: देवघर, প্রতিবর্ণীকৃত: দেৱ্‌ঘর্) ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পঞ্চম বৃহত্তম একটি শহর। এটি সাঁওতাল পরগনা বিভাগ এর দেওঘর জেলার সদর শহর। এটি হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র স্থান হিসবেই বেশি বিবেচিত। এখানে হিন্দু ধর্মের ১২ টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি (বৈদ্যনাথ মন্দির) অবস্থিত। শহরের পবিত্র মন্দিরসমূহ তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাছে শহরটিকে একটি পবিত্র গন্তব্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়াও, শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরত্বও রয়েছে। দেওঘর একটি হিন্দি শব্দ এবং “দেওঘর” এর আভিধানিক অর্থ হল দেব-দেবীদের (দেব) বাসস্থান (ঘর)। দেওঘর “বৈদ্যনাথ ধাম”, “বাবা ধাম” নামেও পরিচিত। 

দেওঘর, বৈদ্যনাথ ধামের উৎপত্তি প্রাচীনকালেই হারিয়ে গেছে। সংস্কৃত গ্রন্থে একে হরিতকিবন বা কেতকিবন নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। দেওঘর নামটি সাম্প্রতিক উৎপত্তি বলে মনে হয় এবং সম্ভবত ভগবান বৈদ্যনাথের মহান মন্দির নির্মাণের সময় থেকেই এসেছে। যদিও মন্দিরের নির্মাতার নাম খুঁজে পাওয়া যায় নি এখনো। তবে মন্দিরের সামনের অংশের কিছু অংশ ১৫৯৬ সালে গিদ্দৌরের মহারাজার পূর্বপুরুষ পুরাণ মল দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয় তবে সনাতন ধর্মের দ্বারা বিশ্বাস করা হয় যে এটি ভগবান বিশ্বকর্মা দ্বারা নির্মিত। দেওঘর হল ভগবান শিবের উপাসনালয়, শ্রাবণ মাসে অনেক ভক্ত পূজার জন্য সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘরে গঙ্গাজল নিয়ে যান এবং তারা তাদের জীবনের কাঙ্খিত বাসনা পাওয়ার আশায়।

ইংরেজী ১৯৪৬ সালে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ৬৭ তম জন্মজয়ন্তি উৎসব হওয়ার পরে শ্রীশ্রীঠাকুর হঠাৎ ঘোষণা দিলেন তিনি পশ্চিমে যাবেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো হিমায়েতপুর, পাবনা সৎসঙ্গ আশ্রম ছেড়ে শ্রীশ্রীঠাকুর যাত্রা করলেন দেওঘরের উদ্দেশ্যে। ৩০শে আগস্ট, ১৯৪৬ ইংরেজি সালে শ্রীশ্রীঠাকুর বৈদ্যনাথধাম পর্যন্ত রেলগাড়ির বগি রিজার্ভ করার জন্য মার্কিন ভক্ত নরম্যান ডি ফেন, ভোলানাথ সরকার ও রাজেন্দ্রনাথ মজুমদারকে ব্যবস্থা করতে বলেন। সেই সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর সুশীলচন্দ্র বসু ও বীরেন্দ্রলাল মিত্রকে দেওঘরের মধ্যে একটি খুব বড় বাড়ি ভাড়া করতে বললেন। তখন রোহিনী রোডস্থিত বড়াল-বাংলো নামে সুবৃহৎ বাড়িটি ঠিক করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট ১৯৪৬ এর ১লা সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রীঠাকুর পরিবার ও কতিপয় ভক্তসহ রওনা হন দেওঘর অভিমুখে। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় মায়াতীতের মত নিজ জন্মভূমি ও দীর্ঘ ৫৮ বছরের লীলাভূমি পেছনে ফেলে শ্রীশ্রীঠাকুর উপনীত হলেন দেওঘরের বড়াল-বাংলোতে।

এখন ভারত ও বহির্ভারতের সৎসঙ্গ সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডের প্রধান নির্দেশনাগুলো মূলত এই আশ্রম / সংগঠনগুলো থেকেই আসে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর নরলীলার ৫৯ বছর বয়সে এখানে এসেছিলেন এবং বাকি ২৩ বৎসর এই আশ্রমেই কাটিয়েছিলেন। “দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রম” ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগণার অন্তর্গত বৈদ্যনাথ পীঠস্থানের সংলগ্ন দেওঘরে অবস্থিত। জসিডি রেলস্টেশনের পর শাখা স্টেশন বৈদ্যনাথ ধাম। সেখান থেকে মাইল কয়েক এগিয়ে গেলেই দেওঘর আর সেখানেই অবস্থিত দেওঘর সৎসঙ্গ আশ্রম। যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও অনুরাগীরা আসেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নিলা ভূমি দেখার জন্য়।

দেওঘর যাবার প্রস্তুতি বেশ কয়েকমাস পূর্বেই শুরু করেছিলাম আমরা, প্রহলাদ পোদ্দার (সহ-প্রতি ঋত্বিক), বিধান চন্দ্র শীল (সহ-প্রতি ঋত্বিক) ও আমি। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পন্ন করে ১ লা বৈশাখ ১৪৩১ এর ৯৮ তম সর্ব-ভারতী ঋত্বিক সম্মেলন এ যোগদানের জন্য মানসিক ও আর্থিক ভাবে আমরা প্রস্তুত। একপর্যায় জানতে কল্যাণাংশু নাহা (সহ-প্রতি ঋত্বিক) দাদাও আমদের সাথে যাবেন, খুবই খুশি হলাম যেহেতু তিনি বেশ অনেকবার ভারত ও দেওঘর যাওয়া-আসা করেছেন তার অভিজ্ঞতা আছে। আমার এটাই প্রথম বাংলাদেশের বাইরে ভ্রমন, তাই অন্যরকম অনুভূতি, ভয়, উদ্বেগ কাজ করছিল বারবার।

২০০০ বা ২০০১ সালে আমি প্রথম প্রিয়পরম শ্রীশ্রীঠাকুর এর পূণ্য জন্মভূমি হেমায়েতপুর, পাবনাতে যাই। সাথে ছিল পাবানার বিখ্যাত কেচি ব্যবসায়ী মানিক কাকা, আমার স্নেহের কাকাত ভাই বলরাম সরকার ও আমি। সেটা ছিল এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি প্রথম ও নতুন তৈরি বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু দিয়ে পার হওয়া। সময়ের ব্যবধানে প্রায় ২ যুগ পর ২০২৪ আমার দেওঘর সফরে সঙ্গিও বলরাম সরকার ও তার ছেলে বিক্রমজিৎ সরকার। যেহেতু আমার বাংলাদেশের বাইরে কখনো যাবার অভিজ্ঞতা নেই তাই, অনেকের সাথেই আলোচনা করতে থাকি বেনাপোল বর্ডার, কলকাতার ট্রেন, আবহাওয়া, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে। 

কোথায় কি কি দেখতে যাবো, ডলার / টাকা কি ভাবে কত কি নিতে পারবো, পরিবারের জন্য কি কি কিনতে হবে, দেওঘর কি কি করবো, ভারতে ট্রেনের টিকিট কি ভাবে কাটবো, পরিবহন কোনটা ভাল হবে, কয়দিন থাকবো, অফিসের কাজগুলো কিভাবে গুছিয়ে যাবো, কি কি কাগজ-পত্র নিতে হবে ইত্যাদি ভাবতে ভবতেই আরো কয়েকদিন পার কারলাম। ঈদুল-ফিতর ও বাংলা নবর্ষের কারনে প্রায় ৭-৮ দিনের একটা লম্বা ছুটি পাওয়া গেল, সাথে আরো দুই দিন বারিয়ে নিয়ে আমার ভ্রমন তারিখ ঠিক করলাম ০৮ই এপ্রিল ২০২৪ সোমবার থেকে প্রায় ১৮ই এপ্রিল ২০২৪ বৃহস্পতিবার। তারপর ঠিক করা হলো কে কবে কিভাবে কলকাতা পৌছাবে, তারপর সবাই একসাথে হয়ে দেওঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু।

ঠিক হলো প্রহলাদ দা ৬ই এপ্রিল ভারতে তার মামা বাড়ি যাবে, সেখান থেকে ১০ই এপ্রিল আমরা এক সাথে হবো। ৮ই এপ্রিল কল্যান দা পাবনা থেকে ও বিধান কাকা কুষ্টিয়া থেকে বেনাপোল যাবে আর আমি ঢাকা থেকে সকালে রওনা হয়ে বেনাপোল পৌছাবো, তারপর একসাথে তিনজন বর্ডার পার করবো। বলরাম ও বিক্রমজিৎ ১০ই এপ্রিল বিমানে কলকাতা পৌছাবে। আমি সোহাগ পরিবহনের টিকিট ঢাকার সায়দাবাদ থেকে ৭.৪৫ মিনিটে ঠিক করে রাখি, কিন্তু ঈদে পরিবহন চাপের কারনে প্রায় ৩০ মিনিট লেট করে যাত্রা শুরু করি ও বেনাপোল পৌছায় প্রায় দুপুর ২ টা বাজে। 

কল্য়ান দা ও বিধান কাকা প্রায় ১২ টার দিকেই পৌছে যায় এবং জি এম পরিবহন কাউন্টারে শুধু আমার জন্য় অপেক্ষা। আমি যেহেতু প্রথম বার যাচ্ছি কোথায় কি করতে হবে তার কারনে তাদের অপেক্ষা। বিধান কাকা আমাকে সঠিক ভাবে কাউন্টারের ঠিকানা বলতে না পারায় প্রায় এক ঘন্টা আমি ভ্যানে ঘুরাঘুরি করে জি এম পরিবহন কাউন্টারে পৌছাই। সেখানে কিছু ব্যাক্তিগত কাজ শেষ করে দুপুর প্রায় ৩ টার দিকে বর্ডারের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু। বর্ডারের কাজ শেষ করে সবাই একসাথপ পার হই ও পেট্রাপোল বর্ডার থেকে একটি ভারতীও মোবাইল AirTel SIM সংগ্রহ করে আমাদের ভারতের মাটিতে পদার্পন শুরু করি।

চলবে……….






Friday, December 29, 2023

আমার প্রথমা কন্যা আরুশী সরকার

আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, শুক্রবার, ১২ পৌষ ১৪৩০ বাংলা। আমাদের প্রথমা কন্যার ১০ম জন্মদিন। আমি 'বড়' মেয়ে বলার চেয়ে 'প্রথমা' বলেই সম্মোধন করলাম। কারন আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনের দুপুর ১.১০ মিনিটে সে জন্মগ্রহন করেছিল। তার কারনেই আমি ও আমার স্ত্রী প্রথম বাব-মা হতে পরেছিলাম। এই ২৯ ডিসেম্বর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৩৬৩তম (অধিবর্ষে ৩৬৪তম) দিন হিসেবে বিবেচিত।

আমাদের বিবাহ হয়েছিল ২০১৩ সালের ১১ আগষ্ট, রবিবার। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলেছেন ..


উন্নয়ন আর সুপ্রজনন
এই তো বিয়ের মূল,
যেমনি তেমনি ক'রে বিয়ে
করিস্ না কো ভুল |

প্রতিটি মানুষ যুবক/যুবতী হবার পরথেকেই অনেক স্বপ্নের মধ্যে চাকরি-ব্যবসায়, প্রেম, বিবাহ, সন্তান, সংসার, টাকা-পয়সা নিয়ে বড় হতে থাকে। প্রচলিত প্রবাদ আছে 'সন্তান কখনো পিতা-মাতার ঋন পরিশোধ করতে পারে না'। কথা সত্য, কিন্তু যদি আপনার একজন সন্তান না থাকে কে আপনাকে বাবা-মা বলবে? বাবা-মা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে গেলেও একজন সন্তান প্রয়োজন। তাই আমার মতে আমার সন্তান আমার জীবনে একটি ঈশ্বর প্রদত্ত বড় উপহার। শাস্ত্রীয় দিনক্ষন দেখে আমরা গর্ভাদানের সময় ও দিন ঠিক করলাম।

প্রথমা কন্যা জন্মগ্রহনের পর আসে নামকরন করার দিনক্ষন। পরিবারের অনেকেই অনেক নামে তাকে ডাকতে থাকে। আমি একজন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভক্ত / শিষ্য, চেষ্টা করি তাঁর নীতি-আদর্শ জীবনে প্রতি পালন করতে। আমার ইচ্ছা হলো শ্রীশ্রীঠাকুরের নামের সাথে মিল করে নাম রাখা যায় কিনা। মানে প্রথম অক্ষর "" হবে এবং একটি সুন্দর নামের অর্থও থাকবে। সেই মোতাবেক বেশ কিছুদিন খুজতে থাকি।

আমার স্ত্রীর নাম 'সবিতা সরকার' যার আবিধানিক অর্থ 'সূর্য'। কন্যার নামকরণ করলাম "আরুশী সরকার"। আরুশি নামের আক্ষরিক অর্থ হলো 'প্রভাত'। এছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে আমি পেলাম আরুশি নামের অন্যতম আরো একটি অর্থ হলো "সূর্যের প্রথম রশ্মি"। নাম ও নামের অর্থটি খুব পছন্দ হলো আমার।


শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র থেকে ''
বাবা রাম কৃষ্ণ থেকে 'রু'
মা সবিতা খেকে 'শী' সব মিলিয়ে "আরুশী"

পরমপিতার কাছে প্রার্থনা, আরুশী যেন শ্রীশ্রীঠাকুরের একজন ভালো মানুষ হিসেবে বড় হতে পারে।


 




Sunday, April 2, 2023

আমার ছোট কন্যা অরুনিমা সরকার

আজ ০২রা এপ্রিল ২০২৩, রবিবার, ১৯ শে চৈত্র ১৪৩০ বাংলা। আমাদের দ্বিতীয় কন্যার ০৩ম জন্মদিন। ০২রা এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১৯ শে চৈত্র ১৪২৬ বাংলা। সকাল ১১.১২ মিনিট দিনটি ছিল ভগবান শ্রীরাম চন্দ্রের পুণ্য আবির্ভাব তিথি রাম নবমী। এই পবিত্র দিনে জন্মগ্রহন করেছিল আমার ছোট মেয়ে। বড় বা প্রথম কন্যা হবার অনেক বছর পর, পারিবারিক ভাবে পুত্র সন্তানের জন্য চাপ দিতে থাকে। দেখতে দেখতে 'আরুশীর' প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল। তাই আমি ও আমার স্ত্রী শারিরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে থাকি। শাস্ত্রীয় দিনক্ষন দেখে আমরা দ্বিতীয় গর্ভাদানের জন্য সময় ও দিন ঠিক করলাম।

সৌভাগ্যক্রমে এবারও মেয়ে সন্তান হলো। পারিবারিক ও আত্মীয়-স্বজন নানান কথা বলা বলি শুরু করে দিল কি হবে?, দুই মেয়ে!, আমার ছেলের ভবিষ্যত কি হবে?! নানান কথা যা প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারেই হয়ে থাকে। তখন কিছুটা মন আমারও খারাপ লাগতো। কিন্তু বাস্তবে আমি সব সময় চাইতাম শ্রীশ্রীঠাকুর-ই ভালো জানেন কি প্রয়োজন তাই তিনি যা দেবেন তাই আমার ভাগ্য। এতে আমার কোন দুঃখ নাই।

এখন আসলো নাম করনের ব্যপার। এবারও আমার পছন্দ মেয়ের নামের প্রথম অক্ষর '' হবে এবং দিদি 'আরুশী' র নামের অর্থের সাথে মিল থাকে। অনেক খোজা খুজি করে ঠিক করা হলো "অরুনিমা সরকার"

'অরুনিমা' নামের আক্ষরিক অর্থ হলো 'লালচে আভা, রক্তিমা' ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে আমি পেলাম অরুনিমা নামের অন্যতম আরো একটি অর্থ হলো "ভোরের আভা"। নাম ও নামের অর্থটি খুব পছন্দ হলো আমার।

খুবই চঞ্চল, প্রানবন্ত এই মেয়েটি আমার জীবনে আসার পর আমার জীবনটাই কেমন যেন পরিবর্তন হতে থাকে।

পরমপিতার কাছে প্রার্থনা আমাদের দুই মেয়েই যেন একজন ভাল মানুষ হতে পারে।