The Web This Blog

Saturday, March 14, 2020

আমি থেকে যাজক



~ শুরু ~

আমি” এই কথা বা শব্দটি তে রয়েছে অনেক তেজ, গাম্ভীর্য, গর্ব, স্বার্থপরতা ও আত্নঅহংকারে ভরা। কিন্তু আমি থেকে যখনি “আমরা” বা “আমাদের” বলি তখনই সব আত্নঅহংকার কেমন যেন শূন্য হয়ে যায়। জীবনের প্রায় ৩৮ টি বসন্ত পার হয়ে গেলও এখনও আমি প্রকৃতির কাছে শিশুই রয়েই গেলাম শেখা হয়নি জীবনের অনেক কিছুই। বেশ কিছুদিন যাবত অন্য একটি লেখা মাথায় ঘুরাফেরা করছিল, কিন্তু বর্তমান লেখাটা আগে লিখতে হচ্ছে। 
 
প্রতি লেখার মত এই লেখাটি উৎসর্গ করছি আমার দীক্ষা দাতা সহ-প্রতি ঋত্বিক স্বর্গীয় শ্রীঅমর চন্দ্র শীল কে। লেখার প্রয়জনে অনেকের নামই আমাকে লিখতে হবে হয়তো অনেকের নাম বাদ পরে যেতে পারে কোন ভূল হয়ে থাকলে উভয়ের কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি বানী দিয়ে লেখার মূল অংশ শুরু করবো,
সদ দীক্ষা তুই এক্ষুনি নে
ইষ্টেতে রাখ সম্প্রীতি,
মরণ তারণ এ নাম জপে
কাটেই অকাল যমভীতি।

১৯৯২ সালের জুন মাসে আমার এক কাকার বিয়ে হয় তখন আমার বয়স প্রায় ১০ বছর। বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের অনেক আত্বীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমার ঠাকুর দাদার ছোট ভাই সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীঅমর চন্দ্র শীল, বিবাহ পর্ব শেষ হলে পরিবারের অনেক সদস্যের সেদিন দীক্ষা হয়। আমিও অনকেটা না বুঝেই জ্বিদ ধরলাম দীক্ষা নিবো, অনেক কিছুর পর আমার জ্বিদের জয় হলো আমাকেও দীক্ষা দিলেন আমি হয়ে গেলাম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের একজন না বুঝা শিষ্য।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাত-মুখ ধুয়ে কিছু সময় ইষ্টনাম জপ ও তারপর ইষ্টভৃতি করার মধ্যেই সীমিত আমার ইষ্টকাজ। এইভাবে চলতে থাকে দিন-মাস-বছর। ১৯৯৮ সাল আমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়, অনেক অবসর। হটাৎ একদিন আমার স্কুল জীবনের বন্ধু চন্দন চক্রবর্ত্তীর সাথে দেখা, তখন সে একটা ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করতো। নানান কথা বলার ফাকে সে আমাকে বলে আমি (চন্দন) যখন কারেন্টের কাজ করি তখন ঠাকুরের নাম জপ করতে থাকি তাহলে কোন বিপদ হয় না। আমি কিছুটা অবাক হই বলি ঠাকুর মানে কোন ঠাকুর? সে বলে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নাম শুনেছো তুমি? আমি বলি আমিওতো তারই দীক্ষিত। অনেকটাই মনের অজান্তে খুবই খুশী হই একেই বলে গুরু ভাই।

বন্ধুটির মাধ্যমেই জানতেপারি শাখারীবাজার একটি শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্দির আছে এবং প্রতি শুক্রবার সকালে গ্লাস ফ্যাকটরি, গেন্ডারিয়ার একটি বাসায় প্রার্থনা হয় এবং সেখানে বেশ লোক হয়। ছোটবেলা থেকেই শুক্রবার দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস, তাই আর সকালের প্রার্থনায় অংশগ্রহন করা হয় না। শুরু করলাম শাখারীবাজার মন্দিরে যাতায়াত। কেমন যেন একটা অভ্যাসে পরিনিত হয়ে গেল না গেলেই মনটা কেমন জানি করতো। তেমন কেও আমাকে চেনে না কারন আমি খুব কম কথা বলতাম। তার বেশ অনেকদিন পর একদিন শুক্রবার সকালে হাজির হই সেই গ্লাস ফ্যাকটরির বাসায় সেইখানে দেখা হয় গৃহ কর্তা শ্রীনারায়ন চন্দ্র চন্দ (বর্তমানে তিনি সহ-প্রতি ঋত্বিক), সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীক্ষিতীন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীক্ষেত্রমোহন অধিকারী, সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীহরেকৃষ্ণ বসু সহ অনেকের সাথে। প্রার্থনা শেষে ক্ষেত্রমোহন দাদু জিজ্ঞাসা করে নানান কথা কোথায় থাকি, কি করি, ঋত্বিক কে ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষে বললো তিনি যাবেন মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে। তারপর প্রসাদ ও আনন্দ বাজার শেষে চলে আসলাম বাড়ীতে।

ইষ্টকাজে আমার যতটুকু চেষ্টা তার শুরু হয়েছিল আমার বন্ধুটির কাছ থেকেই। আমি আর চন্দন শুরু করলাম একে অপরের সাথে ঠাকুর বিষয়ক নানান আলোচনা, কখনো বুড়িগঙ্গা নদীর পারে, কখনো ধুপখোলা মাঠের ছাদ, কখনোবা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকায়। এখনো মনে পরে মাঝে মাঝে ছুটি পেলেই সকালে নাস্তা খেয়ে বের হতাম হাটতে-হাটতে কথা বলতে-বলতে এমনও অচেনা জায়গায় চলে যেতাম যার নাম এখন আর মনেও নেই।

শাখারী বাজার মন্দিরে যাতায়াত করতে করতে অনেকের সাথেই পরিচয় হতে থাকে যাদের মধ্যে একজন আমার খুবই ভাললাগার একজন মানুষ সহ-প্রতি ঋত্বিক স্বর্গীয় নকুল কিশোর দাস, তার নামের আগে স্বর্গীয় লিখতে মন চাচ্ছিল না কিন্তু লিখতে হলো বাস্তবতা মেনে। তিনি এতা দ্রুত আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন ভাবা যায় না। নকুল দা তখনও বিয়ে করেননি ছাত্র মানুষ তারপর স্বস্ত্যয়নী ব্রতধারী একজন। অনকে ভাল ভাল কথা বলতেন আমাদের এবং স্নেহ করতেন। 
 
যতটুকু মনে পরে ২০০০ বা ২০০১ সালের দিকে তালনবমী তিথি, হেমায়েতপুর, পাবনায় শ্রীশ্রীঠাকুরের আবির্ভাব তিথীতে সকলেই সেখানে যাচ্ছে, শুনে মনটা আমারও যেতে চাইলো। বাসায় বলাতে বাবা-মা রাজি হয়না, যদিও আমাকে ছোটবেলা থেকেই কোথাও তেমন যেতে দিতেন না। ঘটনাক্রমে আমার স্নেহের কাকাত ভাই বলরাম সরকারও যেতে চাইলো ঠাকুরবাড়ী। পাবনার একজন স্থানীয় কেচি ব্যাবসায়ী মানিক কাকা বলে আমরা তাকে চিনি। তিনি সব শুনে আমাদের দুই ভাইকে নিয়ে যেতে রাজী হলেন। গাবতলী থেকে বাসে উঠে পাবনা যখন নামী তখন গভীর রাত। বাসে যেতে যেতে তিনি ঠাকুর বাড়ীর নানান গল্প করতে লাগলেন, বিশেষ করে আনন্দ বাজারের কথা, কারন ছোট বেলায় তিনি প্রায়ই আনন্দ বাজারের প্রসাদ খাবার জন্য আশ্রমে আসতেন। পাশেই পাগলা গারদ তার কথাও তিনি বললেন। 
 
শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যানুসরণে বলেছেন, “যেখানে গমন করিলে মনের গ্রন্থির মোচন বা সমাধান হয়-তাই তীর্থ” তাই মানুষ তীর্থ ভ্রমন করে, কিছু পাওয়ার আসায়। যদি তীর্থে যেয়ে মনের গ্রন্থিগুলোর মোচন নাই হলো তাহলে কি লাভ গাটের টাকা ও সময় খরচ করে তীর্থে যাওয়ার। 
 
রাতটুকু সেই কাকার বাসাতেই থাকলাম, সকালে নাস্তা খেয়ে আমি, বলরাম, মানিক কাকা ও তার দুই ছেলে-মেয়ে সকলে ঠাকুর বাড়িতে যাই। সেখানে আগেথেকেই আমাদের দুই ভাইয়ের জন্য পরিবারের অন্যান্ন সদস্যদের (কুষ্টিয়া থেকে আগত) সাথে থাকার জায়গা ঠিক করে রেখেছিলেন আমার ঠাকুর দাদা শ্রীঅমর চন্দ্র শীল। তখন শ্রীশ্রীঠাকুর মন্দিরের পুরো কাজ শেষ হয়নি। আমরা সেখানেই থাকলাম। অনেক লোকের সমাগম। তখন আনন্দবাজারের প্রসাদ খাওয়া আর ঘুরাঘুরি ছাড়া কিছুই বুজতাম না। মাতৃমন্দিরে কিছু সময় ধ্যান করেছিলাম। মনে পরছে সহ-প্রতি ঋত্বিক শ্রীভক্ত পদ সরকার এর সাথে নগর কীর্তনের কথা, শারীরিক আকারে আমার মত তিনিও ছোট-খাট একজন মানুষ কি করে এতো শরীরে জোর পান ভেবে অবাক হয়েছিলাম। কিভাবে তিনটি দিন কেটে গেল মনে নেই। পরম নিশ্চিন্তে খাওয়া, ঘুম, শ্রীশ্রীঠাকুরকে অনুভব করা আরো কত কি, কোন ভয় বা সংকা ছিল না মনে। সেখান থেকে কুষ্টিয়া গেলাম সেখানে কয়েকদিন থেকে আবার ঢাকায়।

সময়ের নিয়মে দিন কাটতে থাকে, তারপর থেকে প্রতি বছর উৎসবে হেমায়েতপুর না গেলেই কেমন যেন লাগতো। তাই দল বেধে যাওয়া তারপর বাস রিজার্ভ করে যাওয়া এভাবেই আমার সৎসঙ্গের সাথে চলা শুরু। ধিরে ধিরে পরিচয় ও সম্পর্কে গভিরতা হতে থাকে, পিযুষ কান্তী ঘোষ (,প্র,), সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশেন এর বর্তমান সাধারন সম্পাদক পার্থ সারথি চক্রবর্ত্তী (,প্র,), মিলন দেব রনী, প্রহল্লাদ পোদ্দার, বিমল দাস, পিযুষ কান্তি দাস সহ অনেকের সাথে। চাকরি জীবনে আমি বছরে দুইবার বাধ্যতামুলক ছুটি নিতাম এক তাল নবমী তিথি হেমায়েতপুর যাওয়ার জন্য দুই মাঘী পূর্নিমা তিথি গ্রামের বাড়ি কালী পূজার জন্য। 
 

Sunday, February 2, 2020

নারী থেকে মা (ষষ্ঠ পাতা)


~~ পঞ্চম পাতা ~~
~~ ষষ্ঠ পাতা ~~

সময় আর জীবন তার গতিতে চলতে থাকে। রীতা রানীর সন্তানরাও ধিরে ধিরে বড় হতে থাকে। একে একে অন্যান্ন দেবরদেরও বিয়ে হয়ে যায়। সংসার যত বড় হয় ততই ঝগড়া ঝাটি, পারিবারিক কলহ বারতে থাকে আর একে একে সবাই তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা সংসার শুরু করে। থেকে যায় শুধু বিজয় কুমার নামে সবার ছোট দেবর ও তার বৌ। দুইটি কলস যেমন এক সাথে থাকলে ঠুকা ঠুকি লাগে, তেমনি পাঁচ ছেলের বৌ এক সাথে থাকলে তাদের মধ্যেও হয়। 
 
দোষ গুন নিয়েই তো জীবন কে ভাল কে মন্দ সেটা ঈশ্বরই যানেন। কিন্তু মানুষ যা দেখে তার উপর দেখেই সব বিচার করতে চায়। কিন্তু কখনো কালী পদ ও মিনতী রানীর ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া করতে কেও দেখেনি। মিনতী রানী অনেক সংগ্রাম করে তার ছেলেদের মানুষ করেছেন। আজ সবাই যার যার মত ভাল আছেন তাদরে সংসার নিয়ে।

ইংরেজী ১৯৯৭ সাল রীতা রানীর বড় মেয়ে মাধবী এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করলো তাই সবার মন খারাপ। রবী বাবু সবসময় অতিরিক্ত আশাবাদি একজন লোক তাই হয়তো ঈশ্বর তার সকল আশাই এইভাবে নষ্ট করে দেয়। এরপর ছেলের পালা ১৯৯৮ সালে সে এসএসসি পরিক্ষা দিবে ছেলে যদি পাশ করে তাহলে রবী বাবুর কষ্ট কিছুটা কমবে। তিনি গর্ব করতে থাকে ছেলেকে, ছেলে তার বিজ্ঞান বিভাব নিয়ে পড়ে সে পাশ করবেই।

পাশ করলে সকলকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাবে এবং মা কালীর পুজা দিবে এমন একটি মনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন রবী বাবু। কিন্তু ভাগ্য বলে কথা, ছেলে খুব ভাল ভাবে পরীক্ষা শেষ করলো, শিক্ষকরাও আশাবাদী রাম কৃষ্ণ প্রথম বিভাগে পাশ করবে। সেখানোও বিধি বাম, মাত্র সাত নম্বরের জন্য সে জীববিজ্ঞানে ফেলকরে। সকলকে নিয়ে রবীবাবুর আর গ্রামে যাওয়া হলো না।

এদিকে কালী পদ বাবু ১৭ই জানুয়ারি ১৯৯৯ রবিবার দুপুর ২টা অনেকদিন শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেলেন। হাসপাতাল আর বাড়ী রীতা রানী ও অন্যান্ন ছেলের বৌরা, নাতি-নাতনীরা তাকে সেবা যত্ন করেছেন অনেক। কালীপদ বাবুর অনেক ইচ্ছা ছিল তিনি মারা গেলে যেন গ্রামের বাড়িতে দাহ করা হয়। সেই মোতাবেক তার চতুর্থ ছেলে কার্তিক চন্দ্রের চেষ্টায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের গ্রামের বাড়ী ও সেইখানেই তাকে ধর্মীয় আচার মেনে তাকে দাহ করা ও পরবর্তীতে শ্রাদ্ধের কাজ শেষ করা হয়। 
 
এইদিকে ১৯৯৯ সালে সরকার নিয়ম করে যারা এক বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ করেছে তারা সেই বিষয়েই পরীক্ষা দিতে পারবে। রাম কৃষ্ণ এই সুজোগটাই মনে মনে চাচ্ছিল। জীববিজ্ঞানে পরীক্ষা দিয়ে ১৯৯৯ সালে সে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে। 
 
সংসারের খরচ দিন দিন বাড়তেই থাকে তাই রাম কৃষ্ণ পরীক্ষা শেষ করেই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকতা শুরু করে, এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার ঠাকুরমা মিনতী রানীর। তারই পরিচিত একজনের মেয়েকে পড়ানোর মাধ্যমে শুরু হয় রাম কৃষ্ণের নতুন কর্ম জীবন। 
 
দিন যেতে থাকে ছোট মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা দেবার পালা। বড় মেয়ে কলেজে ভর্তী হয়েছে আর রাম কৃষ্ণ কোন কলেজে ভর্তী হবে তা খুজছে। রীতা রানীর ছোট দেবর বিজয় কুমার তার ভাতিজা ও ভাতিজীদের অনেক আদর করতেন। সকলের লেখা পড়া করার পিছনে তার সবচেয়ে বেশী ভূমিকা ছিলো। 
 
বড় মেয়ে মাধবী রানী বিয়ে ঠিক তাদের পরিচিত পাশের গ্রামে ১৩ আগষ্ট ২০০২ মঙ্গলবার, বিয়ে হয়ে গেল মাধবী রানীর। কষ্ট যেন কমেই না তাদের জীবনে। সেই ঘরে এখন দুই ছেলে।

শিখা রানী আদরের ছোট মেয়ে বিয়ে হলো ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১ বুধবার। এখন তাদের ঘরে দুই মেয়ে।
একমাত্র ছেলে রাম কৃষ্ণ বিয়ে হয় ১১ আগস্ট ২০১৩ রবিবার, সেখানে এক মেয়ে। এদিকে মিনতী রানী ০৮ জানুয়ারী ২০১৫ বৃহস্পতিবার মারা গেলেন। চলে গেলো এই পরিবারের সকল অভিবাবক।

আর কত কষ্ট বা সংগ্রাম করলে একজন নারী মা হতে পারেন? পারিবারিক কারনেই আমাকে দ্রুত লেখাটা শেষ করতে হলো। অনেক না বলা কথাই রয়ে গেল মনের গভীরে। মাকে নিয়ে তার জীবনের অনেক কথাই অসমাপ্ত রয়ে গেল হয়তো অন্যকোন দিন অন্যকোন ভাবে আমাকে লেখাটা শেষ করতে হবে।



শ্রীশ্রীঠাকুরের একটি বানী দিয়ে লেখাটা শেষ করতে ইচ্ছা করছে,
কাউকে আপন করতে হ'লেই
আপন আপন ভাববি তায়
সপক্ষে তার করবি কইবি
দেখবি দোষ তার উপেক্ষায়।



~~ সূচনা ~~
~~ প্রথম পাতা ~~
~~ দ্বিতীয় পাতা ~~
~~ তৃতীয় পাতা ~~
~~ চতুর্থ পাতা ~~
~~ পঞ্চম পাতা ~~
~~ ষষ্ঠ পাতা ~~

চলবে ….....................

Saturday, February 1, 2020

নারী থেকে মা (পঞ্চম পাতা)


~~ চতুর্থ পাতা ~~
~~ পঞ্চম পাতা ~~

এবার রবী বাবুর সংসারে পাঁচ জন সদস্য-সদস্যা, সাথে বাবা মা ও অন্যান্ন ভাই বোন। কি করে সংসার পরিচালনা করবেন এই চিন্তাতে সে কুষ্টিয়া চলে যায় কেচি সানের কাজ শিখার জন্য। কুষ্টিয়াতে রবী বাবুর কাকা অমর চন্দ্র শীল থাকেন এবং সানের কাজ করে খুব ভাল আছেন। তার কাছেই জীবনের মধ্যে বয়সে এসে দুই-তিন বছর থেকে কাজ শিখে ঢাকায় চলে আসে রবী বাবু। 
 
তার ছোট ভাই বীরেন্দ্র নাথের সাথে ঢাকার নয়াবাজারে একটি সান দোকান শুরু করেন রবী বাবু। এদিকে রিতা রানীর জীবনে যের আর কষ্ট শুরু হয়ে গেল। এদিকে বীরেন বাবু ভাল টাকা আয় করে নতুন বিয়ে করেছে তার জন্য একটি থাকার রুমতো দরকার। তাই রিতা রানী ও রবী বাবুর রাতে থাকার জায়গা হয় রান্না ঘরে। প্রতিদিন ভোর চারটা-পাঁচটা উঠে প্রায় বার থেকে পনের জনের রান্না করতে হয়। রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে একটা বাজে রিতা রানীর। 
 
সকল কষ্ট মুখ বুজে শিকার করে নেয় রিতা রানী ভাবে ছেলে একদিন বড় হবে তখন তার সকল কষ্ট দুর হবে। কিন্তু দুঃখ-কষ্ট যেন তার নিত্য সঙ্গী। বাবার বাড়ী থাকা কালীন বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সকলের ছোট, বড় দিদিদের বিয়ের পর মায়ের সাথে সংসারের সকল কাজ করতে হয় তাকে। আর বিয়ের পর রান্না ঘর আর সংসার যেন এক সাথে মিলে মিশে একাকার। এই রান্না করতে করতে সন্তানদের ভাল ভাবে কখনো যত্নও করতে পারেননি রিতা রানী।

এদিকে ছেলে মেয়ে বড় হতে থাকে সাথে অন্যান্ন দেয়রের সন্তানদের সাথে। লেখা-পড়া ও খেলাধুলায় রিতা রানীর ছেলে মেয়েরা অন্য ভাই-বোনদের চেয়ে সব সময় এগিয়ে থাকতো তাতেও রিতার রানী কথা শুনতে হয় দেবরের বৌদের কাছ থেকে।

কালী পদ বাবু সংসারের খরচ দুই ভাগ কেরে দিলেন খাবার খরচ চালাবে রবী বাবু আর ঘর ভাড়া দিবে বীরেন বাবু। রান্না তিন দিন করবে রীতা রানী বাকি তিন দিন করবে বীরেন বাবুর স্ত্রী। শুক্রবারের টা করবে দুই জনে ভাগ করে। এই মোতাবেক চলতে থাকে কিছুদিন। কিন্তু মাসখানেক পর থেকে শুরু হয় চালাকি। বীরেন বাবুর স্ত্রীর যখন রান্নার দিন থাকতো তখন সে অসুস্থ না হয় বাবার বাড়ী ইত্যাদি করে কাজ করতে চাইতো না। 
 
এমনি করে চলতে চলতে একদিন দুই বৌর মধ্যে বিশাল ঝগড়ার সৃ্ষ্টি হয়, যার ফলাফল দড়ায় সংসার ভিন্ন করা। এখনো মনেপড়ে যেদিন বীরেন বাবু তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্য বাসায় চলে যায় সেদিন কালী পদ বাবু ও মনতী রানী অনেক কান্না কাটি করেছিল এমকনি মনতী রানী কয়েকদিন ভাত না খেয়ে দিন কাটায়। সময়ের সাথে সবাই সবকিছু ভুলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। একে একে পরবর্তিতে তিন ছেলেই বৌ নিয়ে আালাদা হয়ে যায় কিন্তু কালী পদ বাবু আমৃত্যু অন্য কোন ছেলে ও বৌর বাসায় জাননি। 

 
~~ ষষ্ঠ পাতা ~~

Wednesday, September 18, 2019

নারী থেকে মা (চতুর্থ পাতা)


~~ তৃতীয় পাতা ~~
~~ চতুর্থ পাতা ~~
সময় চলতে থাকে আপন গতিতে। দিন-মাস থেকে বছর চলে যায় কিন্তু রবী বাবুর ভাগ্যের আর পরিবর্তন হয় না। এমনি করে সবাই রিতা রানী কে পরবর্তী সন্তান নেয়ার জন্য মানসিক ভাবে চাপ দিতে থাকে এবং সন্তান যেন অবস্যই পুত্র হয়। কিন্তু কেহই রবী বাবুর আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি নয়। 
 
যাই হোক রিতা রানী গর্ভবতী হলেন, দেখতে দেখতে প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। মতি লাল বাবু আসলেন মেয়েকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে এবং সন্তান যেন সেই বাড়িতেই হয় এমন ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। 
 
মামা বাড়ীতেই বাংলা ১৩৮৯ সনের ১২ আশ্বিন বুধবার রাত ১২.৩০ মিনিটে জন্ম নিলো রাম কৃষ্ণ নামের রিতা রানীর পুত্র সন্তান, সরকার বংশের প্রথম পুত্র সন্তান তাই সবাই ভীষন খুশী। জন্মের কয়েক মাস পরে বুঝা গেল ছেলের ডান পায়ের পাতা সম্পূর্ন বাকা। চন্দ্র বা সূর্য গ্রহনের ফলে এমন হয়েছিল। কালী পদ বাবু খুবই চিন্তায় পরে গেলেন প্রথম নাতি তাও আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী। কালী পদ বাবু সমাধান খুজতে থাকলেন। পংগু হাসপাতালে দেখানো হলো ডাক্তার বললো পায়ের পাতা কেটে আবার জোরা দিতে হবে, মিনতি রানীর মনটা সায় দিল না, নাতীর পায়ের পাতা কাটলে তো পরবর্তী জীবনে পায়ে তেমন জোড় পাবে না। 
 
তখন থেকেই কবিরাজী চিকিৎসা শুরু করলো তারা, যেকরেই হোক পা তো ঠিক করতেই হবে। একদিন কালী পদ বাবু অলৌকিক ভাবে এর সমাধান পেয়ে যান। কিছুটা মন খারপ অবস্থায় বসে ছিলেন তার দোকানে, এমন সময় এক লোক এসে তাকে মন খারাপ থাকার কারন যানতে চান। তিনি সব খুলে বলে আগন্তুকের কাছে সব কথা শুনো সেই আগন্তুক একটি গাছের শিকর দিলেন এবং কিছু নিয়ম কানুন বলে দিলেন কি ভাবে কি করতে হবে। কালী পদ বাবু শিকর টি দোকানের ভিতরে রাখতে যায় এসে আর ঐ লোকটি আর দোকানে ও এর আশেপাসে খুজে পাওয়া গেল না। 
 
সেই নিয়ম মাফিক চিকিৎসা চলতে থাকে পাঁচ-ছয় বছর, এখন রাম কৃষ্ণ স্বাভাবিক ভাবে হাটতে পারে। অভাব যেন রবী বাবুর জীবনে বন্ধুত্ত করে নিয়েছে, তাই কিছুতেই তা আর যাইতে যায় না। বছর দুই পর আরো একটি কন্যা সন্তানের মা হোন রিতা রানী বাংলা ১৩৯১ সালের ১৫ ভাদ্র শনিবার বিকাল ৫ টা য়। এটিও মতি লাল বাবুর বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করে। 
 
~~ পঞ্চম পাতা ~~

Tuesday, September 17, 2019

নারী থেকে মা (তৃতীয় পাতা)


~~ দ্বিতীয় পাতা ~~
~~ তৃতীয় পাতা~~


রবীন্দ্রনাথ বাবু কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক নিজের ভাল ছাড়া আর কারও দিকে তাকানোরও সময় নাই তার, তিনি যা বুঝবেন তাই করবেন কারও সাথে কিছু বুঝতে চানও না এমনকি বুঝেও না। রবীন্দ্রনাথ তার বাবা মাকে বলে রিতা রানী যেহতু গর্ভবতী তাই তাকে তার বাবার বাড়ীতে রেখে আসা দরকার, কিন্তু কেও রাজী হয় না কারন এত তারাতারি কি দরকার। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মনে মনে অন্য ফন্দি একেছেন, এমনকি রিতা রানী কেও তিনি কিছু জানায়নি। 
 
রবী বাবু ও রিতা রানী চলে আসে তার শ্বশুর বাড়ী ইছাপুরাতে। শ্বশুরকে জানায় তারা ভারতে চলে যাবে। শ্বশুর মহাশয় কিছুতেই রাজি হয় না, কারন তার মেয়ে গর্ভবতী তার উপরে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে সবাই কি বলবে। 
 
রবীন্দ্রনাথ এক রুখা মানুষ তিনি যা ভাববেন তাই করবেন, তাতে অন্যের কি ক্ষতি হলো দেখার দরকার নাই। তিনি স্ত্রী কে নিয়ে রওনা হলেন ভারতের উদ্দেশে, বলা বাহুল্য তারা কেহই এর পূর্বে ভারতে যাননি। রিতা রানী অনেক কান্না কাটি করছেন না যাওয়ার জন্য, কিন্তু কে শোনে কার কথা। তারা পৌছায় মাগুরা জেলার কাজলী নামক গ্রামে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ বাবুর মামার বাড়ী। তারা সব খুলে বলে ভারত যাবার কথা। তখন পাসপোর্ট না থাকলেও অবধ্য ভাবে ভারত যাওয়া যেত সহজে। 
 
পরের দিন সকালে তার দিদিমা (মা এর মা) কে নিয়ে রওনা হলেন জীবননগর এর উদ্দেশে সেখান থেকে দালাল এর মাধ্যমে ভারত যাওয়া যায়। জীবননগর যেয়ে আত্নীয়ের মাধ্যমে এক দালাল ঠিক করা হয়, যিনি ভারত যাবার ব্যবস্থা করে দিবেন। গ্রামের মেঠ পথ, ডোবা নালা, ক্ষেতের আইল ধরে তার পৌছায় বর্ডারের কাছে। এখানে এসে তারা একটি ঘরে কিছুটা বিশ্রাম নেয়, দালাল বলে এর পরের জায়গাটা তাদের একাই যেতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় বর্ডার কিছুটা ফাকা থাকে। তখন তাদের পার হতে হবে নিজ দায়িত্বে।

এতটা পথ তারা চলে এসেছে এখন আর পিছনে ফিরে যাওয়া যাবে না। তারা কিছুটা ঝুকি নিয়েই পার হলেন ভারতের বর্ডার। ভারতে পৌঁছানোর পর তারা তার এক মামা বাড়ীতে কলকতার রানাঘাট নামক স্থানে। তিন জনকে দেখে মামি কিছুটা বিরক্ত হলেও মামা তেমন কিছু বলে না। সব কিছু শুনে মামা তার সেলুন দোকানে ভাগিনার জন্য একটি কাজ করার ব্যবস্থা করেন। একটি মাত্র রুম যেখানে কষ্ট করেই চার জনকে থাকতে হয়।

কিছু দিন যাবার পর মামি কিছুটা রাগ করেই মামাকে বলতে থাকে তোমার ভাগিনা-ভাগিনা বৌ যায় না কেন। এই কথা রবী বাবু শুনতে পায়। তারপর তারা দুই জনে ঠিক করে রিতা রানীর এক মাসি বাড়ী আছে কাছেই। তারা সেখানেই থাকবে। সেখানে যাবার পর রিতা রানীর মাসি দেখেতো খুবই খুশি। তাদের একটি ঘর ছেরে দেয়া হলো থাকার জন্য এবং রবি বাবুকে এক দোকানে কাজ ঠিক করে দেয়া হলো। 
 
কিছুদিন পর বাংলা ১৩৮৭ সালের ৩ রা পৌষ, বৃহস্পতিবার রাত ১২ ঘটিকায় জন্ম নেয় তাদের প্রথম কন্যা সন্তান। বাবা আদর করে নাম রাখে মাধবী রানী।
 
এদিকে মিনতি রানী ও কালী পদ বাবু কবিরাজি বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তারা নানা ভাবে চেষ্টা চালাতে থাকে তাদের ছেলে, ছেলে বৌ ও প্রথম নাতনী দের কি ভাবে বাংলাদেশে আনা যায়। রবি বাবুর কাজ কর্ম ভালই হতে থাকা। তারা মনে মনে ঠিক করে ভারতেই স্থায়ী ভাবে থাকার। সেই মোতাবেক একটি জায়গা কেনার বিষয় চেষ্টা করতে থাকে। 
 
কিন্তু একদিন হটাৎ করেই মিনতী রানী হাজির হয়ে যান ভারতে যেখানে রবি বাবু ও রিতা রানী থাকতেন। মা কে দেখে কেমন যেন মানসিক পরির্বতন আসে রবি বাবুর। কিছুতেই আর ভাল লাগছেনা এখন ভারতে থাকতে। রিতা রানীর আপত্তি থাকা সত্তেও বাংলাদেশে চলে আসবে রবী বাবু। তখন মাধবী এর বয়স তিন-চার মাস হবে। আবার সবকিছু গুছিয়ে তারা চলে আসে বহু কষ্ট করে বাংলাদেশে। 
 
দেশে আসার পর আবার সংগ্রামের জীবন শুরু হয় তাদের। সেলুন করে খুব একটা সংসার চালানো যাচ্ছে না। এমনও দিন গেছে মেয়ের জন্য দুধ ও কিনে দিতে পারে না রবী বাবু। দুই রুমের একটি ফ্লাটে ১৩-১৪ জন সদস্যের বসবাস। 
 


~~ চতুর্থ পাতা ~~

Sunday, September 15, 2019

নারী থেকে মা (দ্বিতীয় পাতা)

~~ প্রথম পাতা ~~
~~ দ্বিতীয় পাতা~~

বাংলা ১৩৮৫ সনের ২২ অগ্রহায়ণ, ইংরেজী ১৯৭৮ সালের ৯ই ডিসেম্বর, শুক্রবার শুভ বিবাহের দিন ধার্য করা হলো। বিয়েতে মতি বাবু মেয়ে ও জামাই কে নগদ ২,০০০ টাকা ও আট আনা স্বর্ণ দিয়ে গহনা তৈরি করে মেয়ে বিয়ে দিলেন। কারো কারো সারাটা জীবন কষ্টের মধ্যেই কাটে। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে সুখে দিন কাটাবে এটাই সব মেয়ের আশা। কিন্তু মানুষের সব আশা কি পুরন হয়? যৌথ পরিবার মানে তখনকার অভিবাবকদের কাছে মেয়ের জন্য স্বর্গ। বিয়ের পর আন্না রানী শীল এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রিতা রানী সরকার। স্বামী আদর করে এই নাম রাখলেন। এটা তাদের পারিবারিক নিয়ম।

দশ সদস্যের পরিবারে নতুন সদস্যা যুক্ত হলো সকলেরই থাকার রুম একটা। নতুন বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী হিসাবে তাদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা নাই। এক ঘরের মধ্যেই পর্দা দিয়ে আলাদা ঘরের মত করে দেয়া হলো নব দম্পতিকে। এই পরিবারে আসার পর রিতা রানী পরিবারের সকল কাজের দায়িত্ব তুলে লিনেন নিজ হাতে। প্রচলিত একটি কথা আছে পরিবারের বড় ছেলেরা বোকা হয়। তেমনি কিছুটা সরল মনের মানুষ রবীন্দ্রনাথ সরকার। স্বামীর দিকে তাকিয়ে সব কিছু মেনে নিলেন রিতা রানী। একদিন হয়তো ঈশ্বর তাদের দিকে মুখ তুলে তাকাবে। 
 
দেবর ও ননদের সাথে বড় বৌদি অল্পদিনেই বন্ধুত্ব জমে উঠলো। বৌদি হিসাবে তিনিও সকলকে ছোট ভাই বোনের মতই দেখেন। বৌদি যখন তার বাবার বাড়ী যায় বেরাতে তখন সকল দেবর-ননদরাও বায়না ধরে বৌদির সাথে তাদের গ্রামে বেরাতে যাবে। তখন ঢাকার ডেমরা থেকে লঞ্চে করে তাদের বাড়ীতে যেত হত। এভাবেই দিন কাটতে থাকে। 
 
কালী পদ সরকার ও মিনতী রানী সরকার বড় ছেলে বিয়ে দিয়েছেন প্রায় বছর হয়ে আসলো। এখন তো নাতি-নাতনি দেখার সময়। বড় বৌকে তারা তাদের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথ বাবু তখন একটি সেলুন দিয়েছেন। সেখানে যা কাজ হয় তা দিয়ে সংসার কোন ভাবে দিন কাটে তাদের। এর মধ্যে সংসারে আরো একজন কি ভাবে আনা যায়। এমনিভাবে কিছুদিন যাবার পর গর্ভে এক কন্যা সন্তান আসে। গর্ভধারণের তিন-চার মাস হবার পর রবীন্দ্রনাথ এর ইচ্ছা হলো ভারতে যাবে এবং স্থায়ী ভাবে বসবাস করবে। 
 
~~ তৃতীয় পাতা ~~